ইসলামিক গল্প ইসলামী শিক্ষা

শ্বাসরুদ্ধকর অন্তিম মুহূর্তে ক্ষমা

শ্বাসরুদ্ধকর অন্তিম মুহূর্তে ক্ষমা

তায়েফ থেকে দক্ষিন দিকে ভ্রমণ করলে আপনার সামনে একের পর এক পাহাড়ের দৃশ্য পড়বে, যেখানে ছোট ছোট গ্রাম রয়েছে। এটা সেই স্থান যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের শৈশব কাটিয়েছেন। মা হালিমা এই স্থানের বাসিন্দা ছিলেন। এখান থেকে আরো নিচে গেলে আবহা এবং খামীস মাশিত নামক স্থান যেখানে গ্রীষ্মের সময় নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু বরং কিছু পরিমাণ ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর জন্য শহরটি প্রসিদ্ধ। লাইন বেয়ে যাওয়া পাহাড়ে আজো আপনি রাখাল বেদুঈনদের ছাগল চরাতে দেখতে পাবেন।


আবূ মশহূদ নামক রাখাল নিজের ছাগলের পাল নিয়ে সকালে বের হত। বৃষ্টির পর গজানো ঘাস তাঁর ছাগলের আহার হত। সন্ধ্যাবেলায় সে তাঁর ছাগলগুলোকে ছোট ছোট পানির গর্ত থেকে পানি পান করিয়ে বাড়ী ফিরত। একদিন সন্ধায় তাঁর ছাগল বাড়ী চলে আসল; কিন্তু সে আর ফিরল না। রাতের অন্ধকারে তাঁর বড় ছেলে এবং তাঁর অন্য আত্মীয় তাঁর খোঁজে বের হল; কিন্তু নিস্ফল হয়ে ফিরে আসল। পরের দিন সকালে আবার গ্রামের যুবকদের একদল আবূ মশহূদকে খুঁজতে খুঁজতে পাহাড়ের এক ঝর্ণার পাশে পৌঁছল। সেখানে তাঁরা তাঁর লাশ পড়ে থাকতে দেখতে পেল। শরীরে বন্দুকের গুলির চিহ্ন ছিল। পুলিশকে সংবাদ দেওয়া হল। ঘটনা পরিস্থিতি ও অবস্থাসমূহ স্পষ্টতঃ প্রমাণ করছিল যে, তাঁর সাথে অন্য কোন রাখালের ঝগড়া হয়েছে এবং সেই জের ধরে তাকে খুন করা হয়েছে।
প্রায় সময় রাখলরা এই বিষয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হয় যে, কার ছাগল প্রথম পানি পান করবে; কিন্তু এই ঝগড়া সাময়িক থাকে আবার পরের দিন তা মিটে যায়। পুলিশ নিহতের আপনজনদের কাছে জিজ্ঞেস করল, তাদের কারো প্রতি সন্দেহ আছে কিনা? তাঁর সাথে কে ঝগড়া করতে পারে?
বাড়ীর লোকজন বলল যে, সে সাদাসিধে লোক ছিল। কারো ক্ষতি করত না। তাঁর সাথে কারো কখনো ঝগড়া হয়নি। তবে সে অমুক অমুক ব্যক্তির সাথে ছাগল চরাত।
সামান্য তদন্তের পর পুলিশ আলী বিন আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করল, যে পরবর্তীতে অপরাধ স্বীকার করে নিল। আদালতে মোকদ্দমা চলল এবং ঘটনার পরিস্থিতি ও অবস্থা এবং অপরাধ স্বীকারের উপর ভিত্তি করে বিচারক ফায়সালা দিল যে, হত্যাকারীকে হত্যা করা হবে। নিহতের বড় ছেলে মশহূদ সে সময় সতের বছর বয়সের; কিন্তু ছোট সন্তান মায়ের দুধ পান করা শিশু।
বিচারক ফায়সালা দিলেন, যতক্ষণ না এই শিশু সাবালক হবে সে পর্যন্ত এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করা যাবে না। সুতরাং হত্যাকারীকে জেলে আটক করা হল। সে সময় হত্যাকারীর বয়স ৪২ বছর ছিল। তাকে জেলে ১৮ বছর অপেক্ষা করতে হবে কিসাসের জন্য। কেননা যতক্ষণ না তাঁর ছোট সন্তান ১৮ বছরের হবে ততক্ষন ফায়সালা কার্যকর করা হবে না।
অতঃপর সময় পার হয়ে গেল এতীম শিশু ১৮ বছর বয়সে পা রাখল নিয়মানুযায়ী হত্যাকারীর গোত্রের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ একত্রিত হয়ে নিহতের উত্তরসূরিদের বললেন, হত্যার দিয়ত (জরিমানা) গ্রহণ করে হত্যাকারীকে মেহেরবানী করে মাফ করে দিতে। সাধারণত সৌদি আরবে খুনের মূল্য মোটামুটি এক লাখ বিশ হাজার রিয়াল; কিন্তু তা নির্ভর করে নিহতের উত্তরসূরিদের উপর তাঁরা কি পরিমাণ গ্রহণ করবে? এদিকে নিহতের উত্তরসূরীরা রক্তের বিনিময় করতে অস্বীকার করল। আলী আব্দুর রহমানের পক্ষের লোকজন দশ লাখ রিয়াল দেয়ার প্রস্তাব করল। এরপরও তা মেনে নেয়নি।
