আক্বীদা

যাদু‬, গণক‬, ‪জ্যোতিষী‬, ভেলকিবাজ ও ম্যাজিশিয়ানের ভয়াবহতা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, আম্মা বাদ ,,,
অতঃপর বর্তমান যুগে কিছু মুসলিমকে দেখা যাচ্ছে, তারা বিভিন্ন টি.ভি. চ্যানেল ও ইন্টার্নেটে প্রসারিত ও প্রচারিত জাদুকর, গণক এবং জ্যোতিষীর ধোঁকায় পড়ছে। আল্লাহই ভাল জানেন এই চ্যানেল ও ইন্টার্নেটের মাধ্যমে শয়তান কত লোক কে যে ধোঁকায় ফেলেছে এবং কতজনকে যে সফলকাম আল্লাহর দল থেকে বের করে তাদের অভিশপ্ত শয়তানের দলে প্রবেশ করিয়েছে। এই মাধ্যমগুলি ইবলিসের আহব্বান কবূলকারীদের যাদু ও প্রতারাণার নিকটবর্তী করে তাদের জালে ফাসিয়েছে।
হে মুসলিম তোমরা জেনে রেখো, অবশ্যই তোমাদের প্রতিপালক যাদুকরদের সম্বন্ধে বলেছেনঃ তারা কল্যাণ থেকে মাহরূম থাকবে। তিনি বলেনঃ (যাদুকর যে রূপ ধরেই আসুক না কেন, সফলকাম হবে না।) [সূরা ত্বহা/৬৯]
তিনি আরো বর্ণনা দেন যে, যাদু কুফরী এবং দ্বীন থেকে বহিষ্কারকারী, যা বান্দাকে ইসলাম থেকে বের করে মুশরিক ও কাফেরদের দলভুক্ত করে, যেমন আবু জাহল ও আবু লাহাবের দল।

আল্লাহ বলেনঃ (মূলতঃ সুলায়মান কুফরী করেনি বরং শয়ত্বানরাই কুফুরী করেছিল, তারা মানুষকে যাদু শিক্ষা দিত) অতঃপর আয়াতের শেষাংশে বলেনঃ (এবং অবশ্যই তারা জানত যে, যে ব্যক্তি ঐ কাজ অবলম্বন করবে পরকালে তার কোনই অংশ থাকবে না।) [বাক্বারাহ/১০২]

তোমাদের নবী আরোও স্পষ্ট করে বলেন যে, কেবল তার নিকটে যাওয়াই হারাম। যেমনটি ইমাম মুসলিম মুআবিয়া বিন হাকাম আস্ সুলামী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল আমাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা গণকের কাছে যায়। তিনি (সাঃ) বললেনঃ “তাদের নিকট যাবে না”। এই বিধানের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, যারা বিশ্বাস করা ছাড়াই কেবল দৈনিক পত্র-পত্রিকা ও চ্যানেলে যাদুকর, গণক, জ্যোতিষী, রেখাবিদ ও রাশীফল যেমন মেষ ও সিংহ রাশীর দিকে দৃষ্টি দেয়। আর যারা এদের বিশ্বাস করে, তারা কুফরী করে। সুনান গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোনো গণক কিংবা জ্যোতিষীর কাছে যায় এবং সে যা বলে তা সত্য মনে করে, সে কুফরী করে যা মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে”।
বর্তমান যুগে [গণক-জ্যোতিষীরা] মানুষকে ভ্রমে ফেলার এবং ধোঁকা দেয়ার নতুন নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। তারা বিভিন্ন চ্যানেল মাধ্যমে মানুষকে সম্বোধন করে এবং লোকেরাও তাদের সাথে সরাসরি টেলি যোগাযোগ স্থাপন করে এবং তারা অনেকের গায়বী তথা অদৃশ্য বিষয়ের সংবাদ দেয়। আর এর জন্য তারা অনেক সময় মুল্যবান পাথর [কার্ড] কিংবা অন্য কিছুর সাহায্য নেয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা [গণক ও জ্যোতিষী], তারা আসলে শয়তানের কাছে সাহায্যপ্রার্থী ও প্রতারক।
যাদুকরদের ধোঁকা দেয়ার ধৃষ্টতা এতই যে, তাদের অনেকে আবার এই সকল প্রোগ্রামে যাদুকর ও ভেলকিবাজ থেকে সতর্ক করে, যেন কেউ তাদের সম্পর্কে সন্দেহ না করে। বরং অনেকে তো এই সব প্রোগ্রাম কুরআন তেলাওয়াত ও বিভিন্ন উপদেশের মাধ্যমে শুরু করে।
অনেকে এ মনে করে ধোঁকায় পড়ে যে, যাদুকর কুরআন পড়তে পারে না কিংবা মনে করে, যাদুকরের প্রতি যদি কুরআন পড়া হয় আর তার যাদু নষ্ট না হয়, তাহলে সে যাদুকর নয়। এমন ধারণা সম্পূর্ণরূপে ভুল। অনেক সময় যাদুকরের প্রতি কুরআন পড়া হয় কিন্তু তার যাদু নষ্ট হয় না। সহীহ বুখারীতে এসেছে যে, শয়ত্বান সম্মানিত সাহাবী আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কে আয়াতুল কুরসীর ফযীলত শিক্ষা দিয়েছিল এবং নবী (সাঃ) তা এ বলে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন যে, (সে সত্য বলেছে কিন্তু আসলে সে মিথ্যুক)।
হে তাওহীদী ভাই! সতর্ক থাকুন। যে কেউ আপনাকে গায়ব-অদৃশ্যের সংবাদ দিবে তা সত্য মনে করবেন না। তার থেকে দূরে পলায়ন করবেন কারণ; সে যাদুকর কিংবা গণক। আর তাদের কিছু যদি সত্যও হয়, তাহলে তা দূর্বল ঈমানদার ব্যক্তির জন্য পরীক্ষা।
আমাদের ম্যজিশিয়ান থেকেও সাবাধান থাকা উচিৎ, যারা আগুন ও আঙ্গার খায় কিংবা ছোট টুপির ভিতর থেকে খরগোশ বা পায়রা বের করে কিংবা চোখে লোহার রোড ঢুকিয়ে তা বাঁকা করে দেয়; অথচ চোখের কিছু ক্ষতি হয় না প্রভৃতি। এসকল কিছুর অন্য নামে নামকরণও যেন আপনাকে ধোঁকায় না ফেলে। যেমন বলা হয়, হাতের সাপ্লাই বা অন্য কিছু। অনুরূপ যেন আপনি ধোঁকায় না পড়েন যে, এ সব কাজ কোনো দাড়িওয়ালা মুসলিম ব্যক্তি করছে। কারণ অনেক এমন দাড়িওয়ালা মুসলিম আছে যে, মিথ্যুক কিংবা অজ্ঞ প্রতারক। এর অর্থ দাড়িকে অবমাননা করা নয় কারণ তা পুরুষের সৌন্দর্য, রাসূল (সাঃ) এর পন্থা এবং তা ইজমা অনুযায়ী ওয়াজিব। তবে দোষ হচ্ছে, যে তার যাদুর জন্যে দাড়ির আশ্রয় নয়।
অতএব মুসলিম ভাই ও বোনেরা সাবধান! সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং শয়তানের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকুন যেন সে আপনাকে জাদুর জালে ফাসিয়ে কুফরী না করায়।
ওয়াস্ সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহূ।
আব্দুল আযীয বিন রীস আর রীস।
অনুবাদেঃ আব্দুর রাকীব মাদানী। দাঈ, দাওয়াহ সেন্টার খাফজী (সউদী আরব)

মতামত দিন