একটা পরিবারের হারাম খাওয়া থেকে তাওবাহ করার ঘটনা

একটা পরিবার সম্পূর্ণ হারাম উপার্জন ও হারাম খাওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল।আল্লাহর মেহেরবানীতে ঐ পরিবারের একটি ছেলের দ্বারা পরিবারের সকলেই হারামখাওয়া থেকে তওবা করে।

ঐ ছেলের বক্তব্যটাই নীচে উল্লেখ করা হলঃআমি আমার পরিবারের সাথে মিশরের রাজধানী কায়রোর এক উন্নত এলাকায়শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছিলাম। বড় আফসোসের বিষয়! আমাদের পারিবারিক অবস্থা এমন ছিল যে, খাওয়ার টেবিলে মদ সর্বদা মওজুদ থাকত। আর আমার পিতা পুরামাত্রায় সুদ খেতেন। আমাদের ঐ বাড়ীর পার্শ্বেই এক বড় মসজিদ ছিল। একদিন আমিআমাদের বাড়ীর বেলকুনিতে বসে আছি, এমন অবস্থায় মাসজিদের ইমাম সাহেবেরবক্তব্য শুনে আমি বাড়ীহতে নেমে মাসজিদে গেলাম। মাসজিদে গিয়ে ইমাম সাহেবেরবক্তব্যে শুনতে পেলাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেছেন, “ মানুষের যে গোশত হারাম কর্মকাণ্ড বা হারাম খাদ্যদ্রব্য হতে উৎপন্ন হয়েছে, জাহান্নামের আগুনে পুড়ানোর জন্য তা সবচেয়ে বেশী উপযুক্ত।”( ছহীহুল জামেহা/ ৪৪৯৫)

ইহা শ্রবণ করার পর আমি বাড়ী যেয়ে বাড়ীর সবার সাথে মিলে-মিশে খাওয়া দাওয়াসম্পূর্ণ পরিত্যাগ করে একাকী নিম্ন মানের খাদ্য খেয়ে কোন প্রকারে দিন কাটাচ্ছিলাম। এরপর আমার অনুভূতির কথা আমার মাকে বুঝালাম। এরপর মাকে বললাম যে, আমার পিতা ঐ হারাম উপার্জন ছেড়ে দিয়ে তওবা না করা পর্যন্ত আমি তাঁর কোনজিনিসই খাব না। এরপর আমার মা ও বোন আমার কথায় ঐকমত পোষণ করলেন। কিন্তু আমার পিতা তাঁর কর্মকাণ্ডের উপর দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকলেন। এরপর আমি খুব নরমভাবে তাঁকে বুঝাতে থাকলাম, আমার মাও তাঁকে বুঝাতে লাগলেন এবং তাঁর জন্য দোআ করতে লাগলেন। এরপর আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে আমার পিতা মদ, সুদ ও হারাম কারবার সব ছেড়ে দিলেন।এরপর তিনি আমাদের সকলকে তাঁর স্নেহ-মমতার বন্ধনে আবদ্ধ করলেন। আর ঘোষণা করেদিলেন যে, আজ হতে ঐ সমস্ত হারাম কার্যাবলী হতে আমি চিরতরে তওবা করলাম, যেসমস্ত কাজ আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে বিভিন্নপ্রকার হারাম উপার্জন এবং হারাম খাওয়া থেকে তওবা করার তাওফিক দান কর। আমীন।

হে মুসলিম ভাই ও বোন! আপনি কেন বসে আছেন?????????

এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আপনার পরিবারে প্রয়োগ করেন। অত্যন্ত সুন্দরভাবে ও ধৈর্য সহকারে আপনারপরিজনদেরকে বুঝান যারা হারাম উপার্জন করে । হারাম খায়।

সূত্রঃ বইঃ কতিপয় হারাম কাজ যেগুলিকে মানুষেরা হালকা মনে করে অথচ তা থেকেবেঁচে থাকা প্রত্যেকের ওয়াজিব,

লেখকঃ মুহাম্মাদ ছালিহ আল মুনাজ্জিদ , পৃষ্ঠা ১৫৪-১৫৬।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

২টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button
kiw kow kan