বিজ্ঞান ও ইসলাম

মারইয়াম (আঃ)-এর সন্তান লাভঃ বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি

মারইয়াম (আঃ)-এর সন্তান লাভঃ বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি

লেখক: আব্দুল গফুর।

অনুলিখন: সালাউদ্দীন শুভ্র

সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা’আলা এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা। তাঁর এ কর্তৃত্বের কোন অংশীদার নেই। তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্য সবকিছুর খবর রাখেন। তার অসংখ্য সৃষ্টির মধ্যে মানুষ হ’ল সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি (আশরাফুল মাখলূক্বাত)। এই আশরাফুল মাখলূক্বাত জন্মগতভাবেই অর্থাৎ সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকেই সঙ্গপ্রিয়। মানুষের পক্ষে একাকী বসবাস করা সম্ভবপর নয়। মানবজাতির আদি পিতা হযরত আদম (আঃ)- এর নিঃসঙ্গতা দূর করার জন্য আল্লাহ তা’আলা বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গী (Female partner) হযরত হাওয়া (আঃ)- কে সৃষ্টি করেছেন, এটা তার সর্বোৎকৃষ্ট প্রমাণ বহন করে। ফলে মানুষ তার সহজাত প্রবৃত্তির তাড়না, বংশবৃদ্ধি ও বহুমুখী প্রয়োজনে শারঈ বিধান অনুযায়ী অথবা অবৈধ পন্থায় পরস্পর সঙ্গী হয়ে যায়। শুধুমাত্র মানুষ নয় উদ্ভিদ ও অন্যান্য প্রাণিদের মধ্যেও এই আকাঙ্খা কাজ করে। প্রতিটি জীবন্ত বস্তু তার পরবর্তী বংশধর (Next generation) টিকিয়ে রাখার জন্য বংশবৃদ্ধি করে। আর এর জন্য প্রয়োজন পরস্পর দুই বিপরীত লিঙ্গের (পুং ও স্ত্রী) মধ্যস্থতা। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা মারইয়াম (আঃ)- এর গর্ভে পুরুষের স্পর্শ ব্যাতিরেকে প্রদান করেছিলেন হযরত ঈসা (আঃ)-কে। দুনিয়ার মানুষের কাছে এই ঘটনাটি আল্লাহ তা’আলার অলোকিকত্বের একটা উজ্জ্বল নিদর্শন। তার প্রেরিত গ্রন্থটিও নিঃসন্দেহে একটি বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ। আর কুমারী মারইয়ামের গর্ভে হযরর ঈসা (আঃ)- এর জন্মও তিনি কোন বৈজ্ঞানিক পদ্বতির মাধ্যমে করেছেন তাতে কোন সন্দেহ নেই, যেহেতু তিনি বিজ্ঞানময়। নিম্নে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচিত হ’ল।–

আল্লাহপাক এরশাদ করেন,

قَالَتْ رَبِّ أَنَّىٰ يَكُونُ لِي وَلَدٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ ۖ قَالَ كَذَٰلِكِ اللَّهُ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ ۚ إِذَا قَضَىٰ أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُن فَيَكُونُ [٣:٤٧]
‘মারইয়াম বললেন, ‘পরওয়ারদেগার! কেমন করে আমার সন্তান হবে; আমাকে তো কোন পুরুষ স্পর্শ করেনি।!’ আল্লাহ বললেন, ‘এভাবেই আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন।’ যখন কোন কাজ করার ইচ্ছা করেন তখন বলেন যে, ‘হয়ে যাও’ অমনি তা হয়ে যায়’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত নং- ৪৭)।

সূরা মারইয়ামে বলা হয়েছে,

قَالَتْ أَنَّىٰ يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ وَلَمْ أَكُ بَغِيًّا [١٩:٢٠]قَالَ كَذَٰلِكِ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ ۖ وَلِنَجْعَلَهُ آيَةً لِّلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِّنَّا ۚ وَكَانَ أَمْرًا مَّقْضِيًّا [١٩:٢١]

