পর্যালোচনা

ইন্টারফেয়ার: পর্ব-২

প্রথম পর্বে আমরা দেখেছিলাম যে ইসলাম জীবনের সকল বিষয়ে ইন্টারফেয়ার করে এবং কেন করে সে সম্পর্কেও কিছু কথা বলেছিলাম। আরো দেখেছি যে ইসলামের শত্রুরা মুসলিমদের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে Misconception সৃষ্টির জন্য কাজ শুরু করেছে।
এবার আমরা ইসলাম সম্পর্কে Misconception ছড়িয়ে দেবার জন্য তারা যেসব পদক্ষেপ করল তার কয়েকটি আমরা সংক্ষিপ্তরূপে আলোচনা করতে যাচ্ছি।

পলিটিকাল ইসলামকে উপেক্ষাঃ

প্রথমে তারা বোঝাতে চেষ্টা করল, রাজনীতির মত ব্যাপারগুলো থেকে ধর্মকে দূরে রাখাই শ্রেয়। পশ্চিমা কিছু লোককে তারা মডেল হিসেবে উপস্থাপন করল, যাদের থেকে মুসলিমরা রাজনীতি শিখবে। এর উদ্দেশ্য ছিল, পলিটিক্যাল ইসলাম বলে যে কিছু আছে, এটা স্বয়ং মুসলিমরাই ভুলে থাকবে।
অথচ রাতে ঘুমুতে যাবার আগে কর্তব্য সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন – পাত্রগুলো ঢেকে রাখ, পানির মশক বেঁধে ফেল, দরজা বন্ধ কর আর প্রদীপ নিভিয়ে দাও।

আচ্ছা, ছোট্ট একটা ঘরের ব্যবস্থাপনার এত ছোটখাট বিষয়ে যিনি দিকনির্দেশনা দিয়ে গেলেন তিনি দেশের মত বিশাল একটা প্রতিষ্ঠানের শাসন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কিছুই বলে যাবেননা, আব্রাহাম লিঙ্কনের জন্য রেখে যাবেন – এটা কি কখনো হয়? পশুদের অধিকার নিয়ে যিনি কথা বলে গেছেন, তিনি জনমানুষের অধিকারের ব্যাপারটা তুলে রাখবেন কার্ল মার্ক্সের জন্য, এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?

বিশ্বাস করুন রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাজনীতি করেছেন, আল্লাহর আইন দিয়ে সমাজ শাসন করেছেন। চুরির শাস্তিতে নিজের মেয়ে ফাতিমারও হাত কাটবেন – এটাই ছিল তাঁর অবস্থান।

আমাদের মন্ত্রীরা আজকে আমাদের সবক দেয় “ইসলামে রাজনীতি নেই।” অথচ রাজনীতির মাধ্যমেই ইসলাম বিশ্বজয় করেছিল, আজও মুহাম্মাদ (সা) এর সমতুল্য রাজনীতিবিদ খুঁজে পাওয়া যায় না। পশ্চিমারাই তা স্বীকার করে। আল্লাহ্‌র রাসূল রাজনীতি করেছেন, করেছেন আবু বকর, উমার, উসমান, আলী। বিশাল সাম্রাজ্য চালিয়েছেন আল্লাহ্‌র আইন দিয়ে, ইসলামের শাসন দিয়ে। অর্থনীতি পরিচালনা করেছেন, পররাষ্ট্রনীতি চালিয়েছেন। গোটা বিশ্বের সামনে রোল মডেল রেখে গেছেন। আর আজকে মদের পেয়ালায় ডুবে থাকা লোকগুলি দেশ চালায়, ইসলাম শেখায়। যারা পরহেজগার, তাঁদের থাকতে হবে মসজিদে, ঢুলে ঢুলে তসবি পড়বে আর কেউ মরলে খতম পড়াবে, মিলাদ পড়াবে। হুজুর কি না রাজনীতি নিয়ে কথা বলে !! তওবা তওবা !!

