আক্বীদা

‘মুনাফিকী’র পরিচয়

মুনাফিকী একটি মারাত্মক ব্যাধি। এ ব্যাধি মানুষকে ইসলাম থেকে দূরে ঠেলে দেয়। এর ক্ষতিকর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। মানুষের মনকে কলুষিত করার যত রকম ব্যাধি আছে তন্মধ্যে মুনাফিকী অন্যতম বড় ব্যাধি। মানুষ স্বেচ্ছায় মুনাফিক হয়ে যায় না, বরং তার অজান্তেই এ ব্যাধিতে সে আক্রান্ত হয়। বিশেষতঃ আমলী (কর্মগত) নিফাকের বেলায় একথা খুবই প্রযোজ্য। এর মানে এই নয় যে, মানুষ এর মুকাবিলা না করে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে এবং নিজেকে এত্থেকে রক্ষা না করে যে এ বিষয়টাকে হেয় জ্ঞান করে তার ভুল ধরবে। কেননা মুনাফিকী মানুষের সব সৎ ও ভাল গুণ ছিনিয়ে নেয়। তাকে সৎ আমল সমূহ থেকে বঞ্চিত করে এবং উন্নত মূল্যবোধগুলো তার কাছ থেকে কেড়ে নেয়। এক পর্যায়ে তাকে সমাজে পরিত্যক্ত পরাভূত মানুষে পরিণত করে। এজন্যই কুরআন মাজীদের একাধিক সূরায় মুনাফিকদের স্বরূপ উন্মোচিত করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের খারাপ বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

এই গ্রন্থে আমরা মুনাফিকীর পরিচয়, প্রকারভেদ, মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য এবং তা থেকে বাঁচার উপায় নিয়ে আলোচনা করব। এই গ্রন্থ প্রস্তত ও প্রকাশের প্রতিটি স্তরে যারা যারা অংশ নিয়েছেন, আমি তাদের প্রত্যেককে কৃতজ্ঞতা জানাই। আর আল্লাহ যেন অনুগ্রহ ও শান্তি বর্ষণ করেন আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর উপর।

6926894-dark-flame-hd111

মুনাফিকীর পরিচয়

আভিধানিক অর্থে :

আরবী ভাষায় ن (নূন), ف (ফা) ও ق (ক্বাফ) বর্ণ তিনটি দ্বারা গঠিত শব্দের দু’টি উচ্চারণ রয়েছে- نَفَقَ ও نَفِقَ তন্মধ্যে একটির অর্থ বিচ্ছিন্ন হওয়া, বিদূরিত হওয়া এবং অন্যটির অর্থ কোন জিনিস গোপন করা, উপেক্ষা করা। শব্দটি اَلنَّفَقُ থেকে নির্গত। এ শব্দটির অর্থ মাটির মধ্যস্থিত গর্ত বা সুড়ঙ্গ, যার মধ্যে লুকিয়ে থাকা যায়। মুনাফিককে এজন্য মুনাফিক বলা হয়েছে যে, মুনাফিক তার কুফরী বিশ্বাসকে মনের মাঝে লুকিয়ে রাখে।[1] যদিও মুনাফিকীর বিষয়টি আরবী ভাষায় সুবিদিত। তবুও আরবরা শব্দটিকে কোন বিশেষ অর্থে নির্দিষ্ট করেনি।

[বাংলা ভাষায় ‘মুনাফিক’ শব্দটির অর্থ কপট, ভন্ড, দ্বিমুখী নীতি বিশিষ্ট, শঠ, প্রবঞ্চক, সত্য গোপনকারী ইত্যাদি এবং মুনাফিকী অর্থ প্রতারণা, শঠতা, কপটাচার, ভন্ডামি ইত্যাদি (বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, পৃঃ ৯৯২)।-অনুবাদক]

শরী‘আতের পরিভাষায় মুনাফিকী :

