ফরিয়াদ শুধু আল্লাহর কাছে

লেখক: মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান

স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস ধর্মানুসারীদের প্রথম শর্ত। যারা ধর্মবিধি মেনে চলে তারা ধর্মের সকল অনুষ্ঠান তর্কাতীতভাবে পালন করে থাকে। এটাই সুদৃঢ় ঈমানের লক্ষণ। স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাসই মানুষকে ধর্মাচরণে বাধ্য করে। প্রায় সকল ধর্মের মূলেই স্রষ্টার অস্তিত্ব থাকে। ‘প্রায়’ কথাটা বলবার কারণ এই যে, বৌদ্ধ ধর্মে স্রষ্টা সম্পর্কে কোন বক্তব্য নেই। তাই এ ধর্মকে শূন্যবাদী ধর্ম বলা হয়। বিভিন্ন ধর্মের স্রষ্টা একরকম নয়। ইসলাম ধর্মে আল্লাহ্ এক অদ্বিতীয় সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। খ্রীষ্ট ধর্মের ত্রিত্ববাদ বলে পিতা-পুত্র-পবিত্রাত্না মিলিয়ে স্রষ্টা। আর স্রষ্টার পুত্রই একমাত্র ত্রাণকর্তা। খ্রীষ্টমতে যিশু ইশ্বরপুত্র। অবশ্য ইসলামী বিশ্বাসমতে ঈসা (আঃ) আল্লাহর একজন নবী। তিনি আসমানী কিতাব ইঞ্জীল অনুসারে আল্লাহর দ্বীন ইসলামের প্রচারক ছিলেন। খ্রীষ্টানরা তার নাম দিয়েছে যিশু। আর বলেছে, তিনি ঈশ্বরপুত্র। ইঞ্জীলের নাম দিয়েছে বাইবেল। এ বাইবেল বস্তুতঃ কতিপয় পণ্ডিতের রচনা। এ কিতাব আসমানী কিতাব ইঞ্জীল নয়।

হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থের নাম বেদ। হিন্দু ধর্মমতে বেদ ঈশ্বরের বাণী। তা ধ্যানযোগে পেয়েছেন ব্যাস নামক এক ঋষি। বেদ-এ ‘একমের দ্বিতয়ম্’ বলা হলেও, হিন্দুধর্মে ঈশ্বরের সংখ্যা বহু। তবে মূল ঈশ্বরকে বলা হয় ব্রক্ষ্ম। ব্রক্ষ্মা বিষ্ঞু, মহেশ্বর এই তিন জনে যথাক্রমে সৃষ্টি, স্থিতি, প্রলয় এই তিনকর্মের কর্তা। এরা সবাই ঈশ্বর। আবার এদের পৃথীবিতে জন্মগ্রহণ করতে হয়। তাদেরকে বলা হয় ঈশ্বরাবতার। ফলতঃ রাম, কৃষ্ণ, হরি ইত্যাদি নামের ঈশ্বরও রয়েছে এ ধর্মে।

ইসলাম ধর্মের শেষ আসমানী কিতাব আল-কুরআন। এই কিতাব কোন মানুষের রচনা নয়। এটি স্বয়ং মহান আল্লাহর কালাম। শেষ নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)–এর উপর এই কিতাব ফিরিশতা জিবরীল (আঃ)–এর মাধ্যমে নাযিল হয়েছে। দীর্ঘ তেইশ বছরে তার নাযিল প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয়েছে। সেই থেকে অদ্য পর্যন্ত আল-কুরআন একই রূপ রয়েছে। এই কিতাবকে বলা হয়েছে Code of life মানব জাতির জীবন বধিান। বলা হয়েছে, এই কিতাবে কোন সন্দেহ নেই। এই কিতাব দ্বারা কারা উপকৃত হবে, সৎ পথের দিশা পাবে, সে সম্পর্কে কুরআন পাকে বলা হয়েছে ‘এটা অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপনকারী মুমিনদের পথ প্রদর্শক’।

