পর্যালোচনা

সালাফদের বুঝ ও ব্যাখ্যা অনুযায়ী কুরআন-হাদীস মানতে হবে

সালাফদের বুঝ ও ব্যাখ্যা অনুযায়ী কুরআন-হাদীস মানতে হবে কেন?

লেখকঃ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম মাদানী

চূড়ান্ত দলীল হিসেবে মানতে হবে শুধু কুরআন ও সুন্নাহকে। কিন্তু কুরআন ও হাদীস মানতে হবে সালাফদের বুঝ অনুযায়ী অর্থাৎ তারা যেভাবে বুঝেছিলেন, আমাদেরকেও সেভাবে বুঝতে হবে এবং তারা যে ব্যাখ্যা করেছেন আমাদেরকেও তেমন ব্যাখ্যা করতে হবে, তাদের বুঝ ও ব্যাখ্যা গ্রহণ না করে নিজে নিজে কুরআন-হাদীস বুঝলে যেমন হেদায়েত পাওয়ার বদলে গোমরাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি সালাফদের বুঝ ও ব্যাখ্যাকে এড়িয়ে গেলেও গোমরাহ হয়ে যাবেন নিশ্চিত।

কুরআন বুঝার জন্য হাদীসের গুরুত্বঃ
ইসলামে হাদীছের গুরুত্ব ও মর্যাদা অনস্বীকার্য। কুরআন মাজীদে ইসলামী শরীআতের মৌল নীতিমালা বিধৃত হয়েছে সংক্ষিপ্তাকারে, আর হাদীছে রয়েছে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা। যা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কপোলকল্পিত কোন বাণী নয়; বরং তা আল্লাহর পক্ষ হতে প্রেরিত ‘অহি’। মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘রাসূল তাঁর ইচ্ছামত কিছু বলেন না, যতক্ষণ না তাঁর নিকটে অহি নাযিল হত’ (নাজম ৩-৪)।
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেনঃ ‘আমি আমার প্রতি যা অহি করা হয় কেবল তারই অনুসরণ করি’ (আহকাফ ৯)।
কুরআনুল কারীমে অসংখ্য আয়াত বা হুকুম রয়েছে যা সরাসরি আমল করতে পারবেন না।

যতক্ষন পর্যন্ত ঐ আয়াতের বা হুকুমের ব্যাখ্যা হাদীস থেকে গ্রহণ না করবেন। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ أقم الصلاة
অর্থাৎঃ তোমরা সালাত আদায় কর। কিন্তু কখন, কিভাবে, কত রাকআত পড়বেন, তার নিয়ম কিন্তু কুরআনের মধ্যে নেই। সুতরাং তা জানতে হলে আপনাকে হাদীসের স্মরণাপন্ন হতেই হবে। তাছাড়া শুধুমাত্র কুরআনের এই আয়াতকে পালন করতে কক্ষণও পারবেন না।
তবে অবশ্যই জেনে রাখবেন হাদীসও কিন্তু আল্লাহর ওহী। ওহী দুই প্রকার; মাতলু এবং গায়ের মাতলু। কুরআন ওহী মাতলু , যার প্রতিটি অক্ষর, শব্দ, উচচারণ, ভাষা আল্লাহর নিজস্ব। আর হাদীস ওহী গায়ের মাতলু, যার হুকুম আল্লাহর পক্ষ হতে কিন্তু শব্দ, উচ্চারণও ভাষা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিজস্ব। এরকমভাবে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ তোমরা যাকাত প্রদান কর। কিন্তু কোন্ বস্তুর যাকাত দিতে হবে আর কোন বস্তুর যাকাত দিতে হবে না, এবং কি পরিমাণ হলে যাকাত ফরয, বৎসরে কতবার যাকাত দিতে হবে তারও বিধান কুরআনের মধ্যে উল্লেখ হয়নি। সুতরাং তা জানতে হলে আপনাকে হাদীসের স্মরণাপন্ন হতেই হবে। তাছাড়া যাকাতের আয়াতগুলো কোন ভাবেই পালন করতে পারবেন না। এজন্য হাদীসকে পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা বলা হয় এবং এরূপ ব্যাখ্যা যার অপরিহার্যতা কেয়ামত পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে।
বিদায় হজ্বের ভাষণে রাসূলে করীম (সা.) বলেছেন- “দুটি জিনিস যা আমি তোমাদের মাঝে রেখে যাচ্ছি, তোমরা যতক্ষণ এ দুটি জিনিস দৃঢ়ভাবে ধারণ করে থাকবে, তোমরা কখনও পথভ্রষ্ট হবে না। তা হলো : আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাত।”
উপরোক্ত বিষয়গুলি যদি আপনি মেনে নেন, তাহলে তো আল-হামদুলিল্লাহ। আর যদি তা মানতে অস্বীকার করেন তাহলে নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন:
১. সালাতের শুরু তথা তাকবীরে তাহরীমা থেকে সালাম পর্যন্ত বিধানগুলি কুরআন থেকে প্রমাণ করুন?
২. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এবং তা কখন পড়তে কুরআন থেকে প্রমাণ করুন।
৩. কোন কোন বস্তুতে যাকাত ফরয তা কুরআন থেকে উল্লেখ করুন?
৪. কোন বস্তুর কত নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত দিতে হবে তা প্রমাণ করুন?
এরকম অনেক আছে, যে সব প্রশ্নের উত্তর কুরআন থেকে কক্ষনও দিতে পারবেন না। এর জন্য আপনাকে হাদীসের আশ্রয় নিতেই হবে। সুতরাং হাদীস ছাড়া কুরআন মানা সম্ভব নয়।

