ক্রিস্টোফার গোমেজ থেকে আবদুল্লাহ—ত্রিত্ববাদী থেকে তাওহীদবাদী

ক্রিস্টোফার গোমেজ থেকে আবদুল্লাহ—ত্রিত্ববাদী থেকে তাওহীদবাদীঃ

*******************************************************************

আজ (১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫) বাংলাদুয়ার জামে মসজিদে জুম’আর পর এক ভাইয়ের সাথে পরিচয় হল। কথা প্রসঙ্গে জানতে পারলাম তিনি কনভার্টেড মুসলিম। খৃস্টান থাকাকালে তিনি চার্চে চাকরি করতেন। ২০১৪ সালে তিনি তার স্ত্রী ও কন্যাসহ খ্রিষ্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহন করেছেন। বর্তমানে ক্রিস্টোফার গোমেজ নাম পরিবর্তন করে আবদুল্লাহ নাম রেখেছেন। আল্লাহু আকবার!

সেই ভাইয়ের সাথে কথপকথনের চুম্বক অংশ আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছি ইন শা আল্লাহ।

আমিঃ যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমাকে কি বলবেন আপনি কিভাবে ইসলামের দাওয়াত পেয়েছেন?

আবদুল্লাহঃ আমি আমার পরিবারসহ কক্সবাজার ভ্রমনে যাওয়ার সময় বাসে ইসলাম সম্বন্ধে একটি বই পেলাম। মূলত সেই বইটি আমাকে ইসলাম গ্রহন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

আমিঃ কি বই?

আবদুল্লাহঃ মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর জীবনী।

আমিঃ তারপর?

আবদুল্লাহঃ আমি বাসের লোককে (সম্ভবত ড্রাইভার) জিজ্ঞেস করে বইটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পড়া শুরু করলাম।

আমিঃ তারপর?

আবদুল্লাহঃ সেই বই পাঠ করে মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর জীবনী সম্পর্কে জানার পর ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্য আরও পড়াশুনা শুরু করলাম। অতঃপর স্থির মস্তিস্কে পরিবারের সবাই ইসলাম গ্রহন করলাম।

(সেই বইয়ের নাম ও লেখকের নাম জানতে চাইলে তিনি অপরিচিত এক লেখকের নাম বললেন, নামটা আমার মনে নেই)

আসলে নিরপেক্ষভাবে নাবী মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর জীবনী সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাঠ করলে যে কোনো অমুসলিমই তাঁর উন্নত চরিত্র সম্পর্কে প্রভাবিত হবেই ইন শা আল্লাহ। মহান আল্লাহ তায়ালা নাবী মুহাম্মাদ (সাঃ) সম্পর্কে পবিত্র কুরআন মাজীদে উল্লেখ করেছেনঃ ”নিশ্চয়ই তুমি মহান চরিত্রের উচ্চমার্গে উন্নিত” ক্বালাম ৬৮/৪

মহান আল্লাহ তায়ালা আরও বলেনঃ ”তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের নিকট একজন রাসুল এসেছেন। তোমাদেরকে যা কিছু কষ্ট দেয়, তা তাঁর নিকট খুবই কষ্টদায়ক। সে তোমাদের কল্যাণকামী, মুমিনদের প্রতি বড়ই করুনাসিক্ত, বড়ই দয়ালু” (তাওবা ৯/১২৮)

মহান আল্লাহ তায়ালা ইয়াহুদি ও মুশরিকদের তুলনায় নাসারা অর্থাৎ খ্রিস্টানদেরকে মুসলিমদের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসাবে উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন মাজীদে খৃস্টানদের চরিত্র সম্পর্কে বলেনঃ

”যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি মানুষের মধ্যে ইয়াহুদ ও মুশরিকদেরকে তুমি অবশ্য সবচেয়ে বেশি শত্রুতাপরায়ণ দেখতে পাবে। 

আর যারা বলে, ‘আমরা নাসারা’- তাদেরকে তুমি যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য বন্ধুত্বে নিকটতর দেখতে পাবে। কেননা তাদের তাদের মধ্যে ইবাদতকারী আলিম ও সংসার বিরাগী আছে, আর তারা অহংকার করে না।

রাসুলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়, তারা যখন তা শুনে, তুমি দেখবে, সত্যকে চিনতে পারার কারনে তখন তাদের চক্ষু অশ্রুশিক্ত হয়ে উঠে।

তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি, কাজেই তুমি আমাদেরকে সাক্ষীদাতাদের অন্তর্ভুক্ত করো। আমাদের কী হয়েছে যে, আমরা আল্লাহর প্রতি এবং যে সত্যবিধান আমাদের নিকট এসেছে, তার প্রতি ঈমান আনবো না, আর আমরা প্রত্যাশা করি যে, আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করবেন। 

তাদের এ কথার কারনে আল্লাহ তাদেরকে জান্নাত দান করবেন, যার তলদেশে ঝর্নাধারা প্রবাহিত, তাতে তারা চিরকাল থাকবে, আর এটাই হল সৎকর্মশীলদের পুরস্কার। মায়িদাহ ৫/৮২-৮৩

শেষ কথাঃ খৃস্টানদের ত্রিত্ববাদের কুফরী ধর্ম পরিত্যাগ করে তাওহীদবাদী ধর্ম ইসলাম গ্রহণকারী এই মুসলিম ভাইকে মহান আল্লাহ এই দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ দান করুন, তাকে তাওহীদের উপর অটল রাখুন। তাঁর জীবনের সমস্ত ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিন, তাকে জীবনের সমস্ত মুসিবত থেকে দূরে রাখুন।

আর যে ভাইটি বাসের মধ্যে নাবী মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর জীবনী রেখে গিয়েছিলেন (ভুলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে), যার কারনে একজন খ্রিষ্টান ইসলাম ধর্ম গ্রহনে প্রভাবিত হয়েছেন, সেই ভাইকে এবং জীবনী লেখককে মহান আল্লাহ যথাযথ পুরুস্কার দান করুন। আমীন।

(facebook থেকে সংগহ করা )

মতামত দিন