ইসলামী শিক্ষা

‘দুনিয়াবী পড়াশোনা’কে ইবাদাতে পরিণত করা-২

১ম পর্বের লিংকঃ

Given said all the points in the previous part, আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে শয়তানের চক্রান্ত বিশ্বাসীদের জন্য দুর্বল। আমরা যেন নিজেকে খুব নাজুক না ভাবি। তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হচ্ছে নিচেরটা- আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া- প্রকাশ্য, অপ্রকাশ্য, ইচ্ছাকৃত অনিচ্ছাকৃত গুনাহ থেকে। আল্লাহর সাথে নিয়মিত কথোপকথনের কোনো বিকল্প নেই। নিশ্চয়ই বান্দা কোনো গুনাহ থেকে আপ্রাণভাবে বাঁচতে চাইলে আল্লাহ তাঁকে নিরাশ করেন না।

তাই ওরে বাবা আমি ফিতনায় পরে যাবো এটা ভেবে উম্মাহর জন্য বড় কিছু করার স্বপ্ন বিসর্জন দিবেন না। আস্থা রাখুন আল্লাহর সাহায্যের উপর। প্রতিদিন নিচের দুআটা করুন-

O my Lord, choose me to serve your deen.

এটা খুব গভীর একটা দুআ। কারণ আল্লাহর দ্বীন বিজয়ী হবেই। সেই প্রক্রিয়ায় দর্শক না হয়ে সৈনিক হতে পারাটা একটা বিশাল সৌভাগ্য। আল্লাহর কাছে আকুল্ভাবে না চাইলে আল্লাহ এটা যাকে তাকে দেবেন না।

যারা ফ্রি মিক্সিং গুনাহ এটা বলে সব ধরণের পড়াশোনা থেকে মেয়েদের বিরত থাকার পরামর্শ দেন তাদের সাথে আমি বিনয়ের সাথে দ্বিমত পোষণ করি কারণ এভাবে আমরা অবস্থার উত্তরণে কোনো ভূমিকা রাখার কথা ভাবছি না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমরা অজ্ঞ, পরনির্ভরশীল একটা জাতি রয়ে যাবো এটা উনাদের কাছে কোনো সমস্যা মনে হয় না কেন আমি জানি না। আমার যুক্তি হচ্ছে আমি যদি পুরুষ শিক্ষকের কাছে পড়ি, তারপর আমার মেয়েও যদি আরেকটা ছেলের কাছে পড়ে তাহলে আমার পড়ে লাভটা হইলো কী! আমি বলছি না যে সহশিক্ষার সিস্টেমটা ঠিক আছে, আমার কথা হচ্ছে সেটা থেকে বের হয়ে আসার জন্য আমরা কী করছি! আমি কি চাইবো না যে এমন প্রতিষ্ঠান থাকুক যেখানে শুধু মেয়েরা মেয়েদের কাছে পড়বে? তাহলে তেমন দক্ষ জনশক্তির তৈরির জন্য একটা প্রজন্মকে কি ফিত্নার ভয় জয় করে দৃঢ়পদ থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে না?

আমি বারবার বলছি যে আমার এই পোস্ট ছোট বাবুদের মায়েদের জন্য না। এটা অবশ্যই সত্যি যে আজকাল অনেক মেয়েই ক্যারিয়ার নামক গোলকধাঁধায় পরে গেছে। সমাজ যেহেতু পরিবারকে ফুল টাইম দেয়াকে ‘কিছু না করে’ ‘ঘরে বসে থাকা’ হিসেবে অবহেলা করে, তাই সমাজের চোখে ‘ ভ্যালুলেস’ হিসেবে গণ্য না হতে গিয়ে তারা বাচ্চাদের অধিকার (হাক্ব) আদায়ে অনেক সময়েই ভুল করে ফেলে। অবশ্যই সন্তান পরিচর্যা একটা টিম প্রোজেক্ট কিন্তু আল্লাহ মায়েদের এমন কিছু রোল দিয়েছেন যা বাবারা চাইলেও পালন করতে পারবেন না (দুধ খাওয়ানো)। সমস্যাটা হয় যখন আমরা এই একই প্রেসক্রিপশন সকল ক্ষেত্রে সমান ভাবে প্রয়োগ করি। আমরা তথাকথিত ইস্লামিস্টরা যখন আদর্শ মেয়ের ছবি আঁকি সেখানে সব মেয়ের একদম ঠিক বয়সে বিয়ে হয়, বাচ্চা হয় এবং তাদের একজন আদর্শ স্বামী আছে যারা যথেষ্ট ইনকাম করে এবং বউ ঘরে থাকে বলে বিগলিত হয়ে তাকে সম্মান করে। এই চিত্র যে কতটা অবাস্তব তা পাঠক মাত্রই বুঝতে পারবেন ইনশাল্লাহ। আমার এক ফ্রেণ্ড একবার আমাকে বলেছিলো যে সে ইসলামে নারীদের রোল নিয়ে লেখাগুলো সে পড়া বন্ধ করে দিয়েছে কারণ সে কারো স্ত্রী না এবং কারো মা না। তাই ওই লেখাগুলোতে ওর জন্য কোনো নির্দেশনা নেই। কথাটা শুনে আমার কাছে মনে হয়েছিলো যে কেউ যেন আমাকে একটা জোরে চড় লাগিয়ে দিয়েছে। কী রুঢ় বাস্তবতা!

