বাংলাদেশে সাধারণ শিক্ষায় উপেক্ষিত মহানবী (সঃ)

বাংলাদেশে সাধারণ শিক্ষায় উপেক্ষিত মহানবী (সঃ)

-শাহ মুহাম্মদ হাবীবুর রাহমান*

বর্তমান মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ন একটি স্থান দখল করে আছে। জনসংখ্যা ভৌগলিক অবসানের দিক দিয়েও তার গুরুত্ব পৃথিবীর মানচিত্রে অপরিসীম।এ দেশের জনসংখ্যার ৯০% মুসলিম। সেই হিসেবে দেশে মুসলমানের সংখ্যা ১২ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। এদের অধিকাংশই এখন সাক্ষর। বিশেষতঃ সরকারী উদ্যোগে পরিচালিত সাক্ষরতা কার্যকম ও মেয়েদের শিক্ষার জন্য উপানুষ্টানিক কর্মসূচি ও বিশেষ বৃওি প্রধান এবং এনজিওদের কমসুচির ফলে শিক্ষার বিস্তার ঘটেছে। এই শিক্ষার মধ্যে ও শিক্ষা লাভের ফলে শিক্ষিতদের মধ্যে মুসলমানদের কতটা আত্ন পরিচয় ঘটেছে, ইসলামের ইতিহাস ও সংঙ্কৃতির কতটা বিকাশ ঘটেছে, ইসলামী জীবনবোধের সাথে শিক্ষিতজনের কতটা পরিচিতি সম্ভব হয়েছে, এসব প্রসংগে শুনবার কৌতুহল আমাদের রয়েছে।

বিশেষতঃ বাংলাদেশ ‘ওআইসি’র সদস্য দেশ। বিখ্যাত মক্কা ঘোষনার সাক্ষরকারী দেশও বটে। সেই ঘোষনার দাবী অনুসারে আমাদের শিক্ষার সকল ক্ষেএে ইসলামের মূলধারা তথা মৌলিক শিক্ষা এবং ইসলামী জীবনাদর্শের প্রতিফলন থাকতে হবে। ইসলামী সোনালী যুগ তথা গৌরবময় অতীত ইতিহাসের পরিচয় থাকতে হবে এই শিক্ষার মধ্যে। একই সাথে থাকবে ভবিষৎ পথনিদেশনা। এরই সূত্র ধরে মানবতার মুক্তির দূত, বিশ্ব মুসলিমের পথপ্রদর্শক আল্লাহর হাবীব মানবকুল শ্রেষ্ঠ ও সর্বকালের সর্বোত্তম আদর্শের প্রতীক মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবন ও কর্ম, তাঁর আদর্শ ও সংগ্রাম সমন্ধেও আমাদের সম্যক জ্ঞান থাকা বাঞ্জনীয়। এই জ্ঞানের দ্বারাই সে ইসলামী জীবানাচরণের জন্য উদ্বুদ্ধ হবে, ইসলামী বিরোধী সকল প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে উঠবে। হক ও বাতিলের দ্বন্দ্বে সেই জ্ঞানই দেবে তাকে পথনির্দেশনা। কিন্তু বাস্তবে কী এদেশে তাই ঘটছে?

এদেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর বিরাট অংশই সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত। বাকী অংশ মাদরাসা শিক্ষিত। মাদরাসা শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে রাসূল (সাঃ)এর জীবনীর বিভিন্ন দিক পাঠ্য রয়েছে। সমগ্র মাদরাসা পাঠ্যকাল শেষে একজন শিক্ষার্থী রাসূলের জীবনের সামগ্রিক জ্ঞান নিয়েই বেরিয়ে আসে। কিন্তু সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতদের স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মানুষটির জীবনাদর্শ, তাঁর সংগ্রাম ও সাফল্য, কর্মসূচি ও সংস্কার কতটা অন্তভুর্ক্ত রয়েছে সে প্রশ্ন করার সময় এসে গেছে। স্বাধীনতা পুর্ব বাংলাদেশে অথাৎ পূর্ব–পাকিস্তানে আমলেও এ দেশের স্কুল ও কলেজের পাঠ্যক্রমে এ বিষয়ে যতটা জানার ও শেখার সুযোগ ছিল স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশেক তা ক্রমে ক্রমে হ্রাস পেয়ে এখন প্রায় নিসচন্ন হওয়ার পথে। মহানবী (সঃ)এর বিশাল জীবন সম্পকে জানা ও তা থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য ১৯৭১-এর পূর্বের শিশুকিশোর পাঠ্য বইয়ে যে আলোচনা-প্রবন্ধ, কাহিনী, গল্প, হাদীস ছিল, যতটা জানার ও শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ ছিল আজ তার ভগ্নাংশও নেই বললেও অতুন্য হবে না। অথচ আজ বাংলা ভাষায় ইসলামী সাহিত্যের জোয়ার এসেছে। এক সময় মাওলানা আকরম খাঁর ‘মুস্তফা চরিত’ ও কবি গোলাম মুস্তফার ‘বিশ্বনবী’ ছাড়া প্রিয় নবী (সঃ)–এর কোন পুর্ণাঙ্গ প্রামাণ্য জীবনীগ্রন্থ পাওয়া ছিল দুর্লভ। আজ় তাঁর উপর বাংলায় লিখিত মৌলিক ও অনুবাদ গ্রন্থের সংখ্যা কুড়ি ছাড়িয়ে গেছে। অথচ এদেশে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত কিশোর ও যুবকদের মধ্যে মাইকেল এইচ, হার্টের ‘দি হানড্রেড’ –এর শীর্ষ ব্যক্তিটি সমন্ধে জানার যেমন কোন আগ্রহ নেই, তেমনি কোন প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বা বাধ্যবাধকতাও নেই। ফলে অনুপম চরিত্র গঠনের জন্য যে মডেল বা আদর্শ সামনে থাকলে জীবন সুন্দর হয় এবং পৃথিবী সকলেই জন্য বসবাসযোগ্য হয়ে ওঠে, তার অভাব ধীরে ধীরে প্রকট হয়ে উঠছে।
আমাদের দেশের সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত যুবকরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মানুষটি সম্পর্কে কত কম জানে তার তথ্য একই সঙ্গে বিস্ময়কর ও দূর্ভাগ্যজনক। অতি সম্প্রতি দেশের একটি বিভাগীয় শহরের তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিন পযায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উপরে এ ব্যাপারে পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। এদের প্রতিটি গ্রুপে পঞ্চাশ জন ছাত্র-ছাত্রী ছিল। মাষ্টাস শেষ বর্ষ, বিএ (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ ও বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীরা এই পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে। নবী জীবনের নানা প্রশ্ন নিয়ে প্রতি প্রশ্নে এক নম্বর হিসাবে মোট পঞ্চাশ নম্বরের পঞ্চাশটি প্রশ্ন ছিল। প্রশ্নগুলি রাসূল (সঃ)-এর শৈশব ও কৈশোর, তাঁর যৌবনকাল ও বিবাহিত জীবন, মদীনায় হিজরত, যুদ্ধ, দাওয়াত ও তাবলীগ, সমাজ সংষ্কার, তাঁর পারিবারিক জীবন, মৃত্যু এবং আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক। সেসব প্রশ্নের কয়েকটি নমুনা এখানে উল্লেখ করা অপ্রাসঙ্গিক হবে না।
১. রাসূল (সঃ) কোন গোত্রের কোন বংশে জন্মগ্রহন করেছিলেন?
২. রাসূল (সঃ)-এর মাতা কোথায় ও কখন মৃত্যুবরণ করেছিলেন?
৩. যৌবনে তিনি প্রথম কোন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
৪. মদীনায় হিজরতের সময়ে পথিমধ্যে কে তাঁকে হত্যা করতে এসেছিল?
৫. হিজরী কত কখন হ’তে গণনা করা হয়?
৬. খন্দক যুদ্ধের কৌশল কোন ছাহাবীর পরামর্শে ছিল?
৭. বায়’আতুর রিয়ওয়ান’ কি?
৮. মদ কখন পরিপূর্ন হারাম হয়?
৯. রাসূল (সঃ) বিদায় হজ্জের ভাষণ কখন ও কোথায় দিয়েছিলেন?
১০. তিনি কোন কোন সম্রাটকে ইসলামের গ্রহনের জন্য চিঠি পাঠিয়ে ছিলেন?