ভালকে প্রকাশ করা এবং মন্দকে গোপন রাখার নাম মুনাফিকী। ইবনু জুরাইজ বলেছেন, মুনাফিক সেই যার কথা তার কাজের, গোপনীয়তা প্রকাশ্যতার, ভেতর বাহিরের এবং বাহ্যিকতা অদৃশ্যমানতার বিপরীত।[2]

মুনাফিকীর প্রকারভেদ :

মুনাফিকী বড় ও ছোট এই দু’ভাগে বিভক্ত। ইমাম ইবনু তায়মিয়া (রহঃ) বলেছেন, ‘কুফরের মতই মুনাফিকীর স্তর ভেদ আছে। এজন্য অনেক সময় বলা হয়, এমন কুফর যা ইসলাম থেকে বের করে দেয় এবং এমন কুফর যা ইসলাম থেকে বের করে না। অনুরূপ বড় মুনাফিকী (نفاق أكبر) ও ছোট মুনাফিকী (نفاق أصغر)।[3]

১. বিশ্বাসগত মুনাফিকী (বড় মুনাফিকী) : যে মুনাফিক বাইরে নিজের ঈমান ও ইসলাম যাহির করে কিন্তু নিজের মনের মাঝে কুফরী লালন করে, সে আক্বীদাগত মুনাফিক। এ ধরনের মুনাফিক রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুগে ছিল। এদেরই নিন্দায় কুরআন নাযিল হয়েছে এবং এদেরকে কুরআন কাফির বলেও ঘোষণা দিয়েছে। কুরআনের বার্তা অনুযায়ী এরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে বসবাস করবে। ইবনু রজব বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা, তাঁর ফেরেশতা মন্ডলী, তাঁর গ্রন্থাবলী, তাঁর রাসূলগণ ও পরকালের প্রতি ঈমানের কথা যে মুখে প্রকাশ করে কিন্তু এর সবগুলো কিংবা অংশবিশেষকে অন্তরে অবিশ্বাস করে সে বড় মুনাফিক।[4] ফকীহ বা মুসলিম আইনজ্ঞরা কখনো কখনো মুনাফিক এর স্থলে ‘যিনদীক’ শব্দ ব্যবহার করে থাকেন। ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেছেন, ‘এক শ্রেণীর যিনদীক আছে যারা বাহ্যিকভাবে ইসলাম ও রাসূলগণের অনুসরণের কথা প্রকাশ করে এবং মনের মাঝে কুফর, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ)-এর সঙ্গে শত্রুতা লুকিয়ে রাখে। এরাই মূলতঃ মুনাফিক এবং এদেরই আবাসস্থল হবে জাহান্নামের নিম্নতম স্তরে’।[5]

২. আমল বা কর্মগত মুনাফিকী (ছোট মুনাফিকী) :

ধর্মীয় কাজগুলো লোকচক্ষুর অন্তরালে নিয়মমাফিক পালন না করা, তবে জনসমক্ষে সেগুলো যথাযথ পালন করার নাম আমল বা কর্মগত মুনাফিকী। এক্ষেত্রে কিন্তু আল্লাহর প্রতি ঈমান ও অন্যান্য আক্বীদা-বিশ্বাসে কোন ঘাটতি থাকবে না। ইবনু রজব বলেছেন, ছোট মুনাফিকী হ’ল আমলে মুনাফিকী। যখন মানুষ প্রকাশ্যে নেক আমল করে কিন্তু অপ্রকাশ্যে তার উল্টো কাজ করে তখন তা ছোট মুনাফিকী বলে গণ্য হয়।[6]

আমলকেন্দ্রিক এই ছোট মুনাফিকী মূল ঈমান বিদ্যমান থাকা অবস্থায়ও মুসলিমের মনে বাসা বাধতে পারে। যদিও সেটা কবীরা বা বড় গুনাহ। কিন্তু বড় মুনাফিকী সর্বতোভাবে ঈমানের পরিপন্থী। তা কোনভাবেই একজন মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ঈমানের সাথে যুক্ত হ’তে পারে না। তবে ছোট মুনাফিকী যখন অন্তরে শিকড় গেড়ে বসে এবং পূর্ণতা লাভ করে, তখন সময় বিশেষে তা ঐ মুনাফিককে বড় মুনাফিকীর দিকে ধাবিত করে এবং দ্বীন থেকে একেবারে খারিজ করে দেয়।

