সুন্নাহ

সুন্নাহর পরিচয়

সুন্নাহ [سنة] শব্দটি মুসলিম সমাজে একটি সুপরিচিত পরিভাষা, কিন্তু শব্দটি আরবি হিসেবে তার আভিধানিক ও পারিভাষিক একাধিক পরিচয় হতে পারে। নিম্নে সুন্নাহর আভিধানিক ও পারিভাষিক বিভিন্ন পরিচয় তুলে ধরা হল।

সুন্নাহর আভিধানিক অর্থ: মিসবাহুল মুনীর গ্রন্থকার তার স্বীয় গ্রন্থে বলেন, সুন্নাহ [سنة] শব্দটির আরবি আভিধানিক অর্থ হল:  الطَّرِيْقَةُ অর্থাৎ, পথ ও পদ্ধতি, চাই সেটি ভালো হোক বা খারাপ হোক। আর সুন্নাতের অপর অর্থ َالِّسيْرَة অর্থাৎ আদর্শ ও রীতিনীতি, চাই সেটি খারাপ হোক বা ভালো হোক। মোট কথা, সুন্নাহ [السنة] -এর আভিধানিক অর্থ হল পথ ও পদ্ধতি, আদর্শ ও রীতিনীতি চাই তা ভাল হোক অথবা খারাপ হোক।

আর মুফরাদাত গন্থের প্রণেতা গরীবুল কুরআনে উল্লেখ করেন, السنن শব্দটি سنة শব্দের বহু বচন। আর রাসূলের সুন্নাত, এ কথার অর্থ রাসূল আদর্শ যা তিনি পালন করতেন। আল্লাহর সুন্নাত এ কথার অর্থ, আল্লাহর পথ ও পদ্ধতি, তার হিকমত এবং তার আনুগত্যের নিয়ম ও পদ্ধতি। “সুন্নাহ” এ অর্থেই কুরআন ও হাদিসে বহুবার ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন- আল্লাহ তা’আলা বলেন:

﴿ قَدۡ خَلَتۡ مِن قَبۡلِكُمۡ سُنَنٞ فَسِيرُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَٱنظُرُواْ كَيۡفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلۡمُكَذِّبِينَ ١٣٧ ﴾ [ال عمران: ١٣٧] 

“তোমাদের পূর্বে অতীত হয়ে গেছে অনেক ধরণের জীবন পদ্ধতি, রীতি ও নীতি। তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ- যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তাদের পরিণতি কি হয়েছে[1]।”

অত্র আয়াতে سُنَنٌ শব্দটি [سنة] সুন্নাহ এর বহুবচন, এ শব্দটি এখানে জীবন পদ্ধতি ও রীতি-নীতি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উল্লেখিত আয়াত ছাড়াও কুরআনুল করীমে এরূপ বহু আয়াতে একই অর্থ সূন্নাহ শব্দটি এসেছে।  যেমন-

 ﴿ فَهَلۡ يَنظُرُونَ إِلَّا سُنَّتَ ٱلۡأَوَّلِينَۚ فَلَن تَجِدَ لِسُنَّتِ ٱللَّهِ تَبۡدِيلٗاۖ وَلَن تَجِدَ لِسُنَّتِ ٱللَّهِ تَحۡوِيلًا ٤٣﴾ [فاطر: ٤٣]

তবে কি এরা প্রতীক্ষা করছে পূর্ববর্তীদের প্রতি প্রযুক্ত পদ্ধতির? কিন্তু আপনি আল্লাহর পদ্ধতিতে কখনও কোন পরিবর্তন পাবেন না এবং আল্লাহর পদ্ধতির কোন ব্যতিক্রমও লক্ষ্য করবেন না। [সূরা ফাতির: ৪৩] অর্থাৎ পদ্ধতি অথবা স্বভাব বা রীতি, যার উপর ভিত্তি করে রাসূলদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী-বিরোধীদের ব্যাপারে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার বিধান জারি হয়; সুতরাং, তাদের ক্ষেত্রে আল্লাহ তা’আলার বিধান হল: তাদেরকে শাস্তি প্রদান করা এবং তাদের কর্তৃক রাসূলদের বিরুদ্ধাচরণ করার কারণে তাদেরকে শাস্তির মাধ্যমে পাকড়াও করা।