কুরআন বুঝার ক্ষেত্রে সালফে সালেহীনদের বুঝ ও ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্বঃ
কুরআনুল কারীমের কিছু বিষয় রয়েছে যা শুধুমাত্র হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত করা সম্ভব নয়। ফলে এসব ক্ষেত্রে কখনও সাহাবাগণ, তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ী, আইম্মায়ে মুজতাহিদগণের বুঝ বা ব্যাখ্যা গ্রহণের প্রয়োজন হয়। যেমন: কুরআনুল কারীমের সূরা কতটি? এর উত্তর কুরআন ও হাদীস থেকে সাব্যস্ত করতে পারবেন না। কোন আয়াতে বা হাদীসে এর উল্লেখ নেই। এটা জানতে হলে সাহাবাগণের ইজমার দিকে ফিরে যেতে হবে। এমনকি প্রবিত্র কুরআনুল কারীম হরকত বিহীন অবস্থায় নাযিল হয়েছিল। আব্দুল মালেক বিন মারওয়ানের নির্দেশে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আবুল আসওয়াদের দুজন ছাত্র নসর বিন আসেম (অথবা হাসানুল বাসরী) এবং ইয়াহইয়া বিন ইয়া‘মারের মাধ্যমে সর্ব প্রথম কুরআনে হরকত সংযুক্ত করেন । এই হরকত তথা যের, যবর, পেশ, সাকিন ও তাশদীদের গুরুত্ব কি, তা কি আপনি জানেন? আপনি কি তাহলে কুরআন পাঠের জন্য সালফে সালেহীনের এ মহান কাজের মুখাপেক্ষী নন? তাঁরা যদি এই মহান কাজটি সম্পাদন না করতেন তাহলে কুরআন থেকে হেদায়েত লাভ তো দূরে থাক তেলাওয়াতই করতে পারতেন না। এটা কি আপনি অস্বীকার করতে পারবেন? অস্বীকার করলেও করার কিছু নেই, তবে জেনে রাখুন! তাঁদের এই মাহান কাজের উপকারীতা সাড়ে চৌদ্দশত বছর ধরে কোটি কোটি মুসলমান ভোগ করে আসছে এবং আজ পর্যন্ত কেউ এটার না শুকরিয়া আদায় করেনি। শুধুকি তাই, প্রতিটি শব্দে হরকত সংযোজন করতে ঐ শব্দটি আরবী ব্যাকরণে কি হয়েছে তা জানা ছাড়া হরকত দেয়া কখনও সম্ভব নয়। আরবী ব্যাকরণ কি সরাসরি আল্লাহ তায়ালা নাযিল করেছেন? না এ ব্যাপরে কোন হাদীস আছে? এই কাজটি করেছেন সালফে সালেহীনগণ। আলী রাযিয়াল্লাহুর নির্দেশে আবুল আসওয়াদ দুয়াইলী সর্ব প্রথম আরবী ব্যাকরণ তথা “নাহুর” কিতাব লিখেন। আরবী ব্যাকরণ জানা ছাড়া আরবী কোন শব্দে হরকত লাগানো সম্ভব নয়, অর্থ বা ব্যাখ্যা করা তো দূরে থাক। কিন্তু তিনি কুরআন পড়ে বুঝে শুণে কুরআন থেকে ব্যাকরণ নির্গত করেন, আবার কিছু হাদীস থেকে এবং কিছু আরবদের মৌখিক কথাবার্তা বা কবির কবিতা ও সাহিত্যিকের সাহিত্য থেকেও নেন। তাহলে কুরআন ও হা্দীস বুঝার অন্যতম যে মাধ্যম সেটাও সরাসরি কুরআনে ও হাদীসেও নাই। এটা বুঝার জন্য আপনাকে সালফে সালেহীনের সেই নাহু-সরফের কিতাবের মুখাপেক্ষী আপনাকে হতেই হবে। চিন্তা করেছেন! তাঁরা কুরআন-হাদীস বুঝে তার আলোকে আরবী ব্যাকরণ তৈরি করেছেন, আর আমরা তাদের সেই প্রচেষ্টার তৈরি নাহু-সরফের জ্ঞানটাও অর্জন করতে অপারগ। তাহলে কি তাঁদের রচিত ব্যাকারণের উপর ভর করে আমাদেরকে কুরআন-হাদীস বুঝতে হচ্ছে না? তাহলে কি আপনি কুরআন–হাদীস বুঝার ক্ষেত্রে তাদের বুঝকে প্রধান্য দিবেন না? না কি আপনি তাঁদের মত নতুন করে আরবী ব্যাকরণ তৈরি করে নতুন ভাবে কুরআন-হাদীস বোঝার চেষ্টা করবেন?