‘মারইয়াম বলল, কিরূপে আমার পুত্র সন্তান হবে, অথচ কোন পুরুষ আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যাভিচারিণীও নই? সে (ফেরেস্তা) বলল, এমনিতেই হবে। তোমার পালনকর্তা বলেছেন, এটা আমার সহজসাধ্য এবং আমি তাকে মানুষের জন্য একটি নিদর্শন ও আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ স্বরূপ করতে চাই। এটা তো এক স্থিরীকৃত ব্যাপার’ (মারইয়াম ২০-২১)।

মানব অস্তিত্বে কুমারীর গর্ভে সন্তান ধারণের ঘটনাটি অসাধারণ এবং ইহা বৈজ্ঞানিকদের দ্বারা ব্যাখ্যা প্রদানও সম্ভব ছিল না। যতই দিন যাচ্ছে মানুষের জ্ঞানের পরিধি ক্রমে ক্রমে বেড়ে চলছে সব বিষয়ে। কাজেই এদিকেও বিজ্ঞানীরা বসে নেই। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আল্লাহর সৃষ্টি নিয়েই অব্যাহত রেখেছেন। বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ আল-কোরআনের উপর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গবেষণা চলছে। ইতিমধ্যে অনেক কিছু উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। অনেক, অমুসলিম বিজ্ঞানী গবেষণা করতে করতে মুসলমানও হয়েছেন। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করা সম্ভব হয়েছে। তাই আমরা পুরুষ সঙ্গী (Male partner) ছাড়াও সন্তান (offspring) জন্মের রহস্য খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছি। এটা অবশ্য আল্লাহ তা’আলার একটা বিশেষ রহমত যার দ্বারা আমরা জোরালো যুক্তি সহকারে ব্যাখ্যা দিতে পারছি।

আল্লাহপাক এই বিশ্বকে কতকগুলি নিয়মের অধীনে তৈরি করেছেন।  যেখানকার প্রতিটি উপাদান (জীব ও জড়) এই নিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমরা যদি তাঁর এই বিশাল সৃষ্টি জগতে পুরুষ সঙ্গী ব্যতীত জন্ম খুঁজি, তা’হলে দেখতে পাই যে, Natural parthenogenesis বা প্রাকৃতিক কুমারী জন্ম।

এখানে Parthenogenesis শব্দটির সম্পর্কে একটু ধারণা দেওয়া প্রয়োজন। এই শব্দটি দু’টি গ্রীক শব্দ হ’তে উৎপত্তি হয়েছে। একটি Parthenos=Virgin, যার অর্থ হ’ল কুমারী; অপরটি genesis= Origin অর্থাৎ উৎপত্তি বা জন্ম। অর্থাৎ Parthenogenesis  এর অর্থ হ’ল কুমারী হ’তে জন্ম বা উৎপত্তি (Virgin Birth)। সুতরাং পুরুষের শুক্রানু (Sperm) ছাড়াই স্ত্রীর ডিম্বানু (Ovum) হ’তে সন্তান (Offspring) উৎপত্তির প্রক্রিয়াকে Parthenogenesis বলে।

শুক্রানু ব্যতিরেকে শুধু মাত্র ডিম্বানু হ’তে সন্তান উৎপত্তির প্রক্রিয়াটি আপাত দৃষ্টিতে আমাদের নিকট অস্বাভাবিক মনে হ’লেও এটা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া,যা বিধাতা কর্তৃক প্রদত্ত।

আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে অস্বাভাবিক মনে হয়। প্রকৃতিতে অনেক উদ্ভিদ বিদ্যমান আছে, যাদের পুং ও স্ত্রী যৌনকোষ ব্যাতিরেকেও ফল প্রদান করে। যেমন কলা, আঙ্গুর, আনারস ইত্যাদি। এসব ফলের সাধারণতঃ বীজ হয় না। কোন ক্ষেত্রে হ’লেও Sterile বা বন্ধ্যা হয়।