সুন্নাহ [سنة] শব্দটি একই অর্থে হাদিসেও বহুবার ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন-

 عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ لَتَتَّبِعُنَّ سَنَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ شِبْرًا بِشِبْرٍ وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ حَتَّى لَوْ دَخَلُوا فِي جُحْرِ ضَبٍّ لَاتَّبَعْتُمُوهُمْ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى؟ قَالَ: فَمَنْ؟  [رواه مسلم]

অর্থ, সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তী জাতির রীতি-নীতি বিঘতে-বিঘত, হাতে-হাত অর্থাৎ হুবহু অনুসরণ করবে, এমনকি তারা গুই সাপের গর্তে প্রবেশ করলে তোমরাও তাদের অনুসরণ করে একই গর্তে প্রবেশ করবে। আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! পূর্ববর্তী জাতি বলতে কি ইয়াহুদ ও নাসারা? তিনি বললে, তাহলে আবার কারা?।[2]

এ হাদিসে لتتبعن سنن এর মধ্যে سنن শব্দটি সুন্নাহ [سنة] অর্থাৎ ”রীতি-নীতি ও জীবন পদ্ধতি” অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। এরূপ আরও বহু হাদিসে এসেছে।

অতএব সুন্নাহ [سنة] শব্দটি কুরআন, হাদিস ও আরবি ভাষায় “রীতি-নীতি, পথ ও পদ্ধতি” অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, তাই অধিকাংশের নিকট এটাই সুন্নাহ [سنة] এর আভিধানিক অর্থ।

সুন্নাহর পারিভাষিক অর্থ:

আল্লামা ইবনুল আসীর রাহিমাহুল্লাহ বলেনে, ইসলামি শরীয়তে যখন সাধারণভাবে সুন্নাহ [سنة] শব্দটি ব্যবহার করা হবে, তখন এর অর্থ দাঁড়াবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ, নিষেধ কথা, কাজ ও সম্মতি ইত্যাদি; যে সব বিষয় সম্পর্কে আল্লাহর কিতাব কোন প্রকার বর্ণনা দেয়নি; শুধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন। এ জন্যই শরীয়তের দলীল সমূহের ক্ষেত্রে বলা হয় যে, কিতাব ও সুন্নাহের দলীল, অর্থাৎ কুরআন ও হাদিসের দলীল। তবে পারিভাষিক সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন শাস্ত্রের বিদ্বানগণ স্বীয় উদ্দেশ্য ফুটিয়ে তোলার জন্য বিভিন্ন ভঙ্গিতে সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তাতে সূন্নাহের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে বিভিন্নতা পরিলক্ষিত হলেও সূন্নাহের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ে মৌলিক কোন পার্থক্য নাই।

আল্লামা শাতবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, বিশেষ করে যে সব বিষয়গুলো কুরআনে বর্ণিত নয়, কেবল মাত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, শরীয়তের সে সব বিষয়গুলোকে সুন্নাত বলে।

কেউ কেউ বলেন, শরীয়তের পরিভাষায় সুন্নাত হল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে প্রমাণিত নফল ইবাদাত। আবার কখনো সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত এমন সব দলীলকে সুন্নাত বলা হয়, যার তিলাওয়াত করা হয় না, যা কুরআনের মত মুজিযার অন্তর্ভুক্ত নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা, কর্ম ও সম্মতি এরই অন্তর্ভুক্ত।

এতে প্রমাণিত হয়, যখন সুন্নাত শব্দটি ব্যবহার করা হয়, তখন তার দ্বারা তিনটির যে কোন একটি অর্থ উদ্দেশ্য হয়ে থাকে।

১- কুরআনের মোকাবেলায় সুন্নাত, তখন তার দ্বারা উদ্দেশ্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা, কর্ম ও তার সম্মতি।

২- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সব কাজ করেছেন এবং তা তিনি সর্বদা করেছেন, রাসূলের অনুকরণে সে সব কর্ম করার উপর সাওয়াব দেয়া হবে এবং ছেড়ে দেয়ার উপর শাস্তি দেয়া হবে না, তাকে সুন্নাত বলে।