হাদীস বোঝর অন্যতম মাধ্যম উসূলে হাদীসের গুরুত্বঃ
উপরে আমরা আলোচনা করেছি যে, ইসলামে হাদীসের গুরুত্ব ও মর্যাদা অনস্বীকার্য। কারণ তা ইসলামী শরীয়তের দ্বিতীয় মূল উৎস। আমরা সবাই জানি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা, কাজ এবং সমর্থনকে হাদীস বলে। তিনি যা বলেছেন, তিনি যা করেছেন এবং তাঁর সামনে যা করা হয়েছে তাতে তিনি সমর্থন দিয়েছেন এসকল বিষয় সাহাবাগণ আমাদেরকে জানিয়েছেন। সুতরাং তাঁর কথা, কাজ ও সমর্থনের মাঝে কি কোনরূপ সন্দেহ থাকতে পারে? সাহাবাগণ তো তা পঙ্খানুপুঙ্খভাবে হুবহু বর্ণনা করেছেন। যদিও প্রথম দিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীস লিখে রাখতে নিষেধ করেছিলেন, যাতে কুরআনের সাথে হাদীসের সংমিশ্রণ না ঘটে। কিন্তু শেষের দিকে তিনি তার অনুমতি দিয়েছিলেন। ফলে তাঁর জীবদ্দশাতেই সাহাবাগণ হাদীস লেখা আরম্ভ করেন। এমনকি কোন বিষয়ে সন্দেহ বা ভুল মনে হলে তার সত্যতা জানার জন্য সাহাবাগন তাঁর কাছে থেকেই জেনে নিতেন। কিন্ত তাঁর তিরধানের পর মুসলামানরা বিভিন্ন অঞ্চল বিজয়লাভ করলে সাহাবাদের কেউ কেউ ইসলামের দাওয়াতের জন্য সে সব অঞ্চলে যান, আবার কেউ কেউ সিরিয়া, দামেষ্ক, কূফা, বসরা, সানআ, হিজায ইত্যাদি অঞ্চলে চলে যান। অন্য দিকে ইসলামে নতুন নতুন ধর্ম ও ভাষার মানুষের আগমন ঘটে। আবার অনেক সাহাবাগণের মৃত্যুও হতে থাকে। ফলে প্রয়োজন দেখা দেয় কিতাব আকারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস সংকলনের। যার কারণে ওমর বিন আব্দুল আযীয সরকারী ভাবে হাদীস সংকলনের নির্দেশ প্রদান করেন। আরম্ভ হয় হাদীস সংকলন ও সংরক্ষণের পালা। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় কোন নীতিমালার আলোকে তা প্রণয়ন করা হবে। কারণ সুযোগ সন্ধানীরা ও এক শ্রেণীর স্বার্থপর নবীর হাদীসের নামে বানোয়াট ও জাল হাদীসও বলা আরম্ভ করেছিল, যা তিনি কখনও বলেন নি, কেউ তো আবার হাদীসের মধ্যে নিজের মতও প্রকাশ করেছিল, কেউ অন্যদের কথা জুড়ে দিয়েছিল, কেউ তার উর্দ্ধতন ব্যক্তির সাথে দেখা না হলেও বলে দিয়েছে “আমি তার থেকে শ্রবণ করেছি, কেউ আবার কারো সাথে দেখা না হলেও বলে দেয়েছে; আমি তাকে এমন বলতে দেখেছি ইত্যাদি ইত্যাদি। যার কারণে প্রয়োজন দেখা দেয় হাদীস সংকলনের একটি সঠিক নীতিমালার। যার ভিত্তিতে সবাই সঠিক ও সহীহ হাদীস সংগ্রহ করবেন। এবং ঐ নীতিমালার আলোকে সহীহ, যঈফ, মুনকার, জাল, শায, তাদলীস, মাওজু, গারীব, ইত্যাদি হাদীসেরও পার্থক্য করা যাবে। কাদের কাছ থেকে হাদীস গ্রহণ করতে হবে, কার কাছ থেকে গ্রহণ করা যাবে না, হাদীস বর্ণানা কারীর কেমন গুণ থাকা বাঞ্চনীয়, ইত্যাদি।