কুরআন পাকে সর্বশক্তিমান একক আল্লাহর কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে ফেরেশতা, রাসূল, আসমানী কিতাব, জান্নাত-জাহান্নাম, ক্বিয়ামত এবং আখেরাতের কথা। এ সবই বিশ্বাসের ব্যাপার। তর্কাতীতভাবে দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে কুআনে বর্ণিত অদৃশ্য বিষয় সমূহের উপর। এ ধরনের বিশ্বাসীগণই কুরআন পাকের মাধ্যমে সত্য ও সঠিক পথের সন্ধান পাবে। তারাই পরকালে নাজাত পাবে। সকল ধর্মেই সৎপথে চলবার উপদেশ রয়েছে এবং অসৎ কাজে নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। বৌদ্ধধর্মে হত্যা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা কথন ইত্যাদি নিষিদ্ধ। নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা নিষিদ্ধ বলে বৌদ্ধ সংঘে নারী-অন্তর্ভুক্তির বিধান নেই। খ্রীষ্টধর্মেও সদাচারের উপদেশ এবং কদাচারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। হিন্দু ধর্মের বেলাতেও তাই। মনুসংহিতা (হিন্দু আইনবিধান) গ্রন্থে নারীর অবাধ বিচরণ নিষিদ্ধ রয়েছে। নারীদেরকে বিভিন্ন বয়সে পিতা, স্বামী ও পুত্রের অধীন থাকতে বলা হয়েছে। ‘নারী ক্ষেত্র পুরুষ বীজ’ এ কথাও মসুসংহিতায় রয়েছে। ইসলাম মৌলিক ধর্ম। এ ধর্ম আল্লাহ মনোনীত করেছেন। এ ধর্মের বিধান সমূহ তার কিতাব দ্বারা সংবিধিবদ্ধ। কোন নবী-রাসূলও তার সংস্কার সাধনের অধিকার লাভ করেননি। আর অন্যান্য ধর্ম যুগে যুগে মনুষ্য কর্তৃক সংস্কারপ্রাপ্ত হয়েছে। নতুন নতুন ধর্মশাস্ত্রও তৈরী করেছে মানুষেরাই। আবার দার্শনিক এবং বৈজ্ঞানকেরা প্রচার করেছেন বিভিন্নমুখী মতবাদ। ফলতঃ ঐ সকল ধর্মের সদানুষ্ঠানগুলো আর পুরোপুরি টিকে থাকতে পারেনি। এ সকল ধর্মের পণ্ডিতেরা বলে থাকেন, যুগের সংঙ্গে তাল মিলিয়ে ধর্মেও সংস্কার তথা পরিবির্তন হওয়া আবশ্যক। তাই ঐ সকল ধর্মে বহু যুগাবতারের আবির্ভাব ঘটেছে। ইসলাম ধর্মে এ সবের অবকাশ রাখা হয়নি। বলা হয়েছে, ইসলামরে বিধান সমূহ সর্বযুগে কার্যকর। তার সকল বিধানই সর্বকালে মানুষের জন্য হিতকর। কুরআন পাকে বলা হয়েছে,

‘কাফিররা ছাড়া অন্য কেউ আল্লাহর নিদর্শন সমূহ সম্বন্ধে ঝগড়া করে না’ (মুমিন ৪০/৪)। আরও বলা হয়েছে, নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করে তারাই লাঞ্ছিত হবে’ (মুজাদালা ৫৮/২০)।

রাসূলুল্লাহ্ (ছাঃ) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই সর্বাপেক্ষা উত্তম বাণী আল্লাহর কুরআন এবং সর্বাপেক্ষা উত্তম হিদায়াত মুহাম্মাদের হিদায়াত। সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট ব্যাপার নব-বিধান এবং প্রত্যেক নব-বিধানই বিদ’আত আর সব বিদ’আতের পরিণামই ভ্রষ্টতা’ (মুসলিম, মিশকাত হা/১৪১)।

পরিতাপের বিষয় এই যে, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (ছাঃ) –এর নির্দেশ অমান্য করে একদল লোক ইসলাম ধর্মের সাংস্কারের কথা বলে। শুধু তাই নয়, মুশরিক এবং খ্রীষ্টানদের বহু চালচন মুসলমানদের মধ্যে প্রবিষ্ট করেছে। সংস্কারপন্থীরা একে বলে আধুনিকায়ন। অথচ মহানবী (ছাঃ) বলেছেন,

‘যে ব্যক্তি যে কওমের অনুসরণ করে, সে তাদের দলভুক্ত (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৩৪৭)।

