ইসলামের ইতিহাস প্রবন্ধ

ইসরা ও মিরাজ থেকে আমাদের শিক্ষা

ইসরা ও মিরাজ থেকে আমাদের শিক্ষা

লেখাটি পাঠিয়েছেন : শাহাদাত হুসাইন

সম্পাদনা: সম্পাদনা পরিষদ

ইসলাম এমন একটি জীবনাদর্শ যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ইহা সম্পূর্ণ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে। এ দ্বীনই সম্পূর্ণ। এতে কোন কিছু সংযোজন বা বিয়োজন করার এখতিয়ার কারো নেই। ইবাদাতের নাম দিয়ে কোন কাজ করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। নবী (সা) বলেছেন :

“যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ  (ইবাদাত ) করে, যে ব্যাপারে আমাদের কোন আদেশ-নির্দেশ নেই তা প্রত্যাখানযোগ্য, কথনও গ্রহণযোগ্য হবে না। ( সহীহ মুসলিম ) আসুন আমরা শবে মিরাজ উপলক্ষে আমাদের করনীয় ও বর্জনীয় নিয়ে কুরআন সুন্নাহর আলোকে আলোচনা করি।

 

ইসরা ও মিরাজের পরিচয়:

ইসরা আরবী শব্দ, অর্থ হলো রাত্রি বেলা ভ্রমণ করা। ইসলামী পরিভাষায় নবী (সা)-এর বিশেষ মু’জিজা স্বরুপ তাঁকে মাসজিদে হারাম-এর চত্তর হতে মাসজিদে আকসা পর্যন্ত রাত্রিবেলায় জিবরাঈলের সাথে বিশেষ বাহনে জাগ্রতবস্থায় যে ভ্রমণ করানো হয় তাকে ইসরা বলা হয়।

 

মিরাজ শব্দটিও আরবী, অর্থ হলো ঊর্দ্ধগমনরে মাধ্যম, যা ঊর্দ্ধগমনের অর্থেও ব্যবহৃত হয়। ইসলামী পরিভাষায় নবী (সা) মাসজিদে আকসা হতে সপ্ত আসমান ও তদুর্ধে স্বশরীরে জাগ্রতাবস্থায় আরোহণ ও বিভিন্ন নিদর্শন পরিদর্শন করার যে মু’জিযা লাভকরেন তাকেই মি’রাজ বলা হয়। ( শারহু আক্বীদাহ আত-তাহাবীয়্যাহ, পৃ:২২৩)।

 

শবে মিরাজ থেকে আমাদের শিক্ষা:

শবে মিরাজের ইতিহাস হতে আমরা যা শিক্ষা অর্জন করতে পারি তা হলো:

  1. মিরাজ এর ঘটনা সত্য। তা অস্বীকার করা কুরআনকে অস্বীকার করারই নামান্তর। এ ব্যাপারে কুরআনুল কারীমের সুরা বানি ইসরাঈল এর প্রথমেই এবং সূরা নাজমের ১৩-১৮ আয়াতে সুষ্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
  2. শবে মিরাজ থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ইলমে গায়িবের প্রতি বিশ্বাস রাখা ঈমানের দাবী। গায়িব শুধুমাত্র আল্লাহই জানেন । নবীগণ (আ) গায়িব জানতেন না।
  3. নবী (সা) আল্লাহ তাআলাকে দেখেন নি। তবে আখিরাতে প্রত্যেক মু’মিন ব্যক্তিই আল্লাহর দিদার লাভ করবে।
  4. নবী (সা)-এর মিরাজ নবূওয়াত লাভের পর স্বশরীরের আত্মা ও দেহসহ জাগ্রতবস্থায় একই রাত্রে ইসরা ও মিরাজ সংগঠিত হয়। ইসরা স্বপ্ন যোগে হওয়ার প্রশ্নই আসে না। হলেও নবী (সা)-এর স্বপ্ন সত্য।
  5. মিরাজের দিন তারিখ অষ্পষ্ট। এ সম্পর্কিত হাদীসগুলো একটিও সঠিক নয়। তাই তারিখ এখানে গুরুত্বপূর্ন নয়।
  6. মিরাজ হতে নবী (সা) পাঁচ ওয়াক্ত সালাত নিয়ে এসেছিলেন। ৫০ ওয়াক্ত হতে কমিয়ে ৫ ওয়াক্ত করা হয়েছিলো। কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করলে ৫০ ওয়াক্তের সওয়াব পাওয়া যাবে।
  7. মিরাজ থেকে নবী (সা) আরও একটি উপহার এনেছেন তা হলো প্রত্যেক সতকাজের জন্য কমপক্ষে দশগুণ সওয়াব পাওয়া যাবে। কিন্তু পাপ কাজের জন্য একটি গুনাহ লেখা হবে।
  8. সতকাজের নিয়ত করলেই একটি সওয়াব পাওয়া যাবে কিন্তু গুনাহের নিয়্যাত করে তা কাজে পরিণত না করা পর্যন্ত গুনাহ লেখা হবে না।
  9. মিরাজে নবী (সা) সকল নবীর ইমামতি করেছিলেন। এথেকে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়।
  10. সকল নবীর ইমামতি করেছেন এ থেকে নবীগণ মরে নি, বা তারা এখনও জীবিত আছে এ ধারণা করা যাবে না। তারা দুনিয়ার এই জগত থেকে পারলৌকিক জগতে আছেন। তাদের এই উপস্থিতি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় আল্লাহর অপরিসীম ক্ষমতা।
  11. মিরাজের ঘটনা থেকে আমরা জানতে পারি যে, আল্লাহ তাআলা সর্বত্র বিরজমান নয়, বরং আরশের উপর সমাসীন। আহলু সুন্নাহ ওয়াল জামা’আতের আক্বীদাহ-বিশ্বাস বর্ণনাকারী অন্যতম ইমাম ইমাম ইবন আবিল ইযয আল-হানাফী (রহ) মি’রাজ সম্পর্কিত আলোচনার শেষে বলেন,

“যে ব্যক্তি মি’রাজের দলীল বিষয়ে চিন্তা করবে সে এতে আল্লাহ তা’আলা উর্দ্ধে হওয়ার একাধিক দলীল-প্রমাণ পেয়ে যাবে। (শারহু আক্বীদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ)।

আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন মিরাজ ও ইসরার ইতিহাস হতে শিক্ষা নেয়ার ও তার উপর আমল করার।

 

মতামত দিন