প্রবন্ধ সুন্নাহ

বালা মুসিবতের সময় কি করণীয় ও পঠনীয় দুআ

দৈনন্দিন জীবনে আমাদের উপর অনেক বিপদ নেমে আসে। এসব বিপদ হল আমাদের হল আমাদের কর্মের ফল অথবা কোন দূর্ঘটনা। আমাদের ধর্ম হল পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। এই বিপদ থেকে উঠে আসা অথবা এমন বিপদ যেন আমাদের মাঝে না আসে তার ব্যবস্থা রয়েছে ইসলাম ধর্মে। নিচের দোয়া গুলি শিখুন এবং আমল করুন।

এগুলো আমলে আপনি পাবেন-
১. হঠাত্ কোন মুসীবত আপনার উপর আসবে না।
২. শয়তানে আক্রমণ ও কুমন্ত্রণা হইতে নিরাপদ থাকবেন।
৩. আল্লাহ আপনাকে কষ্টদায়ক জিনিস হইতে হেফাজত করবেন।
৪. দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত চিন্তা হইতে মুক্ত রাখবেন।
৫. দুশ্চিন্তা ও পেরাশানী দূর করিয়া দিবেন।
৬. আপনার ঋণ পরিশোধ করিয়া দিবেন।
৭. আপনার উপর, আপনার পরিবারের উপর এমন কোন কিছু ঘটিবে না যা আপনার অপছন্দ হয়।
৮. আল্লাহ আপনাকে এমন জায়গা হইতে রুজির ব্যবস্থা করবেন, যেখান থেকে আপনার ধারণাও ছিল না।

এরূপ আরো অনেক ফযিলাত রয়েছ। দৈনিন্দন আমাদের বড় সমস্যা হল বেকারত্ব, ছেলে – মেয়েদের সমর্থ থাকা সত্বেও সময়মত বিয়ে না হওয়া এবং ঋণ। দোয়াগুলি আমল করুণ, আল্লাহ আপনাকে এইগুলি থেকে মুক্ত করবেন ইন-শা-আল্লাহ। রাসূল (স:) বলেছেন “দোয়া ব্যতীত কোন জিনিস তাকদীরের লিখন বদলাতে পারে না।“

মুসীবতের সময় পড়ার দোয়া

1. اللَّهُمَّ احْفَظْْْنِيْ بِالإِسْلاَمِ قَائِماً، وَاحْفَظْنِيْ بِالإِسْلاَمِ قَاعِداً، وَاحْفَظْنِيْ بِالإِسْلاَمِ رَاقِداً، وَلاَتُشْمِتْ بِيَ عَدُوُّا وَلاَحَاسِداً, وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ دَابَّةٍ أنتَ آخِذٌ بِناصيتها، وَاَسْأَ لُكَ مِنَ الْخَيْرِ الَّذِىْ هُوَ بِيَدِ كَ كُلِّهِ.

(حديث حسن / رواه الحاكم عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه)

উচ্চারণ: আল্লাহুমাহফাযনী বিল ইসলামি কা’ইমা, ওয়াহফাযনী বিল ইসলামি কা’ইদা, ওয়াহফাযনী বিল ইসলামি রা’কিদা, ওয়ালা তুশমিয়াত বিয়া আদুওয়া ওয়ালা হাসিদা, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররি কুল্লি দাব্বাতিন আনতা আখিযুন বিনাচিয়াতিহা, ওয়া আসআলুকা মিনাল খায়রিল লাযি হুওয়া বিয়াদিকা কুল্লিহ।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমাকে দাঁড়ানো অবস্থায়, বসা অবস্থায় এবং নিদ্রা অবস্থায় ইসলামের সাথে বাঁচিয়ে রাখুন। আমার উপর কোন শত্রু ও হিংসুককে হাসাইবেন না। এবং সমস্ত প্রাণীর অনিষ্ট হইতে আপনার আশ্রয় চাইতেছি যারা আপনার পূর্ণ আয়ত্তাধীন। আমি আপনার নিকট ঐ মঙ্গল কামনা করিতেছি যা সম্পূর্ণ আপনার হাতে।

2. اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ, وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ, وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ, وَجَمِيعِ سَخَطِكَ.

