যাকাতুল ফিতর

সাদকাতুল ফিতর

রচনায় :-  শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল-উসাইমীন

 অনুবাদ :মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম

সম্মানিত পাঠক! নিশ্চয় রমজান একটি সম্মানিত মাস যা আপনার শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে অতিবাহিত করেছেন। কিন্তু এটা বেশি দিন স্থায়ী নয়। যে ব্যক্তি এটা যথাযথ মূল্যায়নের সাথে অতিবাহিত করেছে সে যেন আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করে অতঃপর এটা কবুল হওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করে। আর যে এটা অলসতায় অতিবাহিত করেছে, সে যেন আল্লাহর নিকট তওবা করে এবং নিজ ত্রুটি বিচ্যুতির জন্য আল্লাহর তাআলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত।

সম্মানিত পাঠক! নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা এই মাসে আপনাদের উপর সাদাকাতুল ফিতর ফরয করেছেন। এটা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঈদের নামাযের পূর্বে।

আর এটাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল মুসলিমের উপর অপরিহার্য বলে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহর রাসূল যা ওয়াজিব করেছেন তা মানতে হবে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

﴿مَّن يُطِعِ ٱلرَّسُولَ فَقَدۡ أَطَاعَ ٱللَّهَۖ وَمَن تَوَلَّىٰ فَمَآ أَرۡسَلۡنَٰكَ عَلَيۡهِمۡ حَفِيظٗا ٨٠﴾ [النساء: ٨٠]

যে রাসূলকে অনুসরণ করল, সে আল্লাহ তাআলাকে অনুসরণ করল। আর যে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল, তবে আপনাকে তো আমরা তাদের উপর রক্ষক (প্রহরী) করে প্রেরণ করিনি। (সূরা নিসা, আয়াত ৮০)

আর আল্লাহ বলেন-

﴿وَمَن يُشَاقِقِ ٱلرَّسُولَ مِنۢ بَعۡدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ ٱلۡهُدَىٰ وَيَتَّبِعۡ غَيۡرَ سَبِيلِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ نُوَلِّهِۦ مَا تَوَلَّىٰ وَنُصۡلِهِۦ جَهَنَّمَۖ وَسَآءَتۡ مَصِيرًا ١١٥﴾ [النساء: ١١٥]

আর যারা তাদের নিকট হিদায়াত পৌঁছার পরও রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের ব্যতীত অন্যদের পথের অনুসরণ করে,তারা যেভাবে ফিরে যায়, আমরাও তাদেরকে সেদিকে ফিরিয়ে রাখব এবং জাহান্নামে দগ্ধ করাব।আর তা কতই না খারাপ প্রত্যাবর্তনস্থল। (সূরা আন নিসা, আয়াত ১১৫)

আর আল্লাহ তাআলা বলেন,

﴿وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَىٰكُمۡ عَنۡهُ فَٱنتَهُواْۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ ٧﴾ [الحشر: ٧]

তোমাদের রাসূল যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা থেকে বিরত থাক। (সূরা আল হাশর, আয়াত ৭)

আর এটা বড় ছোট, পুরুষ, মহিলা, স্বাধীন, পরাধীন সকল মুসলিমের উপর ফরয।

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে সাদাকাতুল ফিতর ফরয করেছেন এবং এক ছা খেজুর অথবা এক ছা যব ফরয করেছেন। এটা স্বাধীন, পরাধীন, পুরুষ, মহিলা, ছোট বড় সকল মুসলিমের উপর ফরয। (বুখারী ও মুসলিম)

অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানের উপর সরাসরি সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব নয়। তবে তার অভিভাবকগণ তাদের পক্ষ থেকে আদায় করবে। আমিরুল মুমিনিন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু গর্ভস্থ সন্তানের পক্ষ হতেও সাদকাতুল ফিৎরা গ্রহণ করেছেন। আর এটা নিজের পক্ষ থেকে ব্যয় করবে। আর এমনিভাবে সে যার দায়িত্বশীল সে তার পক্ষ হতে আদায় করে দেবে। স্বামী তার স্ত্রীর পক্ষ থেকে আদায় করে দেবে, যদি স্ত্রী নিজের পক্ষ হতে আদায় করতে না পারে। আর যদি সে নিজের পক্ষ হতে আদায় করতে পারে তাহলে সে নিজেই আদায় করবে। আর সেটাই উত্তম।

