নারী

কেমন আছেন অন্য ধর্মের নারীরা

নারীদেরকে ঠকিয়েছে’ ‘ইসলাম নারী স্বাধীনতা হরণ করেছে’ ‘ইসলাম নারীর প্রগতির পথে বড় বাধা-এ ধরনের বিভিন্ন অভিযোগের তীর আজ ইসলামের গায়ে বিদ্ধ হচ্ছে। এ অভিযোগগুলো ইসলামবিরোধী চক্রের দিক থেকে যত না উত্থাপিত হয়েছে তার চেয়ে অধিক উচ্চারিত হয়েছে মুসলিম নামধারী তথাকথিত প্রগতিবাদী ও নারীবাদীদের মুখে। সস্তা শ্লোগান ও মোহনীয় উক্তির দ্বারা তারা নারীদের প্রতি তাদের উৎলে ওঠা দরদ প্রকাশ করার চেষ্টা করে। আমাদের দেশে এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবী আছেন যারা কথায়-কথায়, প্রসঙ্গে-অপ্রসঙ্গেনারী ইস্যুটা টেনে এনে ইসলামের ওপর তাদের চিরাচরিত বিদ্বেষের বিষদাঁত ফুটিয়ে দেয়। অথচ ইসলাম সম্পর্কে তাদের জ্ঞান শূন্যের কোঠায়। ইসলামী পরিভাষাগুলো সঠিকভাবে উচ্চারণের যোগ্যতা পর্যন্ত তাদের নেই। তারাই যখন ইসলামকে গালিগালাজ করে, ইসলাম সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য ছুড়ে দেয়, মনে হবে ইসলাম সম্পর্কে তাদের না জানি কত জানাশোনা। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে, ইসলাম সম্পর্কে তাদের ন্যূনতম ধারণাও নেই।

ইসলামে নারীর অধিকার সম্পর্কে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের স্বচ্ছ ধারণা নেই। যারা বাহ্যিকভাবে ইসলামের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তারা ভেতরে ভেতরে ভাবতে থাকেন। হয়তো ইসলাম নারীকে তার যথাযথ মর্যাদা দিতে কুণ্ঠিত হয়েছে। জানাশোনা না থাকার কারণে মনে করেন, অন্য ধর্ম বা অন্য কোন সমাজ-সংস্কৃতি হয়তো নারীকে এর চেয়ে বেশি অধিকার দিয়েছে। সেখানে হয়তো নারীরা অনেক কিছু পেয়েছে। অধিকাংশ নারীর চাপা মনোভাবও তাই। অপ্রাপ্তি ও অপূর্ণতার একটা আভাষ তাদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। এজন্য যখন কেউ তাদের হয়ে, তাদের পক্ষে কথা বলে, তারা মনে মনে ওদের প্রতি একটা দুর্বলতা পোষণ করেন। শ্লোগানধারীদের কপটতা, অভিসন্ধি ও ধূর্তামি বুঝতে না পেরে কেউ কেউ ওদের সঙ্গে সুর মেলায়।

সম্প্রতি আমাদের দেশে তথাকথিত নারী অধিকারের শ্লোগানসর্বস্ব ‘নারী নীতিমালা-২০১১’ নিয়ে অনেক তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেছে। এই অধ্যাদেশে নারীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু ফাঁকা বুলি অনেককেই মোহগ্রস্ত করেছে। কেউ কেউ এতই মুগ্ধ হয়েছেন যে, তারা তাদের ভাব ও ভাষায় প্রকাশ করতে চেষ্টা করেছেন ‘ইসলাম নারীদের যেসব ক্ষেত্রে ঠকিয়েছিল, বর্তমান সরকার সেগুলো আদায় করে দিয়ে স্মরণীয় কাজ করেছেন।’ তথাকথিত নারীবাদীরা এটি লুফে নিয়ে মাঠ গরমের অনেক কৌশলই অবলম্বন করেছে। আল্লাহর শোকর, দেশের সচেতন জনগণ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ক্ষোভ ও চাপের মুখে তা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