(حديث صحيح / رواه ابوداود عن ابن عمرو رضي الله عنه)

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিন জাওয়ালি নিয়ামাতিক, ওয়াতাহিওয়ালি আফিয়াতিক, ওয়াফুজা’আ নিকামাতিক, ওয়াজামিয়ি সাখাতিক।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার দেয়া নেয়ামতের পতন হইতে, সাস্থ্য ও নিরাপত্তার অধ:পতন হইতে, আপনার আকষ্মিক প্রতিশোধ হইতে এবং যাবতীয় অসন্তোষ হইতে আপনার আশ্রয় চাইতেছি।

3. لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ, لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ, لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ رَبُّ السَّموَاتِ وَرَبُّ الأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ.

(حديث صحيح / رواه البخاري ومسلم عن ابن عباس رضي الله عنهما)

উচ্চারণ: লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হুল আযীমুল হালীম, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু রাব্বুল আরশিল আযীম, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু রাব্বুস সামা-ওয়া-তি ওয়ারাব্বুল আরদি ওয়ারাব্বুল আরশিল কারীম।

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবুদ নেই; যিনি সুমহান, সহিষ্ণু। আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই; যিনি সুবৃহৎ আরশের প্রতিপালক। আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য আরাধ্য নেই; যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও সম্মানিত আরশের অধিপতি।

4. اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي, وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي, وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي, اللَّهُمَّ اِغْفِرْ لِي جِدِّي, وَهَزْلِي, وَخَطَئِي, وَعَمْدِي, وَكُلُّ ذَلِكَ عِنْدِي, اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَاقَدَّمْتُ, وَمَا أَخَّرْتُ, وَمَا أَسْرَرْتُ, وَمَا أَعْلَنْتُ, وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي, أَنْتَ اَلْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.

(حديث صحيح /رواه البخارى عن انس رضي الله عنه)

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফিরলী খাতিয়াতী ওয়াজাহলী, ওয়াইসরাফী ফী আমরী, ওয়ামা আনতা আ’লামু বিহি মিন্নী। আল্লাহুম্মাফিরলী জিদ্দী ওয়াহাজলী, ওয়াখাতায়ী, ওয়াআমাদী, ওয়াকুল্লু যালীকা ইনদী। আল্লাহুম্মাগফিরলী মা’কাদ্দামতু, ওয়ামা আখখারতু, ওয়ামা আসরারতু, ওয়ামা আ’লানতু, ওয়ামা আনতা আ’লামু বিহি মিন্নী, আনতাল মুকাদ্দিমু ওয়াআনতাল মুয়াখখিরু ওয়াআনতা আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর।

অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আমার ভুল ত্রুটি এবং আমার মূর্খতা, আমার কাজ কর্মে সীমা লংঘন এবং আমার পক্ষ হইতে সংঘঠিত সেই সব অপরাধ যাহা আপনি আমার চেয়ে বেশী জানেন তা মাফ করিয়া দিন। হে আল্লাহ, আমার তামাশাহীন কর্ম, তামাশাপূর্ণ কর্ম, ইচ্ছাকৃত গুনাহ ও অনিচ্ছাকৃত গুনাহ মাফ করিয়া দিন। সব ধরনের গুনাহ আমার রয়েছে। হে আল্লাহ, আমার সেই সকল গুনাহ মাফ করিয়া দিন যাহা আমি পূর্বে করিয়াছি, আর যাহা পরে করিয়াছি, আর যে গুনাহ আমি গোপনে করিয়াছি, আর যাহা প্রকাশ্যে করিয়াছি, যাহা আপনি আমার চেয়ে বেশী জানেন। আপনিইতো যাহাকে ইচ্ছা অগ্রগামী করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা পশ্চাদগামী করেন, এবং আপনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাশীল।

5. تَوَكَّلْتُ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لاَ يَمُوتُ, وَالْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ, وَلَمْ يَكُنْ لَهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِّ وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا.

(حديث ضعيف/ رواه الطبرانى عن ابى هريرة رضي الله عنه)

উচ্চারণ: তাওয়াক্কালতু আলাল হায়্যিল লাযী লা ইয়ামুতু, ওয়াল হামদুলিল্লাযী লাম ইয়াত্তাখিয ওয়ালাদান ওয়ালাম ইয়াকুন লাহু শারীকুন ফীলমূলকি, ওয়ালাম ইয়াকুন লাহু ওয়ালিয়্যুন মিনায যুল্লি ওয়াকাব্বিরহু তাকবীরা।

অর্থ: আমি সেই চিরঞ্জীবের উপর ভরসা করিয়াছি, যার কোন মুত্যু নেই এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি না কোন সন্তান রাখেন, না তাঁর রাজত্বে কোন শরীক আছে এবং যিনি দুর্দদশাগ্রস্থ হন না, যে কারণে তাঁর কোন সাহয্যকারী প্রয়োজন হইতে পারে না। সুতারাং (হে শ্রোতা তুমি) স-সম্ভ্রমে তাঁর মহাত্ম্য বর্ণনা করিতে থাক।

6. اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ۞

من قرأآية الكرسى وخواتيم سورة البقرة عند الكرب اغاثه الله تعالى” (حديث ضعيف/ رواه ابن السنى عن ابى قتادة رضي الله عنه)

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমীনে যা কিছু রয়েছে সবই তাঁর। কে আছে এমন যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুক তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও জমীনকে পরিবেষ্টিত করিয়া আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়।

ফযীলাত: যে আয়াতুল কুরসী ও সূরা বাকারার শেষ তিন আয়াত মুসীবতের সময় পাঠ করিবে, তাহাকে আল্লাহ তায়ালা মসীবত হইতে উদ্ধার করিয়া দিবেন।

7. اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ, وَابْنُ عَبْدِكَ, وَابْنُ أَمَتِكَ, نَاصِيَتِي بِيَدِكَ, مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ, عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤُكَ, أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ, أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ, أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ, أَوْ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ, أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِي, وَنُورَ صَدْرِي, وَجِلاَءَ حُزْنِي, وَذَهَابَ هَمِّي.

“ماقال عبد قط اذا اصابه هم او حزن اللهم انى عبدك …. الى آخره الااذهب الله همه, وابدل مكان حزنه فرجا.” (حديث صحيح / رواه احمد و الحاكم عن ابن مسعود رضي الله عنه)

উচ্চারণ: উচ্চারণঃ- আল্লা-হুম্মা ইন্নী আব্দুকা অবনু আব্দিকা অবনু আমাতিক, না-সিয়াতী বিয়্যাদিক, মা-দিন ফিইয়্যা হুকমুক, আদলুন ফিইয়্যা ক্বাযা-উক, আসআলুকা বিকুল্লি ইসমিন হুয়া লাক, সাম্মাইতা বিহী নাফসাকা আউ আন্যালতাহু ফী কিতা-বিক, আউ আল্লামতাহু আহাদাম মিন খাল্ক্বিক, আবিস্তা’সারতা বিহী ফী ইলমিল গাইবি ইন্দাক; আন তাজআলাল ক্বুরআ-না রাবীআ ক্বালবী অনূরা সাদরী অজিলা-আ হুযনী অযাহা-বা হাম্মী।

অর্থ: হে আল্লাহ! নিঃসন্দেহে আমি আপনারই বান্দা, আপনারই বান্দা ও বান্দীর সন্তান, আমার ললাটের কেশগুচ্ছ আপনার হাতে। আপনার বিচার আমার জীবনে বহাল। আপনার মীমাংসা আমার ভাগ্যলিপিতে ন্যায়সঙ্গত। আমি আপনার নিকট আপনার প্রত্যেক সেই নামের অসীলায় প্রার্থনা করিতেছি- যে নাম আপনি নিজের জন্য নিজে রাখিয়াছেন। অথবা আপনি আপনার গ্রন্থে অবতীর্ণ করেছেন, অথবা আপনার সৃষ্টির মধ্যে কাউকে তা শিখিয়েছেন, অথবা আপনি আপনার গায়বী ইলমে নিজের নিকট গোপন রেখেছেন, আপনি কুরআনকে আমার হৃদয়ের বসন্ত করুন, আমার বক্ষের জ্যোতি করুন, আমার দুশ্চিন্তা দূর করার এবং আমার উদ্বেগ চলে যাওয়ার কারণ বানিয়ে দিন।

ফযীলাত: যে ব্যক্তি যেকোন দুশ্চিন্তা ও পেরাশানীর সময় এই দোয়াটি পড়িবে, আল্লাহপাক তার দুশ্চিন্তা দূর করিয়া দিবেন এবং দুশ্চিন্তার পরিবর্তে তাকে খুশি দান করিবেন।

8. حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ.