অর্থাৎ কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তায়ালা কোথাও কি বলে দিয়েছেন যে, কোন হাদীস সহীহ, আর কোন হাদীস যঈফ, মাওজু বা বাতিল? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি নিজে তাঁর কোন হাদীস সহীহ আর কোন হাদীস সহীহ নয় বলে দিয়েছেন? তাহলে হাদীস সহীহ না যঈফ? এই জ্ঞানটা আপনি –আমি পেলাম কাদের কাছে? কারা হাদীস বোঝার নীতিমালার কিতাব তথা “উসূলুল হাদীস” রচনা করেন? তাঁরা কি সালফে সালেহীন নয়? তাঁদের প্রণীত “উসূলুল হাদীস” ব্যতিত কি কখনও হাদীস সহীহ না যঈফ তা নির্ধারণ করতে পারবেন? তাঁদের “উসূলুল হাদীস” কে উপেক্ষা করলে হাদীস সহীহ না যঈফ এটাই তো বলতে পারবেন না! তাহলে তা মানবেন কি ভাবে? সুতরাং হাদীস মোতাবেক আমল তো দূরে থাক, সালফে সালেহীনদের প্রণীত “উসূলুল হাদীস” না জেনে হাদীস সহীহ না যঈফ তাই যখন ঠিক করতে পারবেন না, তখন তা মানবেন কিভাবে?
ফলে সালফে সালেহীনরা যে “উসূলুল হাদীস” প্রণীত করেছেন, তার আলোকেই হাদীস সহীহ না যঈফ তা আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে। আপনার বুঝে হাদীস সহীহ-যঈফ হবে না।
ফিকহী মাসআলায় সালাফদের অবদানঃ
এমন কিছু ইবাদত রয়েছে যার কয়টি রোকন, কয়টি ওয়াজিব এবং রোকনগুলি কি কি? বা ওয়াজিব গুলি কি কি? তা সরাসরি আল্লাহ তায়ালা কুরআনে যেমন বলে দেন নি, তেমনিভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও হাদীসের মধ্যে বলে দেন নি? যেমনঃ সালাতের রোকন কয়টি? এবং ওয়াজিব কয়টি? তা কি কি? আল্লাহ তায়ালা কুরআনে কি বলে দিয়েছেন? না, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীসে বলে দিয়েছেন? কুরআন-হাদীসের কোথাও তা পাবেন না। কিন্তু কুরআন ও হাদীস থেকেই সালফে সালেহীনরা তা বের করেছেন। ওজুর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা চারটি অঙ্গ ধৌতের কথা বলেছেন, মুখ, দুই হাত কুনুই পর্যন্ত, মাথা মাসেহ এবং দুই পা টাখনু পর্যন্ত। কিন্তু সালাফগণ বলেছেন ওজুর রোকন ৬টি। এবং তাঁরা তা প্রমাণও করেছেন। সুতরাং কোন্ ইবাদতের কয়টি রোকন এবং কি কি? ওয়াজিব কয়টি ও কি কি? সুন্নাত কয়টি ও কি কি এগুলো আমরা জানতে পারি সালফদের মাধ্যমে। তাহলে কি আপনি তাদের বুঝ, বা ব্যাখ্যা নিবেন না? আপনার মত যদি সবাই বলে; না নেব না । তাহলে যে যে ভাবে বুঝবে সে সেভাবে কি হুকুম আহকাম মানবে? সবাই যদি নিজ নিজ বুঝ অনুযায়ী আমল করে তাহলে ইবাদতগুলোর কি অবস্থা হবে, তা কি আপনি জানেন? সে ক্ষেত্রে কি একই ইবাদতের অনেক পদ্ধতি হয়ে যাবে না? আবার যদি সবাই সালফে সালেহীনদের ঐ মূলনীতির দিকে ফরে যা্য় তাহলে একই ইবাদত এক পদ্ধতিতে হবে এবং হয়েও আসছে। কিন্তু যারাই সালফদেরকে অনুসরণ করছেন না তাদেরটা অন্য রকম হয়ে গেছে।
সুতরাং আসুন! কুরআন ও হাদীস মোতাবেক আমল করি সালাফদের বুঝ ও ব্যাখ্যার আলোকে অর্থাৎ তারা যেভাবে কুরআন-হাদীস বুঝেছিলেন আমরাও সেভাবে বোঝার চেষ্টা করি। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সঠিক পথে অটল থাকার তাওফীক দান করুন।

মতামত দিন