সাম্প্রতিক এই ইস্যু জাতীয় জীবনে আমাদেরকে ইসলামে নারী অধিকার সম্পর্কে নতুন করে ভাবনার উদ্রেক করেছে। পাশাপাশি কৌতুহলী করেছে অন্য ধর্ম, সমাজ ও সংস্কৃতি নারীদের কী দিয়েছেÑতার প্রতি। আরবীতে একটি প্রসিদ্ধ প্রবাদ আছে, ‘প্রত্যেক জিনিসই তার বিপরীতটি দ্বারা চেনা যায়।’ এজন্য ‘ইসলামে নারীদেরকে অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত করেছে’Ñতর্কের খাতিরে আপাতত বিষয়টি মেনে নিয়ে অন্য ধর্ম নারীদের কী দিয়েছে, কেমন আছেন অন্য ধর্ম, সমাজ ও সংস্কৃতির নারীরাÑএ বিষয়টির প্রতি আলোকপাত করা যেতে পারে। বিপরীত দিকটি যখন জানা যাবে তখন কাক্সিক্ষত বিষয়টি বুঝতে সহজ হবে।

দুই.
মানবসভ্যতা যেদিন থেকে শুরু, পুরুষের পাশাপাশি নারীর অস্তিত্বের সূচনাও সেদিন থেকেই। মানবসভ্যতার ক্রমধারা বিকাশের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ের গুরুত্ব সমান। উভয়ের যৌথ প্রয়াসে সচল হয়েছে পৃথিবীর গতিধারা। প্রকৃতিগত কিছু পার্থক্য বাদে নারী-পুরুষ সমান ধারায় বহমান। সে হিসেবে গুরুত্ব, অধিকার, অবস্থান তথা সামগ্রিক বিচারে পুরুষের পাশে নারীদেরও থাকার কথা। কিন্তু ইতিহাসের গতিধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নারীরা এ ক্ষেত্রে যুগে যুগে, পদে পদে হয়েছেন বঞ্চিত, উপেক্ষিত ও অপাঙ্ক্তেয়। পুরুষশাসিত সমাজ, কায়েমী স্বার্থবাদী ধর্ম ও নষ্ট সংস্কৃতি বিভিন্নভাবে হরণ করেছে তাদের অধিকার, বঞ্চিত করেছে তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে। বিশেষত যে ধর্মের উৎপত্তি মানুষের কল্যাণ ও মুক্তির জন্য, সে ধর্মগুলোই বিকৃত হয়ে সভ্যতার অপরিহার্য অংশ নারীদের ওপর চালিয়েছে অন্যায় ও অনাচারের খড়গ। পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে ভাগ্যহত নারী জাতির করুণ দুর্দশার বিরূপ একটি চিত্র আমাদের সামনে ভেসে ওঠে। ধর্মের নামে অধর্মের এই আচরণ মানব সভ্যতাকে কলুষিত করেছে।

সনাতন বা হিন্দুÑঅনেক প্রাচীন একটি ধর্ম। এর অনুসারী সংখ্যাও সুবিশাল। ধারণা করা হয়,এ ধর্মও কোনকালে আল্লাহ তাআলাকর্তৃক প্রেরিত একটি ধর্ম ছিল। কিন্তু কালক্রমে ক্ষয় হতে হতে বর্তমানে তা সবচেয়ে কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধর্মের রূপ লাভ করেছে। এ ধর্মের নারীদের যে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে তা সকল ধর্মকে হার মানিয়েছে। সতীদাহের মতো অমানবিক ও নির্মম বিধান এ ধর্মেরই উৎপত্তি। স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী বেঁঁচে থাকার আর কোন অধিকার নেই, স্বামীর সঙ্গে তাকেও জীবন্ত অগ্নিদগ্ধ করা হবে এই ছিল সতীদাহের বিধান। এ ধর্মের আইন হচ্ছে, স্বামী যত খুশি বিয়ে করতে পারবে, কিন্তু স্বামী মরে যাওয়ার পরও স্ত্রীর অধিকার নেই অন্য কোন স্বামী গ্রহণ করার। হিন্দু ধর্মের অনেক রাজা-মহারাজা অতীত হয়েছেন যাদের ভোগ্য স্ত্রী ছিল অগণিত। তালাকের মতো একটি সুন্দর মীমাংসাপদ্ধতি তাদের ধর্মের অভিধানে নেই। নারীদেরকে তারা নিছক ভোগ্যসামগ্রী ছাড়া আর কোনকিছুই মনে করতো না। নারীদের সম্পর্কে এ ধর্মের যেসব উক্তি রয়েছে তা নারীদের জন্য কোনক্রমেই শোভনীয় নয়।

