ইসলামের ইতিহাস

‘এপ্রিল ফুল’ (April fool) এর মর্মান্তিক ইতিহাস

‘এপ্রিল ফুল’ (April fool)      

অনুলিখন: ফাওজুল আহসান আবির

দিনটি খ্রিষ্টানদের কাছে আনন্দের ও মুসলমানদের কাছে বিষাদের দিন । ১৪৯২ সালের ১লা এপ্রিল তারিখে ইউরোপের স্বাধীন ইসলামী রাষ্ট্র স্পেনের রাজধানী গ্রানাডায় নজিরবিহীন প্রতারণার মাধ্যমে ৭ লক্ষ নিরস্ত্র মুসলিম নরনারী ও শিশুকে শহরের মাসজিদ সমূহে তালাবদ্ধ করে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে নরপশু খ্রিষ্টান রাজা ফার্ডিন্যাণ্ডের নেতৃত্বে সম্মিলিত খ্রিষ্টান বাহিনী । পুড়ন্ত মুসলমানের কাতর আর্তনাদ ও জ্বলন্ত লাশের উৎকট গন্ধে মদমত্ত খ্রিষ্টান হানাদাররা সেদিন উল্লাসে নৃত্য করেছিল । সেই সাথে সমাপ্তি ঘটেছিল বিশ্ব ইতিহাসের শ্রেষ্ট জ্ঞানকেন্দ্র , আধুনিক বিজ্ঞানের উৎস ভূমি , সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সভ্যতার চারণ ক্ষেত্র , তুলনাহীন শিল্প নৈপুন্যের ও কারুকার্যের শিখর দেশ , ইতিহাস খ্যাত কর্ডোভা , সেভিল , গ্রানাডার সূতিকাগার উমাইয়া মুসলিম স্পেনের ৮০০ বছরের গৌরবোজ্জ্বল শাসনকালের ।

পতনের ইতিবৃত্তঃ আব্বাসীয়দের নিষ্ঠুর হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া আবদুর রহমান আদ-দাখিল এর মাধ্যমে ৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে ইউরোপের মাটিতে প্রথম স্বাধীন স্পেনীয় মুসলিম রাষ্ট্রের সূচনা হয় । ইসলামী শাসনের শাশ্বত সৌন্দর্য ও ন্যায়বিচারে মুগ্ধ হয়ে হাজার হাজার মানুষ ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেন । সাথে সাথে জ্ঞান-বিজ্ঞান , সাহিত্য-সংস্কৃতি ও শিল্প-সভ্যতার ক্ষেত্রে বিস্ময়কর উন্নতি সাধিত হতে থাকে । যা ইউরোপীয় খ্রিষ্টান রাজাদের চক্ষুশূলের কারণ হয় । ফলে ইউরোপের মাটি থেকে মুসলিম শাসনের উচ্ছেদ চিন্তায় তারা ব্যাকুল হয়ে ওঠে । অতঃপর পর্তুগীজ রাণী ইসাবেলা পার্শ্ববর্তী চরম মুসলিম বিদ্বেষী খ্রিষ্টান রাজা ফার্ডিন্যাণ্ডকে বিবাহ করে দু’জনে মিলে নেতৃত্ব দেন উক্ত চক্রান্ত বাস্তবায়নের ।

প্রথমে তারা স্পেনের মুসলিম যুবরাজকে প্রলোভন দিয়ে হাত করে নেয় । তারপর পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রাম-গঞ্জের নিরীহ মুসলিম নারী-পুরুষকে হত্যা করে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়ে উল্লাস করতে করতে ছুটে আসে শহরের দিকে । অতঃপর রাজধানী গ্রানাডা অবরোধ করে চারিদিক থেকে । এতক্ষণে টনক নড়ে মুসলিম সেনাবাহিনীর । তারা গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়ায় । তাতে ভড়কে যায় সম্মিলিত কাপুরুষ খ্রিষ্টান বাহিনী । সম্মুখ যুদ্ধে নির্ঘাত পরাজয় বুঝতে পেরে তারা ভিন্ন পথে পা বাড়ায় । তারা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় শহরের বাইরের সকল শস্যখামার এবং বিশেষ করে শহরের খাদ্য সরবরাহের প্রধান উৎস ‘ভেগা’ উপত্যকা । ফলে অচিরেই দুর্ভিক্ষ নেমে আসে শহরে । খাদ্যাভাবে সেখানে হাহাকার দেখা দেয় । এই সুযোগে প্রতারক খ্রিষ্টান রাজা ফার্ডিন্যাণ্ড ঘোষণা করেনঃ

