কুরআন বিজ্ঞান ও ইসলাম

কুরআন সম্পর্কে অমুসলিম বিজ্ঞানীরা কি বলেন?

সমস্ত প্রশংসা নিখিল বিশ্বের প্রতিপালক মহান রাব্বুল আলামীনের জন্য। অগণিত দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক মানব জাতির মহান শিক্ষক ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও ছাহাবীগণের উপরও।

কুরআন মজীদ আল্লাহ তা’আলার কালাম এবং সর্বশেষ আসমানী গ্রন্থ। বিশ্বস্ত ফেরেশতা জীবরীল (আঃ) এর মাধ্যমে সর্বাধিক বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী মানব মহানবী মুহাম্মাদ ইবনু আব্দিল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর অবতীর্ণ হয়েছে। মানব জাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসার জন্য এবং পথভ্রষ্টতা থেকে পথ প্রদর্শনের জন্য এই মহাগ্রন্থ অবতীর্ণ হয়।

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “এ সেই কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নেই। পরহেযগারদের জন্য পথ প্রদর্শনকারী” (বাক্বারাহঃ ২)।

অন্যত্র তিনি বলেনঃ “রমযান মাস হ’ল সেই মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়াত এবং সত্য পথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথ নির্দেশ, আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী” (বাক্বারাহঃ ১৮৫)।

তিনি আরো বলেনঃ “তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি এসেছে এবং সমুজ্জ্বল গ্র্রন্থ। এর দ্বারা যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে, তাদেরকে তিনি নিরাপত্তার পথ প্রদর্শন করেন এবং তাদেরকে স্বীয় নির্দেশ দ্বারা অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে আনয়ন করেন এবং সরল পথে পরিচালন করেন ”(মায়েদাহঃ ১৫-১৬)।

তিনি আরো বলেনঃ “এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে, যা সর্বাধিক সরল এবং সৎকর্ম পরায়ণ মুমিনদেরকে সুসংবাদ দেয় যে,তাদের জন্য মহা পুরস্কার রয়েছে”। (বনী ইসরাঈলঃ ৯)।

তিনি আরো বলেনঃ “এই কুরআন তো বিশ্বজাহানের পালনকর্তার থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত ফেরেশতা একে নিয়ে অবতরণ করেছে। আপনার অন্তরে, যাতে আপনি ভীতি প্রদর্শনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন। সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়। নিশ্চয়ই এর উল্লেখ আছে পূর্ববর্তী কিতাব সমূহে। তাদের জন্য এটা কি নিদর্শন নয় যে, বনী ইসরাঈলের আলেমগণ এটা সম্পর্কে অবগত আছে।” (শু’আরাঃ ১৯২-৯৭)।

আবু শুরাইহ আল-খুযাঈ (রাজিঃ) বলেন, একদা নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বের হ’লেন এবং বললেন, “তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর, সুসংবাদ গ্রহণ কর, আচ্ছা তোমরা কি একথার সাক্ষী দাওনা যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন সত্য মা’বুদ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল? ছাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। অতঃপর বললেনঃ নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন একটি রজ্জু, যার এক দিক আল্লাহর হাতে আর অন্য দিক তোমাদের হাতে। অতএব তোমরা এটা শক্তভাবে ধর। কেননা কুরআনকে আঁকড়ে ধরার পর তোমরা কখনো গোমরাহ হবে না। ধ্বংসও হবে না”। (সিলসিলা ছহীহাঃ ২/৩৩০/৭১৩ ছহীহ ইবনে হিব্বানঃ ১/১২১/১২২।)

