আখলাক নারী

ইভটিজিং ও এর কারণ

ইভটিজিং ও এর কারণ

লেখক: হাশিম বিন আব্দুল হাকিম।

ইভটিজিংয়ের প্রচলিত বাংলা অর্থ নারী-উত্যক্ততা। অভিধানে Eve (ইভ্‌) শব্দের অর্থ- সৃষ্টির প্রথম নারী বা মা হাওয়া। সেই ক্ষেত্রে ইভ্‌কে সমাজে নারী নামে ভাবার্থে উপমা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর tease (টিজ) শব্দের অর্থ বিরক্ত করা, উত্যক্ত করা বা  জ্বালাতন করা। ইভটিজিং বর্তমানে একটি সামাজিক ব্যাধি একে ধর্ষণের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা যায়। ইভটিজিং সমাজের স্বাস্থ্য রক্ষায় এক মারাত্মক ব্যাধি। এ ব্যাধি সহজেই উপড়ে ফেলার নয়। ইভটিজারদের দৌরাত্ম্য আজ শহর, বন্দর, নগরের অলিগলিতে এমনকি গ্রাম অঞ্চলেও। এ দৌরাত্ম্যে কিশোরী, যুবতী এমনকি গৃহবধূরা পর্যন্ত নিশ্চিন্তে ঘর থেকে বের হতে পারছে না। প্রতি পদে পদে এদের খপ্পরে পড়ার ভয়ে আজ মেয়েরা আতঙ্কিত, নিরাপত্তাহীনতায় ভীতসন্ত্রস্ত। একটি সুস্থ সমাজের জন্য এটা মোটেই শুভ লক্ষণ নয়। ইভটিজিং আজ সমাজের জন্য গোদের ওপর বিষফোড়া। এ মুহূর্তেই এর প্রতিকারে মনোনিবেশ না করলে দুষ্ট ক্ষতের মতো সমাজের সারা দেহে প্রবেশ করলে দুরারোগ্য ব্যাধি ছড়িয়ে পড়বে তাতে কোন সন্দেহ নেই। তাই নিম্নে এর কারণগুলো উল্লেখ করে প্রতিকারের ব্যবস্থামূলক উপায়ের আলোচনা করা হল।

Eveteasing and its cause

ইভটিজিংয়ের কারণ

পরিবার : বর্তমানে অনেক পরিবার আছে যেখানে তথাকথিত আধুনিকতার নামে ধর্মীয় অনুশাসনকে তুচ্ছ মনে করে। ছেলের গার্লফ্রেন্ড বা মেয়ের বয়ফ্রেন্ড থাকায় বাবা-মায়ের কোন আপত্তি নেই। সন্তান কোথায় কখন, কিভাবে কাদের সাথে চলছে ফিরছে তার কোন খোঁজ-খবর নেই, পশ্চিমা ধাঁচে তাদের চাল চলন। ফলে অনৈতিক কর্মকাণ্ড বর্তমানে বেড়েই চলছে। মা বাবা ধর্মীয় শিক্ষাকে আধুনিকতার প্রতিবন্ধক মনে করে সন্তানদের গান, নাচ প্রভৃতি শিক্ষা

দেয়। যা পরে তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়- বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন, “তুমি যদি পৃথিবীর সব বিদ্যার ব্যুৎপত্তি লাভ করো, কিন্তু নিজের ধর্মবিদ্যা না জানো তবে তুমি মহামূর্খ।”

একজন দার্শনিক বলেছেন :  If you teach your child three Rs Reading, Writing and Arithmetic and leave the 4th-R-Religion you will get 5th R-Rascality.

