ইসলাম গ্রহণের গল্প

খ্রিস্টান পিতা-মাতার উৎসাহে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হলেন রুশ তরুণী

খ্রিস্টান পিতা-মাতার উৎসাহে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হলেন এক রুশ তরুণী। খ্রিস্টান পরিবারে জন্ম নেওয়া ওই তরুণী ১৫ বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তার নাম ‘ইলিনা ডিমিট্রিয়াঙ্কো (Elena Dmitrienko)।’ এখন তার বয়স ২১। 

ইসলাম ধর্ম পালনে ইলিনার বাবা-মা কোন রকম বাধা না দিয়ে বরং সাহায্য করেছেন বলেন জানান তিনি। বলেন, ‘আমার বাবা বলেন, তুমি যে ধর্ম পালন করে মনে প্রশান্তি অনুভব করো, সেটাই তোমার পালন করা উচিৎ। আমাদের পথ ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য তো এক।’


ধর্ম পালনে বাবা-মা’র এমন অনুপ্রেরণা ও সাহায্যের কারণে ইলিনা কোরআন মুখস্থ করা শুরু করে এবং পুরো কোরআন মুখস্থ করে ফেলেন। পুরো কোরআন মুখস্থ করতে ইলিনার সময় লেগেছে ৪ বছর।

ইলিনার এমন সাফল্যে মুগ্ধ রাশিয়ার ইসলাম বিষয়ক দফতর। রাশিয়ার ইসলামি অফিস ইলিনাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ১৯তম ‘ফাতেমা বিনতে মোবারক’ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় রাশিয়ার প্রতিনিধি নির্বাচন করে।

শুধুমাত্র নারীদের জন্য আয়োজিত আন্তর্জাতিক এ কোরআন প্রতিযোগিতায় মোট ৮৩টি দেশ অংশ নেয়। যা ৬ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে শেষ হয়েছে ১৮ নভেম্বর।

প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ইলিনা ডিমিট্রিয়াঙ্কো গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জানান, ‘আমার পিতা-মাতা মুসলমান নয়, তার পরও তাদের অনুপ্রেরণা ও সাহায্যের কারণে এক বছর পূর্বে আমি কোরআনে কারিম মুখস্থ করতে সক্ষম হয়েছি।’

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি একটি বেসরকারি স্কুলে পড়ালেখা করেছি। যেখানকার অধিকাংশ শিক্ষার্থীই মুসলমান। আমি আমার সহপাঠীদের আচার-আচরণ, তাদের লাইফস্টাইল এবং ইসলাম ধর্ম পালনের প্রতি তাদের আগ্রহ ও একনিষ্ঠতা দেখে দারুণভাবে প্রভাবিত হই এবং ধীরে ধীরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেই।’

ইলিনা বলেন, ‘ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর পবিত্র কোরআন শেখার জন্য আমি ‘জায়নাব বিনতে সাবিত’ কোরআন শিক্ষাকেন্দ্রে যোগাযোগ করি। সেখানে যাওয়ার পর শিক্ষাকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ আমাকে সাদরে গ্রহণ করেন।’

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর আমার কথাবার্তা এবং আচার-আচরণে পরিবর্তন দেখার পর আমার পিতা-মাতাও আমার প্রতি প্রভাবিত হন এবং ধর্ম পালন ও কোরআন মুখস্থের বিষয়ে তারা আমাকে উৎসাহিত করেছেন।

Original Source

মতামত দিন