সর্বোপরি হিন্দু ধর্মে নারীদের অর্থনৈতিক কোন অধিকার নেই বললেই চলে। আমাদের দেশে যারা নারী অধিকারের কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলে তারাও একই সমাজে বসবাসরত হিন্দু নারীদের অর্থনৈতিক অধিকার সম্পর্কে কোন কথা বলে না। এটা কি দাদাবাবুদের অসন্তুষ্টির ভয় নাকি অন্য কিছু! বিশ্বব্যাপী নারী প্রগতির শ্লোগান সত্ত্বেও  এখন পর্যন্ত হিন্দু ধর্মে নারীদের মূল্যায়ন মূল্যহীন ভোগ্যপণ্য হিসেবে। হিন্দু সমাজে কোন পিতা মেয়ে সন্ধান জন্ম দেয়াকে রীতিমত লজ্জার বিষয় মনে করে। কারণ মেয়েকে নিয়ে তাকে পড়তে হবে চরম বিপদে। মেয়েকে বিকাতে তার হা-পিত্যেষ অব্যস্থার সৃষ্টি হবে। অভিশপ্ত যৌতুক প্রথার উৎপত্তি হিন্দু ধর্মে এবং সেখান থেকেই আজ মুসলিম সমাজে তার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। হিন্দু অধ্যুষিত রাষ্ট্র আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বর্তমানে কন্যাভ্রুণ হত্যা করা শুরু হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে সেখানে নারীদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে সারা বিশ্বে বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী সবচেয়ে বেশি। শুধু গণচীনেই শতাধিক কোটি অনুসারীর বাস। এ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বৌদ্ধের সমাজ সংস্কারক হিসেবে বেশ খ্যাতি রয়েছে। তার অনুসৃত অনেক নীতিই মানবিকতাসংশ্লিষ্ট ও জীবকল্যাণের সহায়ক হওয়ার কারণে সারা বিশ্বে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। গৌতম বৌদ্ধ ব্যক্তিগত জীবনে শূদ্র ও শুভ্রতার পরিচয় রাখায় তার প্রতি মানুষের অনেকটা দুর্বলতা রয়েছে। কিন্তু বৌদ্ধ ধর্ম কিংবা গৌতম বৌদ্ধও নারীদের প্রতি সুবিচার করেনি। উপেক্ষা ও অবজ্ঞার অদৃশ্য এক দেয়াল দ্বারা নারীদেরকে দূরে সরে রাখা হয়েছে। তাদের প্রতি নিক্ষেপ করা হয়েছে বিরূপ মন্তব্য। গৌতম বৌদ্ধের দৃষ্টিতে ‘নারীরা পুরুষের মোক্ষ লাভের অন্তরায়, তাদের সাহচর্যে থেকে আত্মিক উন্নতি লাভ করা সম্ভব নয়।’ মানবতাবাদী হওয়া সত্ত্বেও গৌতম বৌদ্ধ নারীদেরকে অস্পৃশ্য ও উপেক্ষার বস্তু মনে করে অমানবিকতার নজীর স্থাপন করেছেন।

বর্তমানে প্রচলিত ধর্মসমূহের অন্যতম ইহুদী ধর্ম। সংখ্যা অধিক না হলেও অনেক ক্ষেত্রে এ ধর্ম বর্তমান বিশ্বে মোড়লী করছে। মূসা আ. এর আনিত ধর্মেরই বিকৃত রূপ এই ইহুদী ধর্ম। ধর্মীয়ভাবেই এখানে নারীদেরকে পণ্যসামগ্রী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আগের যুগে এ ধর্মে কন্যা শিশুদের বেচাকেনার প্রচলন ছিল। ইহুদী ধর্ম মতে নারীদের আরাম-আয়েশ, ভোগ-বিলাস কোন কিছুরই প্রয়োজন নেই। তাদের মনগড়া তাওরাতে নারীদের সম্পর্কে এমন কিছু মন্তব্য করা হয়েছে যেগুলো নারীদের জন্য চরম অবমাননাকর। এ ধর্মে বিবাহ, তালাক ইত্যাদির ক্ষেত্রে  এত অবাধ সুযোগ দেয়া হয়েছে যে, নারীদেরকে ভোগ্যপণ্য ছাড়া আর কিছুই ভাবা যায় না। ধর্মীয়ভাবে বর্তমানে ইহুদী ধর্ম ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে খৃষ্টধর্মের মধ্যে লীন হয়ে যাচ্ছে। এজন্য বর্তমানে তাদের ধর্মীয় কোন ভিতই নেই। সুতরাং ধর্মীয়ভাবে নারীদের মূল্যায়ন হবে কিভাবে?

আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে সভ্যতার দাবীদার খৃষ্টধর্মও নারীদেরকে করেছে চরম অবমূল্যায়ন। খৃষ্টানরা নারী জাতিকে পাপের প্রতীক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তারা মনে করে মা হযরত হাওয়া আ. এর ভুুলের কারণে নারীরক্তে পাপ স্থায়ীভাবে স্থান করে নিয়েছে। সেন্ট বার্নার্ড, সেন্ট সিপ্নিল, সেন্ট গ্রেগরী, সেন্ট জিরাম প্রমুখ খৃষ্টান মনীষী নারী চরিত্রের যে কলঙ্কজনক চিত্র এঁকেছেন তা নিতান্তই দুঃখজনক। তারা লিখেছেন,‘নারী শয়তানের শক্তি, অজগর সাপের মতো রক্তপিপাসু, তার মধ্যে পাপের বিষ নিহিত আছে।’ খৃষ্টান ধর্মে তালাকের কোন ব্যবস্থা নেই। নারীর কোন অর্থনৈতিক অধিকারও নেই। এমনকি বিয়ের পর নারীর সব সম্পত্তির মালিক হয়ে যায় তার স্বামী। এভাবে সভ্যতার দাবীদার খৃষ্টধর্ম নারীদেরকে করেছে নিগৃহিত ও নিষ্পেষিত।

এছাড়াও পৃথিবীতে প্রচলিত অন্যান্য সকল ধর্মের অবস্থা মোটামুটি একই। কেউই নারীকে যথাযথ মূল্যায়ন করেনি। নারীর পাওনা পরিশোধে কেউই আন্তরিকতার পরিচয় দেয়নি। শুধু ধর্মই নয় বিভিন্ন সমাজ ও সংস্কৃতিও নারী অধিকার নিষ্পেষণে কম ভূমিকা রাখেনি। ইসলামপূর্ব জাহেলী সমাজে নারীদের কী করুণ দশা ছিল তা মোটামুটি সবারই জানা। সেই সমাজে ধর্মের প্রাবল্যের চেয়ে সামাজিক অনাচারের মাত্রা ছিল চরমে। সে সময় থেকে দেড় হাজার বছর পরে এসে সভ্যতার চরম উৎকর্ষের এ যুগেও নারীরা বঞ্চিত হচ্ছেন আগের মতোই। আধুনিক সংস্কৃতির চোখ ধাঁধানো উৎকর্ষও নারীর অধিকার হরণে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। পাশ্চাত্যের সমাজ ও সংস্কৃতিই এর বড় প্রমাণ। এভাবে কোন কালে, কোন ধর্মে, কোন সমাজ-সংস্কৃতিতেই নারীরা তাদের যথাযথ মূল্যায়ন পায়নি। এজন্য ‘কেমন আছেন অন্য ধর্মের নারীরা’ সেই প্রশ্নের জবাবে বলা যায় ভালো নেই। তুলনামূলক বিচারে এখন আমরা ইসলামের দিকেই ফিরে গিয়ে দেখতে পারি ইসলামে নারীরা কেমন আছেন?