“قالها ابراهيم عليه السلام حين القى فى النار, وقالها محمد صلى الله عليه وسلم حين قال: ان الناس قد جمعوالكم فاخشوهم فزادهم ايمانا, وقالو حسبنا الله ونعم الوكيل.” (حديث صحيح / رواه البخارى عن ابن عباس رضي الله عنهما)

উচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়ানিয়ামাল ওয়াকীল।

অর্থ: আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম সাহায্যকারী।

ফযীলাত: এই দোয়াটি হযরত ইব্রাহিম (আ:) পড়িয়াছিলেন যখন উনাকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, এবং হযরত মুহাম্মাদ (স:) ঐ সময় পড়িয়াছিলেন যখন লোকেরা বলেছিল যে নিশ্চয়ই তোমাদের বিরুদ্ধে সেসব লোক সমবেত হয়েছে, অতএব তোমরা তাদেরকে ভয় কর, কিন্তু এতে তাদের বিশ্বাস আরও দৃঢ়তর হয়ে যায় এবং তারা বলে আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম সাহায্যকারী।

9. يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ.

“عن انس رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم انه كان اذا اكربه امر قال: ياحى يا قيوم …. الى آخره.” (حديث حسن / رواه الحاكم عن انس بن مالك رضي الله عنه)

উচ্চারণ: ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যূমু বিরাহমাতিকা আস্তাগীস।

অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে জমিন আসমান ও সমস্ত মাখলুকের রক্ষাকারী, আমা আপনার রহমতের অসীলায় ফরিয়াদ করিতেছি।

10. لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّى كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ.

“فانه لم يد ع بها رجل مسلم فى شىء قط الااستجاب الله له.” (حديث صحيح/ رواه الترمذى والنسائى عن سعد بن ابى وقاص رضي الله عنه) فأيما مسلم دعا بها فى مرضه أربعين مرة فمات فى مرضه ذلك أعطى أجر شهيد وإن برأ برأ مغفورا له. (حديث حسن/ رواه الحاكم) عن سعد بن ابى وقاص رضي الله عنه

উচ্চারণ: লাইলাহা ইল্লা আনতা সুবাহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যুয়ালামিন।

অর্থ: আপনি ছাড়া কেউ সত্য উপাস্য নেই, আপনি পবিত্র, নিশ্চয় আমি সীমালংঘনকারী।

ফযীলাত: যে কোন মুসলমান যে কোন সমস্যায় এই দোয়াটি পড়িয়া দোয়া করিবে, আল্লাহপাক তাহার দোয়া কবুল করিবেন। অন্যবর্ণনায় আছে, যে কোন মুসলমান আপন অসুস্থাতায় এই দোয়া ৪০ বার পড়িবে, যদি সেই অসুস্থতায় সে মুত্যুবরণ করে, তবে তাহাকে শহীদের সাওয়াব দেওয়া হইবে। আর যদি সেই অসুস্থতা হইতে সে আরোগ্য লাভ করে, তবে তাহার সমস্ত গুনাহ মাফ হইয়া যাইবে।

11. اللَّهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُو فَلاَ تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ, وَأَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ, لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ.

“دعوات المكروب : اللهم رحمتك أرجو …. الى آخره.” (حديث حسن / رواه ابوداود و احمد و النسائي عن ابى بكرة رضي الله عنه)

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা রাহমাতাকা আরজু ফালা তাকিলনী ইলা নাফসী ত্বারফাতা আইন, অ আসলিহ লী শানী কুল্লাহ, লা ইলা-হা ইল্লা আন্ত।

অর্থঃ- অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার রহমতের রহমতেরই আশা করিতেছি। অতএব আপনি আমাকে এক পলকের জন্যও আমার নিজের নফসেন উপর সোপর্দ করিবেন না এবং আমার সকল অবস্থাকে সংশোধিত করিয়া দির। আপনি ছাড়া কেউ সত্য মাবুদ নেই।

12. لاَحَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ اِلاَّ بِاللهِ.

” كان دواء من تسعة و تسعين داء أيسرها الهم.” (حديث ضعيف/ رواه الحاكم والترمذي عن ابى هريرة رضي الله عنه)

উচ্চারণ: লাহাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ।

অর্থ: কোন কল্যাণ হাসিল করা এবং কোন অকল্যাণ হইতে বাঁচার ব্যাপারে সফলকাম হওয়া একমাত্র আল্লাহর হুকুমে সম্ভব হইতে পারে।

ফযীলাত: এই দোয়াটি ৯৯টি রোগের প্রতিষেধক, যার মধ্যে সর্বপেক্ষা সাধরণ হল দুশ্চিন্তা।

13. اللَّهُمَّ لاَسَهْلَ الاَّمَاجَعَلْتَهُ سَهْلاً, وَاَنْتَ تَجْعَلُ الْحَزْنَ اِذَا شِئْتَ سَهْلاً.

