আক্বীদা হাদীস

হাদিসে জিবরাঈলের তাফসীর

উমার বিন আল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ একদিন আমরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে বসে ছিলাম, তখন আমাদের সামনে এক ব্যক্তি উপস্থিত হল যিনি অত্যন্ত সাদা কাপড় পরিহিত ছিলেন, তার চুল ছিল প্রচণ্ড কালো। তার মধ্যে সফরের কোন চিহ্ন দেখা যাচ্ছিলো না এবং আমাদের কেউই তাকে চিনতাম না।
তিনি অগ্রসর হয়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সামনে এসে নিজের দুই হাঁটু রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দুই হাঁটুর সাথে মিলিয়ে দিলেন এবং নিজের দুই হাত নিজের নিজের দুই উরুর উপর রাখলেন আর বললেন, “হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম), আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন।” রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “ইসলাম (অর্থাৎ এর স্তম্ভ) হল এই যে –

(১) আপনি সাক্ষ্য দিবেন যে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই (তিনি ছাড়া কোন উপাস্য ও আনুগত্য করার যোগ্য নেই) এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) তার রসুল,
(২) সালাত কায়েম করবেন,
(৩) যাকাত আদায় করবেন,
(৪) রামাদান মাসের সিয়াম পালন করবেন এবং
(৫) আল্লাহ্‌র ঘরে হজ করার সামর্থ্য থাকলে হজ পালন করবেন।” প্রশ্নকারী বললেন, “আপনি সত্য বলেছেন।”
উমার বিন আল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, “এই নবাগত ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করতে ও উত্তরকে সত্য ও সঠিক বলে ঘোষণা করতে দেখে আমরা খুবই অবাক হলাম।”
সেই ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, “আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন।” রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) জবাব দিলেন, “ঈমান হল এই যে, আপনি আল্লাহ্‌কে, তার ফেরেশতাদেরকে, তার কিতাবসমুহকে, নবী রসুলদেরকে ও বিচার দিবসকে সত্য বলে বিশ্বাস করবেন এবং তাকদীরকে বিশ্বাস করবেন – তা ভালো বা মন্দ হোক।” সে ব্যক্তি বললেন, “আপনি সত্য বলেছেন।”
এরপর সেই ব্যক্তি আবার জিজ্ঞেস করলেন, “আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন।” রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “ইহসান হল এটি যে, আপনি এমনভাবে আল্লাহ্‌র ইবাদাহ করবেন যেন আপনি তাকে দেখতে পাচ্ছেন, যদিও আপনি আপনি তাকে (দুনিয়াতে) দেখতে পাবেন না তবে (জেনে রাখুন) তিনি আপনাকে দেখছেন।”
সেই ব্যক্তি এবার জানতে চাইলেন, “কিয়ামত কবে হবে আমাকে সে সম্পর্কে বলুন।” রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞাসাকারী অপেক্ষা বেশী জানে না।”
সেই ব্যক্তি এরপর বললেন, “আমাকে আপনি এর কিছু নিদর্শন বলুন।” রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “দাসী তার নিজের কর্ত্রী (অথবা কর্তা) কে জন্ম দিবে, এবং আপনি দেখবেন যে নগ্নপদ বিশিষ্ট নিঃস্ব ছাগলের রাখালেরা একে অপরের সাথে বিশাল বিশাল বিল্ডিং তৈরিতে প্রতিযোগিতা করবে।”
বর্ণনাকারী (উমার বিন আল খাত্তাব) বলেন, “এরপর সে (জিজ্ঞাসাকারী ব্যক্তি) তার পথে চলে গেল কিন্তু আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে অনেকক্ষণ ধরে অবস্থান করলাম।”
পরে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, “উমার, তুমি কি জান জিজ্ঞাসাকারী ব্যক্তিটি কে ছিলেন ?” আমি জবাব দিলাম, “আল্লাহ এবং তার রসুল (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) ই সবচেয়ে ভাল জানেন।”
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “তিনি ছিলেন জিব্রাইল। তিনি তোমাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য তোমাদের কাছে এসেছিলেন।” (মুসলিম – কিতাবুল ঈমান, হাদিস ১/৮)
উপরোক্ত হাদিসটি শুধুমাত্র মুসলিমেই বর্ণিত আছে। তবে আবু হুরায়রা (রাঃ) এর বর্ণনাটি বুখারী ও মুসলিম উভয় কিতাবেই বর্ণিত আছে যা নিন্মরুপঃ
একদিন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে তার সাহাবারা বসে ছিলেন এমন সময় এক ব্যক্তি তার কাছে আসলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, “ঈমান কি ?” রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “ঈমান হল এটা যে আপনি বিশ্বাস স্থাপন করবেন আল্লাহ, তার ফেরেশতাগণ, তার কিতাবসমূহ, তার সাথে সাক্ষাত, তার নবী রসুলগণ এবং পরকালে পুনরুত্থানের উপর।”
সে ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, “ইসলাম কি ?” রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “ইসলাম হল এটাই যে আপনি আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদাহ করবেন না, সালাত কায়েম করবেন, যাকাত আদায় করবেন এবং রামাদান মাসে সিয়াম পালন করবেন।”
সে ব্যক্তি এরপর জিজ্ঞেস করলেন, “ইহসান কি ?” রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “ইহসান হল এটি যে, আপনি এমনভাবে আল্লাহ্‌র ইবাদাহ করবেন যেন আপনি তাকে দেখতে পাচ্ছেন, যদিও আপনি তাকে (দুনিয়াতে) দেখতে পাবেন না তবে (জেনে রাখুন) তিনি আপনাকে দেখছেন।”
সেই ব্যক্তি এবার জানতে চাইলেন, “কিয়ামত কবে হবে আমাকে সে সম্পর্কে বলুন।” রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞাসাকারী অপেক্ষা বেশী জানে না। তবে আমি আপনাকে এর নিদর্শনগুলো বলতে পারি। এর একটি নিদর্শন হল এই যে দাসী তার নিজের কর্ত্রী (অথবা কর্তা) কে জন্ম দিবে। এর আরেকটি নিদর্শন হল, যখন আপনি দেখবেন নগ্নপদ বিশিষ্ট লোকেরা জনগনের নেতা হবে এবং যখন কালো উটের রাখালেরা গর্ব-অহংকার আর একে অপরের সাথে সুদীর্ঘ বিল্ডিং নির্মাণে প্রতিযোগিতা শুরু করবে, এটি কিয়ামতের অন্যতম লক্ষন। এবং কেয়ামতের সময়ের ব্যাপারে জ্ঞান হল সেই পাঁচটি বিষয়ের একটি যার ব্যাপারে কেবল আল্লাহ ছাড়া আর কেউই জানে না।”
এরপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) তিলাওয়াত করলেনঃ
“নিঃসন্দেহে কেবল আল্লাহ্‌রই কেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞান রয়েছে, তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনি তা জানেন যা জরায়ুতে আছে, কেউই বলতে পারে না আগামীকাল সে কি অর্জন করবে, না কেউ জানে যে কোন স্থানে সে মৃত্যুবরণ করবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সবই জানেন, তিনি সব বিষয়ে পরিপূর্ণভাবে অবগত।” {সূরা লুকমান, ৩১ : ৩৪}
এরপর সেই জিজ্ঞাসাকারী ব্যক্তি চলে গেল এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন (তার সাহাবীদেরকে), “সেই ব্যক্তিকে আমার কাছে নিয়ে এসো।”
কিন্তু যখন তারা সেই ব্যক্তিকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে ফিরিয়ে আনার জন্য গেলেন তখন তারা সেই ব্যক্তির কোন চিহ্ন পেলেন না।
এরপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “তিনি ছিলেন জিব্রাইল। তিনি লোকদেরকে তাদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য এসেছিলেন।” (বুখারি – কিতাবুল ঈমান, হাদিস নং ৫০; মুসলিম – কিতাবুল ঈমান, হাদিস নং ৫/৯)
এই হাদিসের গুরুত্ব
এই হাদিসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই হাদিসটি হল দ্বীনের প্রত্যেক বিশেষ অংশের একটি ব্যাপক ব্যাখ্যা। ইসলাম, ঈমান ও ইহসানের তিনটি লেভেল ব্যাখ্যার পর তিনি (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সবগুলোকে একত্রে একটি একক দ্বীন হিসেবে হাদিসের শেষে এই বলে উল্লেখ করেছেন – “ইনি ছিলেন জিব্রাইল, যিনি তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিখাতে এসেছিলেন।”
এভাবে এই হাদিসটিতে ইসলামিক জ্ঞান বিজ্ঞানের সমস্ত শাখা অন্তর্ভুক্ত হল যেমনি করে এটি ফিকহ,আকিদাহ, যুহদ, আত্মা কোমলকারী বিষয়, সৎ আমল এবং ইসলামিক জ্ঞান – এসবের মৌলিক বিষয়ও ঘিরে রেখেছে।
ইসলামের অর্থ
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) ইসলামকে ব্যাখ্যা করেছেন শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ দ্বারা সম্পাদিত বাহ্যিক কর্মকে অর্থাৎ কথা ও আমলকে। এসব কর্মের প্রথমটি হল মৌখিক – আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন আল্লাহ্‌র রাসুল এটা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করা। এই ঘোষণার দেওয়ার পর একজন মুসলিমের উপর যা করা ফরয তা হল সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, রামাদানে সিয়াম পালন করা এবং সামর্থ্য থাকলে হজ করা।
ইসলামকে প্রদত্ত শ্রেণীগুলোতে ভাগ করা হয়েছেঃ
(১) শরীরের আমল (সালাত ও সিয়াম),
(২) আর্থিক আমল (যাকাত আদায় করা),
(৩) উপরোক্ত দুটি মাধ্যমের সম্মিলিত আমল (হজ পালন করা)।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদিস – “একজন মুসলিম তো সে, যে অন্য মুসলিমদের জিহ্বা (মুখের কথা) বা হাত দিয়ে ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকে” (বুখারি – কিতাবুল ইমান, হাদিস নং ১০; মুসলিম – কিতাবুল ইমান, হাদিস নং ৪০/৬৪) – এটা ইঙ্গিত করে যে সব বাহ্যিক আমলই ইসলামের শ্রেণীর অধীনে অন্তর্ভুক্ত।
আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করলো, “ইসলামে কোন ধরনের (অথবা কোন গুণসম্পন্ন) আমল উত্তম ?” রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “দরিদ্র লোকদের খাবার খাওয়ানো এবং পরিচিত ও অপরিচিত ব্যক্তিদের সালাম দেওয়া।” (বুখারি – কিতাবুল ইমান, হাদিস নং ১২; মুসলিম – কিতাবুল ইমান, হাদিস নং ৩৯/৬৩)
একইভাবে, নিষিদ্ধ কাজগুলো ছেড়ে দেওয়াও ইসলামের শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত, যেমন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “ব্যক্তি পর্যায়ে ইসলামের সর্বোত্তম বৈশিস্টগুলোর একটি হল যা তার সম্পর্কিত নয়,তা পরিত্যাগ করা।” (তিরমিযি – কিতাবুল যুহদ, হাদিস ২৩১৭; ইবন মাজাহ – কিতাবুল ফিকহ, হাদিস ৩৯৭৬)
নাওাস বিন সাম’আন থেকে বর্ণিত আছে যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহ সরল পথের যে উপমা দেখিয়েছেন তা হল এটি দুই পাশের দেয়াল দ্বারা ঘেরা রয়েছে। দেয়ালগুলোর সম্মুখে রয়েছে উন্মুক্ত দরজা যেখানে পর্দা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। প্রবেশপথে রয়েছে এক আহবানকারী যে বলে, ‘হে লোকসকল, তোমরা সবাই এই পথে প্রবেশ করো এবং বিপথে যেয়ো না।’ সেই পথের ভিতরে রয়েছে আরেকজন আহ্বানকারী যে সবাইকে (যারা অন্য কোন দরজা খুলতে চায়) আহবান করে, ‘তোমাদের উপর দুঃখ আপতিত হোক, এই দরজা খুলবে না!’ এটি হল ইসলামের পথ, এবং দেয়ালগুলো হল আল্লাহ্‌র বেঁধে দেওয়া সীমারেখা। উন্মুক্ত দরজাগুলো হল সেগুলো যেগুলোকে আল্লাহ হারাম করেছে এবং পথের প্রবেশপথের আহ্বানকারী হল আল্লাহ্‌র কিতাব আর ভিতরের পথের আহ্বানকারী হল আল্লাহ্‌র দেওয়া উপদেশ যা প্রত্যেক মুসলিমের অন্তরে থাকে।” (মুসনাদে আহমাদ – ৪/১৮২,১৮৩; তিরমিযি – কিতাবুল আমসাল, ২৮৫৯; নাসাঈ’র আল কুবরা কিতাব – কিতাবুত তাফসীর, ১১২৩৩)
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) ইসলামের সরল পথের এই উপমাবিশিস্ট পথ প্রদর্শন করে গেছেন যার ব্যাপারে আল্লাহ আমাদের আদেশ দিয়েছেন দৃঢ় থাকার জন্য এবং নিষেধ করেছেন যেন এর সীমার বাইরে না যাওয়া হয়, যে ব্যক্তি কোন নিষিদ্ধ কাজ করলো সে যেন আল্লাহ্‌র বেঁধে দেওয়া সীমা অতিক্রম করলো।
ঈমানের অর্থ
এই হাদিসে এটি বলার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈমানকে সংজ্ঞায়িত করেছেন আন্তরিক বিশ্বাস হিসেবে – “ঈমান হল আল্লাহ্‌কে, তার ফেরেশতাদেরকে, কিতাবসমুহকে, নবী রাসুলদেরকে, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানকে এবং প্রত্যেক ভাল মন্দ সম্পর্কে তাকদীরকে সত্য বলে বিশ্বাস করা।”
