মসজিদ পরিচিতিঃ মসজিদে আকসা

পৃথিবীতে মানব জাতির ইতিহাসে নির্মিত দ্বিতীয় মসজিদ হলো ‘মসজিদুল আকসা বা বায়তুল মাকদিস’। এ প্রসঙ্গে আবূ যার (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন মাসজিদ তৈরী করা হয়েছে? তিনি বললেন, মসজিদুল হারাম। আমি বললাম, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেন, মসজিদুল আকসা। আমি বললাম, উভয় মসজিদের তৈরীর মাঝে কত ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, চল্লিশ বছর…..
[সহীহ বুখারী-৩৩৬৬]

★মসজিদুল আকসা সর্বপ্রথম কে নির্মাণ করেন?
এ বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে। অনেকের মতে আদম আলাইহিস সালাম সর্বপ্রথম নির্মাণ করেন এবং পরবর্তীতে সোলায়মান আলাইহিস সালাম পুনর্নির্মাণ করেন। সোলায়মান আলাইহিস সালাম কর্তৃক বায়তুল মাকদিস নির্মাণের বিষয়টি সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছেঃ আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সুলাইমান ইবনু দাঊদ আলাইহিস সালাম বায়তুল মাকদিসের নির্মাণ কাজ শেষ করে আল্লাহ্‌র কাছে তিনটি বিষয় প্রার্থনা করেনঃ আল্লাহ্‌র হুকুম মত সুবিচার, এমন রাজত্ব যা তার পরে আর কাউকে দেয়া হবে না এবং যে ব্যক্তি বাইতুল মাকদিসে কেবলমাত্র নামাজ পড়ার জন্য আসবে, সে যেন তার গোনাহ থেকে নিষ্পাপ হয়ে বের হয়ে যায় তার মা তাকে প্রসব করার দিনের মত। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: প্রথম দুটি তাঁকে দান করা হযেছে এবং আমি আশা করি তৃতীয়টিও তাঁকে দান করা হবে।
[ইবনু মাজাহ/ সহীহ]
★মসজিদুল আকসা কোনটি?
সাধারণত মসজিদুল আকসা হিসেবে আমজনগণের নিকট বেশি পরিচিতি পেয়েছে ডোম অব রক/স্বর্ণালী গম্বুজ। কেউ কেউ প্রতিবাদে কালো গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ কে ‘মসজিদুল আকসা’ হিসেবে প্রচার করেন, যা উমর রাদিয়াল্লাহু কর্তৃক নির্মিত। মূলত উভয় মসজিদই বৃহৎ মসজিদুল আকসার অন্তর্গত। মসজিদুল আকসার সীমানা হলো, চতুর্পাশের নির্মিত দেয়াল পর্যন্ত। সে হিসেবে চতুর্পাশের দেয়ালের মাঝে অবস্থিত যতগুলো মসজিদ, গম্বুজ, করিডোর, চত্বর ইত্যাদি রয়েছে; সবগুলোই মসজিদুল আকসার অন্তর্ভূক্ত। মসজিদুল আকসার আয়তন একলক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার বর্গমিটার।
[নিম্নে চিত্র সংযুক্ত করা হলো]
দেয়ালের মাঝের মসজিদ, গম্বুজ, গাছগাছালি সবই মসজিদুল আকসার অন্তর্ভূক্ত। পুরো মসজিদুল আকসার আয়তন এক লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার বর্গমিটার।
★মসজিদুল আকসার বিশেষ কোন ফজিলত আছে কী?
প্রথমত মসজিদুল আকসার কথা কুরআনুল কারীমে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ
سبحان الذي أسرى بعبده ليلا من المسجد الحرام إلى المسجد الأقصى الذي باركنا حوله…الخ.
“তিনি পবিত্র যিনি তাঁর বান্দাকে কোন এক রাত্রিতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম হতে মসজিদুল আকসায়…
[সূরা বানী ইসরাঈল/১]
দ্বিতীয়ত মসজিদুল আকসার ফজিলত সংক্রান্ত অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যেগুলোকে একত্রিত করে পূর্ববর্তী কোন কোন ইমাম বই লিখেছেন। তাদের মাঝে অন্যতম হলেন, আবুল মাআলী আল-মাকদেসী রহঃ (মৃঃ ৪৯২ হিঃ) এবং জিয়াউদ্দিন আল-মাকদেসী রহঃ (মৃঃ ৬৪৩ হিঃ)। তাদের উভয়ের গ্রন্থের নাম ফাজায়িলু বায়তিল মাকদিস (فضائل بيت المقدس)।
মসজিদুল আকসার ফজিলত সংক্রান্ত উল্লেখযোগ্য কিছু হাদিস হলোঃ
১. এ মসজিদের উদ্দেশ্য সফর করার অনুমোদন রয়েছে। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, মাসজিদুল হারাম, মাসজিদুর রাসূল এবং মাসজিদুল আকসা তিনটি মাসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদে (সালাতের) উদ্দেশে হাওদা বাঁধা যাবে না (অর্থাৎ সফর করা যাবে না)।
[সহীহ বুখারী]
২. মসজিদুল আকসায় দাজ্জাল প্রবেশ করবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ দাজ্জাল চারটি মসজিদের নিকটবর্তী হবে না। সেগুলো হলোঃ মসজিদুল হারাম, মসজিদুল মদিনা, মসজিদুত তূর এবং মসজিদুল আকসা…।
[মুসনাদে আহমাদ/সহীহ]
৩. মসজিদুল আকসায় নামাজ আদায় করলে (বায়তুল্লাহ এবং মসজিদে নববী ব্যতীত) অন্য যে কোন মসজিদে নামাজ আদায় করার চেয়েও আড়াইশো গুণ বেশি ছোয়াব পাওয়া যায়। কোন হাদিসে পাঁচশো গুণের কথা বলা হয়েছে।
৪. নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদুল আকসা যিয়ারত করতে গেলে সে গোনাহ থেকে সদ্যজন্মানো শিশুর ন্যয় নিষ্পাপ হয়ে প্রত্যাবর্তন করবে। যেটি ইবনু মাজাহ এর বর্ণনায় এসেছে এবং পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
SOURCE

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button