আর সে ব্যক্তির উপর যাকাতুল ফিতর ওয়াযিব নয় ঈদের দিনে যার খরচের অতিরিক্ত কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। যদি ঈদের দিন ভোরে তার কাছে এক ছা পরিমাণ খাদ্য শস্য বা তার সমপরিমাণ সম্পদের চেয়ে কম থাকে তবে তাও যেন সে সদকাতুল ফিৎর হিসেবে আদায় করে। আল্লাহ তাআলা বলেন;

﴿فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ مَا ٱسۡتَطَعۡتُمۡ﴾ [التغابن: ١٦]

তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যথা সম্ভব। (সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত ১৬)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«إِذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ» (متفق عليه(

যখন তোমাদেরকে কোন ব্যাপারে আদেশ করি, তোমরা উহা তোমাদের সাধ্যমত পালন কর।

আর সদকাতুল ফিতরের বাহ্যিক হিকমত হল : এর মধ্যে রয়েছে ফকিরদের জন্য দয়া এবং তাদেরকে ঈদের দিনে অন্যের নিকট চাওয়া হতে বিরত রাখা। ঈদের দিনে তারা যেন ধনীদের মত আনন্দ উপভোগ করতে পারে এবং ঈদ যেন সকলের জন্য সমান হয়। আর এর মধ্যে আরো আছে সাম্য ও সহমর্মিতা, সৃষ্টিজীবের জন্য ভালবাসা, ভ্রাতৃত্ব। আর এর মাধ্যমে রোযাদারদের রোযা পবিত্র হয় এবং রোযার ত্রুটির হয়েছিল ক্ষতিপূরণ হয়ে যায়। আর রোযার এই ত্রুটি হতে পারে কথার মাধ্যমে অথবা গুনাহের মাধ্যমে।

সাদকাতুল ফিতর আদায়ে আল্লাহর প্রতি শোকরিয়া প্রকাশ পায়। কারণ তিনিই রমযান মাসের রোযা পূর্ণভাবে রাখার সামর্থ দিয়েছেন।

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: সাদাকাতুল ফিতর হচ্ছে রোযাদারের জন্য পবিত্রতা এবং মিসকিনদের জন্য খাদ্য। আর যে তা ঈদের নামায আদায় করার পূর্বে আদায় করে তা কবুল করা হয়। আর সে উহা ঈদের নামায আদায় করার পর আদায় করে, তাহলে তা সদাকাতুল ফিতর না হয়ে সাধারণ সদকাহ হিসাবে আদায় হয়ে যাবে। (আবু দাউদ এবং ইব্‌ন মাজাহ্‌)

আর যা দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করা হবে তাহলো- মানুষের খাদ্যদ্রব্য যেমন, খেজুর গম, চাল, কিসমিস, পনির ইত্যাদি।

আর বুখারী ও মুসলিমে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদকাতুল ফিতর খেজুর অথবা যব দ্বারা আদায় করতে বলেছেন। আর তখন তাদের খাবার ছিল যব। যেমন আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লামের সময় সদকাতুল ফিতর এক ছা’ খাদ্য দ্বারা আদায় করতাম। আর আমাদের খাবার ছিল যব, কিসমিস, পনির এবং খেজুর। (বুখারী)

আর জন্তু-জানোয়ারের খাদ্য দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করলে আদায় হবে না। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম উহা ফরয করেছেন মিসকিনদের খাদ্য দানের জন্য। জন্তু-জানোয়ারের খাদ্যের জন্য নয়।

আর সদকাতুল ফিতর কাপড়, বিছানা, পানপাত্র, স্বর্ণ-রৌপ্য ইত্যাদি দ্বারা আদায় হবে না। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহা খাদ্য দ্বারা আদায় করা ফরয করেছেন।