কেন রাজনীতিতে ইসলামের নাম শুনলে তাদের গায়ে জ্বালা ধরে, সেটাও খুব বোঝা যায়। কারণ ইসলামের রাজনীতিকে মেনে নিলে জালিমের জুলুম বন্ধ হয়ে যাবে। সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদের মূলোৎপাটন করা হবে। সন্তানের নামে, বাপের নামে দেশ লিখে দেওয়া যাবে না। মসনদে বসে কোটি টাকার বাণিজ্য করে দেশ বিক্রি করে দেওয়া যাবে না। ওসব যারা করতে চায় তারা রাজনীতি থেকে ইসলামকে বিচ্ছিন্ন রাখতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। নইলে কী করে রাজনীতিবিদের পকেট ফুলে ফেঁপে উঠবে??

একটা আইডিওলজি বোঝাতে সাধারণত ‘ism’ সাফিক্সটা ব্যবহার করা হয়। যেমন Nationalism, Communism, Secularism ইত্যাদি। ইসলামের ক্ষেত্রে একইরকমভাবে ‘Islamism’ নামে একটা টার্ম প্রচলিত আছে। এই Islamism বলতে মূলত পলিটিক্যাল ইসলামকেই বোঝানো হয়। পশ্চিমাদের প্রভাবে একসময় অনেকের মতে এরকম একটা ধারণা জন্মেছিল যে একজন মানুষ একই সাথে মুসলিম এবং কম্যুনিস্ট হতে পারে। আমরা দেখেছি মাওলানা ভাসানীর মত ব্যক্তিত্ব কম্যুনিজমকে সমর্থন দিয়েছেন। পরবর্তীতে উস্তাদ সায়্যিদ কুতুব রাহিমাহুল্লাহর মত মানুষেরা জনগণের কাছে এই ভুল ভাঙ্গিয়ে পলিটিক্যাল ইসলামের পুনর্জাগরণ ঘটিয়েছিলেন। তাঁরা মানুষকে বোঝাতে সমর্থ হয়েছিলেন, ইসলাম নিজেই একটা সম্পূর্ণ জীবনব্যবস্থা, অন্য কোন ‘ism’ থেকে এর ধার করার কোন প্রয়োজন নেই। বরং অন্য সব আইডিওলজি কোন না কোনভাবে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক হবেই। আজকে যে গণতন্ত্র চলছে, কিংবা কম্যুনিজম, ক্যাপিটালিজম – এসব প্রত্যেকটাই একেকটা আইডিওলজি আর ইসলাম নিজে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র একটা আইডিওলজি। একজন মানুষ নিজেকে মুসলিম দাবি করার অর্থ সে আল্লাহ্‌র বিধানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে, অন্য সব আইডিওলজিকে বর্জন করেছে। তাই আমরা রাজনীতি শিখব আল্লাহ্‌র রাসূলের (সা) কাছে, দেশ কীভাবে চালাতে হয়, মানুষের অধিকার কীভাবে রক্ষা করতে হয়, সেসব শিখব ইসলামের কাছে, আব্রাহাম লিঙ্কন বা কার্ল মার্ক্সের কাছে আমাদের শেখার কিছু নেই।

আজকে গণতন্ত্রের নামে লুটপাট, হত্যা আর শোষণের রাজত্ব প্রতিষ্ঠার পর ভোটের মূলার টোপ ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে জনগণের নাকের ওপর, যার পেছনে ছুটে তারা বারবার গাধা হচ্ছে। কেউ কেউ সমাধান খুঁজছে কম্যুনিজমে। কম্যুনিস্টরা দেখাতে চায় সব অনর্থের মূলে আছে ধর্ম। ধর্মের শিকড় উপড়ে ফেললেই নাকি শান্তি পাওয়া যাবে। অথচ সবচেয়ে বেশি অশান্তি সৃষ্টি করেছে এরাই। ধর্মের নামে মানুষহত্যাকে গাল দিতে পারদর্শিতা দেখালেও মানুষহত্যায় এই বামপন্থীরাই সবচেয়ে এগিয়ে আছে। [কম্যুনিস্টদের হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে পড়ুনঃ https://www.facebook.com/notes/muza… ]
সব কিছুর একটাই সমাধান-ইসলাম। এই সহজ সমাধানটা মেনে নিতে না পারলে লক্ষ লক্ষ আইডিওলজি ঘেঁটেও শান্তি আসবে না। একটি বর্বর জাতিকে যে ম্যাজিক দিয়ে রাসূল (সা) পরিণত করেছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ জাতিতে, সে ম্যাজিক হল এই ইসলাম। যতক্ষণ পর্যন্ত মুসলিমরা আবার ইসলামের শরণাপন্ন না হবে, ততদিন তাদের কপালে দুর্ভোগ থেকেই যাবে।