৩- বিদআতের বিপরীতে সুন্নাত শব্দ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যে সব কথা, কর্ম ও সম্মতি  কুরআন ও সুন্নাহ- রাসূলের কথা, কর্ম ও সম্মতির- সাথে সাংঘর্সিক হবে না, বরং কুরআন সুন্নাহের মুয়াফেক হবে, তাকে সুন্নাত বলে। চাই বিষয়টির উপর কুরআন ও হাদিসের সরাসরি দলীল থাকুক বা কুরআন ও হাদিসের মূলনীতি হতে দলীলটি গ্রহণ করা হোক। পক্ষান্তরে যে সব কথা, কর্ম ও সম্মতি কুরআন ও সুন্নাহের পরিপন্থী হবে, তাকে বিদআত বলে।

মুহাদ্দিস তথা হাদিস শাস্ত্রবিদদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কথা, কাজ, সম্মতি এবং সৃষ্টিগত ও চারিত্রিক গুণাবলী যাহাই প্রমাণিত হয় সবই সুন্নাহ বলে পরিচিত। এই দৃষ্টিকোণ হতে অনেক মুহাদ্দিসের নিকট সুন্নাহ ও হাদিস একই বিষয়। উভয়ের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই।

ফিকাহ শাস্ত্রের নীতিমালা তথা ওসূল শাস্ত্রবিদদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কুরআন ছাড়া ইসলামের দলীল যোগ্য কথা, কাজ ও সম্মতি যা কিছু প্রকাশ পেয়েছে সবই সুন্নাহ এর অন্তর্ভুক্ত। ফিকাহ্ শাস্ত্রবিদদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ফরয ও ওয়াজিব ছাড়া যে সমস্ত বিধান সাব্যস্ত হয়েছে তা সবই সুন্নাহ এর অন্তর্ভুক্ত। আবার বলা হয় যা করলে ছাওয়াব হবে কিন্তু ছুটে গেলে শাস্তি হবে না তাহাই সুন্নাহ।

বিদ্বানগণের উদ্দেশ্য ভিন্নতার কারণে সংজ্ঞার ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। উপরোক্ত সংজ্ঞা সমূহের মধ্যে মুহাদ্দিসদের সংজ্ঞাটি ব্যাপক অর্থ সম্বলিত, অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে প্রমাণিত কথা, কাজ, সম্মতি এবং সৃষ্টিগত ও চারিত্রিক গুণাবলী সবই সুন্নাহ এর অন্তর্ভুক্ত।

অবশ্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সৃষ্টিগত ও স্বভাবগত গুণাবলী সুন্নাহ এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কিনা সে ব্যাপারে কিছু একাধিক মতামত পরিলক্ষিত হয়। তাই এ ক্ষেত্রে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী [রাহিমাহুল্লাহ]-এর সুন্নাহর সংজ্ঞাটি যথার্থ বলে মনে হয়। তিনি বলেন:

السنة في الإصطلاح: هى ما صدرعن النبي من قول أو فعل أو تقرير مما يراد به التشريع للأمة، فيخرج بذلك ما صدر عنه من الأمور الدنيوية والجبلية التى لا دخل لها بالأمور الدينية، ولاصلة لها بالوحى.

ইসলামী পরিভাষায় সুন্নাহ:

এ উম্মাতের জন্য শরীয়তের উদ্দেশ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যে সব কথা, কাজ ও সম্মতি প্রকাশ পেয়েছে তাকেই সুন্নাহ سنة বলা হয়। অতএব দ্বীনি বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এবং ওয়াহীর সাথে সম্পৃক্ত নয় এমন সব পার্থিব ও সৃষ্টিগত বিষয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে প্রকাশ হলেও তাহা সুন্নাহ এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

আশা করা যায় এ সংজ্ঞাটিই যুক্তিযুক্ত ও মতভেদ মুক্ত সঠিক সংজ্ঞা। والله تعالى أعلم

সুন্নাহর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থের মধ্যে সম্পর্ক:

সূন্নাহের পারিভাষিক ও আভিধানিক উভয় অর্থের মধ্যে গভীরভাবে চিন্তা করে দেখলে দেখা যায় সুন্নাহের আভিধানিক অর্থটি ব্যাপক। সুন্নাহর আভিধানিক অর্থ হল, পথ ও পদ্ধতি, রীতি ও নীতি। যে কোন মানুষের পথ পদ্ধতি, ও রীতি নীতেকেই সুন্নাত বলা যেতে পারে। কিন্তু পারিভাষিক অর্থ খাস। অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওতী জীবনের পদ্ধতি ও রীতি-নীতিকেই পরিভাষায় সুন্নাত বলা  হয়। কুরআনের বিপরীতে সুন্নাতের ব্যবহার করা করা হয়ে থাকে। সুতরাং, একমাত্র খুলাফায়ে রাশেদিনের পথ, পদ্ধতি ও রীতি-নীতি ছাড়া আর কারো পথ পদ্ধতি ও রীতি-নীতিকে সুন্নাত বলা যাবে না। শুধুমাত্র খুলাফায়ে রাশেদিনের পথ, পদ্ধতি ও রীতি-নীতিকে সুন্নাত বলা যাবে। যেমন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-  عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي عضوا عليها بالنواجذ “তোমরা আমার সূন্নাতকে আঁকড়ে ধর এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের সূন্নাতকে আঁকড়ে ধর। তার উপর তোমরা অটুট থাক। আবু দাউদ, তিরমিযি ইমাম তিরমিযি হাদিসটিকে হাসান বলে আখ্যায়িত করেন”।[3]

মূলত: মুহাদ্দিসদের নিকট সুন্নাহর সংজ্ঞার ফলাফল এটাই আসে, তাই সুন্নাহ [سنة] এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে কোন ভিন্নতা নেই।

উপরে উল্লেখিত বিষয়ে একটি কথা স্পষ্ট হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা, কাজ ও সম্মতিকে সুন্নাত বলে। নিম্নে এ বিষয়ের উপর প্রমাণ তুলে ধরা হল।

রাসূলের কথা সুন্নাত হওয়ার প্রমাণ:

ইমাম বুখারি আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু হতে একটি হাদিস বর্ণনা করেন তিনি বলেন-

أن النبي عليه السلام قال له رجل أوصني ، قال: ” لا تغضب فردد مرارا ، قال: لا تغضب

“এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, আপনি আমাকে নসিহত করুন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি রাগ করো না। লোকটি আবারও বলল, আমাকে নসিহত করুন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উত্তর দিলেন, তুমি রাগ করো না।[4] এভাবে কয়েকবার সে নসিহত করার কথা বললে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বার বার একই উত্তর দিলেন এবং বললেন, তুমি রাগ করও না।‌‍ অনুরূপভাবে ইমাম মুসলিম আবু সাঈদ খুদরী রাদিআল্লাহু আনহু হতে একটি হাদিস বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,

من رأى منكم منكرا فليغيره بيده فإن لم يستطع فبلسانه فإن لم يستطع فبقلبه وذلك أضعف الإيمان

“আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যখন কোন অন্যায় কর্ম সংঘটিত হতে দেখে, সে তাকে হাত দ্বারা প্রতিহত করবে, যদি সম্ভব না হয়, মুখ দ্বারা প্রতিহত করবে, আর তাও যদি সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করবে, আর এটি হল ঈমানের সর্ব নিম্ন স্তর”।[5] উল্লেখিত হাদিস-দ্বয়ের প্রথম হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় সাহাবীকে একটি নির্দোষ দিলেন, যা পালন করা এবং রাসূলের অনুসরণ করা তার জন্য ওয়াজিব। আর তা হল, রাগ নিয়ন্ত্রণ করা। আর দ্বিতীয় হাদিসে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা নির্দেশ দিয়েছেন এটিও রাসূলের কথা। তবে তার অনুসরণ করাও ওয়াজিব।