আর উহা খাদ্যের মূল্য দ্বারা আদায় করলে আদায় হবে না। কেননা এটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর নির্দেশের বিপরীত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন কাজ করল কিন্তু উহা আমার নির্দেশমত নয়, তাহলে তা পরিত্যাজ্য। অন্য এক বর্ণনায় আছে, যে কোন বিষয়ের প্রচলন করল অথচ তা আমার নির্দেশ মত নয় তাহলে তা পরিত্যাজ্য। (মুসলিম)

বুখারী ও মুসলিমে যে “রদ” শব্দ এসেছে তার অর্থ পরিতাজ্য। কেননা খাদ্যের মূল্য দিয়ে সাদকাতুল ফিত্‌র পরিশোধ করা সাহাবাদের আমলের বিপরীত। তারা তা আদায় করতেন খাদ্য দ্রব্যের মাধ্যমেই।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের জন্য অনুসরণ যোগ্য হল, আমার আদর্শ ও খুলাফায়ে রাশেদার আদর্শ। কেননা সদকাতুল ফিতরা নির্দিষ্ট কিছু বস্তু দ্বারা আদায় করার জন্য ফরয করা হয়েছে। সুতরাং তা নির্দিষ্ট কিছু বস্তু ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা আদায় করলে আদায় হবে না। যেমনিভাবে তা নির্দিষ্ট সময় ছাড়া আদায় করা যায় না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম যাকাতুল ফিতর আদায় করার জন্য বিভিন্ন ধরণের খাদ্য সামগ্রী থেকে তা আদায় করতে বলেছেন; যেগুলোর মূল্য সাধারণত বিভিন্ন। যদি তার মূল্য আদায় করা যেত তবে কোন এক প্রকার নির্ধারিত হয়ে অন্য প্রকারের জন্য সমমূল্য দেয়ার কথা বলা হতো। তাছাড়া ফিতরা মূলত: একটি প্রকাশ্য নিদর্শন। মূল্য প্রদান করার মাধ্যমে ফিতরা দেয়ার কাজটি প্রকাশ্য নিদর্শন থেকে গোপন সদকায় পরিণত হবে। কারণ, এক সা’ খাবার দেয়ার কাজটি ছোট বড় সবাই এর পরিমাণ ও বিতরণ প্রত্যক্ষ করে থাকে, আর এতে পরস্পর পরিচিতি লাভ হয়; যা মূল্য প্রদানের মাধ্যমে অর্জিত হয় না। কেননা, তা কেউ টাকা প্রদান করলে তা দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

আর সাদকাতুল ফিতর একই জাতীয় গমের মূল্য দ্বারা আদায় করবে। অথবা সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে এমন খাদ্য দ্বারা যা ছোট বড় সকল মানুষের নিকট সুপরিচিত।

আর ফিতরা এর পরিমাণ হলো এক সা,যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ছিল। এর ওজন মিসকাল -এ হয়: ৪৮০ মিসকাল ভালো গমের ওজন; আর গ্রামের হিসেবে, ২ কিলোগ্রাম ৪০ গ্রাম ভাল গমের ওজন। কেননা, ১ মিসকালের ওজন হচ্ছে ৪/; এ হিসেবে ৪৮০ মিসকাল হয় ২০৪০ গ্রাম।

কাজেই আপনি যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর সা’জানতে চান, তবে দুই কেজি চল্লিশ গ্রাম ভাল গম এমন একটি পাত্রে নিন, যাতে তা সম্পপূর্ণরূপে পরিপূর্ণ থাকে। তারপর সেই পাত্র দ্বারা এক সা হিসেব করুন।

আর সাদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার সময় হচ্ছে, ঈদের রাত্রের সূর্যাস্ত। সুতরাং সুর্যাস্তের সময় যে ব্যক্তি ফিতরা দেয়ার সামর্থ রাখে, তার উপরই ফিতরা দেয়া ওয়াজিব হবে, নতুবা নয়। ফলে যদি কোন ব্যক্তি ঈদের পূর্ব দিন সূর্য ডুবার পূর্বে মারা যায় তাহলে তার জন্য ফিত্‌রা ওয়াজিব হবে না। আর যদি তার পর মারা যায়,তাহলে তার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব হবে। আর যদি সূর্যাস্তের পর কোন সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় তাহলে তার ফিতরা ওয়াজিব হবে না। অবশ্য তার ফিতরা আদায় করা হলে দোষের কিছু নেই- যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর যদি সূর্যাস্তের কয়েক মিনিট পূর্বেও ভূমিষ্ঠ হয় তাহলে তার পক্ষ থেকে ফিতরা দেয়া ওয়াজিব হবে।

