ইতিহাসের সবচে’ সংক্ষিপ্ত‌ অথচ গুরুত্বপূর্ণ জুমুআর খুতবা

তিউনিসিয়ায় তখন পর্দা বিরোধী আন্দোলন গড়ে উঠেছে,বুরগুইবার শাসনামল। তিনি মহিলাদের পর্দা ছাড়াই পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজের আহ্বান জানিয়েছেন,এই সুযোগে মহিলারা কেনা কাটার জন্য বাজারে ভিড় জমিয়েছেন। তিউনিসিয়ার সবচে বড় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব এবং দেশের গ্রান্ড মুফতি শাইখ মুহাম্মাদ তাহের বিন আশুর এই বাজার অতিক্রম করেই খুতবা দেয়ার জন্য জাতীয় মাসজিদে উপস্থিত হন।
খুতবা দেয়ার জন্য তিনি মেম্বারে উঠে যথারীতি হামদ্ ও ছানা পড়েন। অতঃপর তিউনিসিয়ার আঞ্চলিক ভাষায় মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেনঃ
نساء شكون اللى فى ألاسواق
বাজারে অর্ধ নগ্ন মহিলাদের বিক্ষোভ মিছিল হচ্ছে এরা কারা?
মসজিদে পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছে কার ও মুখে কোন শব্দ নেই !
ঐ একই প্রশ্ন আবার করেনঃ
এই মহিলারা কারা? কি এদের পরিচয়?
তিনি একটু বসলেন, অতঃপর দ্বিতীয় খুতবার জন্য উঠে বললেনঃ
لا خير فى صلاتكم ونساء كم عرايا
ثم قال اقم الصلاة يا امام
সালাত আদায় করে কোন লাভ নেই,
মহিলারা যদি নগ্ন বা অর্ধনগ্ন থাকে।
অতঃপর তিনি অন্য ইমামের ইমামতিতে সালাত আদায় করেন।
এই খুতবা দেয়ার জন্য তিনি বুরগুইবা সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন।
২.
বুরগুইবা প্রশাসন তাঁকে দিয়ে এমর্মে ফতওয়া জারি করাতে চেয়েছিল যে গ্রীস্ম কালের তাপদাহে রমজানের রোজা না করে অন্য সময়ে কাযা করা বৈধ হবে, কিন্তু গ্রান্ড মুফতি সরাসরি রেডিও মারফত প্রচারিত এক ভাষণে বলেন:
সিয়ামের বিধান আল্লাহর, শরঈ ওযর ছাড়া সিয়াম কাজা করা বৈধ নয়। আল্লাহ সঠিক বলেছেন , কিন্তু বুরগুইবা মিথ্যে বলছেন।
صدق الله وكذب بورقيبة.
উল্লেখ্য যে বুরগুইবা তিউনিসিয়ার ক্ষমতায় আসেন ১৯৬১সালে ।
গ্রান্ড মুফতি ইবন আশূর ইন্তেকাল করেন ১৯৭৩সালে।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button