এই প্রেক্ষাপটে আমরা একটা বিশাল গ্রুপ তৈরি করেছি যারা হা করে বসে আছে এক প্রিন্স চার্মিং এর আশায়। কথাটা শুনতে বাজে শোনায় কিন্তু আমি বহুজনের কাছে শুনেছি যে তারা অপেক্ষা করছে তাদের বিয়ে হবে, তারপর জামাই এর টাকায় তারা দ্বীন শিক্ষা করবে। কথাটা শুনে আমার কেন যে এত রাগ উঠে আল্লাহই জানেন। এইসব পরজীবী মানসিকতার মেয়েদের দিয়ে কী হবে আল্লাহ জানেন। আমার মনে আছে আমি কিভাবে ১০টাকা রিকশা ভাড়া বাঁচিয়ে হাঁটতাম IOU এর টিউশন ফি দেয়ার জন্য। আমি আল্লাহর কাছে একজন সঙ্গী চাইতাম ঠিকই যে আমাকে সম্মান করবে, কিন্তু কখনো মনে হয় নি যে সে এসে আমার সব সমস্যার সমাধান করে দেবে!

এই যে একই প্রেস্ক্রিপশন সবার জন্য প্রয়োগ করছি আমরা, এভাবে আমরা মেধাবী কিছু মেয়েকে চরম অপদার্থ বানিয়ে ফেলছি। যাদের এখনো বিয়ে হয়নি, মায়ের সংসারে হাত নাড়ায় না, বাচ্চা হয় নাই, ডিভোর্সড এইসব মেয়েরা কিছু করছে না কারণ তারা ফ্রি মিক্সিং এর গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচাতে চাইছে।

আমার কাছে একটা জিনিস খুব অদ্ভূত লাগে যে যখন আমরা একটা মেয়ে যে কিনা Adultদের দ্বারা পরিবেষ্টিত, তাকে পড়তে দেই না তাহলে সেই মেয়েটা সারাদিন বাসায় কী করবে? রান্না করবে? ঘর গুছাবে? সেগুলো করতে কতক্ষণ লাগে? যখন রান্না করা আর পরিপাটি ঘরের প্রশ্ন আসে তখন আমরা সুন্নাহকে ভুলে যাই কেন যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে মাস পার হয়ে যেত চুলা জ্বলতো না? ঊনার ঘরে প্রয়োজনীয় জিনিসটাও ছিল না। আমাদের ঘর যদি তেমন হত, তাহলে তো গুছানোর, পরিষ্কার করারই এত কিছু থাকতো না!

অমুক রকম না হলে খাবো না, ৪-৫টা পদ না হলে খাবো না —খাবার নিয়ে এত রংগ করার সময় আমাদের মনে থাকে না যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদীসটা

“The human does not fill any container that is worse than his stomach. It is sufficient for the son of Adam to eat what will support his back. If this is not possible, then a third for food, a third for drink, and a third for his breath.” [Jami at-Tirmidhi]

খাওয়া কেন্দ্রিক যে একটা জীবন আমরা যাপন করি সেটা কি সুন্নাহ মোতাবেক?

(চলবে ইনশাল্লাহ)

–  Hamida Mubasshera

মতামত দিন