আলী আব্দুর রহমান নিজ সম্পর্কে বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন যে, যখন আমি জেলে গেলাম আমার বয়স তখন ছিল ৪২। আমি তখন যুবক ছিলাম আর এখন আমি ৬০ বছরের। জেলে থাকাও এক শাস্তি। আমি ৮ বছর বিলজারশী নামক শহরের জেলে ছিলাম, আর বাকী সময় আলবাহার জেলে কাটিয়েছি। জেলে কোন নতুন কয়েদি আসলেই আমরা আমাদের ঘটনা এবং অবস্থা বর্ণনা করতাম।
আর এভাবে সেই সব ঘটনা আমরা পরস্পর পরবর্তীতে হাজারো বন্দীদের কাছে বর্ণনা করতাম। সেই সময়ের ভেতরে আমি কুরআন পাকের দরসের মাধ্যমে পড়া শিখলাম। লেখাপড়া শিখার পর কিছু কিতাব আমি পড়তে লাগলাম। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষার পর সে সময় এসে পৌঁছল যখন আমার ভাগ্যের ফায়সালা হওয়ার ছিল। অন্যদিকে আমার বংশের লোকজন অবিরাম ক্ষমার জন্যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল; কিন্তু তাঁর কোন সুরাহা হল না। আমি আশা ও নিরাশার মাঝে ছিলাম।
একদিন সকাল বেলায় জেল কর্মকর্তাগণ আমাকে ডাকলেন এবং বললেন, সমঝোতার সকল প্রচেষ্টাই বিফল হল। সুতরাং কাল তোমাকে কিসাসে হত্যা করা হবে। আমি তাদের এই নির্দেশনায় শঙ্কিত হইনি। মূলতঃ আমি ১৮ বছর জেলে থাকার পর সব ভয়ভীতি দূর হয়ে গিয়েছিল। আমি জীবনে এমনিতেই নিরাশ হয়ে গিয়েছিলাম। কাল আমার শেষ দিন হবে। আমি আমার চোখ দুটো বন্ধ করে দেয়ালে ঠেস দিয়ে বসে গেলাম। আমি ভাবছিলাম- আমার শৈশব, যৌবন, আমার নিজের স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয়, বন্ধুদের এবং আমার বংশের লোকজনের কথা, মনে পড়ল যারা দশ লাখ রিয়াল এবং এক জমিও জরিমানা দিয়ে আমার প্রাণ বাঁচাতে চায়। সারারাত ঘুম আসেনি। আমি যিকির ও নফল নামাযের মাধ্যমে সময় অতিক্রম করলাম। সকালেই জেলার এসে হাজির। আমার দু’পায় জিঞ্জির দিয়ে বাধা হল, দু’হাতে হাতকড়ি। সাথীরা অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় নিল। জেলের গাড়ীর দরজা খুলে আমাকে ভেতরে ভরা হল। অল্পক্ষণ পর কিসাসের মাঠে আমাকে নামিয়ে দেয়া হল। আমার দু’চোখ বাধা; কিন্তু লোকজনের আওয়াজ আমার কানে আসছিল। এটা খামীস-মশীত শহরের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। অসংখ্য ব্যক্তিরা আমার হত্যার দৃশ্য দেখার জন্য একত্রিত হয়েছিল। আমার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুরা আমার সাথে বিদায়ী সাক্ষাত করে নিয়েছিল। আমাকে বসিয়ে আদালতের এক কর্মকর্তা আমার অপরাধের ঘোষণা দিল। আমার স্বীকারোক্তি এবং বিচারকের ফায়সালা, সুপ্রিম কোর্টের ফায়সালা সব লোক নিরবে শুনছিল। অতঃপর জল্লাদকে নির্দেশ দেওয়া হল যে, অপরাধীর শিরোচ্ছেদ করা হোক। সে সামনে বাড়াল এবং তরবারী কোষ থেকে বের করল। আমি কালেমা পড়তে পড়তে ভাবলাম এক্ষুনি তরবারী আমার মাথাকে বিচ্ছিন্ন করবে। আমি সমস্ত শক্তি একত্রিত করলাম আর এমন সময় এক আওয়াজ আসলঃ
“আমি তোমাকে আল্লাহকে খুশী করার জন্য মাফ করলাম।”
এটা নিহতের বড় ছেলের আওয়াজ ছিল। জনগণ যে আবেগ অনুভূতি নিয়ে আমার লাশ দেখছিল, আর তখনই আমার ক্ষমা ঘোষণা শুনছে। সমস্ত চত্ত্বর “আল্লাহু আকবার” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে গেল। “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” কালেমা সবার মুখে মুখে। আমি সহকারে এমন কারো ভুলে বা স্বপ্নেও ধারণা ছিল না যে, আমার ক্ষমা হতে পারে। এ অবস্থায় আমি বেহুঁশ হয়ে গিয়েছিলাম। আমাকে উঠিয়ে পুনরায় গাড়ীতে উঠানো হয় ও জেলখানায় নিয়ে আসে। সমস্ত লোকই আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছে বটে; কিন্তু আমার মুক্তির জন্য আইনি লড়াই এখনও বাকী রয়েছে। অতএব আমি সহ আমার আত্মীয়দের কারো জানা ছিল না যে, আমার কবে জেল হতে মুক্তি হবে।
