ইসলামের ইতিহাস

সূর্যোদয়ের দেশ জাপানে ইসলামের ঐতিহাসিক পদচারণা!

সূর্যোদয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত জাপান আধুনিক বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী একটি দেশ। সমুদ্রবেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি আধুনিক বিশ্বের এই দেশটিতে এক সময় ইসলাম ও মুসলমানের অস্তিত্ব তেমন খুঁজে না পেলেও বর্তমানে বাড়ছে মুসলমানের সংখ্যা। জাপান সরকারের হিসাব মতে দেশটিতে ৬ লাখ মুসলমান রয়েছে।
.
সূর্যোদয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত জাপান আধুনিক বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী একটি দেশ। সমুদ্রবেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি আধুনিক বিশ্বের এই দেশটিতে এক সময় ইসলাম ও মুসলমানের অস্তিত্ব তেমন খুঁজে না পেলেও বর্তমানে বাড়ছে মুসলমানের সংখ্যা। জাপান সরকারের হিসাব মতে দেশটিতে ৬ লাখ মুসলমান রয়েছে।


.
জাপানে ইসলামের ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। সম্ভবতঃ উসমানী খেলাফতের সময় সুলতান আব্দুল হামিদ সর্বপ্রথম ১৮৯০ খৃস্টাব্দে নৌপথে তার জাহাজ আল-তগরুল এ এক সৌজন্যমূলক মিশন জাপানে পাঠিয়েছিলেন। তারাই জাপানে ইসলামের বীজ বপন করে যান। তবে ট্রাজেডি হলো, এ প্রতিনিধি দল যখন তুরস্কে ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন জাপানেরই সমুদ্রে প্রচ- ঝড়ের আঘাতে জাহাজটি ডুবে যায়। ছয়শ নয়জন যাত্রীর মধ্যে মাত্র ৬৯ জন ছাড়া সবাই শহিদ হন। তাদের এই ত্যাগ আল্লাহর দরবারে কবুল হয়।
.
জাপানের লোকদের ওপর এ দুর্ঘটনার গভীর প্রভাব পড়ে যে, চব্বিশ বছর বয়সী উচ্চশিক্ষিত এক যুবক তুরজিরু ইয়ামাডা দুর্ঘটনা কবলিত পরিবারের লোকদের জন্য সারাদেশে চাঁদা সংগ্রহের অভিযান চালান এবং ৫৪০ জন শহিদের পরিবারের জন্য বিরাট একটি অংক সংগ্রহ করে তিনি জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে সে অর্থ সহকারে তুরস্কে যান। এ সময় সুলতান আবদুল হামিদ তুরাজিরুকে ডেকে নিয়ে দুবছর তুরস্কে অবস্থান করে এখানের সেনা অফিসারদের জাপানি ভাষা শেখানোর প্রস্তাব দেন।
.
এ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে তিনি তুর্কি অফিসারদের জাপানি ভাষা শেখানোর পাশাপাশি নিজেও তুর্কি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। ইসলাম সম্পর্কেও জ্ঞানার্জন শুরু করেন। কিছুদিন পরে তিনি মুসলমান হয়ে নিজের নামের সঙ্গে সিঙ্গিতুস্থ শব্দ যোগ করেন। জাপানি ভাষায় এর অর্থ চাঁদ। এটাও জানা যায় যে, তিনি তার ইসলামী নাম রেখেছিলেন আব্দুল খলীল। তার মাধ্যমে জাপানে ইসলামের বেশ প্রচার ঘটে।
.
তবে জাপানে এখনও আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলামের আশানুরূপ বিস্তার ঘটেনি। এর কারণ হলো, জাপানের গণমাধ্যমগুলো ইসলামের অনুকূলে নয়। সারা বিশ্বে ইসলামের ধারক-বাহকদের বিকৃতভাবে উপস্থাপনের যে চেষ্টা তা জাপানেও কার্যকর। তাই জাপানের স্থানীয়দের মধ্যে ইসলামের কাক্সিক্ষত বিকাশ ঘটেনি। কিন্তু বর্তমানে বিয়ে সূত্রে অনেক জাপানি ইসলামের ছায়ায় আশ্রয় নিচ্ছে। বিশেষ করে মেয়েদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা বেশি। বেশ কিছু মসজিদও গড়ে উঠেছে জাপানে। দাওয়াতি কিছু কাজ চলছে। এর ফলে হয়ত জাপানেও একদিন ইসলামের বৃক্ষটি সজীব হয়ে উঠবে।
.
‪#‎দেশে_দেশে_ইসলাম‬
‪#‎দেশে_দেশে_ইসলাম_ও_মুসলিম‬

Source

Japan Dawah Movement Facebook Page

মতামত দিন