আমলগত মুনাফিক জাহান্নামের চিরস্থায়ী অধিবাসী হবে না। সে বরং অন্য সকল কবীরা গুনাহগারদের কাতারভুক্ত। আল্লাহ চাইলে ক্ষমা করে তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন, আর চাইলে তার পাপের কারণে শাস্তি দিয়ে পরিশেষে জান্নাতের অধিবাসী করবেন।

মৌলিক ও অমৌলিক মুনাফিকী :

যে লোক আদি থেকেই কোনদিন ছহীহ-শুদ্ধ, খাঁটি ইসলামে বিশ্বাসী নয় মূলতঃ সেই মূল থেকে মুনাফিক। জাগতিক কোন স্বার্থের টানে এমন লোকেরা ইসলামের সঙ্গে সম্বন্ধ যাহির করে বটে, অথচ তারা মন থেকে ইসলামকে বিশ্বাস করে না। ফলে তারা তাদের ইসলাম ঘোষণার প্রথম দিন থেকেই মুনাফিক। তারপর সেই মুনাফিকীর উপর তারা চলছেই। এটা মৌলিক মুনাফিকী। আবার কিছু লোক আছে যারা সত্যসত্যই অন্তর থেকে ইসলামের ঘোষণা দেয়। তারপর এক সময় তাদের মনে সন্দেহ ও শঠতা জাগে। অতঃপর বিভিন্ন পরীক্ষার সম্মুখীন করে আল্লাহ তা‘আলা তাদের ঈমানের সত্যতার পরীক্ষা নেন। তখন তারা ইসলামের দাবী রক্ষা করতে না পেরে ভেতর থেকে ইসলাম ছেড়ে দেয় বা মুরতাদ হয়ে যায়। কিন্তু প্রকাশ্যে ঘোষণা দিলে তাদের উপর মুরতাদের বিধান কার্যকর হ’তে পারে কিংবা মুসলিম নাম বহাল থাকায় জাগতিক যেসব সুযোগ-সুবিধা সে পাচ্ছে তা খোয়াতে হবে, অথবা তাকে নিন্দা শুনতে হবে এবং সমাজে তার যে অবস্থান আছে তা সে হারিয়ে বসবে। এরকম আরো অনেক উপভোগ্য ও লোভনীয় বিষয়ের কথা চিন্তা করে তারা প্রকাশ্যে ইসলাম ত্যাগের ঘোষণা দিতে ভয় পায়। ফলে তারা বাহ্যিকভাবে ইসলামের উপর চলে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা কাফির মুরতাদ হয়ে গেছে। এটাই অমৌলিক মুনাফিকী।

মুনাফিক হয়ে পড়ার ভয় :

ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) ও তাঁদের পরবর্তী আমলের নেককার লোকেরা মুনাফিকীকে প্রচন্ড ভয় করতেন। এমনকি আবুদ্দারদা (রাঃ) ছালাতে তাশাহহুদ শেষে মুনাফিকী থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বেশী বেশী করে আল্লাহ পাকের আশ্রয় চাইতেন। একবার তো এক ব্যক্তি তাঁকে বলেই বসল, হে আবুদ দারদা! মুনাফিকী নিয়ে আপনি এত বিচলিত বোধ করেন কেন? তিনি উত্তরে বললেন, دعنا عنك والله إن الرجل ليقلب عن دينه في الساعة الواحدة فيخلع منه. অর্থাৎ আমাদের কথা ছাড়। আল্লাহর কসম! মানুষ এক মুহূর্তে তার দ্বীন বদলে ফেলতে পারে! তখন তার নিকট থেকে দ্বীন ছিনিয়ে নেয়া হয়।[7]