ধর্মনিরপেক্ষতা (Secularism):

ধর্মনিরপেক্ষতা হল ইসলামের বিরুদ্ধে চক্রান্তের একটি অংশ। ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদটি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রচলিত এবং এর অর্থ হল রাষ্ট্রকে ধর্মের প্রভাব থেকে দূরে রাখা। অর্থাৎ ধর্ম ধর্মের জায়গায় থাকবে, পূজা-অর্চনা, উপাসনা ইত্যাদির মধ্যে সীমাবদ্ধ, কিন্তু রাজনীতি তথা রাষ্ট্র চালনায় ধর্মের কোন ভূমিকা থাকবে না। খৃস্টধর্মে যিশুর নামে প্রচলিত একটি কথা থেকে মতাদর্শটি এসেছে-‘কায়সারকে (রাষ্ট্রপ্রধানের পদবি) কায়সারের অধিকার দাও, আল্লাহ্‌কে আল্লাহ্‌র অধিকার দাও’ (অর্থাৎ রাষ্ট্রের ক্ষমতা কায়সারের হাতে আর গির্জার ক্ষমতা থাকবে আল্লাহ্‌র হাতে)
বস্তুত ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকে ইউরোপীয় রাজ্যগুলোতে গির্জার প্রভাব ব্যাপক হয়ে ওঠে। গির্জার যাজকেরা সর্বেসর্বা হয়ে ওঠে। তাদের কথাতেই নীতিমালা, আইন সব তৈরি হত। তারা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে শাসকের সুদৃষ্টি হাসিল করত। সেসময় কোপার্নিকাস, গ্যালিলিও প্রমুখ বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে তারা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনেছিল। ব্রুনোকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হল। বিজ্ঞানীদের ধর্মদ্রোহী আখ্যা দেওয়া হল। রাষ্ট্রীয় কাজে যাজকদের এই একচ্ছত্র আধিপত্য অত্যাচারে রূপ নেয় এবং তা থেকে মুক্তির জন্য সপ্তদশ শতাব্দী থেকে একটি আন্দোলন চলে আসতে থেকে, তা হল রাষ্টীয় নীতি থেকে ধর্মকে দূরে রাখতে হবে। এটাই ক্রমে সেক্যুলারিজমে রূপ নেয় এবং উনবিংশ শতাব্দীতে প্রাচ্যে প্রবেশ করে। [সেক্যুলারিজম নিয়ে ভবিষ্যতে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা আছে]

ইসলাম সম্পর্কে যেসব মুসলিমের ধারণা অস্পষ্ট, তাদের কাছে এবং অমুসলিমদের কাছে অনেক সহজে সেক্যুলারিজমের ধারণাটা জনপ্রিয় করা সম্ভব। অমুসলিমরা খুব সহজেই একে গ্রহণ করবে, কেননা কোন হিন্দু, বৌদ্ধ, ক্রিশ্চান বা ইহুদি সাধারনভাবে ইসলামী রাষ্ট্র চাইবে না। তাদের ধারণা ইসলামী রাষ্ট্র থাকলে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে, সংখ্যালঘু নির্যাতন বেড়ে যাবে, ইত্যাদি। অথচ বাস্তবতা ভিন্ন। সত্যিকারের ইসলামী রাষ্ট্রই সংখ্যালঘুদের অধিকার পূর্ণভাবে রক্ষণের ক্ষমতা রাখেন। মুসলিমরা যখন রোমক সাম্রাজ্য জয় করলেন তখন সেখানকার খৃস্টানরা মুসলিম শাসনের ছায়াতলে এসে বলেছিল, নিজেদের শাসকদের চেয়ে তারা মুসলিম শাসকদের কাছে বেশি নিরাপত্তা পাচ্ছে। আজকে যারা সেক্যুলার রাষ্ট্রের ধোঁয়া তুলে অমুসলিমদের কাছে ভোট আদায় করছে, তারাই এদের ঠকিয়েছে সবচেয়ে বেশি।
ইসলামে সেক্যুলারিজমের কোন জায়গা নেই। কেননা ইসলাম অবশ্যই রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইন্টারফেয়ার করবে, অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ইন্টারফেয়ার করবে। রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ইসলাম থেকে দূরে রাখার কোন উপায় নেই, কারণ ইসলাম পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। তাছাড়া ইসলাম বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় না আর ইসলামের হক্ব ‘আলিমরা খৃস্টান যাজকদের মত ক্ষমতার লোভে ধর্মের অপব্যাখ্যা করে জুলুম ছড়িয়ে দেন না; বরং জালিমের জুলুম থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়াই ইসলামী রাষ্ট্রের কাজ।