রাসূলের কর্ম সুন্নাত হওয়ার প্রমাণ:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কর্ম সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,صلوا كما رأيتموني أصلي  “তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছ ঠিক সেভাবে সালাত আদায় কর”।[6] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, لتأخذوا عني مناسككم “তোমরা হজের বিধানগুলো আমার থেকে গ্রহণ কর”।[7] এ দুটি হাদিস প্রমাণ করে, যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে সালাত আদায় করেছেন সেভাবে সালাত আদায় করল বা রাসূল যেভাবে হজ পালন করেছে ঠিক সেভাবে হজ পালন করল, সে অবশ্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণ ও অনুকরণ করল। তার আমল শরীয়তের বিধান অনুযায়ী হল। এ ধরনের দৃষ্টান্ত হাদিসে আরও অনেক বিদ্যমান আছে। যেমন চোরের হাত কাটা আল্লাহর কথার-বর্ণনা অনুরূপভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তায়াম্মুম করা যখন তিনি জমিনে দু হাত দিয়ে আঘাত করে তারপর তা দিয়ে চেহারা ও হাত-দ্বয় মাসেহ করেন। আল্লাহর বাণীর বর্ণনা স্বরূপ।

রাসূলের সম্মতি সুন্নাত হওয়ার প্রমাণ:

ইমাম মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ আব্দুল্লাহ বিন মুফাজ্জাল রাদিআল্লাহু আনহু হতে একটি হাদিস বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,

 أصبت جرابا من شحم يوم خيبر قال: فالتزمته فقلت: لا أعطي اليوم أحدا من هذا شيئا قال: فالتفت فإذا رسول الله – صلى الله عليه وسلم – مبتسما

“খাইবরের যুদ্ধের দিন আমি চর্বির একটি মশক পেলাম এবং আমি সেটিকে আমার নিজের কাছে রেখে বললাম, আমি এ থেকে একটুও কাউকে দেবো না। আমি এ কথা বলে মাথা ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসছেন”।[8]

হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন এবং কোন প্রতিবাদ করলেন না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসি এবং প্রতিবাদ না করা দ্বারা প্রমাণিত হয় এটি ছিল এ কর্মের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মতি। এতে আরও প্রমাণিত হয়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথার মতই একটি পরিপূর্ণ শরীয়ত। অনুরূপভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দস্তরখানে গুই সাপ খাওয়া। তিনি দেখা সত্ত্বেও কোন প্রকার প্রতিবাদ করেননি, এতে প্রমাণিত হয় তা খাওয়া ছিল হালাল।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্ম কখন উম্মতের জন্য আদর্শ:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্ম কয়েক প্রকার:

কিছু কর্ম আছে স্বভাবগত ও অভ্যাগত। যেমন, উঠা, বসা, খাওয়া-দাওয়া, পায়খানা, প্রশ্রাব, ঘুমানো ইত্যাদি। এ ধরনের কর্মগুলো রাসূলের জন্য ও তার  উম্মতের বৈধ কর্ম হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে কোন প্রকার বিরোধ বা দ্বিমত নাই। এ ধরনের কর্মসমূহের ক্ষেত্রে রাসূলের অনুকরণ করাটা শরিয়তের বিধি-বিধানের আওতাভুক্ত নয়। এটি সুন্নাত, নফল, ওয়াজিব বা ফরজের আওতায় পড়ে না। বরং শুধু এ কথাই প্রমাণ করে, এ ধরনের কর্ম করা বৈধ।  সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথাও দাঁড়াইল, বা নির্ধারিত কোন বাহনে আরোহণ করল বা কখনও সে কোথাও বসল, কোন নির্ধারিত রঙের জামা পরিধান করল এবং নির্ধারিত কোন খাওয়ার গ্রহণ ইত্যাদি তার অনুকরণে সে রঙের জামা পরিধান করতে হবে বা নির্ধারিত জামা পরিধান করতে হবে এবং নির্ধারিত স্থানে বসতে এমন কোন কথা শরিয়ত সম্মত নয় এবং যে ব্যক্তি এ ধরনের ক্ষেত্রে রাসূলের অনুকরণ করল না তাকে এ কথা বলা যাবে না যে লোকটি রাসূলের সূন্নাত তরককারি। তবে যদি এ সব স্বভাবগত বা অভ্যাগত কর্ম বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ হতে আলাদা কোন দলীল পাওয়া যায় তবে তার বিধান অবশ্যই ভিন্ন হবে। যেমন, বাম হাত দিয়ে না খেয়ে ডান হাত দিয়ে খাওয়া। এটি সুন্নাত। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে ডান দিয়ে খেতেন এবং ডান হাত খাওয়ার নির্দেশ দেন। অন্যথায় এ ধরনের রাসূলের অনুকরণের কোন প্রয়োজন নাই। কারণ, ওমর রাদিআল্লাহু আনহু হতে প্রমাণিত:

أنه كان في سفر فرأى قوما ينتابون مكانا يصلون فيه فقال: ما هذا؟ قالوا: هذا مكان صلى فيه رسول الله – صلى الله عليه وسلم – فقال: ومكان صلى فيه رسول الله – صلى الله عليه وسلم -؟ أتريدون أن تتخذوا آثار أنبيائكم مساجد؟ إنما هلك من كان قبلكم بهذا ، من أدركته الصلاة فيه فليصل وإلا فليمض

অর্থ, ওমর রাদিআল্লাহু আনহু একটি সফরে দেখতে পেলেন একদল লোক একটি স্থানে পালাক্রমে সালাত আদায় করতে ছিল, তা দেখে ওমর রাদিআল্লাহু আনহু তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, এটি কি দেখছি? তারা বলল, এ জায়গাটিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেন। তখন তিনি বললেন, সত্যি কি এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছেন? আর তোমরা কি চাও নবীদের নিশানা গুলোকে সেজদার স্থান বানাতে? তোমাদের পূর্বের উম্মতরা এ জন্য ধ্বংস হয়েছে-তারা তাদের নবীদের নিশানাগুলোকে সেজদা করার স্থান বানাত। তোমাদের কারো চলার পথে যদি সালাতের সময় হয়ে যায় সে এখানে সালাত আদায় করবে, অন্যথায় সে চলে যাবে। অর্থাৎ, এখানে সালাত আদায় করার আলাদা কোন বৈশিষ্ট্য নাই। যার জন্য এখানে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে একত্র হতে হবে। তবে এ সালাত আদায় করা যে অবৈধ তাও বলা যাবে না। কারণ, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উম্মতের জন্য পুরো যমীনকে মসজিদ ও পবিত্র বলে ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং, সব জায়গায় সালাত আদায় করা যাবে। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানে সালাত আদায় করেছেন সেখানে সালাত আদায় করতে হবে এমন কোন কিছু করা হতে বিরত থাকতে হবে।

আর যে সব কর্ম রাসূলের সাথে খাস বা রাসূলের বৈশিষ্ট্য বলে প্রমাণিত ঐ কর্মের ক্ষেত্রে রাসূলের সাথে কেউ অংশীদার হতে পারবে না। যেমন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর চাশতের সালাম, বিতরের সালাত, তাহাজ্জুদের সালাত ফরজ ছিল। কিন্তু উম্মতের জন্য এগুলো ফরজ নয়। ফলে কেউ এ ইবাদাতগুলিকে আদায় করার ক্ষেত্রে ফরজ হিসেবে নিজের উপর চাপিয়ে দেয়া বা বাধ্যতামূলক করে নেয়ার কোন সুযোগ নাই। অনুরূপভাবে চারের অধিক বিবাহ করা এবং লাগাতার রোজা রাখা ইত্যাদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য। উম্মতের কারো জন্য এ ক্ষেত্রে রাসূলের অনুকরণ করার কোন সুযোগ নাই।

যদি রাসূলের কর্মের উপর আমাদের জন্য তার মৌখিক বর্ণনা জানা যায়, তাহলে এ ধরনের কর্মের উপর অবশ্যই শরীয়তের বিধান বর্তায় এবং উম্মতের জন্য তার অনুকরণ করা ওয়াজিব হয়ে পড়ে। যেমন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের কর্ম সম্পাদন করার পর বলেন, صلوا كما رأيتموني أصلي “তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছ সেভাবে সালাত আদায় কর”।[9] হজের বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