ঈদের পূর্বদিনের সূর্যাস্ত ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার সময় হিসেবে নির্ধারিত হওয়ার কারণ হচ্ছে, এই সময়েই রমযান থেকে ফিতর তথা রোযাভঙ্গ হয়। আর এর নামকরণও এর সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই বলা হয়: যাকাতুল ফিতর বা রোযা ভঙ্গের সাথে সংশ্লিষ্ট যাকাত। তাই সেই সময়টিই বিধানটির কারণ বলে বিবেচিত হয়েছে।

ফিতরা আদায় করার দুইটি সময়। একটা হলো ফযিলতের সময়, আর একটা হলো জায়েয সময়। আর উত্তম সময় হলো ঈদের দিন সকাল বেলা ঈদের নামায আদায় করার পূর্বে। যেমনিভাবে বুখারী শরীফে এসেছে-

আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এর যামানায় ঈদের দিনে খাদ্যদ্রব্য দ্বারা ফিতরা আদায় করতাম। আর এমনিভাবে ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিতরা আদায় করতে বলেছেন নামায আদায় করতে যাওয়ার পূর্বে। (মুসলিম)

আর সে জন্যই উত্তম হচ্ছে, ঈদুল ফিতর এর দিনে ঈদের নামায কিছু দেরী করে পড়া, যাতে করে ফিতরা আদায় করা সম্ভব হয়।

আর যাকাতুল ফিতর আদায় করার জায়েয সময় হলো,ঈদের একদিন পূর্বে অথবা দুইদিন পূর্বে। যেমনিভাবে সহীহ বুখারীতে নাফে হতে বর্ণিত আছে,তিনি বলেন, ইব্‌নে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা ছোট বড় সকলের পক্ষ থেকে যাকাতুল ফিতর আদায় করতেন, এমনকি তিনি আমার সন্তানদের পক্ষ থেকেও আদায় করতেন, আর তিনি তাদেরকেই সেটা দিতেন যারা গ্রহণ করতে চাইতো, আর তিনি তা দিতেন ঈদের একদিন অথবা দুইদিন পূর্বে। [বুখারী]

আর ঈদের নামাযের পর পর্যন্ত যাকাতুল ফিতর আদায় করতে বিলম্ব করা জায়েয নেই। বিনা ওযরে ঈদের নামাযের পর পর্যন্ত বিলম্ব করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। কেননা এটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর নির্দেশ এর বিপরীত। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে, তিনি বলেন, যিনি সাদকাতুল ফিতর ঈদের নামাযের পূর্বে আদায় করবে তাহলে উহা গ্রহণ বা আদায় বলে গণ্য হবে। আর যদি ঈদের নামাযের পর আদায় করা হয়, তবে উহা সাধারণ সদকাহ এর ন্যায় হবে।

আর যদি কেউ তা ওযর বশত বিলম্বে আদায় করে তবে কোন দোষ নেই। যেমন ঈদের নামায কাউকে এমন স্থানে পেয়েছে যেখানে আদায় করার মত কোন জিনিস তার নিকট নেই যার দ্বারা সে তা আদায় করবে। অথবা তার নিকট এমন কোন ব্যক্তিও নেই যাকে সে যাকাতুল ফিতর দিবে। অথবা তার কাছে ঈদের সংবাদ হঠাৎ করেই এসেছে ফলে সে নামাযের আগে যাকাতুল ফিতর আদায় করতে সমর্থ হয়নি। অথবা সে যাকাতুল ফিতর আদায় করার ব্যাপারে কারও উপর দায়িত্ব প্রদান করেছিল কিন্তু লোকটি তা প্রদান করতে ভুলে গিয়েছিল। উপরোক্ত অবস্থাসমূহে ঈদের পরেও আদায় করা যাবে, কারণ তার গ্রহণযোগ্য ওযর রয়েছে।