সাধারণভাবে যেকোন উদ্ভিদ ও প্রাণীর ডিম্বানু একটি নতুন জীবের সুপ্তাবস্থা ধারণ করে। যা পুরুষের শুক্রানুর সংস্পর্শে এসে আল্লহর ইচ্ছায় একটি নতুন বংশধর বিকাশ লাভ করে। উদ্ভিদ ও প্রাণী জগতে বংশবৃদ্ধির এই পদ্ধতিটি হল Sexual Reproduction বা যৌন প্রজনন। এই প্রক্রিয়া পুং গ্যামেট (শুক্রানু) ও স্ত্রী গ্যামেটের (ডিম্বানু) মিলনে অতি-আনুবীক্ষনিক ভ্রুনানু (Zygote) উৎপন্ন করে, যা অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পুর্ণাঙ্গ জীবে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়াটি সংঘটিত হয় সম্পুর্ণ আল্লাহ্‌র ইচ্ছায়। উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করা যায়, মানুষের ক্ষেত্রে একবার যৌন সঙ্গমে (Copulation) পুরুষের বীর্য স্খলিত  হয় ৩-৫ মিলিলিটার।  এতে ২০-৩০ কোটি শুক্রানু থাকে। 

সাধারণতঃ যার একটি শুক্রানু স্ত্রীর জরায়ুতে অবস্থানরত একটি ডিম্বানুর সাথে মিলিত হয়ে ভ্রুনানু (Zygote) উৎপন্ন করে। এখানে ২০-৩০ কোটি শুক্রানুর প্রতিটি জীবন্ত শুক্রানু  স্ত্রী জরায়ুতে অপেক্ষমান ডিম্বানুটির সাথে মিলিত হওয়ার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু একটিমাত্র মিলিত হয়, যা মহান আল্লাহ্‌র একান্ত ইচ্ছা ছাড়া সম্ভব নয়।

কোন কোন সময় কিছু প্রাণীর ডিম্বানু কিছু সুনির্দিষ্ট অবস্থার ভিত্তিতে শুক্রানু দ্বারা নিষিক্ত হওয়া ছাড়াও একটি নতুন জীব develop করে। যাকে প্রাকৃতিক পার্থিনোজেনেসিস বলে। এই প্রক্রিয়া সাধারণতঃ কিছু নিম্নশ্রেনীর প্রাণীতে দেখা যায়। বিশেষ করে Arthropods বা সন্ধিপদ যুক্ত প্রাণীতে। সুতরাং ‘পার্থিনোজেনেসিস’ হ’ল যৌন প্রজননের একটি রুপান্তরিত অবস্থা (Modified form) যা শুক্রানু ব্যতীত ডিম্বানু বিকাশের মাধ্যমে ঘটে। ডিম্বানু বিকাশের এরূপ সুপ্তাবস্থা (Potentiality) পরীক্ষামুলকভাবে বিভিন্ন পদ্ধতির (Mechanism) মাধ্যমে মুক্ত (Release) করা যায়।
প্রত্যেকটি জীবন্ত জীবের (Living organism) ক্রোমোজম নাম্বার নির্দিষ্ট। আল্লাহ তা’আলা পৃথিবীতে জীব প্রেরণের সময় এই সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। যার পরিবর্তন ঘটলে মৃত্যুই স্বাভাবিক পরিণতি। গ্যামিটোজেনেসিস বা যৌনকোষ (শুক্রানু ও ডিম্বানু) সৃষ্টির সময় এই ক্রমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়। অর্থাৎ শুক্রানু ও ডিম্বানু হ’ল পুং ও স্ত্রীর পুর্ণাঙ্গ ক্রমোজোম (2n) সংখ্যার অর্ধেক।পুরুষ ও স্ত্রীর মিলনের পর উভয়ের এই অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোজোম বিশিষ্ট যৌনকোষ একত্রিত হয়ে পুর্ণাঙ্গ সেট (2n) ক্রমোজোম বিশিষ্ট ভ্রুনানু (Zygote) গঠিত হয়, যা বিকাশ লাভের পর পুর্ণাঙ্গ জীবে পরিণত হয়। যার ফলে প্রতিটি জীবে আদি ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান থাকে। এই প্রক্রিয়াগুলি এত জটিল যে, বিধাতার নিপুন হাত ছাড়া এগুলো বাস্তবায়ন অসম্ভব।