অর্থাৎ- “তুমি যদি তোমার সন্তানকে তিনটি ‘আর’-এর শিক্ষা দাও যথা : রিডিং (পড়া), রাইটিং (লেখা), এরিথমিটিক (পাটিগণিত) এবং চার নম্বরে যদি রিলিজিয়ন (ধর্ম) শিক্ষা না দাও তাহলে তুমি পাঁচ নম্বরে গিয়ে পাবে বদমায়েশী।”

সত্যি আজ যারা ইভটিজিংসহ শত মা-বোনদের শরীরে হিংস্র থাবা দেয় তারা ধর্মহীন বদমায়েশ। এছাড়াও কিছু বাবা মা তাদের স্কুল পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের মোবাইল কিনে দেয়, যা নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার শামিল, সময়মতো নৈতিক শিক্ষা না দেয়ায় বেশিরভাগ সন্তানেরাই এ মোবাইল থেকে অশ্লীল গান, নাচ, এস.এম.এস. সহ সারা রাত কথা বলে কাটায়, আর এভাবেই তাদের নৈতিক লঙ্ঘন শুরু হয়।

নৈতিক শিক্ষার অভাব : ধর্মই একমাত্র মানুষকে নৈতিক শিক্ষা দিয়ে থাকে। মানুষ মানবতা অর্জন করে ধর্মীয় শিক্ষা থেকে। এ নৈতিক শিক্ষাকে বাদ দিয়ে সুন্দর চরিত্রবান মানুষ হওয়া যায় না। এবং ময়না পাখির মতো ধর্মের বুলি মুখস্থ করেও মানুষ সুন্দর চরিত্রের অধিকারী হতে পারে না। ইংরেজীতে একটি কথা আছে-

˝Money is lost nothing is lost, health is lost something is lost, but character is lost everything is lost˝

অর্থাৎ- টাকা হারালো তো কিছুই হারালো না, স্বাস্থ্যহানী হলো তো

কোন কিছু হারালো, কিন্তু চরিত্র হারালো তো সবকিছুই হারালো।

আজকে নৈতিক শিক্ষার অভাবেই তরুণদের দ্বারা তরুণীরা উত্যক্ত সহ নানা রকমের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ছোটবেলা থেকে পড়ানো হয়, অ-তে অজগর, অজগরটি আসছে তেড়ে, আ-তে আম, আমটি আমি খাব পেড়ে ইত্যাদি। এখানে কোন নীতি নৈতিকতার কথা নেই, নেই খারাপ কাজ করলে পরকালে কি শাস্তি হবে, যার ফলে সমাজে নারীদের ওপর বাঘের মতো হিংস্র থাবা পড়ে অহরহ।

অনৈসলামিক পোশাকের কুপ্রভাব : ইভটিজিংয়ের অন্যতম কারণ হচ্ছে- নারীদের পোশাক সংক্ষিপ্ত হওয়া। পোশাক ব্যবহারের মূল লক্ষ্যহচ্ছে দেহ ঢেকে রাখা। কিন্তু বর্তমানে অনেক নারীর কাছে সংক্ষিপ্ত টাইট পোশাকে, ওড়নাবিহীন ঘুরাফেরা করা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার, অবশ্যই এসব অশালীন পোশাক পুরুষদের আকর্ষিত করে। পূর্বে নারীরা যে কামিজ ব্যবহার করত তার সাইট কাট থাকত কোমরের অনেক নিচে,

কিন্তু বর্তমানে কামিজের সাইট কাট থাকে কোমরের ওপরে, ফলে রিকশায় বসা থেকে শুরু করে চলাচলের সময় তাদের পায়ের উপরিভাগ ও নিতম্ব সহজেই পরিস্ফুটিত হয় মানুষের চোখে। দৃষ্টিকটু এসব পোশাকে চলাফেরা করা নারীরা সাধারণ ব্যাপার মনে করে- তাইতো পহেলা বৈশাখে টিএসসিতে এক ছাত্রীর তা খামছে ধরে এক নরপশু। (নয়াদিগন্ত ১৫-০৪-২০১০ইং)