আবু হুরায়রা (রাজিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “সকল নবীকে এমন কিছু মু’জেযা দেয়া হয়েছে, যা দেখে তৎকালীন লোকেরা ঈমান এনেছে। কিন্তু আমাকে যে মু’জেযা দেয়া হয়েছে তাহ’ল অহী (কুরআন), যা আল্লাহ তাআলা আমার কাছে প্রেরণ করেছেন। অতএব আমি আশা করি ক্বিয়ামতের দিন আমার উপর ঈমান আনয়নকারী লোকদের সংখ্যা হবে সবচেয়ে বেশী”। (বুখারী, ‘কিতাবু ফাযায়িলিল কুরআন’।)

লেনপুল (lane poole) বলেন, ‘
“কুরআনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হ’ল যে, তার মৌলিকতায় কোন সন্দেহ দেখা দেয়নি, প্রত্যেকটি হরফ যা আমরা আজ পড়ে থাকি, তার ব্যাপারে আমরা নির্দ্বিধায় বিশ্বাষ করতে পারি যে, তের শতাব্দী পর্যন্ত এতে কোনরূপ পরিবর্তন হয়নি””। (আবুল হাসান আলী নদভী,আন-নুবুওয়াতু ওয়াল আম্বিয়া,পৃঃ ১৩৩-১৩৪।)

জার্মান কবি গ্যেটে বলেন, ‘
আমরা যখনই এ মহাগ্রন্থ অধ্যয়ন করি তখন মুহূর্তেই তা আমাদের আকৃষ্ট ও অভিভূত করে। অতঃপর তা আমাদের অন্তরের গহীন থেকে টেনে তুলে আনে অনাবিল অকৃত্রিম ভক্তি। কুরআনের লক্ষ্য ও আলোচ্য বিষয় অনুযায়ী এর রচনাশৈলী অনমনীয়, পূর্ণাঙ্গ ও চমকগ্রদ, যা চিরকালই মহিমাম্বিত। ভবিষ্যতের প্রতিটি কালেই এ গ্রন্থ মানব সমাজে অভাবনীয় প্রভাব বিস্তার করবে। (Dictionary of Islam. 526.)

মুরিস বুকাইলি বলেন,‘
যারা মুহাম্মদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে কুরআনের লেখক বলে দাবী করে থাকেন, এযুক্তির মুকাবিলায় তাদের কোন কথাই আর গ্রহণযোগ্য থাকতে পারে না যে, একজন নিরক্ষর মানুষ সাহিত্যের গুণগত মানের বিচারে সমগ্র আরব সাহিত্যজগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লেখক হ’তে পারেন কিভাবে? আর সেই আমলে তিনি এমন সব বেজ্ঞানিক সত্য কেমন করে ঘোষণা করলেন, যে সত্য তখন অপর কোন মানুষের পক্ষে উদ্ভাবন করা আদৌ সম্ভব ছিল না এবং আদৌ কোন ভুল না করে? এগ্রন্থের বিভিন্ন ধারণা-প্রবাহ বিশুদ্ধ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে গড়ে তোলা হয়েছে এবং তার ফলে এ সিদ্ধান্ত সাব্যস্ত হয়েছে যে,সপ্তম শতাব্দীর একজন মানুষ কুরআনে বিভিন্ত বিষয়ে এমন সব বিবরণ দিয়েছেন,যা তাঁর নিজের আমলের নয় এবং সেই বিবরণের সত্যতাও কয়েক শতাব্দী পরে জানা গেছে। এ অবস্থা কল্পনাও করা যায় না। এ কারণে অন্তত আমি মনে করি যে, কুরআন কোন মানবিক ব্যাখ্যা হ’তে পারে না”। (বাইবেল কুরআন ও বিজ্ঞান, পৃঃ ১২৯,১৩০।)

কুরআন মজীদের প্রশংসায় আপনরা যেরূপ পঞ্চমুখ, সেরূপ অমুসলিম মণীষিরাও কুরআনের সত্যবাদিতা, বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা, মহত্ব, নির্ভূলতা এবং আরো সব বিষয়ে এই মহা গ্রন্থের অনন্যতার প্রশংসায় কোন হারে পিছিয়ে নেই।

– হারুন আযিযী নদভী।

মতামত দিন