কাজেই মুসলিমদের যদি শেখানো যায় যে ইসলাম হল মসজিদে থাকার ধর্ম, অন্তরে থাকার ধর্ম, সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থব্যবস্থায় এর কোন ভূমিকা নেই, তবেই মুসলিম দেশগুলোতে সেক্যুলারিজম প্রসার করা সম্ভব। তাই তারা তা ই করল। আর আজকে আমরা মুসলিমরা তাদের শিখিয়ে দেওয়া মেথডে রাষ্ট্র পরিচালনা করে উন্নত হবার স্বপ্ন দেখি।

ইসলামকে গণ্ডিবদ্ধ করাঃ

আমাদের মধ্যে একটি ধারণা বদ্ধমূল করে দেওয়া হয়েছে যে ইসলাম হল All about পরকাল, দুনিয়ার জীবনে ইন্টারফেয়ার করার এখানে কিছু নেই। ইসলাম কথা বলবে আসমানের ওপরের ব্যাপার (আখিরাত) নিয়ে, নয়তো জমিনের নিচের ব্যাপার (কবর) নিয়ে। এ দুয়ের মাঝে অর্থাৎ পৃথিবীর জমিনে ইসলামের বিশেষ কাজ নেই।
অথচ আল্লাহ্‌ ইসলামকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন আধিপত্য করতে, গোটা দুনিয়ায় ইসলামের পতাকাকে বিজয়ী করতে। সূরা সাফ এর ৯ নং আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেনঃ

“তিনি তাঁর রাসূলকে একটি স্পষ্ট পথনির্দেশ এবং সঠিক জীবনব্যবস্থা দিয়ে প্রেরণ করেছেন, যেন তিনি (রাসূল) একে দুনিয়ার সব কয়টি জীবনব্যবস্থার ওপর বিজয়ী করতে পারেন, তা মুশরিকদের কাছে যতই অপছন্দনীয় হোক না কেন !! “

সুবহানআল্লাহ্‌। আল্লাহ্‌ এখানে স্পষ্ট করে দিয়েছেন ইসলামকে দুনিয়ায় তিনি পাঠিয়েছেন বিজয়ী হতে, আর রাসূল (সা) কে পাঠিয়েছেন ইসলামকে সব জীবনব্যবস্থার, সব সিস্টেম, সব তন্ত্রের ওপর বিজয়ী করতে। সব জায়গায় ইসলামের আধিপত্য থাকবে, আল্লাহ্‌র দেওয়া বিধান মানুষের তৈরি সকল ‘Ism’ আর তন্ত্রকে পরাজিত করবে, এজন্য ইসলামকে পাঠানো হয়েছে। ইসলামকে মসজিদে বসে জিকির করার মধ্যে আবদ্ধ রাখতে পাঠানো হয়নি। ইসলামকে কেবল শবে বরাতের রাত্রে নফল নামাজের মধ্যে এর ব্যপ্তি রাখতে একে পাঠানো হয় নি। বিন্দু থেকে সিন্ধু পর্যন্ত এর ব্যাপ্তি। বেডরুম থেকে হোয়াইট হাউজ পর্যন্ত এর বিশাল পরিসর। সর্বযুগে, সর্বস্থানে এটি সব বাতিলকে ধুলিস্মাৎ করবে, এ জন্যই এর আগমন। আর এই বিজয়ের ওয়াদা আল্লাহ্‌ই দিয়েছেন।

“তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নির্বাপিত করতে চায়। কিন্তু আল্লাহ অবশ্যই তাঁর নূরের পূর্ণতা বিধান করবেন, যদিও কাফেররা তা অপ্রীতিকর মনে করে।” [তাওবাহঃ ৩২]

