ইসলামিক গল্প

একজন ডাকাত, একটি আয়াত এবং একটি রুপান্তর

বিসমিল্লাহীর রাহমানীর রাহীম

আল্লাহর আয়াতের (নিদর্শন) অসীম ক্ষমতার জন্যই আবু লাহাব বা মুনাফিকের সরদারেরাও তিলাওয়াতে বিমুগ্ধ হয়ে শুনত কুর’আনের বাণী। রাতের আধারে তাদের নি:স্তব্দ পদচারনায় শুনা যেত শুধুমাত্র রাসূল সা এর তাহাজ্জুদের তিলাওয়াত; কাফির আর মুনাফিকরা নিশ্চুপ; কোরান তেলাওয়াত শুধুমাত্র একজন রবের রাসূলের; আর শ্রোতা ছিল সেই তিলাওয়াতের বাণীর শত্রুরা ! এই সেই কুরান যা আল্লাহর নিখুঁত জ্ঞানের বহি:প্রকাশ; যা আজও অসংখ্য মানুষকে হেদায়েতের গর্ভে বিলীন করে দেয়; একদিনের ব্যবধানেও তাকে আর আগের দিনটির লোকের সাথে মেলানো দুষ্কর…এটাই সেই কোর’আনের অতলস্পর্শের ছোঁয়া-যা অন্ধত্বের ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখে একজন মানুষের পবিত্র জীবনের চালনা।

তার সময়ে তিনি ছিলেন একজন দুর্ধর্ষ ডাকাত। তাকে সবাই ভয় পেত প্রবলভাবে। তার পাশ দিয়ে কোন ব্যবসারত বা হজ্জরত মানুষদের সম্পদ নিরাপদ থাকত না। তিনি এতটাই ভীতিকর ছিল যে লোকের মুখে তার বিভৎসতার কথা ছড়িয়ে পড়েছিল চারিদিকে এবং রাত্রিতে ঐ পথ দিয়ে গমনকে ভয় পেত। তার পাশ দিয়ে যাওয়াকে সবাই বিপদের গর্ভে পতিত হওয়া মনে করত।

কিন্তু সে ডাকাত হলেও একজন নারীকে ভালোবাসত প্রচন্ড রকমভাবে-সেও তো সৃষ্টির সহজাত বৈশিষ্ট দিয়েই গড়া একজন মানুষ। প্রতিদিন-ই চোরের মত লুকিয়ে তাকে কিছু সময়ের জন্য দেখতে যাওয়া ছিল তার অভ্যাস। রাত্রিতে সে ডাকাতি করতে যেত আর আক্রমন করত পথচারী, ব্যবসায়ী ও হাজ্বীদের এবং তাদের কাছ থেকে সম্পদ, বিষয়াসয় সব ছিনিয়ে নিত।

একদিন সে যেই মেয়েকে ভালোবাসত তাকে দেখার জন্য তার বাড়ির দেয়াল বেয়ে উঠল এবং সে চোরের মত নিঃশ্বব্দে বাড়িতে প্রবেশ করল …কেউ তখন রাতের সালাত (কিয়ামুল লাইল) আদায় করতেছিল, গভীর রাতে দাঁড়িয়ে ছিল আল্লাহর পানে, আল্লাহর দরবারে দাঁড়িয়ে আল্লাহর বাণী তিলাওয়াত করতেছিল –

“বিশ্বাসীদের জন্য এখনো কি সেই সময় আসেনি যে, তারা আল্লাহর স্মরণে এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি বিনীত হবে? তারা যেন তাদের মত না হয় যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু সময় তাদের জন্য সুদীর্ঘ মনে হয়েছিল, ফলে তাদের হৃদয় কঠিন হয়ে পড়েছিল। আর তাদের মধ্যে অনেকেই হয়েছিল সত্যত্যাগী।”(সূরা হাদীদ১৬)

এই আয়াতটি তার হৃদয়ে বজ্রাঘাত করল, প্রবলভাবে প্রকম্পিত করল, তার হৃদয়কে নাড়া দিল, নাড়িয়ে দিল তার জীবনের তরী। সে এই আয়াতটি নিয়ে ভাবতে লাগল এবং সে তার এই বাড়িতে আসার প্রধান উদ্দেশ্য-ই ভুলে গেল(সুবহানাল্লাহ)!!এবং সে তার জিহবাতে কেবল একটি মাত্র বাক্যই উচ্চারিত হচ্ছিল ক্রমাগতভাবে “বালা ইয়া রাব্বি আল আন” – হে আমার রব, হ্যা, সেই সময় সত্যিই এসে গেছে এবং সেই মূহুর্তেই তার পরিবর্তন হয়েছিল

সে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসল, উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুড়তে লাগল এবং ভাবতে লাগল- তার জীবন সম্পর্কে, অতীত, তার ব্যবহার, তার খ্যাতি, ভবিষ্যৎ ও আল্লাহর সাথে সম্পর্কের দিক।

