ইসলামের ইতিহাস

ঐতিহ্যের অতীত ফিরে পাচ্ছে তাতার মুসলমানরা!

ক্রিমিয়ান তাতার হচ্ছে কৃষ্ণ সাগরের উত্তর উপকূলে অবস্থিত ইউক্রেনের একটি স্বায়িত্বস্বাসিত প্রজাতন্ত্র। প্রায় তিনশ’ বছরের বাধা-বিপত্তি ও গোলামির জিঞ্জির ছিঁড়ে অবশেষে নিজেদের পায়ে দাঁড়াচ্ছে তাতাররা। কৃষ্ণ সাগরের উপকূলে আবার দেখা দিয়েছে ইসলামী নবজাগরণ।
.
ক্রিমিয়ান তাতার হচ্ছে কৃষ্ণ সাগরের উত্তর উপকূলে অবস্থিত ইউক্রেনের একটি স্বায়িত্বস্বাসিত প্রজাতন্ত্র। প্রায় তিনশ’ বছরের বাধা-বিপত্তি ও গোলামির জিঞ্জির ছিঁড়ে অবশেষে নিজেদের পায়ে দাঁড়াচ্ছে তাতাররা। কৃষ্ণ সাগরের উপকূলে আবার দেখা দিয়েছে ইসলামী নবজাগরণ। নতুন নতুন মসজিদ ও ইসলামী কেন্দ্র স্থাপিত হচ্ছে এবং আনুপাতিক হারে বেড়ে চলেছে নামাজীদের সংখ্যা। হারিয়ে যাওয়া তাতার ভাষার পুনরুজ্জীবনের জন্য ক্রিমিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গড়ে উঠেছে তাতার ভাষা স্কুল।


.
ক্রিমিয়ান তাতারদের পূর্বপুরুষ হচ্ছে তুর্কী। চতুর্দশ শতকের শেষের দিকে ইসলাম ধর্ম ও সংস্কৃতি তাতাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। চতুর্দশ শতকে পরিভ্রমণকারী পর্যটকরা এই অঞ্চলে ইসলামী সংস্কৃতি ও সভ্যতার নিদর্শন দেখতে পান। সময়ের বিবর্তনে ইসলামী অনুশাসন, সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রতি তাতারদের আকর্ষণ বৃদ্ধি পেতে থাকে। নিজেদের সন্তানদের তারা উচ্চ শিক্ষার জন্য বুখারার বিখ্যাত মাদরাসায় পাঠাতে থাকেন। এমনকি তাতারদের পূর্ব পুরুষরা যারা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন তারা আবার ইসলাম ধর্মে ফিরে আসেন।
.
কিন্তু রুশজারদের অনিয়ন্ত্রিত বর্বরতায় ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে ক্রিমিয়ায় যেখানে তাতার মুসলমানদের সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখ, নির্মূল অভিযানের ফলে ১৯১৭ সালে সে সংখ্যা এসে দাঁড়ায় মাত্র এক লাখে। ১৯৪৪ সালে স্টালিন সরকার ক্রিমিয়ান ৫০ হাজার থেকে এক লাখ তাতারকে স্টালিন দেশত্যাগে বাধ্য করেন। তখনকার আদমশুমারি অনুযায়ী তাতার মুসলমানদের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩ শতাংশে।
.
১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লবের পূর্বে পুরো ক্রিমিয়ায় মসজিদের সংখ্যা ছিল ১৭৫০, বলশেভিক বিপ্লবর পর তা হ্রাস পেয়ে দাঁড়ায় মাত্র ১০০তে। স্থানীয় ও বাইরের মুসলমানদের সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে নতুন মসজিদ, পাঠাগার ও পবিত্র কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে উঠছে। ইসলামী অনুশাসন প্রতিপালনের প্রতি দৃঢ়তার ফলে তাতার জনগোষ্ঠী বিভিন্ন সামাজিক পরিম-লে বসবাস করেও একটি ভারসাম্যপূর্ণ রীতি বজায় রাখতে সক্ষম হন। প্রবল বিপত্তি সত্ত্বেও মুসলমান পরিচয় নিয়ে বেঁচে থাকাকে তাতাররা গৌরব মনে করেন।
.
ইতোমধ্যে আড়াই লাখ তাতার স্বদেশে ফিরে এলেও বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও সংগঠন তাতার মুসলিম ভাইদের সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছে সোভিয়েত যুগের অবসানের পর। সৌদি সরকারের আমন্ত্রণে প্রতিবছর বহু তাতার পবিত্র হজব্রত পালন করে থাকেন। ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক তাতার ভাষা, সাহিত্য ও ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন, নির্বাসিত তাতারদের স্বদেশে পুনর্বাসন এবং ক্রিমিয়ায় একটি ইসলামী সেন্টার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিয়েছে। তুরস্কের সঙ্গে ক্রিমিয়ার তাতারদের রয়েছে ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের অবিচ্ছেদ্য বন্ধন।
.
ক্রিমিয়ায় তুরস্কের ২০টিরও বেশি যৌথ অর্থনৈতিক প্রকল্প গড়ে উঠেছে এবং তাতার ছাত্রদের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়া-লেখার জন্য তুরস্ক সরকারের রয়েছে বিপুলসংখ্যক বৃত্তি। স্বদেশে প্রত্যাবর্তিত তাতারদের গৃহনির্মাণ প্রকল্পে অর্থ যুগিয়ে আসছে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা।
তাতার মুসলমানদের ব্যাপক দাবি ও বিভিন্ন মুসলিম দেশের অব্যাহত চাপের মুখে ইউক্রেন সরকার তাতারদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পূরণে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে আসছে।
.
শত বছরের বঞ্চনা, নিপীড়ন, হতাশা ও ক্ষোভ সত্ত্বেও তাতাররা কোনো রূপ সহিংসতা ও সন্ত্রাসের পথ বেছে নেয়নি বরং নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সমস্যা সমাধানের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। আশা করা হচ্ছে, তাতাররা তাদের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে এবং তাদের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ায় ইসলামের ঝাণ্ডা সগৌরবে পতপত করে উড়বে।
.
‪#‎দেশে_দেশে_ইসলাম‬
‪#‎দেশে_দেশে_ইসলাম_ও_মুসলিম‬

Source

মতামত দিন