” اذا استصعب على المرء امر” (حديث صحيح/ رواه ابن السنى عن انس رضي الله عنه)

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জাআলতাহু সাহলা। অআন্তা তাজআলুল হুযনা ইযা শি’তা সাহলা।

অর্থ: হে আল্লাহ! কোন কাজই সহজ নয় বরং আপনি যা সহজ করে দিয়েছেন তাই সহজ। আর আপনি যদি চান তাহলে পাথরের ন্যায় জমিনকেও নরম ও সমতল করিতে পারেন।

14. اللَّهُمَّ اَسْتُرْ عَوْرَاتِنَا وَآمِنْ رَوْعَاتِنَا وَاَقْضِ عَنَّا دُيُوْ نَنَا.

“قلنا يوم الخندق يا رسول الله هل من شئ نقوله قد بلغت القلوب الحناجر قال نعم, اللهم استر…. فضرب الله وجوه أعدائه بالريح” (حديث ضعيف /رواه احمد عن ابى سعيد الخدري رضي الله عنه)

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আসতুর আওরাতিনা ওয়ামিন রাওআতিনা, ওয়াকদি আন্না দুয়ুনানা।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের দোষ ত্রুটি সমূহ ঢেকে রাখুন। আর আমাদেরকে ভয় ভীতি হইতে সংরক্ষণ করুন এবং আমাদের ঋণ পরিশোধ করিয়া দিন।

15. حَسْبِيَ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ.

“كفاه الله مااهمه من امر الدنيا و الآخرة” (حديث ضعيف موقوف/ رواه النووي في الاذكار عن ابي الدردا رضي الله عنه)

উচ্চারণঃ হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হু, আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়াহুওয়া রাব্বুল আরশিল আযীম।।

অর্থঃ আমার জন্য আল্লাহ তালাই যতেষ্ট, তিনি ব্যতীত কোন মা’বুদ নাই। তাঁহারই আমি ভরসা করিলাম, তিনি আরশে আজীমের মালিক।

ফযীলাতঃ যে ব্যক্তি সকাল বিকাল সাতবার এই দোয়াটি পড়িবে আল্লাহ তায়ালা তাহাকে দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত চিন্তা হইতে রক্ষা করিবেন।

16. اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَجْأَةِ الْخَيْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فَجْأَةِ الشَّرِّ.

“فَإِنَّ الْعَبْدَ لاَ يَدْرِي مَا يَفْجَأُهُ إِذَا أَصْبَحَ وَإِذَا أَمْسَى” (حديث ضعيف / رواه ابن السنى عن انس رضي الله عنه)

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি আস আলুকা মিন ফাজাআতাল খায়রি, ওয়া আউযুবিকা মিন ফাজাআতাল শার।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে মঙ্গল চাইতেছি এবং আপ্রতাশিতভাবে মন্দ হইতে আপনার আশ্রয় চাইতেছি।

17. بِسْمِ اللهِ الَّذِي لاَيَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ في الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ العَلِيمُ.

“لم يضره شىءٌ وفى رواية, لم تصبه فجأةبلاء. (حديث صحيح/ رواه الترمذي وابو داود عن عثمان رضي الله عنه)

উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু মাআসমিহী শাইয়ুন ফীল আরদি ওয়ালা ফিসসামাঈ ওয়াহুওয়াস সামিউল আলীম।

অর্থ: আমি ঐ আল্লাহর নামে আরম্ভ করিতেছি, যার নামে আরম্ভ করিলে আসমান ও জমিনের কোন বস্তুই কোনরূপ ক্ষতিসাধন করিতে পারে না এবং তিনি শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।

ফযীলাত: যে কেহ এই দোয়াটি সকালে তিনবার পাঠ করিবে সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যায় তিনবার পাঠ করিলে সকাল পর্যন্ত কোন জিনিসই তাহাকে ক্ষতি করিতে পারিবে না। অন্যবর্ণনায় আছে, তাহার নিকট হঠাত্ কোন মুসীবত আসিবে না।

18. اللَّهُ، اللَّهُ رَبِّى لاَأُشْرِكُ بِهِ شَيْئا.

“عن أسماء بنت عميس قالت: قال لي رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم ‘ ألا أعلمك كلمات تقولينهن عند الكرب أو في الكرب” (حديث حسن/ رواه ابوداود وغيره عن أسماء بنت عميس رضى الله عنها)

উচ্চারণ: আল্লা-হু আল্লা-হু রাব্বী লা উশরিকু বিহী শাইআ।

অর্থ: আল্লাহ আমার প্রভু, তাঁর সাথে কিছুকে শরীক করি না।

ফযীলাত: নবী করীম (স:) আসমা বিনতে উমাইস (রা:) কে বলিলেন, আমি কি তোমাকে সেই কালিমাগুলি শিখাইয়া দিব না, যেগুলি তুমি দুশ্চিন্তার সময় পড়িবে।

19. أسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِى لإِاِلَهَ اِلاَّ هَوَ الْحَىُّ القَيُّوْمُ وَاَتُوْبُ اِلَيْه.

