প্রবন্ধ

ফিতনার সময় নির্দেশনা ও করণীয়

রচনায় : সাঈফুদ্দীন বিলাল মাদানী
ফিতনার মূল:

সকল প্রকার ফিতনা আল্লাহর সৃষ্টির মাঝে তাঁর সৃষ্টিগত নিয়ম। আল্লাহ তা‘য়ালা তাঁর মুমিন বান্দাদেরকে কাফেরদের থেকে এবং সত্যবাদীদেরকে মিথ্যুক হতে আলাদা প্রমাণ করার জন্য এসব দ্বারা পরীক্ষা করেন।
আল্লাহ তা‘য়ালার বাণী:

أَحَسِبَ النَّاسُ أَن يُتْرَكُوا أَن يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ

وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۖ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ
“মানুষ কি মনে করে যে, তারা একথা বলেই অব্যহতি পেয়ে যাবে যে, ‘আমরা বিশ্বাস করি’ এবং তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না? আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি, যারা তাদের পূর্বে ছিল। আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয় জেনে নেবেন মিথ্যুকদেরকে।” [সূরা আনকাবুত:২-৩]
আর যখন ফেতরা আবশ্যকীয়ভাবে ঘটবেই তখন সে ব্যাপারে জ্ঞান থাকা জরুরি। এ ছাড়া সে বিষয়ে প্রস্তুতি ও তার বিপদ থেকে ভয় করা ও তা হবে বাঁচার পূর্ণ জানা একান্তভাবে প্রয়োজন।

আল্লাহ তা‘য়ালা বলেন:

وَمَا أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنَ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا إِنَّهُمْ لَيَأْكُلُونَ الطَّعَامَ وَيَمْشُونَ فِي الْأَسْوَاقِ ۗ وَجَعَلْنَا بَعْضَكُمْ لِبَعْضٍ فِتْنَةً أَتَصْبِرُونَ ۗ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيرًا
“আপনার পূর্বে যত রসুল প্রেরণ করেছি, তারা সবাই খাদ্য গ্রহণ করত এবং হাটে-বজাওে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের একজনকে অপরের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। দেখি, তোমরা সবর কর কি না। আপনার পালনকর্তা সবকিছু দেখেন।”[সূরা ফুরকান:২০]
ফিতনা অনেক প্রকার। বর্তমানে একটি অপরটির উপর পুঞ্জীভূত মেঘের ন্যায় প্রাধান্য লাভ করতেছে। অন্ধ ও বধিরকেও ক্লান্ত–শ্রান্ত করে দিচ্ছে, যেন ইহা রাত্রির অন্ধকারের অংশ। আর উদ্যেলিত হচ্ছে কঠিন স্রোতের মত। যাতে বিবেকবানদের বিবেক উড়ে যাচ্ছে এবং মরে যাচ্ছে তাতে অন্তরসমূহ। বড় কঠিন যেখানে কেউ কাউকে দয়া করছে না এবং শক্তিশালী যার জন্য কেউ দাঁড়াতে পারছে না। আর আল্লাহ যাকে নিরাপদে রাখেন সে ব্যতিত কেউ বাঁচতে পারছে না।

১. আল্লাহ তা‘য়ালা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ ۖ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ وَأَنَّهُ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ

وَاتَّقُوا فِتْنَةً لَّا تُصِيبَنَّ الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنكُمْ خَاصَّةً ۖ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও রসূলের নির্দেশ মান্য কর, যখন তোমাদের কাজের প্রতি আহবান করা হয়, যাতে রয়েছে তোমাদের জীবন। জেনে রেখে, আল্লাহ মানুষের এবং তার অন-রের মাঝে অন-রায় হয়ে যান। বস্তুত: তোমরা সবাই তাঁরই নিকট সমবেত হবে। আর তোমরা এমন ফাসাদ থেকে বেঁচে থাক যা বিশেষত: শুধু তাদের উপর পতিত হবে না যারা তোমাদের মধ্যে জালেম। আরো জেনে রেখ যে, আল্লাহর আজাব অত্যন্ত কঠোর।“ [সূরা আনফাল:২৪-২৫]

রাসূল (সা) থেকে একটি হাদীস :

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: سَتَكُونُ فِتَنٌ الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنْ الْقَائِمِ وَالْقَائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنْ الْمَاشِي وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنْ السَّاعِي مَنْ تَشَرَّفَ لَهَا تَسْتَشْرِفُهُ وَمَنْ وَجَدَ فِيهَا مَلْجَأً فَلْيَعُذْ بِهِ. متفق عليه.

২. আবু হুরাইরা [রা:] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সা] বলেন:“ফিতনার সময় বসে থাকা ব্যক্তির ফিতনা দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির ফিতনা চাইতে হালকা হবে। চলন- ব্যক্তির ফিতনার চাইতে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির ফিতনা হালকা হবে। এ সময় দৌড়ানো ব্যক্তির চাইতে চলন- ব্যক্তির ফিতনা হালকা হবে। আর যে ব্যক্তি এ ফিতনার প্রতি চোখ উঁচু করে দেখবে সে তাতে পতিত হবে। আর যে ব্যক্তি ফিতনায় পতিত হওয়ার আশঙ্কা করে সে যেন তা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করে।”

عَنْ أُسَامَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ أَشْرَفَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أُطُمٍ مِنْ آطَامِ الْمَدِينَةِ فَقَالَ: هَلْ تَرَوْنَ مَا أَرَى إِنِّي لَأَرَى مَوَاقِعَ الْفِتَنِ خِلَالَ بُيُوتِكُمْ كَمَوَاقِعِ الْقَطْرِ.متفق عليه.