তাইতো আল্লাহ তা’আলা বলেন,
‘তিনিই সেই আল্লাহ,যিনি তোমাদের আকৃতি গঠন করেন মায়ের গর্ভে, যেমন তিনি চান। তিনি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। তিনি প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’(আলে ইমরান ৬)।
এই আয়াতে আল্লাহ তা’আলার পরিপূর্ণ শক্তি এবং সর্ববিষয়ে সার্বিক সামর্থ্যের কথা বর্ণনা করা হয়েছে যে, মানুষকে জননীর উদরে কিরূপ নিপুণভাবে গঠন করেছেন। তাদের আকার-আকৃতি ও বর্ণবিন্যাসে এমন শিল্পীসুলভ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন যে, একজনের আকার-আকৃতির সাথে অন্যজনের কোনরূপ মিল নেই।
প্রাকৃতিতে নিম্নশ্রেণীর প্রাণিতে যে পার্থিনোজেনেসিস দেখা যায় তাতে ক্রোমোজম সংখ্যা অর্ধেক হয় না। অর্থাৎ শুক্রানুর মিলন না হয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে সন্তান বিকাশ লাভ করে। ইহা এক ধরনের Parthenogenesis । অন্য এক ধরনের Parthenogenesis হ’ল, এখানে কোষের হ্রাসকরণ বিভাজন হয়ে অর্ধেক ক্রোমোজম বিশিষ্ট যৌনকোষ ( Sex cell) উৎপন্ন হয়, যা পুরুষের শুক্রানু দ্বারা নিষিক্ত হয় অথবা হয় না।

ডিম্বানু শুক্রানু দ্বারা নিষিক্ত না হ’লে পুরুষ প্রজাতি উৎপন্ন হয় এবং নিষিক্ত হ’লে স্ত্রী প্রজাতির প্রাণী উৎপন্ন হয়। এই ধরণের অদ্ভুত প্রজননের ঘটনা পৃথিবীর মানুষকে অবাক করে দিয়েছে। শুক্রানুর অনুপস্থিতিতে অর্থাৎ অনিষিক্ত ডিম হ’তে পুরুষ প্রজাতির উৎপন্নের প্রক্রিয়াই Parthenogenesis.  মৌমাছি তার উৎকৃষ্ট উদাহরন। তাছাড়া পিপড়া, বোলতা প্রভৃতি এর অন্তর্ভুক্ত। এসকল প্রাণীতে যৌন (Sexual) ও অযৌন (Asexual) প্রজনন একই সময়ে ঘটে।

জলজ Rotidera শ্রেণীর পোকামাকড় এবং মরুভুমির চাবুকের মত লেজবিশিষ্ট টিকটিকির পুরুষ প্রজাতি এখনও অজানা। এসব প্রাণী পুরুষ ব্যতীত পার্থিনোজেনেটিকভাবে সন্তান উৎপন্ন করে।

এতক্ষন আমরা প্রাকৃতিক পার্থিনোজেনেসিস সম্পর্কে জানলাম। নিম্নে কৃত্রিম সম্পর্কে কিছু জানব।–
বর্তমানে বিভিন্ন উদ্ভিদের উপর কৃত্রিমভাবে পার্থিনোজেনেসিস প্রয়োগ করে বিজ্ঞানীরা সফলতা অর্জন করেছে। উদ্ভিদ বিজ্ঞানের হর্টিকালচার শাখায় এর ব্যবহার করা হয়। ১৯০০ সালের প্রথম দিকে জীববিজ্ঞানীরা প্রথম কৃত্রিমভাবে (Artificially) অমেরুদন্ডি প্রাণীর উপর গবেষণা করেছিল। কয়েক দশক পূর্বে মেরুদন্ডি প্রাণী এমনকি স্তুন্যপায়ী প্রাণীর উপর (খরগোশ) নিষেক ব্যতীত কৃত্রিমভাবে বিকাশের জন্য গবেষণা চালানো হয়েছিল। এসব পরীক্ষার ফলাফল অসম্পুর্ণ বা কদাচিৎ ভ্রুনাবস্থার পর টিকেছিল।

শুধুমাত্র খরগোশ ব্যতীত অন্য কোন স্তন্যপায়ীতে পার্থিনোজেনেসিস প্রক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়নি। তবে যদিও মানুষের ক্ষেত্রে কুমারী হ’তে সন্তান জন্ম সাধারণতঃ ঘটে না, কিন্তু ইহা জীববৈজ্ঞানিকভাবে (Biologically) নিয়ম বহির্ভুত নয়।