এই পাঁচটি বিষয়ের উপর ঈমান আনার ব্যাপারে আল্লাহ কুরআনের বিভিন্ন অংশে উল্লেখ করেছেন, যেমনঃ
“রাসুল সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছে যা তার উপর তার রবের পক্ষ থেকে নাযিল করা হয়েছে, আর মুমিনরাও (ঈমান এনেছে); তারা সবাই ঈমান এনেছে আল্লাহ্‌র উপর, তার ফেরেশতাদের উপর, তার কিতাবসমুহের উপর, তার রাসুলদের উপর। …..” {সূরা আল বাকারাহ, ২ : ২৮৫}
“….. বরং সৎ কাজ হল এই যে, মানুষ ঈমান আনবে আল্লাহ্‌র উপর, কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর, আল্লাহ্‌র কিতাবের উপর, নবীদের উপর ……” {সূরা আল বাকারাহ, ২ : ১৭৭}
“যারা *গায়ব এর প্রতি ঈমান আনে এবং সালাত কায়েম করে এবং তাদের রিযক থেকে (তাদের যা দান করা হয়েছে) তারা (আমার নির্দেশিত পথে) ব্যয় করে” {সূরা আল বাকারাহ, ২ : ৩}
[* আল গায়বঃ এর আক্ষরিক অর্থ হল যা দেখতে পাওয়া যায় না। কিন্তু এই শব্দটি আরও ব্যাপক অর্থ বহন করে – আল্লাহ্‌কে, ফেরেশতাদেরকে, তার কিতাবসমুহকে, তার নবী রাসুলদেরকে, পুনরুত্থান দিবসকে এবং আল কদর (ভাগ্য) কে বিশ্বাস করা। এর অর্থ গুলোর মধ্যে এটিও অন্তর্ভুক্ত – যা আল্লাহ ও তার রাসুল অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের জ্ঞান সম্পর্কে মানুষদের জানিয়েছেন, যেমন, আসমান ও দুনিয়ার সৃষ্টি সম্পর্কে, উদ্ভিদ ও প্রানিদের জীবন সম্পর্কে, পূর্ববর্তী জাতিদের ঘটনা এবং বেহেশত ও দোযখ। ]
নবী রাসুলদের উপর ঈমান আনার ফলে অপরিহার্য হয়ে পড়ে সেসব কিছুর উপর ঈমান আনা যা তারা প্রচার করতে আদিস্ট হয়েছিলেন। এটি অন্তর্ভুক্ত করে ফেরেশতাদের উপর, নবী রাসুলদের উপর, কিতাবের উপর (আল কুরআন), পুনরুত্থানের উপর, তাকদিরের উপর, আল্লাহ্‌র গুণাবলীর উপর, বিচার দিবসের উপর, *আস সিরাত এর উপর, আমল পরিমাপের মাপকের উপর এবং বেহেশত ও দোযখের উপর ঈমান আনা।
[* আস সিরাতঃ এটি হল একটি সেতু যেটা প্রত্যেক ব্যক্তিকে পাড়ি দিতে হবে। চুলের চেয়েও সুক্ষ এই সেতুটি থাকবে জাহান্নামের উপর এবং এর দ্বিতীয় প্রান্ত বেহেশত পর্যন্ত থাকবে। যারা (মুমিন বান্দারা) সফলভাবে (তাদের বিভিন্ন গতি থাকবে আমল অনুসারে) এই ভয়ংকর সেতু পাড়ি দিতে পারবে তারা বেহেশতে প্রবেশ করবে আর যারা পারবে না (পাপের কারনে) তারা জাহান্নামে পতিত হবে। ]
প্রত্যেক ভাল মন্দ সম্পর্কে তাকদীরকে সত্য বলে বিশ্বাস করাটাও ঈমানের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এটি ইবন উমার (রাঃ) এই হাদিসটির উপর ভিত্তি করে জানা যায়, যেখানে তিনি যারা তাকদির এর বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে তাদের ব্যাপারে বলেছেন, হাদিসটি হলঃ
ইয়াহইয়া বিন ইয়া’মুর (রাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি আল-কদরের ব্যাপারে প্রথম কথা বলেছিল সে ছিল বসরার লোক মা’বাদ আল জুহানি। আমি (ইয়াহইয়া) আর হুমাইদ বিন আব্দুর রহমান আল হিমাইরি হজ বা উমরা করার জন্য বের হয়ে পড়েছিলাম এবং বললাম, ‘যদি এমনটি ঘটে যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কোন এক সাহাবীর সাথে আমাদের সাক্ষাত লাভ হয়, তবে আমরা তাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করবো যে তারা (সাহাবীরা) তাকদিরের ব্যাপারে কি বলেন।’ অপ্রত্যাশিতভাবে আমাদের সাথে আবদুল্লাহ বিন উমার বিন আল খাত্তাব (রাঃ) এর সাথে দেখা হয়ে গেল, যখন তিনি মাসজিদে প্রবেশ করছিলেন। আমার সাথী আর আমি তার কাছে গেলাম। আমাদের মধ্যে একজন তার ডানে এবং অপরজন তার বামে দাঁড়ালো। আমি আশা করেছিলাম যে আমার সাথী আমাকে কথা বলার অনুমতি দিবে। তাই আমি বললাম, ‘হে আবু আবদুর রহমান (আবদুল্লাহ বিন উমার), আমাদের দেশে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব হয়েছে যারা পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করে এবং জ্ঞান অন্বেষণ করে।’ এরপর তাদের সম্পর্কে ব্যাখ্যা করার পর আমি বললাম, ‘তারা দাবী করে যে আল-কদর বলতে কিছুই নেই এবং কোন কিছুই পূর্বে লিপিবদ্ধ করে রাখা হয় নি।’ তিনি (আবদুল্লাহ বিন উমার) বললেন, ‘তোমার সাথে যদি সেই লোকগুলোর দেখা হয় তবে তুমি তাদের বলবে যে আমার তাদের ব্যাপারে করার কিছু নেই এবং তাদেরও আমার ব্যাপারে করার কিছু নেই।’ আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) আল্লাহ্‌র নামে শপথ করে বললেন, ‘যদি তাদের (যারা আল-কদরে ঈমান আনে না) কেউ তার কাছে থাকা উহুদ পাহাড়ের সমান স্বর্ণ (আল্লাহ্‌র পথে) ব্যয় করে, আল্লাহ এটা গ্রহণ করবেন না যদি না সে আল-কদরের ব্যাপারে তার ঈমানের সত্যতা ঘোষণা করে।’ ” (মুসলিম – কিতাবুল ঈমান, হাদিস ১/৮)
ঈমানের শ্রেণীবিভাগের মধ্যে আমলও অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ কুরআনে বলেছেনঃ
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ
الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ
أُولَٰئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا ۚ لَّهُمْ دَرَجَاتٌ عِندَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ
“মুমিন তো হল সেসব লোক, (যাদের) আল্লাহ তা’আলাকে স্মরণ করানো হলে তাদের হৃদয় কম্পিত হয়ে উঠে এবং যখন তাদের সামনে তার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং তারা (সব সময়) তাদের মালিকের উপর নির্ভর করে। যারা সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যা কিছু (অর্থ সম্পদ) দান করেছি তা থেকে তারা (আমার পথে) খরচ করে। (মুলত) এ (গুণসম্পন্ন) লোকগুলোই হল সত্যিকারের মু্মিন, তাদের রবের কাছ তাদের জন্য রয়েছে (বিপুল) মর্যাদা, ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা (-র ব্যবস্থা)।” {সূরা আল আনফাল, ৮ : ২-৪}
