ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ

তুর্কী শাসনামলে দামেস্কের গভর্নর আস’আদ পাশা একসময় অর্থ সংকটে পড়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকলেন, উপস্থিত সবাইকে মতামত উপস্থাপন করতে অনুরোধ জানান হল, অধিকাংশ সদস্যই বললেনঃ
বস্ত্র শিল্পের সাথে জড়িত সবার উপর মোটা অংকের কর আরোপের কথা, গভর্নর বললেন এতে কী পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ হতে পারে? আমাকে একটু ধারনা দেন!
তাঁরা বললেন এতে অন্য যে কোন সেক্টরের চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হবে, কমপক্ষে পঞ্চাশ কোটি দিনার (স্বর্নমূদ্রা)
গভর্নর বললেন এরা স্বল্প আয়ের মেহনতি মানুষ, কোথায় পাবে এত টাকা? মন্ত্রী সাহেবরা বললেন প্রয়োজনে তারা তাদের স্ত্রী-কন্যাদের গয়না বেচে দিবে।

গভর্নর বললেন আমি যদি এর চেয়েও ভালো এবং সহজ ভাবে এ পরিমান রাজস্ব সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে পারি! একথা শুনে সকলেই চুপ হয়ে গেলেন।
পরামর্শ বৈঠক মূলতবি র্ঘোষণা করা হল, এবং কোন রূপ সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হলনা।
গভর্নর মনে মনে চিন্তা ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিলেন দেশের মুফতি, আইনজীবী, বিচারপতি ,হিসেব পরিচালক, মহা হিসেব পরিচালক এবং অন্যান্য উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের ডেকে পরামর্শ গ্রহণ করবেন।
পরিকল্পনা মাফিক প্রথমেই গ্রান্ড মুফতিকে জানানো হলো, আপনি আমার সাথে আগামী কাল একাকী দেখা করুন।
যথা সময়ে মুফতি সাহেব আসলে গভর্নর বললেনঃ
আমরা গভীর ভাবে লক্ষ্য করছি যে আপনার জীবন যাত্রা,চাল চলন এবং মানুষের সাথে কথাবার্তায় পরিবর্তন এসেছে, আপনার বিরুদ্ধে মদপানের অভিযোগ রয়েছে,বিষয়টি ইস্তাম্বুল সরকারকে জানানোর আগে আপনাকে অবহিত করা আবশ্যক ভাবছি।
মুফতি সাহেব সব অভিযোগ স্বীকার করে ইস্তাম্বুল সরকারকে না জানানোর অনুরোধ জানান এবং এজন্য তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে মোটা অংকের জরিমানা দেয়ার অঙ্গীকার করেন, গভর্নর বললেন আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগের তুলনায় জরিমানার পরিমাণ খুব কম ,আপনি যদি পঞ্চাশ কোটি স্বর্নমূদ্রা দেন তবে এবারের মতো আপনাকে রেহাই দেয়া যেতে পারে।
এভাবে দেশের দূর্নীতি গ্রস্থ সব আমলা এবং উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বে থাকা সবার কাছ থেকে একমাস ব্যাপী অভিযানে হাজার হাজার কোটি স্বর্নমূদ্রা উসূল হলো এবং রাজকোষ পরিপূর্ণ হলো।
উল্লেখ্য যে মন্ত্রীদের পরামর্শ অনুযায়ী গরিবের উপর ট্যাক্স বসিয়ে হাজার হাজার মেহনতি মানুষের নিকট থেকে যা আসত দু’চার জন মন্ত্রী মিনিষ্ট্রারের কাছ থেকেই তার চেয়ে শতগুণ বেশি রাজস্ব আদায় হল।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ দেশে ও দ্রব্য মূল্যের দাম না বাড়িয়ে কয়েক শ’বছর আগের পদ্ধতি চালু করা যায় কিনা ভেবে দেখা উচিত।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button