হানযালা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবুবকর (রাঃ) আমার সঙ্গে দেখা করে বললেন, হানযালা কেমন আছ? আমি বললাম, হানযালা তো মুনাফিক হয়ে গেছে (نَافَقَ حَنْظَلَةُ)। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! আরে তুমি বলছ কি? আমি বললাম, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট থাকি আর তিনি আমাদের সামনে জান্নাত-জাহান্নামের আলোচনা করেন তখন তো মনে হয় আমরা যেন সেগুলো চোখে দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু যখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট থেকে চলে আসি আর স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি এবং পেশাগত কাজে জড়িয়ে পড়ি, তখন আমরা অনেক কিছুই ভুলে যাই। আবুবকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমারও তো এমন অবস্থা হয়। তখন আবুবকর (রাঃ) ও আমি রওয়ানা হয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট হাযির হ’লাম। আমি তাকে বললাম, আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ), হানযালা মুনাফিক হয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, সেটা কীভাবে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমরা যখন আপনার কাছে থাকি এবং আপনি আমাদের নিকট জান্নাত-জাহান্নামের আলোচনা করেন তখন তো মনে হয় আমরা ওগুলো স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছি। অথচ যখন আপনার নিকট থেকে চলে যাওয়ার পর আমাদের স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি ও পেশাগত কাজে জড়িয়ে পড়ি তখন তার অনেক কিছুই ভুলে যাই। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, وَالَّذِى نَفْسِى بِيَدِهِ إِنْ لَوْ تَدُومُونَ عَلَى مَا تَكُونُونَ عِنْدِى وَفِى الذِّكْرِ لَصَافَحَتْكُمُ الْمَلاَئِكَةُ عَلَى فُرُشِكُمْ وَفِى طُرُقِكُمْ وَلَكِنْ يَا حَنْظَلَةُ سَاعَةً وَسَاعَةً. ‘যার হাতে আমার জীবন তার শপথ! তোমরা যদি আমার নিকট থাকাকালীন অবস্থায় এবং সর্বদা যিকিররত থাকতে পারতে, তাহ’লে তোমাদের ঘরে-বাইরে ফেরেশতারা তোমাদের সাথে মুছাফাহা (করমর্দন) করত। কিন্তু হে হানযালা! সময় সময় অবস্থার হেরফের ঘটে’।[8]

‘হানযালা মুনাফিক হয়ে গেছে’ (نافق حنظلة) কথাটির অর্থ তাঁর এ শঙ্কা মনে জাগছে যে, তিনি মুনাফিক। কারণ তিনি যখন নবী করীম (ছাঃ)-এর মাহফিলে থাকেন তখন তাঁর মনে এক প্রকার ভয় কাজ করে। এর প্রভাব স্বরূপ আখিরাতের প্রতি তাঁর ধ্যান-ধারণা ও মনোনিবেশ সৃষ্টি হয়। কিন্তু সেখান থেকে বের হওয়ার পর স্ত্রী, সন্তান ও জীবন-জীবিকার মাঝে মশগূল হয়ে পড়লে তাঁর এ ভাবনা অনেকাংশে লঘু হয়ে পড়ে। তাই তাঁর চিন্তা হয়- তিনি মুনাফিক হয়ে গেছেন বলেই এমন হয় কি-না। কিন্তু মুনাফিকী তো মূলত দুরভিসন্ধি মনের মাঝে গোপন রেখে তার উল্টোটা প্রকাশ করা। তাই নবী করীম (ছাঃ) তাঁদের জানিয়ে দিলেন, এরূপ অবস্থা তৈরী হওয়া কোন মুনাফিকী নয় এবং নবী করীম (ছাঃ)-এর মাহফিলে থাকাকালীন মানসিক অবস্থায় সর্বক্ষণ বিরাজিত থাকার জন্যও তারা বাধ্য নন। ‘সময় সময়’ অর্থ এক সময়ে অবস্থা উন্নত হ’তে পারে এবং অন্য সময়ে তার অবনতি ঘটতে পারে অর্থাৎ অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে পারে।[9]

হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি জানাযায় হাযির হওয়ার জন্য ওমর (রাঃ)-কে ডাকা হয়। তিনি তাতে অংশ নেয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। আমি তখন তাঁকে অাঁকড়ে ধরে বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন!! আপনি বসুন। কেননা এই মৃত লোকটা ওদের অর্থাৎ মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত। আমার কথা শুনে ওমর (রাঃ) বললেন, তোমাকে আল্লাহর কসম করে বলছি, আমি কি তাদের একজন? আমি বললাম, না। অবশ্য আপনার জীবনাবসানের পর আমি আর কাউকে নির্দোষ আখ্যায়িত করব না।[10]

ইবনু আবী মুলাইকা বলেন, আমি নবী করীম (ছাঃ)-এর ত্রিশজন ছাহাবীর সাক্ষাৎ পেয়েছি যাঁদের প্রত্যেকেই নিজের মাঝে মুনাফিকী থাকার ভয় করতেন। তাঁরা কেউই বলতেন না, আমার ঈমান জিবরীল ও মিকাঈলের তুল্য।[11]

ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেছেন, আল্লাহর কসম! এই ছাহাবীদের অন্তর ঈমান ও ইয়াকীনে একদম পরিপূর্ণ ছিল। অথচ তাঁরা কঠিনভাবে মুনাফিকীর ভয় করতেন। মুনাফিকী নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তার অন্ত ছিল না। কিন্তু তাঁদের পরবর্তীকালে এসে অনেককে দেখুন, ঈমান তাদের কণ্ঠদেশও অতিক্রম করেনি অথচ তাদের ঈমান জিবরীল মিকাইলের সমতুল্য বলে তারা দাবী করে।[12]

ছাহাবীগণ তাঁদের মুনাফিকী দ্বারা ঈমানের পরিপন্থী যে মুনাফিকী তাকে বুঝাননি। বরং মূল ঈমানের সঙ্গে যে মুনাফিকী যুক্ত হয় তাই বুঝিয়েছেন।[13]

(চলবে)

মূল : শায়খ মুহাম্মাদ ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ
অনুবাদ : মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক

তথ্যসূত্র:

[1]. ইবনু মানযূর, লিসানুল আরব ১০/৩৫৭; ইবনু ফারিস, মু‘জামু মাকায়িসিল লুগাহ ৫/৪৫৫।

[2]. ইবনু কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ১/১৭৬।

[3]. ইবনু তাইমিয়া, মাজমূউ ফাতাওয়া ৭/৫২৪।

[4]. ইবনু রজব, জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম ১/৪৩১।

[5]. ইবনুল কাইয়িম, তরীকুল হিজরাতায়ন, পৃঃ ৫৯৫।

[6]. জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম ১/৪৩১।

[7]. শামসুদ্দীন আয-যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ৬/৩৮২, যাহাবী বলেছেন, হাদীছটির সনদ ছহীহ।

[8]. মুসলিম হা/২৭৫০।

[9]. নববী, শারহু মুসলিম ১৭/৬৬-৬৭।

[10]. ইবনু আবী শায়বা ৮/৬৩৭; আল-হায়ছামী মাজমাউয যাওয়ায়েদ (৩/৪২ পৃষ্ঠায়) বলেছেন, সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ (رجاله ثقات)। শু‘আইব আরনাউত একে ছহীহ বলেছেন। দ্রঃ মুসনাদ আহমাদ হা/২৬৬৬৩, ৬/৩০৭।

[11]. বুখারী ১/২৬।

[12]. মাদারিজুস সালিকীন ১/৩৫৮।

[13]. ইমাম গাযালী, ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন ৪/১৭২।

মতামত দিন