  ‘মুসলমানেরা যদি শহরের প্রধান ফটক খুলে দেয় এবং নিরস্ত্র অবস্থায় মাসজিদে আশ্রয় নেয় , তাহলে তাদেরকে বিনা রক্তপাতে মুক্তি দেওয়া হবে ।’

দিনটি ছিল ১লা এপ্রিল । দুর্ভিক্ষতাড়িত অসহায় নারী-পুরুষ ও মাছুম বাচ্চাদের কচি মুখের দিকে তাকিয়ে মুসলিম নেতৃবৃন্দ সেদিন খ্রিষ্টান নেতাদের আশ্বাসে বিশ্বাস করে শহরের প্রধান ফটক খুলে দেন ও সবাইকে নিয়ে আল্লাহর ঘর মাসজিদে আশ্রয় নেন । কিন্তু শহরে ঢুকে খ্রিষ্টান বাহিনী নিরস্ত্র মুসলমানদেরকে মাসজিদে আটকিয়ে বাহির থেকে প্রতিটি মাসজিদে তালা লাগিয়ে দেয় । অতঃপর একযোগে সকল মাসজিদে আগুন লাগিয়ে বর্বর উল্লাসে ফেটে পড়ে নরপশুরা । প্রজ্জ্বলিত আগ্নিশিখায় দগ্ধীভূত ৭ লক্ষ অসহায় মুসলিম নারী-পুরুষ ও শিশুদের আর্তচিৎকারে গ্রানাডার আকাশ যখন ভারী ও শোকাতুর হয়ে উঠেছিল , তখন হিংস্রতার নগ্নমূর্তি রানী ইসাবেলা ক্রুর হাসি দিয়ে বলেছিলঃ ‘হায় এপ্রিলের বোকা ! শত্রুর আশ্বাসে কেউ বিশ্বাস করে ? ’ সেদিন থেকেই খ্রিষ্টান জগত প্রতি বছর ১লা এপ্রিল সাড়ম্বরে পালন করে আসছে “April fool’s Day” তথা ‘ এপ্রিলের বোকা দিবস’ ।

পৃথিবীর ইতিহাসে ঠান্ডা মাথায় এই নির্মম প্রতারণা ও লোহমর্ষক হত্যাকান্ডের কোন নযির নেই । আজকের খ্রিষ্টান বোমায় নিশ্চিহ্ন নাগাসাকি , হিরোশিমা , ভিয়েতনাম , সোমালিয়া , বসনিয়া , কসোভা , পূর্ব তিমুর , আফগানিস্তান , ফিলিস্তিন কি আমাদের সেই ৫১০ বছরের পুরানো হিংস্রতার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় না ? কিন্তু এত বড় ট্রাজেডির পরও আজ পর্যন্ত খ্রিষ্টান বিশ্ব কখনোই অপরাধবোধ করেনি এবং মুসলিম বিশ্বের নিকটে ক্ষমাও চায়নি । বরং উল্টা তারা গত ১৯৯৩ সালের ১লা এপ্রিল তারিখে গ্রানাডা বিজয়ের পাঁচশত বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বিশ্ব নেতৃবৃন্দ আড়ম্বরপূর্ণ এক সভায় মিলিত হয়ে নতুন করে শপথ গ্রহণ করে একচ্ছত্র খ্রিষ্টীয় বিশ্ব প্রতিষ্ঠার । বিশ্বব্যাপী মুসলিম জাগরন প্রতিহত করার জন্য গড়ে তোলে ‘হলি মেরী ফান্ড’ । বিশ্বের বিভিন্ন খ্রিষ্টান রাষ্ট্র উক্ত ফান্ডে নিয়মিত চাঁদা জমা করে মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য বিশ্বব্যাপী গড়ে তুলেছে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নেটওয়ার্ক । দেশে দেশে পাঠাচ্ছে তারা সাহায্যের নামে তাদের এনজিও সমূহকে । গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদ চালান করে একদিকে তারা ভাইয়ে ভাইয়ে হিংসা-হানাহানির রাজনীতি চালু করেছে , অন্যদিকে মানবাধিকার রক্ষা ও সন্ত্রাস দমনের নামে মুসলিম দেশ সমূহে যুদ্ধ চাপিয়ে দিচ্ছে । মুসলিম নেতৃবৃন্দ আর কতদিন বোকা থাকবেন ?

(সংকলিত)

মতামত দিন

4 কমেন্ট

  • Assalamu alaikum. We regard your website as one of the great assets and authentic. However, this history of April fool is not authentic and does not have solid evidence behind this events. I have dug deep into this. So please verify for yourselves and edit/remove this post.