পার্থিনোজেনেসিস যখন স্তন্যপায়ীতে সম্ভব, তখন অনুমান করা যেতে পারে যে, মহা বৈজ্ঞানিক আল্লাহ তা’আলা তাঁর পার্থিনোজেনেসিস প্রক্রিয়া মারইয়াম (আঃ)-এর উপর প্রয়োগ করেছিলেন। আল্লাহ তা’আলার আদেশ হওয়া মাত্র মারইয়ামের ২৩ টি (n) ক্রোমোজম (সম্ভবতঃ) অনুলিপন (Duplication) হয়ে দিগন্ত অর্থাৎ ৪৬ টি (2n) ক্রোমোজম বিশিষ্ট ভ্রুনানু (Zygote) গঠিত হয়েছিল। সেখানে মানব রূহ বিদ্যমান ছিল। যা বিকাশ লাভের মাধ্যমে ঈসা (আঃ)-এর আবির্ভাব হয়েছিল।

‘অতঃপর তাদের থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্য সে পর্দা করল। অতঃপর আমি তার কাছে আমার রূহ প্রেরণ করলাম, সে তার নিকট পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করল’ (মারইয়াম ১৭)।

আল্লাহ সর্বশক্তিমান। তাঁর ক্ষমতার বাইরে কিছু নেই । তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, যা ইচ্ছা ধ্বংস করেন। ‘তিনি যখন কোন কাজ করার ইচ্ছা করেন তখন বলেন যে, ‘হয়ে যাও’ আর অমনি হয়ে যায়’(আলে ইমরান ৪৭)। যেহেতু তিনি মহা বৈজ্ঞানিক সেহেতু তার প্রতিটি কাজ নিশ্চয়ই কোন বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে হয়। ঈসা (আঃ)- এর জন্মও নিশ্চয়ই কোন বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি দিয়েছেন শুক্রানুর মিলন ছাড়া। আর সেটা হ’তে পারে পার্থিনোজেনিসেস বা কুমারী হ’তে সন্তান (Offspring) জন্ম।

আমরা মানুষ। আল্লাহর তুলনায় আমাদের জ্ঞানের পরিধি অত্যন্ত নগণ্য। তার জ্ঞানের বিশালত্বকে আমাদের ক্ষুদ্র জ্ঞানে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। আমরা যতটুকু অর্জন করেছি তা যৎসামান্যই বলা চলে। তাঁর দেওয়া মহাগ্রন্থকে বেশী বেশী অধ্যয়ন ও গবেষণার মাধ্যমে আমরা তাঁর (আল্লাহ) ক্ষমতা সম্পর্কে ও তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হব। আল-কুরআনকে যদি আমরা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্লেষন করি, তাহ’লে এই বিশ্বের বৈচিত্রতা সম্পর্কে আরও ভালভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হব। আমাদের ঈমানী শক্তিও সুদৃঢ় হবে। তাই আসুন ! আমরা কুরআনকে নির্দেশক হিসাবে সামনে রেখে বিজ্ঞান চর্চা করি এবং বিজ্ঞানের আলোকে কুরআন বুঝার চেষ্টা করি।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফীক্ব দিন। আমীন!!!

উত্স: পুরনো আত-তাহরীক।


Scientific Indication’s in the Holy Quran,(Dhaka: Islamic Foundation Bangladesh, Second Edition: June, 1995).P.98

PETER H. RAVEN & GEORGE B. JOHANSON, BIOLOGY (Washington University, St. Louis, Missouri, TIMES MIRROR/MOBSY COLLEGE PUBLISHING-1986 )

GAZI AZMOL & ASMOT, ZOOLOGY (Gazi Publishers Banglabazar DHAKA-1100, APRIL-1995).

Scientific Indication’s in the Holy Quran, P. 99. Quoted from: Bealy, R.A. Parthenogenesis and poly-ploidy in Mammalion Development, (Cambridge University press, 1957).

Scientific Indication’s in the Holy Quran, P.99. Quoted from: Storer T.I., Usinger, R.L, Stebins, R.C and Nybakken, J.W., General Zoology, (TMH edition: Tata Mcgraw Hill publishing Co. Ltd, New Delhi 199, 1975 )

HELENA CURITS BIOLOGY By SALLY ANDERSON, WORTH PUBLISHERS, INC, 444 PARK AVENUE SOUTH NEW YORK, NEW YORK-10016

Scientific Indication’s in the Holy Quran, P. 100.

মতামত দিন