প্রশ্ন ও উত্তর সীরাত

প্রশ্নোত্তরে রাসূল (সা)-এর জীবনী (পর্ব-৯)

ইসলামের চরম শত্রু  আবু লাহাব ও উকবা

প্রশ্ন: আবু লাহাব কে ?
উত্তর: আবু লাহাব ছিল রাসূল (সা)-এর চাচা এবং মক্কার একজন নেতৃস্থানীয় নেতা।
প্রশ্ন: আবু লাহাবের স্ত্রী কে ছিল ?
উত্তর: তার স্ত্রী ছিল আবু সুফিয়ানের বোন আওরায়া বিনতে হারব। তার উপনাম ছিল উম্মে জামীল।
প্রশ্ন: রাসূল (সা)-এর সাথে তার ব্যবহার কিরুপ ছিলো ?
উত্তর: রাসূল (সা)-এর চাচা হওয়া সত্ত্বেও সে ছিল ইসলাম ও মুসলিমদের চরম শত্রু। মুসলিমদের উপর নির্যাতন তীব্রতর করার প্রস্তাব সেই রেখেছিলো।
প্রশ্ন: তার স্ত্রী উম্মে জামীল (রা) রাসূল (সা)-এর সাথে কেমন আচরণ করতো ?
উত্তর: স্বামীর মতো সেও রাসূল (সা) এর সাথে ঘৃণা ও শত্রুতাপূর্ণ আচরণ করতো। রাসূল (সা)-কে কষ্ট দেয়ার জন্য সে রাসূল (সা)-এর বাড়ির সামনে প্রায়ই ময়লা-আবর্জনা ও কাটা বিছিয়ে রাখতো।
প্রশ্ন: রাসূল (সা) সম্পর্কে মানুষের কাছে আবু লাহাব কী বলত ?
উত্তর: ইসলামের প্রকাশ্য দুশমন আবু লাহাব প্রকাশ্যে বলত, “ হে মানুষেরা! তোমরা তার কথা শুনবে না কারণ সে একজন মিথ্যাবাদী ও ধর্মত্যাগী”।
প্রশ্ন: রাসূল (সা)-এর বিরুদ্ধে আবু লাহাব কী করল?
উত্তর: রাসূল (সা)কে অপমান করার জন্য সে কৌশল বের করল। সে রাসূল (সা)-কে পাথর ছুড়ে মারল, তার দুই ছেলে উতবা ও উতাইবাকে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দুই মেয়ে রুকাইয়া ও উম্মে কুলসুমকে তালাক প্রদানের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এমনকি রাসূল (সা)-এর দ্বিতীয় ছেলে ইন্তিকালে সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ল এবং রাসূল (সা)-কে নির্ব্বংশ বলে বেড়াতে লাগলো।
প্রশ্ন: তার ছেলে উতাইবা রাসূল (সা)-এর সাথে কীরূপ ব্যবহা করেছিল ?
উত্তর: একদিন উতাইবা রাসূল (সা)-এর কাছে এগিয়ে আসলো এবং কর্কশভাবে চিত্কার করে বলতে লাগলো, “আমি আপনার শিক্ষায় বিশ্বাসী নই। এরপর সে রাসূল (সা)-এর উপর হিংস্র হাত উঠাল এবং তার মুখে থুথু নিক্ষেপ করলো। কিন্তু রাসূল (সা)-এর পবিত্র মুখে থুথু পড়েনি। তার এমন আচরণে রাসূল (সা) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন, “হে আল্লাহ! তোমার কুকুরদের মধ্য থেকে একটি কুকুর তার উপর নাযিল কর”।
প্রশ্ন: উতাইবার কী পরিণতি হয়েছিলো?
উত্তর: একবার উতাইবা তার দেশের কিছু লোকের সাথে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হল এবং ‘যারাকা’ নামাক স্থানে যাত্রা বিরতি করল। হঠাত একটি সিংগ তাদের কাছে এসে তাদের মাঝখান থেকে উতাইবাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল এবং তার মাথা ছিন্ন ভিন্ন করে খেয়েছিল।