” من لزم الاستغفار جعل الله له من كل ضيق مخرجا, ومن كل هم فرجا, ورزقه من حيث لايحتسب” (حديث ضعيف/ رواه ابو داود عن ابن عباس رضى الله عنهما)
উচ্চারণঃ আসতাগফিরুল্লাহাল্লাযি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হায়্যুল কায়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহ।

অর্থঃ আমি আল্লাহ তায়ালার নিকট মাগফিরাত চাহিতেছি, যিনি ব্যতীত কোন মা’বুদ নাই, তিনি চিরঞ্জীব, সংরক্ষণকারী এবং তাঁহার নিকট তাওবা করিতেছি।

ফযীলাতঃ যে ব্যক্তি এই কালেমাগুলি পড়িবে তাহার মাগফিরাত করিয়া দেয়া হইবে, যদিও সে জিহাদের ময়দান হইতে পালায়ন করে। অন্য বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি পাবন্দীর সহিত ইস্তেগফার করিতে থাকে, আল্লাহ তায়ালা তাহার জন্য প্রত্যেক অসুবিধায় মুক্তির পথ করিয়া দেন। প্রত্যেক দুশ্চিন্তা হইতে মুক্তি দান করেন এবং তাহাকে এমন জায়গা হইতে রুজি দান করেন যেখান হইতে তাহার ধারণাও থাকে না।

20. اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ النَّبِىَّ الأُمِّىِّ, وِأزْوَاجِهِ أُمَّهَاتِ الْمُؤمِنِيْنَ, وَذُرِّيَتِهِ وَآلِ بَيْتِهِ, كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى اِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إبْرَاهِيْمَ, إنَكَ حَمِيْدُ ٌمَّجِيْدٌ. (10evi) “من سره ان يكتال بالمكيال الأوفى اذا صلى علينا اهل البيت فليقل – اللهم صل على محمد….” (حديث صحيح/ رواه ابو داود والترمذى عن ابي هريرة رضى الله عنه)

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মদিন আবদিকা ওয়ারাসূলিকা আননাবিয়্যিল উম্মিয়, ওয়া আজওয়াজিহিল উম্মাহাতিল মুমিনিন, ওয়াজুররিয়্যাতিহি ওয়াআলি বায়তিহ, কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহিমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহিম, ইন্নাকা হামিদুন মাজীদ।

অর্থঃ হে আল্লাহ, আপনার বান্দা ও আপনার নিরক্ষর রাসূল ও নবীর উপর এবং তাঁহার স্ত্রীগণ-যাহারা মুমিনদের মা এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর এবং তাঁহার সকল পরিবারবর্গের উপর রহমত নাযিল করুন, যেমন হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এবং তাঁহার পরিবারবর্গের উপর রহমত নাযিল করিয়াছেন, নিঃসন্দেহে আপনি প্রশংসার উপযুক্ত ও সম্মানিত।

ফযীলাতঃ নবী করীম (সঃ) বলিয়াছেন যে, যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় আমার উপর দশবার দরুদ শরীফ পড়িবে সে কেয়ামতের দিন আমার সুপারিশ লাভ করিবে। অন্য বর্ণনায় আছে, যাহার ইহা পছন্দ হয় যে, যখন সে আমার পরিবারবর্গের উপর দরুদ পাঠ করে তখন সাওয়াব বড় পাত্রে মাপা হউক, তবে সে যেন এই শব্দগুলি দ্বারা দরুদ পাঠ করে।

বিঃদ্রঃ আরবি হরফের বাংলা উচ্চারণ লেখা অনেক কষ্টকর, যাথাযথ লেখাও যায় না। তাই যারা এইগুলি শিখতে ইচ্ছুক, তারা আমার লেখা উচ্চারণের উপর নির্ভর না করে রবং যারা ভাল আরবি জানেন তাদের থেকে যেন শিখে নেন। আল্লাহ সকলকে এই দোয়াগুলি শিখার ও সকাল সন্ধ্যায় আমল করার তাওফিক দিক। আমীন

উত্স (ঈষত পরিবর্তিত )

মতামত দিন