আর যাকাতুল ফিতর আদায় করার ওয়াজিব হলো,তা তার প্রাপ্য বক্তিগণের নিকট পৌছিঁয়ে দেয়া। অথবা তা নামাযের পূর্বে আদায় করার জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা। যদি কোন লোককে দেয়ার জন্য নিয়্যত করে কিন্তু তার কাছে সেটা আদায় করার মত কোন লোক পাওয়া না যায় এবং সে লোকের কোন প্রতিনিধিও পাওয়া না যায়, তাহলে আদায় করার সময় শেষ হওয়ার আগেই অন্য কাউকে তা প্রদান করতে হবে। কোনভাবেই এর নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম করা যাবে না।

আর ফিতরা আদায় করার স্থান হলো আদায় করার সময়ে যে যেখানে আছে সেখানকার অভাবীদের মাঝে, সেটা তার নিজের স্থায়ী আবাসস্থল হোক কিংবা মুসলিম বিশ্বের অন্য কোথাও হোক; বিশেষ করে যদি তা সম্মানিত স্থান হয় অথবা সে স্থানের অভাবীরা অধিক মুখাপেক্ষী হয়।

আর যদি এমন কোন স্থানে থাকে যেখানে সদকা গ্রহণ করার মত কোন লোক পাওয়া না যায়, অথবা যদি যাকাতুল ফিতর এর হকদার সম্পর্কে জানতে না পারে, তাহলে তা অন্য কোন স্থানের হকদারদের কাছে আদায় করার জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করবে।

আর ফিতরা পাওয়ার অধিকারী হলো ফকির তথা অভাবী আর এমন ঋণগ্রস্ত যে তার ঋণ আদায় করতে সক্ষম নয়। তখন তাদেরকে তাদের প্রয়োজন মোতাবেক প্রদান করা যাবে। আর এক ফিতরা একাধিক ফকীরকেও দেয়া যাবে। অনুরূপভাবে একাধিক ফিতরা একজন মিসকিনকেও দেয়া যাবে। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম ফিতরার পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন কিন্তু প্রাপকদের নির্ধারণ করেন নি। সুতরাং যদি একদল লোক তাদের ফিতরা মেপে একত্র করে লোকদেরকে তা থেকে পুনরায় ওজন না করেই দিতে থাকে তবে তা যথেষ্ট হবে। তবে যাকে দেয়া হচ্ছে তাকে জানিয়ে দিতে হবে যে, তাকে যা দেয়া হচ্ছে তার পরিমাণ অজানা। যাতে করে সে ফকীর যদি এর থেকে তার নিজের ফিতরা দিতে চায় যেন পরিমান সম্পর্কে ভুল ধারণা করে না বসে। আর ফকীর যদি কোন ব্যক্তি থেকে ফিতরা গ্রহণ করে, প্রদানকারী তাকে জানায় যে, তা একটি পরিপূর্ণ ফিতরা এবং সে তার কথা বিশ্বাস করে, তবে তার জন্য এই ফিতরা দ্বারা নিজের বা নিজের পরিবারের পক্ষ থেকে আদায় করা জায়েয আছে।

হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে তোমার আনুগত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার তাওফীক দাও; যেভাবে আপনি সন্তুষ্ট হন সেভাবে। আর আমাদের আত্মাসমূহকে পবিত্র কর। আর বিশুদ্ধ কর আমাদের কথা, কাজসমূহকে এবং আমাদেরকে খারাপ আকীদা কথা ও কাজ সমূহ থেকে পবিত্র কর। নিশ্চয় তুমি উত্তম দানশীল।

وَصَلَّى اللهُ وَسَلَّمَ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَّآلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِيْنَ

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
slot online skybet88 skybet88 skybet88 mix parlay skybet88 rtp slot slot bonus new member skybet88 mix parlay slot gacor slot shopeepay mix parlay skybet88 slot bonus new member