নারীদের দেহের সৌন্দর্য দেখার ও ব্যবসার জন্যই পোশাক ডিজাইনার ও মিডিয়াগুলো শাড়ির বদলে ফতুয়া বা টি- শার্ট, স্যালোয়ারের বদলে স্কিন প্যান্ট, লম্বা কামিজের বদলে শর্ট কামিজ এমনকি টপলেস, বটমলেস ও মিনি স্কার্ট পরিয়ে বিভিন্ন মডেলকে মিডিয়াতে তুলে ধরছে- আর তা দেখে আমাদের সরলমতি বোনেরাও অন্ধের মতো তা ব্যবহার করছে। তারা নারীর পবিত্র দেহকে করেছে পণ্যের সমতুল্য, বিজ্ঞাপনগুলোতে নারী মডেল ছাড়া চিন্তাই করা যায় না। ভারতের চ্যানেলগুলোর বেশির ভাগ বিজ্ঞাপনগুলোই অরুচিকর ও অশালীন। তার অনুকরণ করে আমাদের দেশেও নারীদেরকে এমনভাবে প্রদর্শন করা হয়, যেখানে তাদের শরীর ও রূপ প্রদর্শন করাটাই থাকে মুখ্য বিষয়। এভাবেই দেদার নারী ‘তারুণ্য’ নিয়ে, নারীকে পণ্য বানিয়ে দেশের ভবিষ্যতকে বানরের হাতে আয়না যেমন তেমনি এগিয়ে নিতে ব্যস্ত। এতে তরুণ-তরুণীদের মাঝে অপরাধ প্রবণতা কমবে না বাড়বে?

আকাশ সংস্কৃতির কুপ্রভাব : যে জিনিসটি ঘরে ঘরে বেশী কুপ্রভাব ফেলছে, তা হচ্ছে আকাশ সংস্কৃতি তথা ডিশ কালচার। আজ সারা দেশ হিন্দী সিরিয়াল, হিন্দী সিনেমার অশ্লীলতার জোয়ারে ভাসছে, যার প্রভাব পড়ছে মানুষের নৈতিক চরিত্রে। এসব নাটক ও সিনেমার খোলাখুলি দৃশ্যের মাধ্যমে ছেলে মেয়েরা সংক্রমিত হচ্ছে। সেখানে নায়িকাদের মন জয়ের চেষ্টা করা হয় ইভটিজিংয়ের মাধ্যমে, নায়কের অসংযত আচরণকে উপভোগ করা হয় বাহবা দিয়ে । আর তা দেখে আমাদের যুবসমাজও অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে তাদের অনুকরণ করতে। এসবের অনুকরণ করে কিশোরী যুবতী এমনকি গৃহবধূরাও হিন্দী পোশাকের মোড়কে যেভাবে নিজেদের প্রদর্শন করে চলছে তা সমাজের বিরাট অবক্ষয়। যেমন : একটি মেয়ে যখন আটঁসাঁট, পাতলা বা ছেলেদের পোশাক পরে বের হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই ছেলেরা কুদৃষ্টিতে তাকায়, তারপর এক পর্যায়ে ইভটিজিংয়ের শিকার হয়। অনেকদিন আগে ভারতে বাসের মধ্যে এক মেডিকেল কলেজ ছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেক সমাজবিজ্ঞানী ও মানবাধিকার কর্মী বলেছেন, নারী নির্যাতনের ঘটনায় অর্ধনগ্ন ভারতীয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর যৌন উসকানিমূলক সিরিয়াল অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে (আমার দেশ ২৬-১২-২০১২ইং)। সুতরাং এসব সংস্কার না করে, সভ্যতার নামে, নারী স্বাধীনতার নামে মিছিল মিটিং,দুচারটা দিবস পালন করলেই ইভটিজিং, নির্যাতন, ধর্ষণ ও সন্ত্রাস বন্ধ হয়ে যাবে না? বরং জরিপে দেখা গেছে সেগুলো বেড়েই চলছে- এ যেন হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রীর জুতা আবিষ্কারের ব্যাপার। পা ধুলা থেকে বাঁচানোর জন্য রাজ্যময় ধুলা ঝাড়ু দেয়ার অভিযান চলল, সারা রাজ্য ধুলিময় হলো। আবার এই ধুলা দূর করতে পানি ঢালা শুরু হলো, রাজ্য তখন কাদাময় হয়ে গেল। সে রকমই আজকের নারীরা প্রকৃতির নিয়মবহির্ভূত উদ্ভট চিন্তা-ভাবনা নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে নিজেদের সৃষ্ট কাদায় তলিয়ে যাচ্ছে।

আধুনিকতার কুপ্রভাব:

আজ সমাজে আধুনিকতার নামেনারীস্বাধীনতার নামে চলছে অশ্লীল বেশে নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা,চলছে অর্ধ উলঙ্গ অবস্থায় নারীর লজ্জা স্থানগুলো প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা।  কোন সভ্যতার নমুনা! তথাকথিত আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে আমাদের স্কুল কলেজেও।যুগের দোহাই দিয়ে এসব স্কুল কলেজ বর্তমানে কমবাইন্ডতথা ছেলেমেয়ে একসাথে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করে, এই সহশিক্ষার কুফল বর্ণনা করতে গিয়েএক কবি গেয়েছিলেন :

ছেলে মেয়ে এক যোগেতে করলে পড়াশুনা,

পড়ার সাথে বাড়ে প্রায়ই কামের উপাসনা।

কাম-কল্লোল নাই যদি পায় সৎ নিয়ন্ত্রণ শুভে,

 ভ্রষ্ট হবে জন্ম-ধৃতি পড়বে পাগল-কূপে।

ওরে পাগল বুঝিস নাকি নরক নিশান উড়ছে কোথায়।

একটা প্রধান নমুনা দেখ বিদ্যালয়ের সহশিক্ষায়।

প্রকৃতিরনিয়ম নারী পুরুষের বিপরীত আকর্ষণ, সুতরাং এরকম কমবাইন্ড ব্যবস্থাপ্রকৃতিগতভাবে যুবসমাজকে অপরাধের দিকে উস্কে দেয়ার এক আগ্নেয়াস্ত্র হিসাবেব্যবহৃত হচ্ছে। বিজ্ঞানের বদৌলতে আজকের পৃথিবী যেমন ছোট হয়ে আসছে, তেমনিঅতি আধুনিকতার ছোঁয়ায় দিনের পর দিন ছোট ও স্বচ্ছ হয়ে আসছে আমাদের নারীদেরপোষাক- পরিচ্ছেদও। আজকাল অনেক নাররা স্বচ্ছ কামিজ পরিধান করে তাদেরবক্ষবন্ধনীকে ফুটিয়ে রাখতে লজ্জাবোধ করে না সামান্যতমও। কয়েক বছর আগেথার্টি ফার্স্ট নাইট নামক অপসংস্কৃতি উদযাপন করতে গিয়ে এক বিবাহিত নারীবিবস্ত্র হয়েছিল কিছু উচ্ছৃঙ্খল পুরুষের হাতে টিএসসি চত্বরে। এ ক্ষেত্রেঅতি আধুনিক নামধারী আঁট-সাঁট বা টাইট পোশাকই তাকে বিপদের মধ্যে ঠেলেদিয়েছে। কাজেই অপরাধ বিস্তারে শুধু পুরুষ নয় বরং নারী উভয়েই দায়ী। তার সাথেদায়ী এসব আধুনিক থার্টি ফার্স্ট নাইট, ভ্যালেন্টাইন ডে, পহেলা বৈশাখইত্যাদি দিবস উদযাপনের নামে বিভিন্ন অপসংস্কৃতি। আধুনিকতার নামে আজ যেভাবেউলঙ্গপনা চলছে তার প্রাথমিক ফলাফল হচ্ছে, এই উত্যক্ততা আর এর সুদূরপ্রসারীফল হচ্ছে ধর্ষণ।

 

পর্দাহীনতা :  বর্তমানে ইভটিজিংয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে পর্দাহীনতা। সমাজেনারীদের মধ্যে চলছে অবাধেদেহ প্রদর্শন প্রতিযোগিতা। তাদের বুলি হচ্ছেআগুন ঝরা রূপের দেহ রাখবো কেন ঢেকে, এই তো আমি ডিসকো লেডিস দেখবে আমায় কে কে……. সুযোগ নিচ্ছে একদল পুরুষ সমাজ, ফলে জন্মাচ্ছে ইভটিজিং সহ নানা অপরাধের । ক্ষুধার্ত বাঘের সামনে গোশত রেখে বাঘের ধৈর্যশক্তি পরীক্ষা করাটা বোকামী ছাড়া আর কিছুই নয়। খোসা ছাড়ানো পাকা তেঁতুল দেখে কার জিহ্বায় পানি না আসে? সুতরাং এ রকম পর্দাহীন সমাজে ইভটিজিংসহ আরও অপরাধ জন্ম নেয়াটাই স্বাভাবিক।