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) আবদুল কায়েস গোত্র থেকে আসা এক প্রতিনিধিকে বলেছিলেন, “আমি তোমাকে চারটি কাজ করতে আদেশ দিচ্ছিঃ এক আল্লাহ্‌র উপর ঈমান আনবে । তুমি কি জান এক আল্লাহ্‌র উপর ঈমান আনা বলতে কি বুঝায় ? এটি বুঝায় এই ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান যে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া এমন কারো অধিকার নেই যে তার ইবাদাহ করা যাবে এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ্‌র রাসুল এবং সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, রামাদানের সিয়াম পালন করা এবং আল খুমুস (গনিমতের পাঁচ ভাগের এক অংশ যা তোমার অংশে পড়ে) এর অর্থ প্রদান করা।” (বুখারি – কিতাবুল ঈমান, হাদিস ৫৩; মুসলিম – কিতাবুল ঈমান, হাদিস – ১৭/২৩)
আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “ঈমানের রয়েছে ষাট অথবা সত্তরটির কিছু বেশী সংখ্যক শাখা, এদের মধ্যে সর্বোত্তম হল এটা ঘোষণা দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, এবং এদের মধ্যে সবার নিচে যেটা রয়েছে সেটা হল পথ থেকে ক্ষতিকর কিছু সরিয়ে ফেলা; আর লজ্জাশীলতা হল ঈমানের একটি শাখা।” (বুখারি – কিতাবুল ঈমান, হাদিস ৯; মুসলিম – কিতাবুল ঈমান, ৩৫/৫৮)
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত আছে যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “একজন ব্যভিচারী ব্যাভিচারের সময় ইমানদার থাকে না, এবং একজন চোর চুরি করার সময় ইমানদার থাকে না, এবং একজন ব্যক্তি মদপান করার সময় ইমানদার থাকে না।” (বুখারি – কিতাবুল মাযালিম, হাদিস ২৪৭৫; মুসলিম – কিতাবুল ঈমান, হাদিস ৫৭/১০০)
এভাবে, এই বড় গুনাহগুলো ছেড়ে দেওয়া যদি ঈমানের কোন অংশ না হতো, যে এই পাপগুলোর কোন একটি করে, সে ব্যক্তির ব্যাপারে ‘ইমানদার’ পরিভাষাটি অস্বীকার করা হতো না। কারন ‘ইমানদার’ পরিভাষাটি অস্বীকার করা হবে না যদি না এই পরিভাষার স্তম্ভ অথবা ফরয অস্বীকার করা হয়।
ঈমান ও ইসলামের পার্থক্য
ঈমান ও ইসলামের পার্থক্য এটা যে – ঈমান হল বিশ্বাস, স্বীকারোক্তি এবং অন্তর সম্পর্কিত জ্ঞান, এটি হল আল্লাহ্‌র কাছে তার দাসের নিজেকে উপস্থাপন করা, তার প্রতি নম্রতা প্রদর্শন করা আর তার কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণ করা। এভাবে ইসলাম হল আমল বা কর্ম (অপরপক্ষে, বিশ্বাস ও জ্ঞান)।
এটি হল সেই আমল যাকে আল্লাহ কুরআনে “আদ দ্বীন” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অপরদিকে হাদিসে জিব্রাইল এ দেখা যায়, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) দ্বীন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইসলাম, ঈমান ও ইহসান কে।
এ থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, যদি এই দুই টার্ম এর কোন একটি টার্ম যদি ব্যাবহার করা হয় তবে অপর টার্মের অর্থও গৃহীত টার্মের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কিন্তু যখন একটির সাথে অপরটির তুলনা করা হয়, যেক্ষেত্রে ঈমানের সংজ্ঞা হল অন্তরের বিশ্বাসের একটি শ্রেণীভুক্ত এবং ইসলাম হল আমলের শ্রেণীভুক্ত; সেক্ষেত্রে তফাৎ দেখা যায়।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) মৃত ব্যক্তির জানাযার সালাতে দুয়া করতেন, “হে আল্লাহ, আপনি আমাদের যাকে জীবিত রাখেন, তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখুন এবং আমাদের যাকে মৃত্যু দেন, তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দেন।” (মুসনাদে আহমাদ – খণ্ড ২, হাদিস ৩৬৮; আবু দাউদ – কিতাবুল জানাইয, হাদিস ৩২০১; তিরমিযি – কিতাবুল জানাইয, হাদিস ১০২৩; ইবন মাজাহ – কিতাবুল জানাইয, হাদিস ১৪৯৮; সবকটি হাদিসই আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত হয়েছে)
কারন মানুষ অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করতে পারে কেবল এই দুনিয়ার জীবনেই, পক্ষান্তরে, মৃত্যুর সময় অন্তরের ঈমান ছাড়া আর কিছুই থাকে না।
এই পয়েন্ট থেকে নির্ভরযোগ্য আলিমরা বলেছেন, “সকল মুমিনই মুসলিম। যারা ঈমান এনেছে এবং তা হৃদয়ে দৃঢ়ভাবে বসিয়ে নিয়েছে, যা তাদেরকে দ্বীন ইসলামের আমলগুলো করতে উদ্বুদ্ধ করে।”
এটা তা-ই, যেমনটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “সাবধান! শরীরে এমন এক টুকরো মাংস রয়েছে তা যদি ভালভাবে সংশোধন করা হয় তবে পুরো শরীর ভাল হয়ে যাবে, কিন্তু যদি এটি বিনস্ট হয় তবে পুরো শরীরই বিনস্ট হয়ে যাবে; আর এটি হল অন্তর।”
এভাবে, যদি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ইসলামের আমল অনুসরন না করে তবে অন্তর ঈমান অর্জন করবে না। তবে প্রত্যেক মুসলিমই মুমিন নয়। কারন তার ঈমান দুর্বল অথবা পূর্ণ ঈমান অর্জন করতে পারে নি তার শরীরের অঙ্গের দ্বারা ইসলামের আমলগুলোর পারফরম্যান্স সত্তেও। এক্ষেত্রে সে একজন মুসলিম তবে পূর্ণ ঈমান বিশিস্ট মুমিন নয়। এটি ঠিক তেমন, যেমনটি আল্লাহ বলেছেন,
“বেদুইনরা বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’। তুমি বল, ‘না, তোমরা (সঠিক অর্থে এখনও) ঈমান আনোনি, তোমরা (বরং) বল – আমরা (ইসলামে) আত্মসমর্পণ করলাম’, কারন তোমাদের অন্তরে এখনও (যথার্থ) ঈমান প্রবেশ করেনি …” {সূরা আল হুজুরাত, ৪৯ : ১৪}
এভাবেই, কুরআনের বেশীরভাগ সঠিক তাফসিরকারকদের মতে, বেদুইনেরা পুরোপুরিভাবে মুনাফিক নয়, বরং তাদের ঈমান দুর্বল। এটি ইবন আব্বাস ও অন্যান্যদের মতামত। আর এই বিষয়টি আল্লাহ্‌র এই আয়াত দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছেঃ
“এবং তোমরা যদি সত্যিই আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য করো, তবে আল্লাহ তোমাদের কর্মফলের সামান্য পরিমাণও কমিয়ে দেবেন না, নিঃসন্দেহে আল্লাহ বারবার ক্ষমাকারী ও পরম করুণাময়।” {সূরা আল হুজুরাত, ৪৯ : ১৪}
