পর্যালোচনা

শিরক বর্জন ও হিংসা পরিত্যাগ করাই শবে বরাতের শিক্ষা

শিরক বর্জন ও আপসে হিংসা পরিত্যাগ করাই হচ্ছে, প্রকৃত শবে বরাত পালন

লেখক : আব্দুর রাকীব বুখারী

আসুক নাকেন, যত লাঞ্ছনা সহ্য করতে হোক না কেন শির্ক থেকে উম্মতকে সাবধান করা এবং তাওহীদ প্রতিষ্ঠিত করাই হচ্ছে সালাফী দাওয়াতের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। আজ মুসলিম সমাজে যত দলই দাওয়াতের কাজ করুক না কেন কেউ এই নববী নীতিতে নেই।কবর-মাযার ভক্তরা শির্ক-বিদআতের কথা না বলারই যেন কসম খেয়েছে।

উপমহাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দলটি তাদের দাওয়াতের মূল লক্ষ্য যেন হানাফী মাযহাবের হেফাযত হিসাবে বেছে নিয়েছে। তাই তাদের পুরো শ্রম চলে মাযহাবের বিপরীতে প্রদত্ত ফাতাওয়াগুলির জবাব দিতে। শেষ পর্যন্ত ফেসবুকেও টিম তৈরি করে রেখেছে। অবশ্য তাদের দাওয়াতের অন্য দলটি ফাযায়েলের দাওয়াত দিতে ব্যস্ত কারণ শির্ক-বিদআতের কথা বললে নাকি ফেতনা হচ্ছে!

শেষ পর্যন্ত একদল লোক যখন দেশে ইসলামী শাষনের জন্য এগিয়ে আসলো, তখন তারাও নববী নীতি ভুলে বেছে নিল ইকামতে দ্বীনকে। এই ইকামতে দ্বীন করতে গিয়ে বলতে পারেন রাজনীতি করতে গিয়ে তাওহীদ ও শির্কের মত বিষয়কে গৌণ বলে ঢেকে রাখলো নচেৎ

বললঃ ক্ষমতায় আসলে তা উৎখাতকরে দিব? তবে এখন কেন ঐ দাওয়াত দেওয়া যাবে না, তা বুঝার বাকী থাকলো না।

=সম্প্রতি যখন বিদআতী দলেরা শবে বরাত উদযাপন করতে যাচ্ছে, তখন সালাফী আলেমের উদ্ধৃতি দিয়ে সেই হাদীস পেশ করছে যাকে ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং কিছু মুহাদ্দিস তা হাসান বলেছেন। কিন্তু তাদের ভুলে গেলে হবে না যে, এই রাতের ফযীলত পেতে হলে প্রথমে শির্ক ছাড়তে হবে এবং আপসে মুসলিম শত্রুতা ও বিদ্বেষ ত্যাগ করতে হবে।

নবী (স:) বলেনঃ ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মধ্য শাবানের রাতে অবগত হোন অতঃপর সমস্ত সৃষ্টিকে ক্ষমা করেন শির্ককারী ও আপসে শত্রুতা কারী ছাড়া’। [ইবনে মাজাহ, সালাত অধ্যায় নং১৩৯০, সূত্র সহীহ লিগায়রিহি, সিলসিলা সহীহা ১১৪৪]

=শেষ পর্যন্ত যখন একটি হাসান হাদীস পাওয়া গেল, তখন দেখা যাচ্ছে, তাতেও রয়েছে শির্ক বর্জনের আদেশ, আপসে শত্রুতা ত্যাগ করা আদেশ। তারা যদি সত্যিকারে হাদীস মান্যকারী হয়, সুন্নত পালনকারী হয়, তাহলে তাদের এই রাতে কোন নামাযের প্রয়োজন নেই, কোন রোযার প্রয়োজন নেই, কোন কবর যিয়ারতের প্রয়োজন নেই, কোন আলো বাতি জ্বালানোর দরকার নেই, কোন হালুয়া রূটির দরকার নেই।

যদি কিছু করণীয় আছে তাহলে প্রয়োজন আছে সেই নববী দাওয়াত শির্ককে বুঝার, জানার ওতা ত্যাগ করার। আমি এ কারণেই প্রথমে বুঝার কথা বলছি কারণ তারা শির্কে থাকার পরেও নিজেকে তাওহীদী মনে করে। তাই তাদের সকলকে এই শির্ক বুঝার দাওয়াত জানাই, যা নবী সাঃ এই রাতের ফযীলত পেতে হলে তা বর্জন করতে বলে গেছেন।

সাথে সাথে আপোসে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ত্যাগ করতে হবে। কাউকে ওহাবী, ইহুদী খৃষ্টানদের দালাল, মুনাফিক, আহলে হদস, সহ ইত্যাদি বিদ্বেষ ও শত্রুতায় পরিপূর্ণ শব্দাদি প্রয়োগ করা যাবে না। না তা মুখে বলা যাবে আর না এসবের গন্ধ অন্তরে থাকবে।

তাই বলছিলাম শির্ক বর্জন এবং মুসলিমের সাথে শত্রুতা পরিত্যাগই হচ্ছে, প্রকৃত শবে বরাত! আর তার প্রকৃত অধিকারী কে? তা সচেতন মুসলিম ভাইয়েরা সহজে অনুমান করতে পারেন। হে আল্লাহ তুমি আমাদের শির্ক থেকে হেফাজত করো, শত্রুতামূক্ত অন্তর দাও। আমীন।

মতামত দিন