কুরআন পাকে আল্লাহ্ বলেন,

‘তোমরা আল্লাহর অনুগত্য কর এবং রাসূলের অসুসরণ কর’ (সূরা মুহাম্মাদ ৪৭/৩৩)।

অধুনা বিশ্বের মুসলিম দেশসমূহের মুসলমান পাশ্চাত্যের খ্রীষ্টানদের দ্বারা প্রভাবিত। তারা আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল (ছাঃ)–এর নাফরমানী করে বিধর্মীদের অনৈসলামীক আমল আখলাক রপ্ত করে নিয়েছে। আমাদের বাংলাদেশের মানুষ কিছু খ্রীষ্টানী এবং কিছু ভারতীয় পৌত্তলিকদের আমল-আখলাক অনুসরণ করছে। মুসলমান এখন দ্বিধা বিভক্ত। একদল মৌলবাদী, অন্যদল প্রগতিবাদী। প্রগতিবাদীদের একাংশ ইসলামিক এবং অনৈসলামিকের খিচুরী পাকিয়ে নিয়েছে। আরেক অংশ ধর্মনিরপেক্ষ।ধর্মনিরপেক্ষরা খিচুরীর পক্ষপাতী নয়। ইসলামী আমল-আখলাকই তাদের দারুণ অপসন্দ। ইসলাম বর্জিত যা কিছু তা-ই তাদের পসন্দ।

আল্লাহ মানব জাতিকে তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর ইবাদতের জন্য যে সৃষ্টি তার বংশ বিস্তার আবশ্যক, নতুবা ইবাদত জারী থাকবে কী করে? বংশ বিস্তারের লক্ষে আল্লাহ প্রথম মানব আদম (আঃ)–এর জন্মের পর বিবি হাওয়াকে তার স্ত্রী রূপে সৃষ্টি করেন। কুরআন পাকে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের ক্ষেত স্বরূপ’ (বাক্বারাহ ২২৩)। আধুনিকা নারী এবং তাদের সমর্থক পুরুষেরা নারীকে ক্ষেত্র বলা অসন্মানজনক মনে করে। বস্তুতঃ নারী ক্ষেত্রই। তাই নারীর উপর পুরুষের কর্তৃত্ব থাকা অবশ্যক। নতুবা ক্ষেত্রের নিয়ম-শৃংখলা রক্ষিত হবে না। কুরআন পাকে আল্লাহ বলেন, ‘পুরুষের নারীর উপর কর্তৃত্ব আছে, কেননা আল্লাহ তাদের একজনকে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং এই হেতু যে, পুরুষ (তাদের জন্য) নিজেদের ধন ব্যয় করে। ফলে সাধ্ধী নারীরা পুরুষের হুকুম মত চলবে। এবং তাদের অনুপস্থিতিতেও আল্লাহ হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোকচক্ষুর অন্তরালেও তা (মান-ইজ্জত) রক্ষা করবে’ (নিসা ৪/৩৪)।

এই আয়াতের প্রেক্ষিতে আধুনিকা নারী এবং তাদের সমর্থক পুরুষদের বক্তব্য শোনা যায় যে, নারীকে পুরুষের অধীন করে তাদের অধিকার হরণ করা হয়েছে। বাস্তবতা এই যে, নারীর বিবাহ পূর্ব সময়টা পিতা কিংবা পিতার অবর্তমানে কোন না কোন বৈধ্য পুরুষ অভিভাবকের রক্ষাণাবেক্ষণে থাকতে হয়। বিবাহের পর স্বামী তার সুরক্ষার ব্যবস্থা করবে। পুরুষের কর্তৃত্ব না মেনে নিলে নারীর নিরাপত্তার অভাব ঘটে, তা কে অস্বীকার করবে?

নারীরা একাকী পথে-ঘাটে বের হ’লে ধর্ষিতা হয়। পুরুষ কখনও ধর্ষিতা হয় না। সুতরাং নারীর পক্ষে একাকী কোথাও যাওয়া বিপজ্জনক। নারী ধর্ষিতা হ’লে কিংবা সেচ্ছায় ব্যভিচারে লিপ্ত হ’লে অবৈধ সন্তান জন্মাবার সম্ভাবনা রয়েছে। অবৈধ গর্ভধারণ মুসলমানদের সমাজে ও ধর্মে নিন্দিত। অবশ্য পাশ্চাত্য সমাজ ব্যবস্থায় অবৈধ সন্তানকে মেনে নেওয়া হচ্ছে তাদের Free Sex Culture-এর কারণে। ইসলামে বিবাহ বহির্ভূত দেহ-মিলন নিষিদ্ধ, জঘন্য পাপ। আল্লাহ্ বলেন, ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী এদের প্রত্যেককে একশত বেত মারো’ (নূর ২৪/২)। আমাদের দেশেও বর্তমানে হিন্দু-মুসলমান নারী-পুরুষ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে জীবন-যাপন করছে। এ ধরনের দু’ধর্মের নর-নারীতে বিবাহ বন্ধন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ পন্থায় বিয়ে করে যৌন জীবন-যাপন ব্যভিচারের শামিল। আমাদের দেশে মুসলমানদের ভিতরে খ্রীষ্টান এবং পৌত্তলিকদের আচার-আচরণ, সংস্কৃতি প্রসারিত হচ্ছে দৈনন্দিন। নিম্নে তাদের কয়েকটি উল্লেখ করছি-