 لتأخذوا عني مناسككم فإني لا أدري لعلي لا أحج بعد حجتي هذه رواه مسلم

তোমরা আমার থেকে তোমাদের হজের কর্মসমূহ শিখে নাও। কারণ, হতে পারে আমি আমার এ হজের পর আর হজ নাও করতে পারি।[10]

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কতক কর্ম আছে যেগুলো স্বভাবজাতও নয় এবং তার জন্য খাসও নয় এবং কুরআনের ব্যাখ্যাও নয়, এ ধরনের কর্ম সম্পর্কে অবশ্যই ব্যাখ্যার প্রয়োজন এবং এ ধরনের কর্ম সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা রয়েছে।

এক- যদি এমন কোন আলামত পাওয়া যায় যদ্বারা প্রমাণিত হয়, এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর বা তার জন্য বিধান-ওয়াজিব, মোস্তাহাব বা মু-বাহ ইত্যাদি-। তাহলে এ ক্ষেত্রে উম্মতের বিষয় ও তার বিষয়ের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর যদি কোন কিছু পালন করা ওয়াজিব হয়ে থাকে তা উম্মতের জন্যও পালন করা ওয়াজিব অনুরূপভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য যদি কোন কিছু মোস্তাহাব হয়ে থাকে, তা উম্মতের জন্যও পালন করা মোস্তাহাব; এ ক্ষেত্রে উম্মত ও রাসূল উভয়েই সমান; কোন প্রকার তারতম্য করার সুযোগ নাই। কারণ, শরিয়তের মূলনীতি হল, যারা শরিয়তের বিধানের মুকাল্লাফ তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকতে পারে না।

দুই- যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন আমল বা কর্ম করে থাকেন, আর সে যে কর্মটি করেছেন, তা কি ওয়াজিব হিসেবে, নাকি মোস্তাহাব বা বৈধ হিসেবে করেছেন, তার উপর কোন প্রমাণ না থাকে, তাহলে এ সব কর্মের ক্ষেত্রে বিধান হল, হয়তো এ সব কর্মগুলোর অনুকরণ করা দ্বারা একজন ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভে ধন্য হবে। যেমন, ‘দুই রাকাত সালাত’ যেটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব সময় করেননি মাঝে মধ্যে করেছেন। কেউ যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুকরণে পালন করে, সাওয়াব পাবে, এবং এ ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুকরণ করা মোস্তাহাব বলে গণ্য হবে।

অথবা তাতে সাওয়াবের কোন উদ্দেশ্য না থাকে, যেমন- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় চুল লম্বা করা, পাগড়ী পরিধান করা ও পাগড়ীর দুই মাথাকে দুই কাদের উপর ছেড়ে দেয়া ইত্যাদি। এতে আলেমদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে।

এক কেউ কেউ বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ ধরনের কর্মগুলো মোস্তাহাব। তাদের যুক্তি হল, রাসূল নিজেই হলেন শরিয়তের প্রণেতা। সুতরাং, তার কর্মই হল শরিয়ত।

দুই- আর কেউ কেউ বলেন, এ ধরনের কর্ম মুবাহ এবং এগুলো তার স্ব-ভাবজনিত কর্ম ইবাদত নয়। সুতরাং, যদি কোন ব্যক্তি তার মাথার চুল কাটে বা ছাটে এবং যদি কেউ পাগড়ী পরিধান না করে, তাকে এ কথা বলা যাবে না, লোকটি সূন্নাত তরককারি।

তথ্যসূত্রঃ 

[1] [সূরা ইমরান: ১৩৭]

[2] মুসলিম, হাদিস: ২৬৬৯

[3] আবু দাউদ, তিরমিযি, হাদিস: ২৬৭৬

[4] বুখারি, হাদিস: ৬১১৬

[5] মুসলিম, হাদিস: ৪৯

[6] বুখারি, হাদিস: ৬০০৮

[7] মুসলিম, হাদিস: ১২৯৭

[8] মুসলিম, হাদিস: ১৭৭২

[9] বুখারি, হাদিস: ৬০০৮

[10] মুসলিম, হাদিস: ১২৯৭

বইঃ সুন্নাহের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা 

লেখকঃ জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের

মতামত দিন