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদিসঃ “তার পুরষ্কারের কিছুই কমানো হবে না”
এটা স্পষ্ট হল যে, সেই বেদুইনদের কিছু পরিমাণ ঈমান ছিল যার কারনে তাদের আমল গ্রহণযোগ্য ছিল।
একইভাবে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সেই হাদিস – যখন সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করলেন, “ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম), অমুক ব্যক্তিকে আপনি দান করলেন না কেন ? সে তো একজন মুমিন।” রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “নাকি মুসলিম ?” …….. (বুখারি – কিতাবুল ঈমান, হাদিস ২৭; মুসলিম – কিতাবুল ঈমান, হাদিস ১৫০)
এই হাদিসটি ইঙ্গিত করে যে সে ব্যক্তি (যাকে দান করা হয়েছিলো) ঈমানের সেই লেভেলে পৌঁছায় নি। বাহ্যিকভাবে যেটা অনুসারে বিচার করা হয়েছিলো তা হচ্ছে যে ব্যক্তিকে দান করা হয় নি সে ইসলামের লেভেলে ছিল।
কোনও সন্দেহ নেই যে যখন অভ্যন্তরীণভাবে ঈমান দুর্বল হয়ে যায়, এর ফলে শরীরের অঙ্গ দ্বারা সংঘটিত বাহ্যিক আমলগুলো দুর্বল হতে থাকে। ফরয আমল উপেক্ষা করার মাধ্যমে কোন ব্যক্তির ঈমান বাতিল হয়ে যায়। যেমনটি এই হাদিসে বলা আছে – “ব্যাভিচারের সময় ব্যাভিচারকারী ইমানদার থাকে না।” (বুখারি – কিতাবুল মাযালিম, হাদিস ২৪৭৫; মুসলিম – কিতাবুল ঈমান, হাদিস – ৫৭/১০০)
ইহসানের অর্থ
কুরআনের বিভিন্ন স্থানে ইহসানের উল্লেখ করা আছে – কখনো ঈমানের সাথে ইহসান এক সাথে উল্লেখ করা আছে, আবার কোথাও ইসলাম, তাকওয়া অথবা সৎ আমলের সাথে এর উল্লেখ আছে।
ইহসান ও ঈমান একসাথে কুরআনে উল্লেখ আছে, যেমনঃ
“যারা ঈমান এনেছে এবং সৎ কর্ম করেছে, (এ নিষেধাজ্ঞা জারির আগে) তারা যা কিছু খেয়েছে তার জন্য তাদের উপর কোন গুনাহ নেই, যদি তারা আল্লাহ্‌কে ভয় করে (তার নিষিদ্ধ ঘোষিত আমল থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে) আর ঈমান আনে ও সৎ কর্ম করে, অতপর তাকওয়া অবলম্বন করে করে আর ঈমান আনে, অতঃপর তাকওয়া অবলম্বন করে এবং সৎ কর্ম করতে থাকে, এবং আল্লাহ মুহসিন (সৎকর্মশীল) লোকদের ভালবাসেন।” {সূরা আল মাইদাহ, ৫ : ৯৩}
“নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ্‌র উপর ঈমান এনেছে এবং সৎ কর্ম করেছে (তাদের কোন আশংকা নেই), যারা সৎ কর্ম করে আমি কখনো তাদের বিনিময় নস্ট করি না।” {সূরা আল কাহফ, ১৮ : ৩০}
ইহসানের সাথে ইসলামের উল্লেখ রয়েছে এমন কিছু আয়াতঃ
“যে ব্যক্তিই (আল্লাহ্‌র সামনে) নিজের সত্তাকে সমর্পণ করে দিবে এবং সে হবে অবশ্যই একজন মুহসিন ব্যক্তি, তার জন্য তার মালিকের কাছে (এর) বিনিময় আছে, তাদের কোন ভয় নেই আর না তারা (সেদিন) চিন্তিতও হবে।” {সূরা আল বাকারাহ, ২ : ১১২}
“যদি কোন মুহসিন ব্যক্তি আল্লাহ্‌র কাছে নিজেকে (সম্পূর্ণ) সমর্পণ করে দেয়, সে (এর দ্বারা) একটি মযবুত হাতল ধরেছে, এবং যাবতীয় কাজকর্মের চূড়ান্ত পরিণাম আল্লাহ্‌র কাছে।” {সূরা লুকমান, ৩১ : ২২}
ইহসানের সাথে তাকওয়ার উল্লেখ রয়েছেঃ
“নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাদের সাথে আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা মুহসিন।” {সূরা আল নাহল, ১৬ : ১২৮}
ইহসানকে এককভাবেও কুরআনে উল্লেখ করা আছেঃ
“যারা সৎ কর্ম করেছে তাদের জন্য থাকবে উত্তম পুরস্কার (জান্নাত) এবং এর থেকেও বেশী (অর্থাৎ, আল্লাহ্‌র পবিত্র চেহারা দেখার এক বিরাট সম্মান)।” {সূরা ইউনুস, ১০ : ২৬}
সহিহ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) উপরোক্ত আয়াতের “এর থেকেও বেশী” এর তাফসীর করেছেন যে এ দ্বারা বুঝানো হচ্ছে জান্নাতে আল্লাহ্‌র পবিত্র চেহারা দেখতে পাওয়া। (এই হাদিসটি রয়েছে এখানেঃ মুসলিম – কিতাবুল ঈমান, ১৮১/২৯৮; মুসনাদে আহমাদ – ৪/৩৩২,৩৩৩)
আল্লাহ্‌র পবিত্র চেহারা দেখার এই মর্যাদা পাবে মুহসিন ব্যক্তিরা। এই বিরাট সম্মানজনক পুরষ্কারের কারন হল, ইহসান হল মুমিন বান্দার তার রবের প্রতি এমন এক ইবাদাহ যেন তার রব তার সামনেই উপস্থিত আছেন। সে তার রবকে ভয় করে এমনভাবে যেন সে রবকে তার অন্তর দিয়ে দেখছে এবং ইবাদাহ করার সময় সে তাকে দেখছে। তাই পরকালে তার পুরস্কার হবে তার নিজ চোখে সত্যিকার অর্থেই আল্লাহ্‌কে দেখতে পাওয়া।এটি বুঝা যায় কুরআনের সেই আয়াত থেকে, যেখানে আল্লাহ পরকালে অবিশ্বাসীদের জন্য তার বিনিময়ের কথা উল্লেখ করেছেন,
“নিঃসন্দেহে পাপী ব্যক্তিদেরকে তাদের রবকে দেখার থেকে আড়াল করে রাখা হবে।” {সূরা আল মুতাফফিফিন, ৮৩ : ১৫}
আল্লাহ পাপী ব্যক্তিদের এই বিনিময় দিবেন দুনিয়াতে তাদের অবস্থার কারনে (তাদের অন্তরে জমে উঠা পাপ ও অসৎ কর্ম, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা আল্লাহ্‌কে জানা ও ভয় করা থেকে নিজেদের আড়াল করে রাখে)। তাই পরকালে আল্লাহ্‌র কাছে এর প্রাপ্ত বিনিময় হল পরকালেও তাদের পর্দা টেনে দেওয়া, যাতে তারা তখনও আল্লাহ্‌কে দেখতে না পারে।
ইহসানের ব্যাখ্যার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদিস – “ইহসান হল এটি যে, তুমি এমনভাবে আল্লাহ্‌র ইবাদাহ করবে যেন তুমি তাকে দেখতে পাচ্ছ ……” – এটি ইঙ্গিত করে, বান্দা আল্লাহ্‌র ইবাদাহ করবে, তার নৈকট্য খুঁজবে এবং মনে করবে যে সে আল্লাহ্‌র হাতের মধ্যে রয়েছে যেন সে আল্লাহ্‌কে দেখতে পাচ্ছে। এর ফলে সৃষ্টি হয় তাকওয়া, তার প্রতি সশ্রদ্ধ ভয় এবং এতে তার নিকট পদমর্যাদার উন্নতি ঘটে; এছাড়াও ইবাদাতে শুদ্ধতা আর কর্ম প্রচেষ্টার উদ্যমের উন্নতি ঘটে এবং আরও নির্ভুল হয়।
“যদি তুমি মনে করো যে তুমি তাকে দেখতে পাচ্ছ না তবে জেনে রাখো তিনি তোমাকে দেখছেন”
এটা বলা হয় যে হাদিসের এই অংশটুকু এর প্রথম অংশের (“তুমি এমনভাবে আল্লাহ্‌র ইবাদাহ করবে যেন তুমি তাকে দেখতে পাচ্ছ”) কারন।
যখন আদেশ দেওয়া হল, তখন আল্লাহ্‌র বান্দা তার ইবাদাত করার ক্ষেত্রে তাকে ভয় পাওয়ার ব্যাপারে এবং যতক্ষন পর্যন্ত না তাকে দেখতে পাচ্ছে ততক্ষন তার নিকটে অবস্থানের অনুভূতি – এসব ক্ষেত্রে কাঠিন্যতার মুখোমুখি হতে পারে।