সুন্দরী প্রতিযোগিতা : আজ সুন্দরী প্রতিযোগিতার নামে নারীদের দেহ-রূপ প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশে বিদেশে তথা আন্তর্জাতিকভাবে আয়োজন করা হয় এ অপসংস্কৃতিমূলক অনুষ্ঠানের। এসব অনুষ্ঠানের মেয়েদেরকে মডেল কন্যা নামে অভিহিত করা হয়। তাদের সুন্দর-কোমলময় দেহকে পুঁজি করে একদল পুঁজিবাদ কিছু বিনিময়ের প্রলোভনে বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাদের পবিত্র দেহকে পণ্যে পরিণত করেছে। তাইতো আজকাল দেখা যায় দোকানের প্রায়ই পণ্যদ্রব্যের মোড়কে এমনকি রাস্তায় ও সেন্টারপে−সে বিজ্ঞাপন সম্বলিত বিভিন্ন মডেল কন্যার ছবি। ব্যবসা করতেই বর্তমান ক্রিকেট খেলার মাঝে ভাড়াটিয়া মডেল কন্যাদেরকে দিয়ে অর্ধনগ্ন অবস্থায় বিভিন্ন আঙ্গিকে নৃত্য পরিবেশন করানো হয় দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষন করতে। যা এসব কর্মকান্ড তাদেরকে শেষ পর্যন্ত দাড় করিয়ে দেয় দেহ প্রদর্শনের এক অভিনব সুন্দরী প্রতিযোগিতায়। সাময়িক খ্যাতি ও মকুট পাওয়ার অতি লোভে মডেল কন্যারা নিজের মর্যাদাপূর্ণ দেহকে শেষ পর্যন্ত সবার সামনে অতি ছোট থেকে ছোট কাপড়েও প্রদশন করতে কুন্ঠিত হন না এতটুকুও  । আর একদল পুরুষ সমাজ তাদের এসব সুন্দরের মুগ্ধতাকে বুকের ভেতর আর চাপিয়ে রাখতে না পেরে জড়িয়ে পড়ে ইভটিজিং নামক অপরাধে। যার দৌরাত্ম্য গিয়ে শেষ হয় পতিতালয়ের মতো জঘন্যতম পশুর মহলে। যার মাধ্যমে নারী-পুরুষ উভয়েই ঝড়ে পড়ে সভ্য সমাজ থেকে। এতো অধঃপতনের এক চরম হাতিয়ার। তাইতো কবি যথার্থই বলেছেন,

“অতি বাড় বেড়ো না ঝড়ে পড়ে যাবে;

অতি ছোট থেকো না, ছাগলে মুড়াবে”।

বাস্তবিকই আজ মেয়েরা নীতি-নৈতিকতা, লাজ-শরম ও পোশাক-আশাক ইত্যাদির দিক থেকে অতি ছোট হওয়ার কারণেই রাস্তায় তারা লাঞ্ছিত হচ্ছে ।

গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান : গায়ে হলুদের নামে অপসংস্কৃতি আজ মানুষের মাঝে বার্ড ফ্লু, সোয়ান ফ্লু ও অ্যানথ্রাক্সের মত মহামারী আকার ধারণ করেছে। মানুষ এদিকে কোন ভ্রুক্ষেপই করছে না। ফলে যুব সমাজের চরিত্র নষ্ট হচ্ছে। এসব অনুষ্ঠানে হলুদ ছোঁয়ার নামে পাইকারীভাবে ছেলেরা মেয়েকে, মেয়েরা ছেলেকে স্পর্শ করে পাশ্চাত্যের স্টাইলে। আমার বোনকে বা হবু বউকে সবাই স্বত:স্ফূর্তভাবে  ধরছে আর আমার তাতে কোন কিছুই মনে হচ্ছে না। এরা যেন সবাই ফরেন কান্ট্রির মতো Free Mixing ফ্যামিলির সন্তান। আর এ সকল মুক্ত-সংস্কৃতির পরিবেশে ছেলে-মেয়েরা যে ধরণের পোশাক পরিধান করে নিজেকে উপস্থাপন করে, স্বাভাবিকভাবেই তাতে পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। কথায় আছে,‌ ‌”যত না খায় বনের বাঘে, তত খায় মনের বাঘে”। ফলে জন্ম নেয় ইভটিজিংয়ের মত নানা অপরাধের। আর নুন ছাড়া যেমন তরকারী হয় না, তেমনি আজ বদ, বিয়ার ও ব্যান্ড শো ছাড়া আর গায়ে হলুদ হয় না। রাতভর চলে অশ্লীল নাচ-গানের আসর। বাপ-ছেলে, মা-মেয়ে একসাথে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে এসব অনৈতিক কর্মকান্ডে।এই কি জাতির নিয়তি? সুতরাং যেখানে শৃঙ্খলার বিপরীত উচ্ছৃঙ্খলতা, আদবের বিপরীতে সেখান থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় কি ?

