ইসলামিক গল্প হাদীস

হাদীছে বর্ণিত একটি শিক্ষণীয় ঘটনা

হাদীছে বর্ণিত একটি শিক্ষণীয় ঘটনা

লেখক: আব্দুল্লাহ শাহেদ।

অতীত কালে একজন লোক রাস্তা দিয়ে চলছিল। হঠাৎ মাথার উপর মেঘমালা থেকে একটি শব্দ শুনল যে, অমুকের বাগানে বর্ষণ কর। লোকটি মেঘমালাকে অনুসরণ করে পথ চলতে থাকল। অবশেষে একটি যমিনে বৃষ্টি বর্ষণ হল। সে খানে দেখতে পেল একজন লোক কোদাল হাতে নিয়ে বাগানে কাজ করছে। লোকটি বাগান ওয়ালাকে জিজ্ঞাসা করল তোমার নাম কি? সে বললঃ আমার নাম অমুক। যে নামটি সে মেঘ থেকে শুনেছিল। তারপর বাগানের মালিক জিজ্ঞাসা করল, তুমি কেন আমার নাম জিজ্ঞাসা করছ? উত্তরে সে বললঃ যে মেঘ থেকে এই বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে, আমি তোমার নামটি সেই মেঘের ভিতরে শুনতে পেয়েছি। তাই আমি তোমার নাম জিজ্ঞেস করছি। তোমার কাছে আমার আরো একটি প্রশ্ন হল, তুমি কিভাবে এই বাগানের ফসল ব্যয় কর, তাও আমি জানতে চাই।
সে বললঃ আমার যমিনে উৎপাদিত ফসলকে তিনভাগে বিভক্ত করি। একভাগ আমার পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করি। একভাগ পুনরায় ফসল আবাদের কাজে ব্যয় করি। আর এক ভাগ ফকীর, মিসকীন এবং মুসাফিরদের মাঝে বন্টন করে দেই। (মুসলিম, তাফসীরে ইবনে কাছীর)
এই ঘটনা থেকে আমরা যা শিখতে পেলামঃ
১) কারামাতে আওলীয়া সত্য। এটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআতের আকীদার অন্যতম একটি মূলনীতি।
২) নিজ হাতে পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করার গুরুত্ব জানা গেল।
৩) ধন-সম্পদের মালিকদের উচিত ফকীর-মিসকিনদের হক আদায় করা।
৪) গরীব-মিসকীনদেরকে দান করলে ফসলে ও মালে বরকত হয়।
৫) নিজ পরিবার-পরিজনের জন্য খরচ করার ফজীলত জানা গেল।
৬) ইসলাম কাজের প্রতি উৎসাহ দেয়।
৭) ইসলাম যমীন ফেলে না রেখে তা আবাদ করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছে।
৮) যারা ধন-সম্পদে গরীবের হক আদায় করে আল্লাহ্ তাআলা তাদের খেদমতে ফেরেশতা ও মেঘমালাকে বাধ্য করেন।
৯) বাগানের ফল বা ফসল থেকেই একটি অংশ গরীব-মিসকীনদেরকে দান করা উত্তম।

মতামত দিন