তিন.
ইসলাম নারীকে কী দিয়েছেÑএই প্রশ্ন যারা করে তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে পারি, ইসলাম নারীকে কী দেয়নি তা একটু বলুন। নারী জীবনের এমন কোন পর্যায় নেই যেখানে ইসলাম নারী অধিকার আদায়ে কার্পণ্য করেছে। ইসলামপূর্ব জাহেলী যুগে নারীরা ছিল সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত, অবহেলিত ও অধিকারহারা। সামান্য মানুষ হিসেবেও সে সময় নারীদের মূল্যায়ন করা হতো না। ইসলামের আবির্ভাবের পর নারীদের ভাগ্যাকাশে দেখা দেয় প্রজ্জ্বলিত জ্যোতি। ইসলাম দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করল নারীরাও মানুষ, তাদের অপমান সহ্য করা হবে না। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,‘তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক।’ যুগে যুগে অধিকারহারা নারীদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার দৃপ্ত ঘোষণার মধ্যদিয়ে যাত্রা করে ইসলাম। পূর্ববর্তীরা কোন কোন ক্ষেত্রে নারীদের অবজ্ঞা ও অধিকারহারা করেছে সেগুলো খুঁজে খুঁজে ইসলাম তাদের অধিকার নিশ্চিত করেছে। পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, অর্থনৈতিক সর্বক্ষেত্রে ইসলাম নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে।

ইসলাম নারীকে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা দিয়েছে মা হিসেবে। রাসূল সা. বলেন, ‘মায়ের পায়ের তলে সন্তানের বেহেশত।’ সদ্ব্যবহার পাওয়ার অধিক হকদার কে এর জবাবে রাসূল সা. বারবার মায়ের কথা উল্লেখ করেছেন। ইসলামপূর্ব যুগে কন্যা হিসেবে নারী ছিল অবজ্ঞা ও অবহেলার পাত্র। ইসলাম বলেছে, যে ব্যক্তি তিনটি কন্যা বা তিনজন বোনকে প্রতিপালন করে তাদেরকে ইসলামী আদব-কায়দা শিক্ষা দিবে এবং তাদের প্রতি স্নেহ-মমতা প্রদর্শন করবে, তাদের বিয়ে দিয়ে আত্মনির্ভরশীলা করে দিবে, সে ব্যক্তির জন্য বেহেশত নির্ধারিত আছে। স্ত্রী হিসেবে নারীকে ইসলাম দিয়েছে অনন্য মর্যাদা ও সম্মান। রাসূল সা. স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, তোমাদের মধ্যে যারা নিজের স্ত্রীর কাছে ভালো তারা ইসলামের কাছেও ভালো। আমি আমার স্ত্রীদের কাছে ভালো ব্যক্তি।’ দাম্পত্য জীবনে স্বামীর সহযোগী ও পরিপূরক হিসেবে নারীর মর্যাদা দেয়া হয়েছে।

সামাজিক পরিমণ্ডলে নারী তার ইজ্জত-আব্রু ও সম্ভ্রম নিয়ে বাস করার যাবতীয় ব্যবস্থা ইসলাম করে দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নারী তার মেধা ও শ্রম দিয়ে আপন ভুবনে রাখতে পারে ঈর্ষণীয় ভূমিকা। অর্থনৈতিক অধিকার আদায়ে ইসলাম নারীদের পক্ষে যে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে তার কোন নজীর আর কোন ধর্ম, সমাজ ও সংস্কৃতিতে নেই। পিতার সম্পদ থেকে নারী যেমন তাদের অংশ পাবে তেমনি স্বামীর সম্পদেও রয়েছে তার নির্দিষ্ট অংশ। ব্যয়ের কোন খাত ইসলাম নারীর কাঁধে চাপিয়ে দেয়নি। পারিবারিক অঙ্গনে নারীই হতে মূল চালিকা শক্তি, পুরুষের প্রেরণার উৎস। মানুষ হিসেবে একজনের যা চাহিদা ও প্রাপ্য হতে পারে এর কোনটিই এড়িয়ে যায়নি ইসলাম। প্রকৃত ইসলামী ব্যবস্থায় কোন নারী আজ পর্যন্ত দাবী করতে পারবে না যে, সে তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। টুকটাক যে সমস্যা হচ্ছে তা প্রকৃত ইসলামী ব্যবস্থাপনার অনুপস্থিতির কারণেই হচ্ছে।

সুতরাং সার্বিক দিক বিবেচনা করে, বাস্তবতাকে গায়ে ঠেলে ফেলে না দিয়ে সকলকে একথা মেনে নেয়া ছাড়া গত্যান্তর নেই যে, নারী অধিকার আদায়ে একমাত্র ইসলামই সফল ও শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। ইসলামই পারে গর্ব করে বলতে,

‘নারীরা এখানে যেমন আছে, অন্য কোন ধর্মে তেমন নেই।’

মতামত দিন