ইন্টারনেট-মোবাইল : বর্তমানে সর্বত্রই ইন্টারনেট বিস্তার হচ্ছে। আজকাল ছেলে মেয়েরা ফেসবুকের মাধ্যমে একে অপরের সাথে সরাসরি পরিচিত হতে পারে, তারা ভয়েস চ্যাট ভিডিও চ্যাটে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে ছেলে মেয়েরা আরও উচ্ছৃঙ্খল হচ্ছে, যা নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও যেসব নগ্নতা আজকাল ইন্টারনেটে পাওয়া যায় এতে কেবল অসংযত যৌনচারই হচ্ছে না এর ফলে  মেয়েরা ইভটিজিং সহ যৌন আক্রমণের শিকার  হচ্ছে। বর্তমানে ভিউকার্ড টিভি আর সিনেমা পর্দা ছাড়াও পর্নোগ্রাফি চলে এসেছে মানুষের হাতে হাতে মোবাইলের পর্দায়। এই মুঠোফোনের পর্দায় দেখা যায় কয়েক সেকেন্ড থেকে শুরু করে এক দেড় ঘন্টা দৈর্ঘ্যের ভিডিও চিত্রও। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী দোকানে কম্পিউটার ভর্তি এই নীল ছবির ক্লিপিংস কয়েক সেকেন্ডই ডাউনলোড করে দিচ্ছে চাহিদা মাফিক। হাত বাড়ালেই মুহূর্তে মিলে যাচ্ছে অশ্লীল ছবির ভিডিও ক্লিপস্‌ ও ওয়ালপেপার। এতো অন্ধের হাতে মশাল দেয়ার মতো, সে মানুষকে আলো না দেখিয়ে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিবে। সর্বশ্রেণীসহ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাই এগুলো বেশী কেনে। তারা এগুলো গন্ধরাজ মনে করে আসলে ধুতরাকেই লুফে নিচ্ছে। শুধু এখানেই শেষ নয়, এক মোবাইল থেকে অন্য মোবাইলেও মুহূর্তের মধ্যে চলে যাচ্ছে পর্ণগ্রাফি ব্লুটুথের মাধ্যমে। যার প্রভাব পড়ছে মানুষের নৈতিক চরিত্রে। এমনকি যারা ব্যবহার করে তাদের মা-বোনের উপরও পড়ে বাঘের হিংস্র থাবা। তাই আমাদের যুব সমাজ ও কিশোর কিশোরীরা এখন হুমকির মুখে।

– লেখাটি হাশিম বিন আব্দুল হাকিম রচিত “ইভটিজিংয়ের কারণ  ও প্রতিকার এবং নারীদের হিজাব ফ্যাশন” নামক বই থেকে সংগৃহীত ও ইষত পরিবর্তিত ।

বইটি পাওয়ার ঠিকানা :

আকিব প্রকাশনী
০১৭-৬৪২০-৫৪২০, ০১৯-১২৪০-৯০৯৭

২১৪, বংশাল রোড, ঢাকা-১১০০, ফোন : ০২-৭১৬৫১৬৬, মোবাইল : ০১১৯১-৬৩৬১৪০।

পরবর্তী পর্বে এর প্রতিকার নিয়ে আলোচনা হবে ইনশাআল্লাহ।

মতামত দিন