সলাত

নামাযের কাযা প্রসঙ্গ

নামাযের কাযা প্রসঙ্গ

নামাযের কাযা বলে ইসলামী শরীয়তে কোন কিছু নেই। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায আমাদের উপর ফরয। নামায ফরযের পর থেকে কাউর কারণবশত, অবহেলায়, ঘুমে, বিরুপ আবহাওয়া নামায ছুটে যায় তাহলে সে নামায তাকে পরে অবশ্যই আদায় করতে হবে। কোনভাবে নামায মাফ হবে না। যতক্ষণ আপনার হুশ থাকবে ততক্ষণ নামায পড়তেই হবে। কোমায় বা অজ্ঞান অবস্থায় যে নামায ছুটে যায় তা আদায় করতে হবে না। বাকী অসুস্থাতার দরুন নামাজ ছুটে গেলে, সুস্থ হওয়ার পর তা আদায় করে দিতে হবে। নামাযের কাফফারা বলে আমাদের দেশে যে প্রথা আছে তা শরীয়তে কোন বৈধতা নাই।

আনাস রা. থেকে বর্ণিত রাসূল স: বলেন:
إِذَا رَقَدَ أَحَدُكُمْ عَنِ الصَّلاَةِ أَوْ غَفَلَ عَنْهَا فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا فَإِنَّ اللَّهَ يَقُولُ أَقِمِ الصَّلاَةَ لِذِكْرِى
“যখন তোমাদের কেউ নামায ছেড়ে ঘুমিয়ে পড়ে, বা নামায থেকে গাফেল হয়ে যায়, তাহলে তার যখন বোধোদয় হবে তখন সে যেন তা আদায় করে নেয়। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-আমাকে স্মরণ হলে নামায আদায় কর।” (সহীহ মুসলিম: ১৬০১; মুসনাদে আহমাদ: ১২৯৩২; সুনানে বায়হাকী কুবরা: ৪১৮২)

হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ বলতেন- “যে ব্যক্তি নামাযের কথা ভুলে যায় তারপর তা স্মরণ হয় ইমামের সাথে জামাতে নামাযরত অব্স্থায়, তাহলে ইমাম সালাম ফিরানোর পর যে নামায ভুলে পড়েনি, তা আদায় করবে, তারপর অন্য নামায পড়বে।”(মু্য়াত্তা মালিক: ৫৮৪, সুনানে বায়হাকী কুবরা: ৩০১২)

অনেক মুসলিম নামায ফরজ হওয়ার পর নামায আদায় করে নাই, আতঃপর জীবনের কোন এক পর্যায়ে এসে নামায আর ছেড়ে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। এই অবস্থায় তিনি ছুটে যাওয়া নামাযের জন্য আল্লাহর দরবারে তাওবা করবেন। একজন মুসলিম তার সকল প্রকার পাপ পঙ্কিলতা হতে যখন খাটি তওবা করবে তখন এই তওবার বিনিময়ে আল্লাহ তার পূর্বের সমস্ত গুনাহখাতা মাফ করে দিবেন। ইহা কোরআন ও হাদিস থেকে প্রমানিত এবং অধিকাংশ আলেমদের মত।

তাওবার তিনটি শর্ত রয়েছে-
(১) পূর্বে যা গত হয়েছে তার ব্যাপারে অনুতপ্ত হওয়া;
(২) সালাত ত্যাগ একেবারে ছেড়ে দেয়া; এবং
(৩) এ মর্মে দৃঢ় সংকল্প করা যে, এ কাজে আপনি আর কখনও ফিরে যাবেন না।

যে তাওবাহ করে আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল করেন।

আল্লাহ -সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা- বলেছেন: “হে মু’মিনগণ তোমরা সবাই আল্লাহর নিকট তাওবাহ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” [আন-নূর : ৩১]

আল্লাহপাক আরো বলেন: “আর যে তাওবাহ করে, ঈমান আনে, সৎকর্ম করে এবং হিদায়াতের পথ অবলম্বন করে, নিশ্চয়ই আমি তার প্রতি ক্ষমাশীল।” [ত্বাহা : ৮২]

এরপর তিনি পাবন্দির সহিত নামায আদায় করবেন এবং বেশী বেশী করে নাফল নামায পড়বেন, যাতে তার ছুটে যাওয়া নামাযের ঘটতি পূরণ হয়।

কিছু কিছু উলামাগণ বলে থাকেন নামাযের কাযা দিতে হবে। তাদের মাঝে একজন হলেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়াহ। নিয়মটা এরূপ, কেউ ৫ বছর নামায পড়লো না, সে আগামী পাঁচ বছরে প্রতি নামাযের পূর্বে ঐ ওয়াক্তে ফরজ নামাযের সমপরিমাণ অতিরিক্ত নামায আদায় করিবেন। অর্থাত্ ফজর হলে ২ রাকাত, জোহর ৪ রাকাত, আসর ৪ রাকাত, মাগরিব ৩ রাকাত, এবং এশা ৪ রাকাত ফরয আদায় করবে। এরা ফাতাওয়াটা দিয়েছেন রোজার উপর কিয়াস করে। রোজা যেমন ফরয তেমনি নামাযও ফরয। রোজার কাযা রয়েছে কিন্তু নামযের কোন কাযা নাই, তাই কিছু উলামা রোজার কিয়াসের ভিত্তিতে নামায কাযা আছে বলে। তবে এই পদ্ধতিটা খুবই আপত্তিকর। প্রতি ওয়াক্তে এইভাবে নামায সে কি আদায় করতে পারবে? আল্লাহ না করুক, সে যদি ঐ অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে তাহলে তাকে ঐ ছুড়ে নামাযের জবাবদিহিতা করতে হবে। কিন্তু তাওবা করলে অতীতে সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়। কতই না সহজ এই পদ্ধতি।

যে ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগ করে, সঠিক মতানুসারে তার উপর কোনো কাযা নেই। বরং তাকে আল্লাহ তা‘আলার কাছে তাওবাহ করতে হবে; কারণ সালাত ইসলামের স্তম্ভ, তা ত্যাগ করা ভয়াবহ অপরাধসমূহের একটি। বরং ইচ্ছাকৃতভাবে তা (সালাত) ত্যাগ করা ‘বড় কুফর’ যা ‘আলিমগণের দুটি মতের মধ্যে সবচেয়ে সঠিকটি, কারণ রাসূল (স:) থেকে প্রমাণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: “আমাদের ও তাদের (কাফেরদের) মাঝে চুক্তি হলো সালাত; তাই যে তা ত্যাগ করে, সে কাফের হয়ে গেলো।” [ইমাম আহমাদ ও সুনানের সংকলকগণ সহীহ ইসনাদ সূত্রে বুরাইদাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-হতে বর্ণনা করেছেন] সুতারং তাওবা করুন, এবং নামাযে পুনঃরায় ফিরে আসুন।

সূত্র

মতামত দিন