(১) সূদের ব্যবসা হারাম, অথচ তা অধুনা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারিত।

(২) পর্দা মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরয। কিন্তু বর্তমানে নারীদের বেপর্দার সয়লাব চলছে। বাড়ীর পরিবেশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সহাবস্থান এবং পর্দাহীনতা ব্যাপকতা পেয়েছে। কুরআন পাকে নর-নারীকে দৃষ্টি সংযত এবং যৌনাঙ্গের হেফাযতের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তা লংঘিত হচ্ছে বেপর্দার কারণে। ফলতঃ দৈহিক এবং মানসিক উভয়বিধ ব্যভিচার বৃদ্ধি পেয়েছে। আর তাতে দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্যহানি ঘটছে। সংসারে দাম্পত্য কলহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

(৩) নৃত্য-গীত, অভিনয় ইসলামে নিষিদ্ধ। এসব বিজাতীয় বিনোদন এবং সংষ্কৃতি। এসবে যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। নর-নারীকে ব্যভিচারের পথে টেনে নেয়। নৃত্যশৈলী শরীরের অঙ্গ-ভঙ্গী, যাতে শিল্পীর প্রতি মানুষকে কামনাসক্ত করে। সংগীতে অশ্লীলতা রয়েছে। গানের সুরের আকর্ষণ মানুষের মনকে বিচলিত করে। তার ফল শুভ হয় না কখনও। সিনেমা, টেলিভিশন, মঞ্চে নাটকের অভিনয় হয়। নারী-পুরুষে প্রেমের অভিনয়, চুম্বন-আলীংগন কিছুই বাদ যায় না অভিনয়ে। ইসলামী শরী’আতে এসব মহাপাপের কর্ম। আবার দেখা যাচ্ছে, যারা এসব কাজে লিপ্ত, তারা ব্যভিচারী, মদ্যপ, ধর্মবিধি বর্জিত জীবন যাত্রায় অভ্যস্ত। এরা নিজেরা তো গোল্লায় গেছেই, উপরন্ত তরুণ প্রজন্মকে তাদের দর্শক-শ্রোতা বানিয়ে তাদের ইহকাল-পরকাল বরবাদ করে দিচ্ছে।

(৪)মুসলমানদের বিজাতীয় পোষাক পরা নিষিদ্ধ। অধুনা বিজাতীয় পোষাক পরিধানের ধুম লেগে গেছে। নারীরাও চুল খাটো করে পুরুষের মতো শরীর অর্ধ অনাবৃত রেখে পোষাক পরছে। লজ্জা নিবারনের জন্য পোষাক। অথচ পোষাকে এখন আর লজ্জা নিবারন হচ্ছে না।

(৫) মুসলমাকে উত্তম নাম রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুসলমান অধুনা হিন্দু-খ্রীষ্টানের নাম রাখছে ছেলে-মেয়েদের।

সুতরাং প্রতীয়মান হচ্ছে যে, দেশের মুসলমান এখন সর্বদিক দিয়ে খ্রীষ্টান এবং পৌত্তলিকদের শিক্ষা-সভ্যতা, কৃষ্টি-কালচারের দিকেই শনৈঃশনৈ ধাবিত হচ্ছে। দ্বীনদার মুসলমানদের পক্ষে এসবের প্রতিবাদ করা কর্তব্য। অথচ প্রতিবাদ করাও এখন মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাধা দিতে গেলে সংঘাত বেঁধে যাওয়ার সম্ভবান। তাই ফরিয়াদ শুধু আল্লাহর কাছে। আল্লাহর সবাইকে ঈমান নছিব করুন- আমীন!!

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
kiw kow kan