যুগে যুগে যখনই হক্বের সৈনিকেরা কুরআনকে নিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে, তখনই বাতিল তার সর্বশক্তি নিয়ে এর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আল্লাহ্‌ নিজেই বলেছেন “কাফেররা তাকে অপ্রীতিকর মনে করে।” জালিমের জুলুম, শোষকের শোষণ অব্যাহত রাখতে হলে ইসলামকে বিজয়ী হতে দেওয়া যাবেনা। তাই তাকে মসজিদের ভেতর ঢুকিয়ে দিতে হবে। আদালতে আনা যাবে না, সংসদে আনা যাবে না, বঙ্গভবনে আনা যাবে না। আজকে আপনি সালাত কায়েম করবেন, কেউ আপত্তি তুলবে না। সিয়াম কায়েম করবেন, কারো আপত্তি নেই। স্বয়ং ওবামা আপনাকে হোয়াইট হাউজে ইফতার পার্টি করে খাওয়াবে। কিন্তু যখনই বলবেন আল্লাহ্‌র বিধান ছাড়া কারো বিধান মানিনা, দেশ চলবে ইসলামের শাসনে, সাথে সাথে আপনার জন্য মিসাইল রেডি, ড্রোন রেডি, সৈন্য রেডি। আপনি হয়ে যাবেন টেররিস্ট, আপনাকে নিশ্চিহ্ন করতে সারা দুনিয়া উঠেপড়ে লেগে যাবে। এমনই শক্তি তাওহীদের, দুনিয়ার এক সাধারন মজদুরের মুখে কালিমার উচ্চারণ কাঁপন ধরিয়ে দেয় আমেরিকার প্রেসিডেন্টের অন্তরে।

আপনাদের কি মনে হয় না এমন কোন জিনিসটা ছিল যার দরুন একজন তালি মারা কাপড়ের লোকের সামনে একজন সম্রাট থরথর করে কাঁপত? উমার (রা) যখন জেরুজালেমের অধিকার নিতে গেলেন তখন তাঁর কাপড়ে সম্ভবত ১৪ টা তালি ছিল!! সুবহানআল্লাহ্‌। বিশ্বাস করতে পারেন?? আজকে যারা রাজনীতি করে কালো টাকার পাহাড় গড়ে, কোটি টাকার গাড়ি হাঁকায়, তারা আল্লাহ্‌র আইনের শাসন কেন চায় না তা খুব স্পষ্ট। ইসলামের রাজনীতি এমন এক জিনিস যেখানে কেউ ক্ষমতা নিতে চায় না দায়িত্বের ভয়ে। আল্লাহ্‌র নবীর রেখে যাওয়া প্রজন্মের সোনার মানুষগুলো সারারাত আল্লাহ্‌র দরবারে জবাবদিহিতার ভয়ে কাঁদতেন !! আর আজকে শাসকেরা লক্ষ লক্ষ মানুষের লাশ নিয়ে তামাশা করতে পারে, “এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা” বা এমনটা “ঘটতেই পারে” বলে জনমানুষের কলিজায় লাথি মারতে পারে। রাজনীতি হবে টাকার শাসনে। ইসলাম?? সে তো কাগজে-কাপড়ে মুড়িয়ে রাখার জিনিস।

যে কুরআন দিয়ে বিশ্বজয় করেছিল মুসলিমরা, সেই কুরআনকে কাপড়ে মুড়ে দিতে হবে। কুরআনের জ্ঞান, কুরআনের শিক্ষা মুসলমানদের মধ্যে চলে এলে বিরাট ক্ষতি। আমরা তাঁদের কথা মানলাম। কুরআনকে এতই সম্মান করলাম যে কুরআনকে পবিত্র কাপড়ে জড়িয়ে সেলফের উপরে ঢেকে দিলাম। ধরা যাবে না, এত পবিত্র আর সম্মানের জিনিস !! বুঝলাম না যে, তাকে তুলে থাকার মধ্যে এর সম্মান নয়, এর সম্মান নিহিত এর কথাগুলো জানার মধ্যে, সেগুলো নিজের জীবনে বাস্তবায়নের মধ্যে।
[চলবে..]

লেখক : জুবায়ের হোসাইন

উৎসঃ ফেসবুক

মতামত দিন