শেষে সেদিনই চলে আসল যেদিন আমি জেল থেকে বের হলাম। এসময় এতটুকু সময় পাইনি যে, আমি আমার নিজের লোকদের জানাই যে, আমি মুক্তি পেয়েছি এবং আমি বাড়িতে ফিরছি, আমি জেল হতে বের হলাম। এক ট্যাক্সি বের হয়ে নজরে পড়ল। আমি তাকে ইশারা দিলাম, সে আসা মাত্র আমি তাতে চট করে বসে পড়লাম। আমার নবজীবন শুরু হতে যাচ্ছিল। আমার সামনে নিজের বাড়ীর সবই ভাসছিল; ভাবছিলাম ঐ মুহূর্তের কথা কখন আমি তাদের মাঝে উপস্থিত হব। হঠাৎ আমার মনে হল, বাড়ীতে না গিয়ে প্রথম আবূ মশহূদের বাড়ী যাওয়া প্রয়োজন যাতে তাঁর শুকরিয়া আদায় করা যায় এবং তাঁর লোকজনের কাছেও শুকরিয়া আদায় করা যায়। আমি পূর্বের ইতিহাস স্মরণ করা শুরু করলাম। আঠার (১৮) বছরে সবকিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমি ট্যাক্সিওয়ালাকে তাদের গ্রামের ঠিকানা বলে দিলাম। অল্পক্ষণের মধ্যে আবূ মশহূদের পরিবারের সাথে মিলিত হলাম। আমার নিকট আপনাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কোন ভাষা নেই, আমি যা বলছি তা যথেষ্ট নয়; বরং নিঃসন্দেহে আপনাদের প্রতিদান আল্লাহর নিকট। আমি তাদেরকে গলায় লাগিয়ে নিলাম, মাথা চুম্বন করছিলাম।
এবার নিহতের বড় ছেলে মশহূদ বলতে লাগলঃ বস আমি তোমাকে আমার ঘটনা শুনাচ্ছি। তুমি অবশ্যই জান, তোমার বংশের পক্ষ থেকে আমাকে দশ লাখ রিয়াল ও এক প্লট জমিন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া আমাকে অনেক লোকজন ক্ষমা করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে; কিন্তু আমি সবই অগ্রাহ্য করেছি। একদিন আমরা বাড়ীর সকলেই একত্রিত হলাম, আমি তাদের বললামঃ তোমাদের কি খেয়াল যদি আমরা হত্যাকারীকে আল্লাহর রাজি-খুশীর জন্য মাফ করে দেই আর তা আমাদের পিতার পক্ষ থেকে সাদকা হয়ে যায়। সেদিন আমরা অনেক চিন্তা-ভাবনা করলাম। অনেক আলোচনার পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে, হ্যাঁ আল্লাহর খুশীর জন্যে আমাদের তাকে মাফ করে দেওয়া উচিত। আমরা সবাই একমত হলাম, কেউ যেন জানতে না পারে।
অন্যদিকে আদালতের কার্যক্রম নিজ গতিতে চলছিল। আমাকে জিজ্ঞেস করা হল, সমঝোতার কোন পথ আছে? কিন্তু আমি সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে দিলাম এমনকি আল-বাহার পুলিশের কাছে নির্দেশ বাস্তবায়নের অর্ডার এসে গিয়েছিল। আমাকে শেষবারের মত জিজ্ঞেস করা হল, তুমি কি মাফ করতে চাও নাকি কিসাস নিতে চাও। আমি মাফ করা অস্বীকার করলাম আর কিসাস নেয়ার উপর অটল থাকলাম এবং আমি পুলিশদের বললাম আমি এবং আমার ভাই ও আত্মীয়-স্বজনসহ কিসাসের সময় হাজির থাকব।
অতঃপর যখন তোমাকে কিসাসের মাঠে হাজির করা হল, তোমার দু’চোখ বাধা এবং আদালতের পক্ষ থেকে ফায়সালা ও সাক্ষীর সবকিছু শোনাল এবং জল্লাদ তরবারী বের করল। সে তোমার শিরোচ্ছেদ করতে যাচ্ছিল এমন সময় আমি তাকে হাতের ইশারায় থামিয়ে দিলাম এবং অগ্রসর হয়ে তাঁর হাত ধরলাম এবং সাথে সাথে ঘোষণা করলাম যে, আমি আল্লাহর জন্যে তোমাকে মাফ করে দিয়েছি।
আমি কোন ব্যক্তির প্রশংসা অর্জনের জন্যে এমনটি করিনি। আমি সবকিছু আল্লাহর জন্যে করেছি। আমি যদি প্রশংসা ও খ্যাতি চাইতাম তবে আমি লোকজনের সুপারিশ গ্রহণ করে মাফ করতে পারতাম, দশ লাখ রিয়াল অর্থের দিকেও আমি গুরুত্ব দেইনি। আমি আমার পিতার পক্ষে তা সাদকা করলাম। আল্লাহ্ কবুল করুণ। আমীন।
সম্মানিত পাঠক! এভাবেই মশহূদ এক সোনালি ফায়সালা করে স্বীয় বংশের এক সোনালি অধ্যায় রচনা করে।
এই ঘটনাটি সৌদি আরবের উক্বাজ নামক দৈনিক পত্রিকা সংখ্যা ৮৪৩৯, ১৪১০ হিজরী থেকে নেয়া হয়েছে। মুহতারাম ইব্রাহীম হাযেমীও নিজ কিতাব “আল-ফারাজু বা’দাশ শিদ্ধা” গ্রন্থে ঘটনাটি উদ্ধৃত করেছেন।