.
পরীক্ষায় প্রাপ্ত সবোচ্চ নম্বর ছিল নিম্নরূপঃ
(ক) মাস্টাস শেষ বর্ষের ছাত্র-ছাত্রী : ২২.৫
(খ) বি.এ. (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের ছাত্র-ছাত্রী : ২০.০
(গ) বি.বি.এ. দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র-ছাত্রী : ১৮.০
শূন্য পেয়েছিল বেশ কয়েকজন। শূন্য পাবার প্রধান কারণ ভুল উত্তর না দেওয়া। এখানেই শেষ নয়। ঐ একই ছাত্র-ছাত্রীদের লিখতে বলা হয়েছিল তারা এ যাবৎ রাসূল (সঃ) এর উপর কোন পূর্ণাঙ্গ জীবনী গ্রন্থ আদৌ পড়েছে কিনা অথবা অন্ততঃ একবার হলেও পড়েছে কি না? তাদের দেওয়া উত্তরগুলি সারণী আকারে বিন্যস্ত করলে যে চমকপ্রদ ও একই সঙ্গে দুভার্গ্যজনক চিত্র বেরিয়ে আসে তা নিম্নরূপঃ

বিবরণ শতকরা হার

.
১. পূর্নাঙ্গ একটা জীবনীগ্রন্থ আদৌ পড়েনি                 ৩৭%
২ .অংশ বিশেষ পড়েছে                                           ১৮%
৩. জীবনীগ্রন্থ পড়া শুরু করেছিল, শেষ করেনি          ১৪%
৪. জীবনীগ্রন্থ অর্ধেক বা তার কম পড়েছে                  ০৮%
৫. জীবনীগ্রন্থ হাতে পেয়েছিল, পড়ার সময় হয়নি      ১০%
৬. বাড়িতে এমন বই নেই তাই পড়া হয়নি                ১০%
৭. পুরো জীবনীগ্রন্থ একবার পড়া হয়েছে                   ০৩%
……………………………………………মোটঃ ১০০%
যেসব ছাত্র-ছাত্রী নবী জীবনী পড়া শুরু করে ছেড়ে দিয়েছে বা অংশবিশেষ পড়েছে তাদের পড়াও প্রধানতঃ দু’টি বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ, গোলাম মোস্তফার ‘বিশ্বনবী’ ও ছফিউর রাহমান মুবারকপুরী রচিত ‘আর-রাহীকুল মাখতুম’। লক্ষ্যণীয় বাড়ীতে কোন নবী জীবনীই নেই এমন বাড়ীর সংখ্যাও ১০%। তবে এই সংখ্যাও বিশ্বাসযোগ্য নয়, বাস্তবে এই পরিমাণ আরো বেশীই হবে। যেসব বাড়ীতে নাবী জীবনের কোন একটি বই রয়েছে তারও অধিকাংশ কোন উপলক্ষ্যে পাওয়া উপহার বা গিফট। স্বেচ্ছায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নবী জীবনী কিনেছে এমন উদাহরণ খুব বেশী পাওয়া যাবে না।
প্রথমতঃ প্রশ্ন উঠতে পারে নবী জীবনী ছাত্র-ছাত্রীরা যদি নাই পড়ে, তাহ’লে রাসূল (সঃ)-এর উপর লিখিত জীবনীগ্রন্থ কারা কেনে? কিভাবে কয়েকটি বইয়ের কয়েক সংষ্করণও প্রকাশিত হয়েছে? এর উত্তর পাওয়া গেছে বই বিক্রেতাদের কাছ থেকে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী অধিকাংশ বই কেনা হয়েছে স্কুল-কলেজের বার্ষিক পুরষ্কার বিতরণীতে রচনা, হামদ-নাত বা তেলাওয়াতের পুরষ্কার হিসেবে প্রদানের জন্য, কিছু কেনা হয় কর্মকর্তা- কর্মচারীদের অবসর নেবার প্রাক্কালে বিদায় অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে দেবার জন্য।
উল্লেখ্য, নবী জীবনের উপরে প্রকাশিত অনুবাদগ্রন্থের উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যার ক্রেতা হ’ল ইসলাম প্রিয় যুবগোষ্ঠী ও ইসলামকে জানতে আগ্রহী জনগোষ্ঠী, যাদের অধিকাংশই কোন না কোন ইসলামী সামাজিক সাংষ্কৃতিক রাজনৈতিক দলের কর্মী বা অনুসারী কিন্তু চরিত্র গঠনের যে উর্বর ও উপযুক্ত সময় সেই কৈশোরেই আমাদের সন্তানদের, স্কুলের কিশোরদের হাতে নবী জীবনী দেখা যায় না। নবী জীবনের ছিটেফোঁটাও দেখা যায় না তাদের পাঠ্যসূচীতে। এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় আর কি হ’তে পারে? আজ যারা সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠছে, যাদের বৃহৎ অংশই পরবর্তীকালে দেশ গড়ার নানান কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হবে, তাদের চরিএ গঠনে মানসিকতা তৈরীতে নবী জীবনের কোন শিক্ষা বা আদর্শই প্রতিফলিত হবে না। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষটির কর্মকাণ্ড ও জীবন যাদের সামনে আদর্শ হিসাবে উপস্থাপিত হ’ল না, তাদের কাছ থেকে আমাদের প্রত্যাশা যাই হোক, প্রাপ্তি যে শূন্য হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এজন্য দায়ী দেশের নেতারাই, রাষ্ট্রের কর্নধাররাই। কারণ গোটা শিক্ষাব্যবস্থা তারাই নির্ধারণ করেন জাতির লক্ষ্য ও আদর্শ কি হবে, জাতিকে কোন পথে এগুতে হবে। তাই তাদেরই যদি আদর্শ মানুষ তৈরীর, প্রকৃত মুমিন তৈরীর টার্গেট না থাকে তাহ’লে দেশের অযুত কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতীদের দোষারোপ করে লাভ কি?

