আখলাক

গোনাহ থেকে বিরত থাকার কিছু উপদেশ

বিখ্যাত একটি গল্প আছে; এক যুবক অবিরত গোনাহে লিপ্ত থাকত। একদিন সে এক শাইখ এর কাছে গেল এবং বলল,

-শাইখ, আমি গোনাহ থেকে বিরত থাকতে পারছি না। আমাকে কিছু উপদেশ দিন যাতে আমি গোনাহ থেকে বাঁচতে পারি।

শাইখ বললেন,- আমি তোমাকে চারটি উপদেশ দিচ্ছি। এগুলো অবশ্যই মাথায় রাখবে।

উপদেশ-০১:

যদি তুমি কখনো গুনাহে লিপ্ত হও, তাহলে আল্লাহর দেওয়া খাবার খেও না এবং তাঁর দেওয়া পানিও পান করো না।

যুবক বলল,- এটা কীভাবে সম্ভব, যেখানে খাবার, পানি সবকিছুর মালিক আল্লাহ?

শাইখ বললেন,- তাহলে এটা কি করে সম্ভব যে, তুমি আল্লাহকে অমান্য করে তাঁর দেওয়া খাবার গ্রহণ কর এবং তাঁরই পানি পান কর?

উপদেশ-০২: এবং তিনি বললেন, তুমি আল্লাহকে অমান্য করতে চাইলে এমন কোথাও গিয়ে তা কর যে জায়গাটা আল্লাহর অন্তর্ভুক্ত নয়।

যুবক বলল,- এটা কীভাবে সম্ভব, যেখানে সবজায়গা এবং সবকিছুর মালিক আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা?

তাই শাইখ বললেন, তাহলে এটা কি করে সম্ভব যে, তুমি আল্লাহকে তাঁরই জমিনে থেকে অমান্য কর?

উপদেশ-০৩: এরপর শাইখ বললেন,- তুমি আল্লাহকে অমান্য করতে চাইলে এমন কোথাও গিয়ে তা কর যেখানে তিনি তোমাকে দেখবেন না।

শাইখের এ কথা শুনে সে যুবক বলল, এটা কীভাবে সম্ভব, যেখানে আল্লাহ সবাইকে এবং সবকিছু একই সময়ে দেখতে পান?

শাইখ বললেন,- তাহলে তোমার দ্বারা আল্লাহকে কীভাবে অমান্য করা সম্ভব, যেখানে তুমি জান যে তিনি তোমাকে সবসময় দেখছেন?

উপদেশ-০৪: সবশেষে শাইখ বললেন, তুমি যখন আল্লাহকে অমান্য কর, তখন তুমি জান যে এর পরিণামে তোমাকে জাহান্নামে যেতে হতে পারে। এক সময় না এক সময় মৃত্যুর ফেরেশতা তোমার জান নেবার জন্য আসবে। তখন কি তুমি তাকে বলতে পারবে, যে “আমি, তোমার সাথে যাব না?”

এরপর সে যুবক আল্লাহর কসম করে বলল, এটা তো অসম্ভব। নবী-রসূল ছাড়া কার ক্ষেত্রে তো মৃত্যুর ফেরেশতা জান নেওয়া বা না নেওয়ার প্রশ্নই করবেন না।

শাইখ বললেন, তাহলে তোমার দ্বারা কীভাবে আল্লাহকে অমান্য করা সম্ভব?

(এ ব্যাপারগুলো মাথায় থাকলে কার দ্বারাই গোপনে বা প্রকাশ্যে গোনাহের কাজ করা সম্ভব নয়।)

(Fight Against Dehumanization পেইজ থেকে সংগৃহীত)

মতামত দিন