শিক্ষাঃ

উক্ত ঘটনায় আমাদের জন্য বেশ কয়েকটি শিক্ষা রয়েছে।
১। এক মুসলিম তাঁর অপর মুসলিম ভাইকে হত্যা করলে এর শাস্তি হল হত্যা অথবা সন্তানরা চাইলে এর দিয়ত গ্রহণ করতে পারবে অথবা হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিতে পারবে।
২। কিসাস বাস্তবায়ন করতে হলে নিহতের সন্তানদের সাবালক হতে হবে।
৩। কিসাস বাস্তবায়ন করতে হবে খোলা মাঠে যেন মুসলিমরা তা দেখে শিক্ষা নিতে পারে।
৪। জেলে থেকেও ইলম অর্জন করা যায়। আমাদের দেশে জেলে গেলে মানুষ ভালো হবে দূরের কথা আরো খারাপ হয়ে বের হয়! অথচ সৌদি আরবে জেলের ভেতরে দরসের আয়োজন করা হয় , যাতে করে আসামীরাও ইসলামের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, জেল হতে একজন ভালো মানুষ হয়ে বের হতে পারে।
৫। নিহতের অভিবাবকদেরকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য কোনরূপ চাপ দেওয়া যাবে না।
৬। নিহতের পরিবার ছাড়া আর কারো ক্ষমা করে দেওয়ার অধিকার নেই। কোন প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি বা বিচারপতির ক্ষমা করার অধিকার নেই।
৭। পিতা-মাতার মৃত্যুর পর তাদের জন্য সাদকা করার মানসিকতা থাকতে হবে। বেশী বেশী করে সাদকা করতে হবে।
সন্তানেরা ইচ্ছা করলে দিয়ত গ্রহণ করতে পারত অথবা কিসাস নিতে পারত কিন্তু তাঁরা তা না করে তাদের পিতার জন্য যা সবচেয়ে বেশী উপকারী হবে সেটা গ্রহণ করে অর্থাৎ পিতার পক্ষ হতে সাদকা করে দেয়।
৮। আমাদের উচিত আল্লাহকে রাজি-খুশির জন্য ভালো কাজ করা, লোক দেখানোর জন্য নয়, সুনাম বা প্রশংসার জন্য নয়।
৯। কার মৃত্যু কখন কোথায় হবে তা আল্লাহ্ তা’আলা ছাড়া আর কেউ জানে না। সবাই ভেবেছিল যে, লোকটার শিরোচ্ছেদ হবে কিন্তু আল্লাহর ফায়সালা শেষ মুহূর্তে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
আল্লাহ্ তা’আলা আমাদেরকে ক্ষমা করুক। আল্লাহকে রাজি-খুশির জন্য বেশী করে ভালো কাজ করার তওফিক দান করুক, পিতা-মাতার খেদমত করার, তাদের পক্ষে বেশী বেশী সাদকা করার তওফিক দান করুক। আমীন।

মতামত দিন