    We don’t need these false stories to forbid April fool, rather there are plenty of other evedences for following this day to be haraam. Rasulullah (sw)’s hadeeth “Whoever cheats, is not among us” is sufficient proof for the disgusting custom of “April Fool” to be haraam. We should emphasize on Sahih hadeeths and scholarly opinions instead of these stories which does not have evidence.

    May Allah give you baraka to keep up the good work you are doing. Jazakumullah khair.

  • উপমহাদেশীয় মতানুসারে, বিশেষত বাংলাদেশীয় মুসলমানদের মধ্যে ‘এপ্রিল ফুল ডে’র ব্যাখ্যা নিয়ে ভিন্ন মত লক্ষণীয়। তাদের মতে, এটি গ্রানাডার বেদনাদায়ক ইতিহাসের সাথে সংযুক্ত একটি দিবস।
    এই মতানুসারে, স্পেনে মুসলমানদের গৌরবময় ৮০০ বছরের শাসনের সমাপ্তি ঘটেছিলো ১৪৯২ সালের এই দিনটিতে একটি বেদনাদায়ক উপাখ্যানের মাধ্যমে, যখন রাজা ফার্দিনান্দ ও রানী ইসাবেলার নির্দেশে হাজার হাজার মুসলমান নারী, পুরুষ, শিশুদের মসজিদের মধ্যে কৌশলে ঢুকিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়েছিলো এবং রাণী ইসাবেলা তাদের প্রতি উপহাস করে তাদেরকে ‘ফুল’ বলে সম্বোধন করেছিলো।
    অথচ অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত পেগি লিসের লেখা ‘Isabel the Queen’, পিয়ারসন এডুকেশন থেকে প্রকাশিত জন এ্যাডওয়ার্ডের ‘Ferdinand and Isabella’, আই.এল. প্লাঙ্কেটের লেখা ‘Isabel of Castile’ এবং কর্নেল ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত জোসেফ কালহানের ‘A History of Medieval Spain’ গ্রন্থ এবং অন-লাইন ভিত্তিক এনসাইক্লোপিডিয়া উইকিপিডিয়া, এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা, এনসাইক্লোপিডিয়া অব আমেরিকানার তথ্যানুসারে স্পেনে মুসলিমদের শাসনাবসানের ঘটনা ঘটেছিলো ১৪৯২ সালের ২ জানুয়ারিতে; যেদিন গ্রানাডার শাসক দ্বাদশ মুহাম্মদ শান্তিপূর্ণভাবে নগরের চাবি হস্তান্তরের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করেন।
    তদুপরি, স্পেন থেকে মুসলমানদেরকে তখন বের করেও দেয়া হয়নি; আমীর আবু আব্দুল্লাহ’এর সাথে ইসাবেলা আর ফার্দিনান্দের চুক্তি অনুসারে গ্রানাডার মুসলমানদের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা দেয়া হয়েছিল।
    ১৫০৮ সালে ইনকুইজিশন প্রথা চালুর মাধ্যমে মুসলমানদের জানিয়ে দেয়া হয় ক্যাথলিক হতে হবে, নয়তো স্পেন ছাড়তে হবে। এসময় যারা স্পেন ছাড়েনি তারা ক্যাথলিকের ছদ্মবেশে মুসলিমই থেকে যান এবং তাদেরকে ‘মরিস্কো’ বরে সম্বোধন করা হতো। এই মরিস্কোরা ১৬০৯ থকে ১৬১৪ সালের মধ্যে হৃত রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের জন্য বিদ্রোহ করলে তাদেরকে স্পেন থেকে পুরোপুরি বহিষ্কার করা হয়।
    এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় মনে রাখা আবশ্যক যে, স্পেনের মূল ভাষা হলো স্প্যানিশ – ইংরেজি নয়! কাজেই, যদি সত্যি সত্যি এ ধরনের কিছু ঘটতো তাহলেও ইংরেজি ‘ফুল’ শব্দটি স্প্যানিশরা ব্যবহার করার কথাও নয়!
    মূলত ‘এপ্রিল ফুল ডে’ নিয়ে কয়েক লাখ মুসলমানদের পুড়িয়ে মারার ঘটনাটি এই অঞ্চলের স্বল্প-শিক্ষিত ধর্ম ব্যবসায়ী সম্প্রদায় কর্তৃক ভিন্ন ধর্মী ও মতাবলম্বীদের প্রতি বিদ্বেষমূলকভাবে প্রচলিত ও প্রচারিত গল্পগাথা বলা চলে, যেই গল্পটির প্রচলন পৃথিবীর অন্যকোন অঞ্চলেই নেই।