তাই সে এভাবে তার ঈমান অবলম্বন করবে যে, আল্লাহ তাকে দেখছেন এবং তিনি তার গোপন বিষয় ও নিয়্যত সম্পর্কে জানেন, তিনি জানেন তার গোপন ও প্রকাশ্য বিষয় এবং তার কোন কিছুই তার (আল্লাহ্‌র) থেকে গোপন নয়। সে যদি এই ধাপ অর্জন করতে পারে, তবে তার জন্য দ্বিতীয় ধাপে চলে যাওয়া সহজ হবে, যেটা হল আল্লাহ্‌র সাহায্য ও তার নৈকট্যের ব্যাপারে সবসময়ই দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত থাকা, যতক্ষণ না পর্যন্ত সে যেন আল্লাহ্‌কে দেখতে পেলো।
অন্যান্য আলেমরা বলেছেন, “বরং এটি হল তার প্রতি নির্দেশনা যে আল্লাহ্‌র ইবাদাতে কাঠিন্যতার সম্মুখীন হয় যে সে আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছে, আর এটা হল এমনভাবে আল্লাহ্‌র ইবাদাহ করা যেন তিনি তাকে দেখছেন।”
এই জ্ঞানের কারনে আল্লাহ্‌র দৃষ্টির সামনে তার লজ্জাশীলতা অনুভূত হবে, যেমনটি বলেছেন কিছু আলেমরা, “আল্লাহ্‌কে ভয় করো যাতে তিনি যেন তাদের মধ্যে ন্যূনতম একজন না হয়ে যান যিনি তোমাকে দেখছেন (যারা তোমাকে দেখছে তাদের কাছ থেকে তোমার লজ্জাশীলতার ব্যাপারটি বিবেচনা করো)।”
আবার কিছু আলেম বলেছেন, “তোমাদের উপর আল্লাহ্‌র ক্ষমতার ব্যাপ্তির ব্যাপারে ভয় করো এবং তোমাদের সাথে আল্লাহ্‌র নৈকট্যের ব্যাপ্তির ব্যাপারে তার সামনে লজ্জাশীল থাকো।”
আমাদের পূর্ববর্তী ধার্মিক ব্যক্তিগনের (সালাফ) মধ্য থেকে কিছু জ্ঞানী ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন, “যে ব্যক্তি কর্ম সম্পাদনের সময় আল্লাহ্‌কে (অন্তর দিয়ে) দেখে, সে তাদের মধ্যে একজন যে আল্লাহ সম্পর্কে অবগত আছে ; এবং আল্লাহ দেখছে এটা জেনে যে ব্যক্তি কর্ম সম্পাদিন করে, সে মুখলিস (একনিষ্ঠ) ব্যক্তিদের একজন।”
শেষের এই বিবৃতিতে দুই পদমর্যাদার উল্লেখ আছে যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছিলঃ
(১) ইখলাসের অবস্থা :ইখলাস হল আল্লাহ্‌র পর্যবেক্ষণ করার ব্যাপারটি অন্তরের ভিতর ও বাইরে উপস্থিত রেখে আল্লাহ্‌কে দেখার ইচ্ছা এবং তার নিকটস্থ হওয়ার লক্ষ্যে বান্দা কতৃক আমল। বান্দা যখন তার আমলের ব্যাপারে আল্লাহ্‌র পর্যবেক্ষণ কামনা করে এবং এর শেষ পর্যন্ত কাজ করে যেতে থাকে, তখন সে সত্যিই মুখলেস বান্দা (একনিষ্ঠ বান্দা) যে কিনা কেবলমাত্র আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য আমল করে থাকে। কারন সে তার আমলের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি খুজে যা কিনা তাকে আল্লাহকে ছাড়া অন্য কিছু আর অন্য কিছুকে সন্তুষ্টি করা থেকে তাকে ফিরিয়ে রাখে।
(২) আল্লাহ্‌কে দেখার ব্যাপারে অবস্থা :এটা হল বান্দা কতৃক সংগ্রাম করা, যা ভিত্তি করে সেটার উপর, যেটার কারনে অন্তর আল্লাহ্‌কে নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে ও আল্লাহ্‌র দিকে মুখ করে এবং যেটা অন্তরকে ঈমানের আলোয় আলোকিত করে। অন্তর্দৃষ্টি জ্ঞানের ভিতর প্রবেশ করে যতক্ষণ না পর্যন্ত এটি চোখের ন্যায় হয়ে পড়ে। এটি হল ইহসানের অবস্থার বাস্তবতা,যা হাদিসে জিব্রাইলে উল্লেখ করা আছে। আর এই অবস্থার ব্যক্তিরা তাদের অন্তর্দৃষ্টির প্রবলতা অনুযায়ী জাগরিত হয়।
কুরআনের বিভিন্ন অংশে এই অর্থসমুহ পয়েন্ট করা আছেঃ
“…… এবং তিনি তোমাদের সাথেই আছেন (তার জ্ঞানের মাধ্যমে), তোমরা যা কিছু করছ আল্লাহ তার সব কিছুই দেখছেন।” {সূরা আল হাদিদ, ৫৭ : ৪}
“কখনো এমন হয় না যে, তিন ব্যক্তির মধ্যে কোন গোপন সলাপরামর্শ হয় এবং (সেখানে) ‘চতুর্থ’ হিসেবে আল্লাহ উপস্থিত থাকেন না এবং পাঁচ জনের মধ্যে ‘ষষ্ঠ’ হিসেবে সেখানে থাকেন না, (এ সলাপরামর্শকারীদের সংখ্যা) তার চেয়ে কম হোক কিংবা বেশী, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, আল্লাহ সবসময়ই তাদের সাথে আছেন, অতঃপর কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সবাইকে বলে দিবেন তারা কি কাজ করে এসেছে; আল্লাহ সকল বিশয়ে সম্যক অবগত আছেন।” {সূরা আল মুজাদিলাহ, ৫৮ : ৭}
“(হে নবী,) তুমি যে কাজেই থাকো না কেন এবং সে (কাজ) সম্পর্কে কুরআন থেকে যা কিছু তিলাওয়াত করো না কেন (তা আমি জানি, হে মানুষেরা), তোমরা যে কোন কাজ করো, কোনও কাজে তোমরা যখন প্রবৃত্ত হও, আমি তার ব্যাপারে তোমাদের উপর সাক্ষী হয়ে থাকি, তোমাদের মালিকের (দৃষ্টি) থেকে একটি অনু পরিমাণ জিনিষও গোপন থাকে না, আসমান ও জমিনে এর চাইতে ছোট কিংবা এর চাইতে বড় কোন কিছুই নেই যা এ সুস্পস্ট গ্রন্থে লিপিবদ্ধ নেই।” {সূরা ইউনুস, ১০ : ৬১}
“…… আমি তার ঘাড়ের রগ থেকেও তার অনেক কাছে থাকি (আমার জ্ঞানের মাধ্যমে)।” {সূরা কাফ, ৫০ : ১৬}
“….. কিন্তু তারা আল্লাহ্‌র কাছ থেকে (নিজেদের অপরাধ) লুকোতে পারবে না ……. তিনি তাদের সাথে আছেন (তার জ্ঞানের মাধ্যমে)।” {সূরা আন নিসা, 4 : ১০৮}
নির্ভরযোগ্য হাদিসে মুসলিমদেরকে ইবাদাতের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র নৈকট্য চাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, যেমন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদিসঃ
“তোমাদের মধ্যে যে কেউই সালাতে দাঁড়ায়, সে তার রবের সাথে গোপনে কথা বলে অথবা তার রব থাকে তার আর কিবলা উভয়ের মাঝে।” (বুখারি – কিতাবুস সালাহ, হাদিস – ৪০৫; মুসলিম – কিতাবুল মাসাজিদ, ৫৪/৫৫১)
এছাড়াও এটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অপর হাদিসেও পাওয়া যায়ঃ
“তোমাদের মধ্যে কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায় তখন আল্লাহ তার সামনে থাকেন।” (বুখারি – কিতাবুস সালাহ, হাদিস – ৪০৬; মুসলিম – কিতাবুল মাসাজিদ, ৫০/৫৪৭)
যারা উচ্চস্বরে আল্লাহ্‌র প্রশংসা করে তাদের ব্যাপারে একই অর্থ প্রকাশ করে এমন আরেক হাদিসঃ