সে চিন্তা শেষ করে দেখল একদল লোকের ভীড়- তারা আলো জ্বালালো- তারা ছিল অপরিচিত পথচারী। সে অনুমতি নিয়ে বসে পড়ল আর দেখতে পেল তারা এখানে থাকবে কি না এই নিয়ে বিতর্ক করছে। একজন বলল- আমাদের এখানেই আজ থাকা উচিত, আমরা যদি ঐ পথে রাতে গমন করি তবে আমাদের সেই ডাকাত আক্রমন করবে, সব ছিনিয়ে নেবে আর আমরা বিপদে পড়ে যাব। সুতরাং আজ এখানে থেকে আগামী সকালে আমাদের যাত্রা করা উচিত। আর তারা যেই চোর-ডাকাতের কথা বলেছিল এই ছিল সেই ব্যক্তি যে তাদের সাথে বসা ছিল।

এই ঘটনা তাকে আন্দোলিত করে ভাবতে উদ্দ্যত করল যে- আমি কি করেছি যার কারনে লোকে আমাকে এত ভয় করে? আমি কি মানবের নিকট এতটাই দুর্দশা ও বিপদের কারণ হয়েছি যে তারা তাদের জীবন নিয়ে সংকিত বোধ করে?, তারা বিপদ অনুভব করে তাদের সম্পদ নিয়ে আমার কারনে?

এসবই তাকে প্রশ্নে জর্জরিত করল, তার জীবনের পথকে প্রশ্নবিদ্ধ করল। সে সিদ্ধান্ত নিল তার জীবনকে পরিবর্তন করবে, কারণ এটা তার নিজের-ই দায়িত্ব। অন্যের দায়িত্ব নয় আমাকে পরিবর্তন করা এবং আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করা। আর আমি যদি এটা গ্রহন না করি তাহলে আমি পরিবর্তিত হতে পারব না আর আখিরাতে আমার পরিণতির সম্মুখীন হব।

এবং সে সম্পূর্ণরুপে পরিবর্তন হয়ে গেল, সে হয়েছিল সেই যুগের একজন বিখ্যাত ইসলামী স্কলার, একজন শ্রেষ্ট ইবাদাতকারী, রবের শ্রেষ্ট বান্দাদের একজন। …তিনি হলেন ফুদাইল ইবনে ইয়াদ।

আজো আমরা তার কথা স্মরণ করি তার আল্লাহর সাথে সম্পর্কের কারণে, তার লেখার অনুপ্রেরণার জন্য…তার স্বদিচ্ছাই তাকে একজন আকাশেরবাসী হতে সাহায্য করেছিল; সে হয়েছিল একজন মহান মানুষে রুপান্তরিত…এটাই আল্লাহর আয়াতসমূহের বৈশিষ্ট; অন্তরে জড় প্রবাহিত করে তার প্রিয় বান্দাদেরকে তিনি কাছে তুলে নেন, তার শ্রেষ্ট বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেন।

Some of his quotes

1. If you can be unknown, be so; it doesn’t matter if you are not known and it doesn’t matter if you are not praised. It doesn’t matter if you are blameworthy according to people if you are praiseworthy with Allâh the Mighty and Majestic.

Al-Bayhaqî, Al-Zuhd Al-Kabîrp100.

2. “Five things are associated with difficulty in life: the heart is hard, the eyes don’t shed tears, to have limited hayya, to desire the material world, and to have lengthy hopes/desires in your life.”

3. “Allah ‘azza wa jalla accepts only those deeds which are both correct and sincere (pure). If the deed is done correctly but not sincerely, it will not be accepted. And if it is sincere but not correct, it will not be accepted.” He was asked, “Abû ‘Alî! What is the sincere and correct deed?” He replied, “The sincere deed is one that is done only for Allah ‘azza wa jall. And the correct deed is one done according to the Sunnah.”

Abû Nu’aym, Hilyah Al-Awliyâ` Vol.8 p95.

4. “When backbiting appears, brotherhood for Allâh will disappear; and at that time you will be like things plated with gold and silver: wooden on the inside, [merely] looking good on the outside.”

Abû Nu’aym, Hilyah Al-Awliyâ`, Vol. 3 p395.

5. “As long as people are doing fine, their true nature is concealed, but when calamity strikes, their true natures are revealed, so the believer resorts to his faith and the hypocrite resorts to his hypocrisy.”

6. “A believer in this life is worried and sad. His worry is the objective of preparing himself. So whoever’s condition in this life is such, then he has no concern other than taking provisions from what will benefit him during the return to his homeland. So he does not compete with the people of the land, among whom he is merely a stranger, in what they consider honorable. And he does not become worried if he seems insignificant among them.”

7. “The believer speaks little and does a lot, whereas the hypocrite speaks a lot and does little. When the believer speaks, it is with wisdom, when he is silent, it is in deep thought, when he sees, he takes lessons, and when he acts, it is a cure. If this is the way you are, then you are in the constant worship [of your Lord.]“

Hilyatu Al-Awliyâ, Abu Nu’aym, vol 8, pg 98

Original Source

মতামত দিন