সলাত

সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ৩৮)

 রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

তাশাহহুদের গুরুত্ব

নবী মুবাশ্‌শির (সাঃ) প্রত্যেক দুই রাকআতে ‘তাহিয়্যাহ্‌’ (তাশাহহুদ) পাঠ করতেন। (মুসলিম, সহীহ ৪৯৮, আহমাদ, মুসনাদ) বৈঠকের শুরুতেই তিনি বলতেন, “আত্‌ তাহিয়্যা-তু লিল্লা-হি—।” (বায়হাকী, সিফাতু স্বালাতিন নাবী (সাঃ), আলবানী ১৬০পৃ:) দুই রাকআত পড়ে ‘তাশাহহুদ’ পাঠ করতে ভুলে গেলে তিনি তার জন্য ভুলের সিজদাহ করতেন। (বুখারী, মুসলিম,  ইরওয়াউল গালীল, আলবানী ৩৩৮ নং)

তিনি তাশাহহুদ পড়তে আদেশও করতেন। বলতেন, “যখন তোমরা প্রত্যেক দুই রাকআতে বসবে তখন ‘আত্‌তাহিয়্যাতু—’ বল। অতঃপর তোমাদের প্রত্যেকের পছন্দমত দুআ বেছে নিয়ে আল্লাহ আযযা অজাল্লার নিকট প্রার্থনা করা উচিত।” (সহিহ,নাসাঈ, সুনান ১১১৪ নং, আহমাদ, মুসনাদ, ত্বাবারানীরানী, মু’জাম কাবীর) এই তাশাহহুদ পড়তে তিনি নামায ভুলকারী সাহাবীকেও আদেশ করেছিলেন।

তাছাড়া তিনি সাহাবাগণকে ‘তাশাহহুদ’ শিখাতেন, যেমন কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। (বুখারী, মুসলিম, সহীহ ৪০৩নং) তাশাহহুদ নিঃশব্দে পড়া সুন্নত। (আবূদাঊদ, সুনান,হাকেম, মুস্তাদরাক, মিশকাত ৯১৮নং)

তাশাহহুদের দুআ

১। তিনি সাহাবাগণকে যে তাশাহহুদ শিখিয়েছিলেন তা কয়েক প্রকারের। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী প্রসিদ্ধ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) ও ইবনে ইমার (রাঃ) এর তাশাহহুদ:-

اَلتَّحِيَّاتُ للهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، اَلسَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، اَلسَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِيْنَ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ

 উচ্চারণ:- আত-তাহিয়্যা-তু লিল্লা-হি অস্বস্বালা-ওয়া-তু অত্বত্বাইয়্যিবা-তু, আসসালা-মু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু অরাহ্‌মাতুল্লা-হি অবারাকা-তুহ্‌, আসসালা-মু আলাইনা অ আলা ইবা-দিল্লা-হিস্ব স্বা-লিহীন, আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু অরাসূলুহ্‌।

অর্থ- মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক যাবতীয় ইবাদত আল্লাহর নিমিত্তে। হে নবী! আপনার উপর সালাম, আল্লাহর রহ্‌মত ও তাঁর বর্কত বর্ষণ হোক। আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাগণের উপর সালাম বর্ষণ হোক। আমি সাক্ষি দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আরো সাক্ষি দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ ((সাঃ)) তাঁর দাস ও প্রেরিত রসূল।

নামাযী যখন ‘আস্‌সালা-মু আলাইনা অআলা ইবা-দিল্লা-হিস স্বা-লিহীন’ বলে, তখন আকাশ ও পৃথিবীর সকল নেক বান্দার নিকট ঐ সালাম পৌঁছে থাকে। ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) এর জীবদ্দশায় আমরা এরুপ বলতাম। অতঃপর তাঁর ইন্তেকাল হলে আমরা বলতে লাগলাম, ‘আসসালা-মু আলান নাবিয়্যি—।’ (বুখারী, মুসলিম,  ইবনে আবী শাইবা, আবূ য়্যা’লা, সিরাজ, ইরওয়াউল গালীল, আলবানী ৩২১, মিশকাত ৯০৯নং)

২। ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর তাশাহহুদ:-

اَلتَّحِيَّاتُ الْمُبَارَكَاتُ الصَّلَوَاتُ الطَّيِّبَاتُ لله।।।।

আত্‌ তাহিয়্যা-তুল মুবা-রাকা-তুস স্বালাওয়া-তুত ত্বাইয়িবা-তু লিল্লা-হি—। (বাকী প্রথমোক্ত তাশাহহুদের অনুরুপ।) (মুসলিম, সহীহ ৪০৩, আহমাদ, মুসনাদ, শাফেয়ী, নাসাঈ, সুনান, মিশকাত ৯১০ নং) অবশ্য কোন কোন বর্ণনায় দ্বিতীয় শাহাদতে কেবল ‘অআশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্‌’ উল্লেখিত হয়েছে। (মিশকাত ৯১০নং)

৩। আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) এর তাশাহহুদ:-

اَلتَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لله।।।।।

‘আত্‌ তাহিয়্যা-তুত ত্বাইয়িবা-তুস স্বালাওয়া-তু লিল্লা-হি–।’

বাকী প্রথমোক্ত তাশাহহুদের মতই। অবশ্য কোন কোন বর্ণনায় ‘আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু’র পর ‘অহ্‌দাহু লা শারীকা লাহু’ বাক্য বাড়তি আছে। (মুসলিম, সহীহ ৪০৪নং, আহমাদ, মুসনাদ, আবূদাঊদ, সুনান, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান)

৪। উমার বিন খাত্তাব (রাঃ) এর তাশাহহুদ। তিনি মিম্বরের উপর লোকদেরকে এই

তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন:-

اَلتَّحِيَّاتُ للهِ الزَّاكِيَاتُ للهِ الطَّيِّبَاتُ للهِ، اَلسَّلاَمُ عَلَيْكَ।।।।

আত্‌ তাহিয়্যাতু লিল্লা-হিয যা-কিয়া-তু লিল্লা-হিত ত্বাইয়িবা-তু লিল্লা-হ্‌, আস্‌সালা-মু আলাইকা—।

বাকী প্রথমোক্ত তাশাহহুদের মত। (মালেক, মুঅত্তা ৩০০নং, বায়হাকী ২/১৪২)

৫। আয়েশা رضي الله عنها এর তাশাহহুদ:-

اَلتَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ الزَّاكِيَاتُ للهِ، اَلسَّلاَمُ عَلَى النَّبِيِّ।।।।।

  ‘আত্‌ তাহিয়্যা-তুত ত্বাইয়িবা-তুস স্বালাওয়া-তুয যা-কিয়া-তু লিল্লা-হ্‌, আস্‌সালা-মু আলান্নাবিয়্যি—।’

বাকী প্রথমোক্ত তাশাহহুদের মত। (ইবনে আবী শাইবা, সিরাজ, বায়হাকী ২/১৪৪)

(চলবে)

মতামত দিন