প্রশ্ন: উকবা বিন আবি মুয়িত কে?
উত্তর : সেও মক্কার একজন নেতা যে রাসূল (সা) ও মুসলিমদের উপর অত্যাচার করতো।
প্রশ্ন: সে রাসূল (সা)-এর সাথে কী আচরণ করতো ?
উত্তর: সে উটনীর নাড়ি-ভূড়ির ময়লা-আবর্জনা এনে রাসূল (সা)-এর উপর রাখত। এ নিকৃষ্ট কাজে কাফিরদের মধ্যে হাসির বন্যা বয়ে যেত।
প্রশ্ন: রাসূল (সা)-এর পিঠ থেকে নোংরা আবর্জনাগুলো কে পরিস্কার করতো ?
উত্তর : ফাতিমা (রা) এসে তার বাবার পিঠ থেকে এ নোংরা আবর্জনাগুলো পরিস্কার করতো।
প্রশ্ন: রাসূল (সা)-এরপর কী করতেন ?
উত্তর: তিনি উকবার উপর আল্লাহর গযবের বা আযাবের প্রার্থনা করতেন।
প্রশ্ন: সালাত পড়ার সময় রাসূল (সা)-এর সাতে কী করতো ?
উত্তর: একবার রাসূল (সা) সালাত পড়ছিলেন এমন সময় উকবা এসে তার গলায় পা রাখল এবং তার চোখগুলো সামনের দিকে বেরিয়ে আসার আগ পর্যন্ত ধরে রাখল।
প্রশ্ন: পরবর্তীতে রাসূল (সা) যখন সালাতের সেজদায় যেতেন তখন উকবা তার মাথায় কী নিক্ষেপ করতো ?
উত্তর: সে ভেড়ার নাড়ি-ভূড়ি এনে রাসূল (সা)-এর মাথায় নিক্ষেপ করত।
প্রশ্ন: কে রাসূল (সা)-এর মাথা থেকে এগুলো পরিষ্কার করতেন ?
উত্তর: রাসূল (সা)-এর মেয়ে ফাতিমা (রা)।
প্রশ্ন: উকবার কি রাসূল (সা)-কে মারার চেষ্টা করেছিলো ?
উত্তর : হ্যাঁ, সে রাসূল (সা)-এর গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মারার চেষ্টা করেছিলো।
প্রশ্ন: রাসূল (সা)-কে বাঁচানোর জন্য কে এগিয়ে এসেছিলো ?
উত্তর: আবু বকর (রা) রাসূলকে বাঁচাতে এলেন। তিনি উকবাকে শক্তভাবে ধরে ধাক্বা মেরে রাসূল (সা) থেকে তাকে আলাদা করে দিলেন।
প্রশ্ন : আবু বকর (রা) তাকে কি বললেন ?
উত্তর: তিনি বললেন, “তুমি কি এ কারণে এক ব্যক্তিকে হত্যা করবে, যে বলে তার শাসনকর্তা আল্লাহ”।
প্রশ্ন: উকবার কি পরিণতি হয়েছিলো ?
উত্তর: বদর যুদ্ধে তাকে বন্দী করা হয়। পরে রাসূল (সা)-এর নির্দেশে সাফরা নামক স্থানে আলী বিন আবি তালিব তাকে হত্যা করে।

(চলবে)

এ সম্পর্কিত অন্যান্য পোস্টগুলো :

  1. প্রশ্নোত্তরে রাসূল (সা)-এর জীবনী (পর্ব-১)
  2. প্রশ্নোত্তরে রাসূল (সা)-এর জীবনী (পর্ব-২)
  3. প্রশ্নোত্তরে রাসূল (সা)-এর জীবনী (পর্ব-৩)
  4. প্রশ্নোত্তরে রাসূল (সা)-এর জীবনী (পর্ব-৪)
  5. প্রশ্নোত্তরে রাসূল (সা)-এর জীবনী (পর্ব-৫)
  6. প্রশ্নোত্তরে রাসূল (সা)-এর জীবনী (পর্ব-৬)
  7. প্রশ্নোত্তরে রাসূল (সা)-এর জীবনী (পর্ব-৭)
  8. প্রশ্নোত্তরে রাসূল (সা)-এর জীবনী (পর্ব-৮)

 

মতামত দিন