“তোমরা এমন কারো ইবাদাহ করছো না যিনি বধির বা অনুপস্থিত। নিঃসন্দেহে তোমরা যাকে ডাকছো তিনি সবই শুনেন এবং তোমাদের কাছেই আছেন আর তোমাদের সাথেই আছেন।” (বুখারি – কিতাবুল কদর, হাদিস ৬৬১০; মুসলিম – কিতাবুজ জিকর ওয়াদ দু’য়া, ৪৪/২৪০৭)
আরেক বর্ণনায় আছেঃ
“তোমার ঘাড় থেকে মাথা যতখানি নিকটবর্তী, তিনি তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তির প্রতি তার চেয়েও অধিক নিকটবর্তী।”
এবং আরেকটি বর্ণনা হলঃ
“তিনি তোমাদের ঘাড়ের শিরার থেকেও অধিক নিকটবর্তী।” (মুসলিম – কিতাবুয যিকর ওয়াদ দু’আ, ৪৬/২৭০৪)
আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন যে আল্লাহ বলেছেন, “আমার বান্দা আমার সম্পর্কে যে ধারণা পোষণ করে থাকে আমি বান্দার সে ধারনার নিকটেই আছি। অর্থাৎ সে ধারণা অনুযায়ী ফল দিয়ে থাকি। এবং বান্দা যখন আমাকে স্মরণ করে তখন আমি তার সাথেই থাকি। বান্দা যদি আমাকে অন্তরে স্মরণ করে তবে আমি তাকে নিজে নিজে স্মরণ করি আর সে যদি কোন জনসমষ্টি নিয়ে স্মরণ করে তবে আমিও বিশেষ দল নিয়ে স্মরণ করি যা তাদের জনসমষ্টি থেকে উত্তম। বান্দা যখন আমার নিকট এক বিঘত নিকটবর্তী হয় তখন আমি তার নিকট একহাত নিকটবর্তী হই। আর সে একহাত অগ্রসর হলে আমি দুই হাত অগ্রসর হই। সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে তবে আমি তার দিকে দৌড়ে যাই।” (বুখারি – কিতাবুত তাওহীদ, হাদিস ৭৪০৫; মুসলিম – কিতাবুজ জিকর ওয়াদ দু’আ, ২১/২৬৭৫)
যে ব্যক্তি বুঝে নিবে যে এই হাদিসটি নাস্তিকতা, অবতারত্ব বা আল্লাহ ও তার সৃষ্টিকে একত্রীকরণ করাকে নির্দেশ করে, এটা তার অজ্ঞতা আর আল্লাহ্‌ ও তার রাসুল (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বুঝার ত্রুটির থেকে তার এই অনুমান উদ্ভুত হবে।
নিঃসন্দেহে আল্লাহ ও তার রাসুল (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এসব আনুমানিক ব্যাপার থেকে মুক্ত, এবং মহান আল্লাহ্‌ তার সৃষ্টির কোন কিছুর মতো নয় (অদ্বিতীয়), তিনি সব শুনেন, সব দেখেন।
কিয়ামত কবে সংঘটিত হবে ?
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিব্রাইল জিজ্ঞেস করেছিলেন কিয়ামতের সময় সম্পর্কে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জবাব দিয়েছিলেন, “জিজ্ঞাসাকৃত ব্যক্তি জিজ্ঞাসাকারীর অপেক্ষা বেশী জানেন না।”
এর অর্থ হল কেয়ামতের দিনকাল সম্পর্কে সকল সৃষ্টির জ্ঞানই সমান (অর্থাৎ, আল্লাহ ছাড়া কেউই এ ব্যাপারে জানে না)। এটি একটি নিদর্শন যে একমাত্র আল্লাহই এই জ্ঞানের অধিকারী, যেমনটি আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করা আছে যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “এমন পাঁচটি বিষয় আছে যা আল্লাহ ছাড়া কেউই জানেন না,” এরপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরআনের এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ
إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ
“নিঃসন্দেহে একমাত্র আল্লাহ্‌রই রয়েছে কিয়ামত সম্পর্কে জ্ঞান” {সূরা লুকমান, ৩১ : ৩৪}
আল্লাহ বলেছেন,
يَسْأَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَاهَا ۖ قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ رَبِّي ۖ لَا يُجَلِّيهَا لِوَقْتِهَا إِلَّا هُوَ ۚ ثَقُلَتْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ لَا تَأْتِيكُمْ إِلَّا بَغْتَةً ۗ يَسْأَلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنْهَا ۖ قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ اللَّهِ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
“তারা তোমার কাছে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, এ দিনটি কখন সংঘটিত হবে; তুমি (তাদের) বল, এ জ্ঞান তো (রয়েছে কেবল) আমার মালিকের কাছে, এর সময় আসার আগে তিনি তা প্রকাশ করবেন না, (তবে) আকাশমণ্ডল ও জমিনের জন্য সেদিন তা হবে একটি ভয়াবহ ঘটনা; এটি তোমাদের কাছে আকস্মিকভাবে আসবে …” {সূরা আল আ’রাফ, ৭ : ১৮৭}
ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “গায়বের চাবি পাঁচটি যা আল্লাহ ছাড়া কেউই জানে না”, এরপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন – “নিঃসন্দেহে একমাত্র আল্লাহ্‌রই রয়েছে কিয়ামত সম্পর্কে জ্ঞান, তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন ……” {সূরা লুকমান, ৩১ : ৩৪} (বুখারি – কিতাবুত তাফসীর, হাদিস ৪৭৭৮)
কিয়ামতের নিদর্শনসমূহ
হাদিসটিতে জিব্রাইল যা জিজ্ঞেস করেছিলেন – “আমাকে কিয়ামতের কিছু নিদর্শন সম্পর্কে বলুন” – দ্বারা বুঝানো হচ্ছে কিয়ামত আবির্ভাবের নিদর্শন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) দুটি নিদর্শনের কথা উল্লেখ করেছেনঃ
প্রথম নিদর্শনঃ দাসী তার কত্রী (অথবা কর্তা) কে জন্ম দিবে
“তার কত্রী” বলতে বুঝানো হচ্ছে দাসী মালিককে। এবং আবু হুরাইরা (রাঃ) এর হাদিসে বলা আছে “তার কর্তা”।
এটি একটি নিদর্শন যা ইঙ্গিত দেয় অনেক দেশ উদ্ভুত হওয়ার, এবং প্রচুর পরিমাণ দাস পাওয়া যতক্ষণ না পর্যন্ত বন্দীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং তাদের সন্তানও একইভাবে বৃদ্ধি পায়, যাতে করে বন্দী নারীরা তাদের মালিকের দাসে পরিনত হয় এবং তার সন্তানেরা তার মালিকের অবস্থানে, কারন মালিকের সন্তানের অবস্থান আর মালিকের অবস্থান একই, দাসীদের সন্তান তার মালিকের অবস্থানে পৌঁছে যায়।
এটা বলা হয় যে দাসী পাওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে যতক্ষণ না পর্যন্ত একজন মেয়েকে দাস বানানো হবে এবং অতঃপর মুক্ত করে দেওয়া হবে, এরপর মাকে দাস বানানো হবে এবং মেয়েটি তাকে কিনে নিবে এবং তাকে ব্যবহার করবে এটা না জেনে যে সে-ই তার মা। এটি ইসলামের বিভিন্ন যুগে ঘটেছিল।
এটাও বলা হয় যে দাসিরা তাদের রাজাদেরকে জন্ম দিবে।
দ্বিতীয় নিদর্শনঃ আপনি দেখবেন যে নগ্নপদবিশিস্ট , নিঃস্ব……….