.
[highlight]এই অবস্থার প্রতিবিধানের জন্য কতগুলি পদক্ষেপ আশু গ্রহণ করা যেতে পারে। [/highlight]এসবের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হ’ল কিশোরদের জন্য সহজবোধ্য ভাষায় রাসূল (সঃ)-এর জীবনের আকর্ষণীয় ও শিক্ষামূলক ঘটনার সমন্বয়ে বই লেখা এবং তা অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বাধ্যতামূলক পাঠ্য করা

দ্বিতীয় কাজ হ’ল গ্রাজুয়েশন স্তর পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটা পূর্নাঙ্গ রাসূল (সঃ) চরিত রচনা এবং প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হ’লেও নামমাত্র মূল্যে সেই বই তাদের হাতে পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

তৃতীয়তঃ সকল পাবলিক পরীক্ষায় রাসূল (সঃ)-এর জীবন ও কর্ম হ’তে কমপক্ষে দশ নম্বরের লিখিত অথবা এমসিকিউ পদ্ধতির বাধ্যতামূলক প্রশ্নোত্তর অংশ রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

চতুর্থতঃ রাষ্ট্রীয়ভাবে ঢাকাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য ও ব্যয়বহুল সীরাতে রাসূল (সঃ) সম্পর্কে আলোচনা ও তাঁর সংগ্রামমুখর জীবনের নানা দিকের উপর বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতাতেই। জাতীয় দৈনিকগুলিও এধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে এগিয়ে আসতে পারে। এর ফলে দেশের সর্বত্র আপামর জনসাধারণের মধ্যে ধীরে হলেও নবী জীবন ও তাঁর শিক্ষার যে প্রভাব বিস্তার লাভ করবে তার মূল্য অপরিসীম।

প্রসঙ্গতঃ একটা ঘনায়মান বিপদের কথা এখানে উল্লেখ না করলেই নয়। এখন দেশের যত্রতত্র অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠছে কিন্ডারগারটেন ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণীতে পাঠ দানের জন্যে ইংল্যান্ডের লেখা বইই পুণমুদ্রণ করে ব্যবহার করা হচ্ছে। একটু গভীরভাবে পযালোচনা করলে দেখা যাবে এসব বইয়ে শিশু-কিশোরদের সামনে জাতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরার কোন প্রচেষ্টাও নেই, কোন পরিকল্পনাও নেই। ফলে নিজেদের অজান্তেই এরা ইসলামেরবিমুখ হয়ে বেড়ে উঠছে। এভাবে ইসলাম থেকে ক্রমশঃ দূরে সরে যাওয়ায় তাদের কি খুব দোষ দেওয়া যায়? এরপর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পযায়ের পাঠ্যক্রমেও যদি ইসলামের জীবনদশন, কমপক্ষে সীরাতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নাম গন্ধও না থাকে তাহ’লে দেশের সংবিধানেযতই তা’আউয-তাসমিয়া যুক্ত হোক, যতই রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করা হোক দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি, রাজনীতি-অর্থনীতি, আইন ও বিচার কোথাও ইসলামের প্রকৃত চিত্র ও শিক্ষা খঁজে পাওয়া যাবে না। বরও ইসলামের সাথে সাংঘর্ষি্ক জীবন ব্যবস্তাই বাস্তবায়িত হবে মুসলমান নামধারী তরুণ-তরুণী দ্বারাই। তাই সতর্ক হওয়ার এবং যথোচিত পদক্ষেপ গ্রহণের উপযুক্ত সময় এখনই।

*প্রফেসর, অর্থনীতি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button