নিঃস্ব (আল ‘আলাহ) অর্থ হল নিঃস্ব ও দরিদ্র, যেমনটি আল্লাহ কুরআনে বলেছেনঃ
“তিনি তোমাকে নিঃস্ব অবস্থায় পেয়েছেন অতঃপর সমৃদ্ধ করে দিয়েছেন” {সূরা আদ দুহা, ৯৩ : ৮}
“ছাগলের রাখালেরা একে অপরের সাথে বিশাল বিশাল বিল্ডিং তৈরিতে প্রতিযোগিতা করবে।” – এর অর্থ পাওয়া যায় উমার (রাঃ) বর্ণিত হাদিসে। এর অর্থ হল সমাজের নিচু শ্রেণীর লোকেরা তাদের নেতা ও শাসকে পরিণত হবে এবং তাদের সম্পদ বাড়তে থাকবে যতক্ষণ না পর্যন্ত তারা বিল্ডিং এর উচ্চতা, এর ডিজাইন ও পরিপূর্ণতা/উৎকর্ষতা নিয়ে নিজেদের ব্যাপারে অহংকার করে।
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনটি নিদর্শনের উল্লেখ আছে, তার মধ্যে একটি হল, “যখন আপনি দেখবেন নগ্নপদ বিশিষ্ট লোকেরা জনগনের নেতা হবে এবং যখন কালো উটের রাখালেরা গর্ব/অহংকার আর একে অপরের সাথে সুদীর্ঘ বিল্ডিং নির্মাণে প্রতিযোগিতা শুরু করবে।”
এভাবে, কিয়ামতের নিদর্শনসমুহের মধ্যে একটি নিদর্শন পাওয়া গেল যে, উপযুক্ত ব্যক্তিদের ছাড়া অন্যদের (অযোগ্য) হাতে সমাজের দায়িত্ব অর্পিত হবে, যেমনটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন এক ব্যক্তিকে যে কিয়ামতের সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল, “যোগ্য ব্যক্তি ছাড়া যদি অন্য কারো হাতে দায়িত্ব চলে যায়, তবে কিয়ামতের জন্য অপেক্ষা করো।” (বুখারি – কিতাবুল ইলম, হাদিস ৫৯)
এভাবে, যদি নগ্নপদ বিশিস্ট রাখালেরা (যারা অজ্ঞ আর কর্কশ হিসেবে পরিচিত) সমাজের নেতা হয়ে যায় এবং ধন সম্পদের অধিকারী হয়ে যায় যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের সুদীর্ঘ বিল্ডিং তৈরি সম্পন্ন হয়, এর ফলে দ্বীন ইসলামের নিয়মশৃঙ্খলা ও জীবন হয়ে পড়বে বিকৃত। এর কারন, যদি সমাজের লোকদের নেতা নিঃস্ব ও দরিদ্র লোকদের মধ্য থেকে হয় এবং অতঃপর লোকজনের নেতাতে পরিণত হয়, হোক তার কতৃত্ব ব্যাপক অথবা সর্বনিন্মস্থ , তবে এটি বলতে গেলে প্রায় অসম্ভব যে সেই ব্যক্তি মানুষজনের অধিকার আদায় করবে, বরং সে নিজের জন্য সম্পদ বেদখল করবে এবং জনগনের সম্পদ দখল করে নিবে।
পূর্বের কিছু ধার্মিক ব্যক্তিগন (সালাফ) বলেছেন, “ড্রাগনের মুখের দিকে তোমার হাত প্রসারিত করা এর থেকেও উত্তম যে তুমি সম্পদশালী ব্যক্তির হাতের দিকে তোমার হাত প্রসারিত করবে, কারন ড্রাগন তোমার হাত খাবলিয়ে ছিড়ে নিবে কিন্তু সেই সম্পদশালী ব্যক্তি তোমাকে গরীব করে ছাড়বে।”
এছাড়াও, যদি সে অজ্ঞ আর রুক্ষ হয়ে থাকে, তাহলে এভাবে দ্বীন ইসলাম বিকৃত হয়ে যাবে কারন তার কাছে দ্বীনের উন্নতির বা শিক্ষার কোন গুরুত্তই নেই। বরং সে অগ্রাধিকার দেয় সম্পদ সংগ্রহ ও একত্র করাকে। সে এই ব্যাপারে কোন তোয়াক্কাই করে না যে দ্বীনের বিষয়সমূহের কি কি বিকৃত হচ্ছে,আর না সে তাদের প্রতি লক্ষ্য রাখে যাদের এই সিস্টেমের কারনে সর্বনাশ হচ্ছে।
যখন সমাজের নেতা ও প্রধানরা এই অবস্থায় পৌঁছায়, তখন পুরো সমাজটাই উল্টে যায়। মিথ্যুকদের বিশ্বাস করা হয় আর সত্যবাদীদের মিথ্যুক বলে অভিহিত করা হয়, বিশ্বাসঘাতকদের বিশ্বাস করা হয় আর বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, অজ্ঞরা কথা বলে অথচ আলেমরা চুপ থাকে অথবা সেখানে একদম কেউই থাকে না। যেমনটি জানা যায় একটি নির্ভরযোগ্য বর্ণনা থেকে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “নিঃসন্দেহে কিয়ামতের নিদর্শন সমুহের একটি হল যে জ্ঞানকে তুলে নেওয়া হবে এবং অজ্ঞতা প্রকাশ পাবে।” (বুখারি – কিতাবুল ইলম, হাদিস ৮০,৮১; মুসলিম – কিতাবুল ইলম, হাদিস ২৬৭১)
এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “নিঃসন্দেহে আল্লাহ মানুষের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে জ্ঞান তুলে নেন না। তিনি জ্ঞানীদের তুলে নেওয়ার মাধ্যমে জ্ঞান তুলে নেন, যাতে করে যখন তিনি সকল অজ্ঞ ব্যক্তিদের ছেড়ে দেন,মানুষ তখন সেই অজ্ঞ লোকদের কাছে যায় যারা তাদের নেতা; এরপর লোকেরা দ্বীনের কোন ফয়সালা জানতে চায় এবং সেই অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে কোন জ্ঞান ছাড়াই উত্তর প্রদান করে, এতে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয় এবং অন্য লোকদেরও পথভ্রষ্ট করে।” (বুখারি – কিতাবুল ইলম, হাদিস ১০০; মুসলিম – কিতাবুল ইলম, হাদিস ২৬৭৩)
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদিসের অংশ – “সুদীর্ঘ বিল্ডিং নির্মাণে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করবে” – হল তাদের গর্ব ও অহংকারের প্রমাণ, বিশেষ করে বিল্ডিং এর উচ্চতা সম্পর্কে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তার সাহাবীদের সময়ে সুদীর্ঘ বিল্ডিং পরিচিত ছিল না। বরং তাদের ঘর ছিল তাদের চাহিদা অনুযায়ী নিচু।
আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “ততক্ষন পর্যন্ত কিয়ামত হবে না যতক্ষণ না পর্যন্ত লোকেরা সুদীর্ঘ বিল্ডিং নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে।”
আল হাসান থেকে হারিস বিন আস সা’ইব বর্ণনা করেন, “আমি উসমান (রাঃ) এর খিলাফাহ চলাকালীন সময়টাতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) স্ত্রীদের ঘরে প্রবেশ করেছিলাম, এবং আমি আমার হাত দিয়ে ঘরের ছাদ স্পর্শ করতে পারছিলাম।”
উমার থেকে বর্ণিত যে তিনি লিখেছিলেন, “তোমাদের ভবনগুলো উঁচু করবে না কারন নিশ্চয়ই এটি মন্দ কাজ।”
এবং আম্মার বিন আবু আম্মার থেকে বর্ণিত, “কোন ব্যক্তি যদি তার ঘরের উচ্চতা সাত হাতের উপর নিয়ে যায়, এটা তাকে সাথে সাথে বলে, ‘হে পাপী ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে পাপী ব্যক্তি, তুমি কোথায় তোমার ঘর নির্মাণ করছ ?’ ”
* ইমাম ইবন রজবের প্রসিদ্ধ হাদিস তাফসীর কিতাব জামি’ আল ‘উলুম ওয়াল হিকাম এর ইংলিশ ভার্শন থেকে অনুবাদকৃত।

মতামত দিন