৩. উসামা [রা:] থেকে বর্ণিত, নবী [সা] মদিনার ঘর-বাড়ির প্রতি উঁকি দিয়ে বলেন:“আমি যা দেখছি তা কি তোমরা দেখছ? আমি তোমাদের ঘড়-বাড়ির মাঝে মেঘের স’ানসমূহের মত ফেতনা দেখছি।”

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ النَّبِيّّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُُ: لَا تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ.متفق عليه.

৪. আব্দুল্লাহ ইবনে উমার [রা:] থেকে বর্ণিত, তিনি নবী [সা]কে বলতে শুনেছেন:“তোমরা একে অপরের গর্দান মেরে কাফির হয়ে যেও না।”

ফিতনার প্রকাশ

১- আল্লাহ তা‘য়ালা বলেন:

وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ

الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ
“আর আমি অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সরবকারীদের-যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই সান্নিধ্যে ফিরে যাবো। তারা সে সমস- লোক, যাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত- অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এসব লোকই হিদায়েতপ্রাপ্ত।”  [সূরা বাকারা:১৫৫-১৫৬]

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَقْتَتِلَ فِئَتَانِ عَظِيمَتَانِ يَكُونُ بَيْنَهُمَا مَقْتَلَةٌ عَظِيمَةٌ دَعْوَتُهُمَا وَاحِدَةٌ وَحَتَّى يُبْعَثَ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ قَرِيبٌ مِنْ ثَلَاثِينَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ وَحَتَّى يُقْبَضَ الْعِلْمُ وَتَكْثُرَ الزَّلَازِلُ وَيَتَقَارَبَ الزَّمَانُ وَتَظْهَرَ الْفِتَنُ وَيَكْثُرَ الْهَرْجُ وَهُوَ الْقَتْلُ وَحَتَّى يَكْثُرَ فِيكُمْ الْمَالُ فَيَفِيضَ حَتَّى يُهِمَّ رَبَّ الْمَالِ مَنْ يَقْبَلُ صَدَقَتَهُ وَحَتَّى يَعْرِضَهُ عَلَيْهِ فَيَقُولَ الَّذِي يَعْرِضُهُ عَلَيْهِ لَا أَرَبَ لِي بِهِ وَحَتَّى يَتَطَاوَلَ النَّاسُ فِي الْبُنْيَانِ وَحَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ بِقَبْرِ الرَّجُلِ فَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي مَكَانَهُ وَحَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَإِذَا طَلَعَتْ وَرَآهَا النَّاسُ يَعْنِي آمَنُوا أَجْمَعُونَ فَذَلِكَ حِينَ ﮋ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا .متفق عليه.

২. আবু হুরাইরা [রা:] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সা] বলেন:“দুইটি বিশাল বড় দলের মাঝে কঠিন যুদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত- কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে না। তাদের দাবী হবে একই। এরপর প্রকাশ পাবে প্রায় ত্রিশজন মিথ্যুক, যাদের প্রত্যেকেই দাবী করবে যে সে রসূল। কিয়ামতের পূর্বে শরিয়তের জ্ঞান উঠে যাবে, বেশি বেশি ভূমিকম্প হবে, সময়ের বরকত কমে যাবে, ফিতনা-ফ্যাসাদ প্রকাশ পাবে, অহরহ খুন হবে, ধন-সম্পদের প্রাচুর্যতা এমন হারে বেড়ে যাবে যে দান-খয়রাত গ্রহণ করার কেউ থাকবে না, দালান-কোঠা নিয়ে মানুষ গৌরব করবে, মানুষ কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বলবে যদি এ স’ানে আমি হতাম, সূর্য পশ্চিম হতে উদিত হবে। এ দেখে সকল মানুষ ঈমান আনবে। আর ইহাই হলো ঐ সময় যার ব্যাপারে আল্লাহর বাণী:

يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِن قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا
“সেদিন এমন কোন ব্যক্তির ঈমান তার জন্যে ফলপ্রসূ হবে না, যে পূর্ব থেকে ঈমান আনেনি কিংবা স্বীয় ঈমান অনুযায়ী কোনরূপ সৎকর্ম করেনি।” [সূরা আনআম:১৫৮]

عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةً فَزِعًا يَقُولُ: سُبْحَانَ اللَّهِ مَاذَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنْ الْخَزَائِنِ وَمَاذَا أُنْزِلَ مِنْ الْفِتَنِ مَنْ يُوقِظُ صَوَاحِبَ الْحُجُرَاتِ يُرِيدُ أَزْوَاجَهُ لِكَيْ يُصَلِّينَ رُبَّ كَاسِيَةٍ فِي الدُّنْيَا عَارِيَةٍ فِي الْآخِرَةِ. أخرجه البخاري.

৩. উম্মে সালামা [রা:] থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সা:] এক রাতে আতঙ্কিত অবস্থায় জেগে বলেন:“সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ তা‘য়ালা ধনভাণ্ডার থেকে কি যে নাজিল করেছেন? ফিতনা হতে কি যে অবতীর্ণ করা হয়েছে? কে কামরাবাসীদেরকে তথা তাঁর স্ত্রীগণকে জাগিয়ে দেবে; যাতে করে তারা সালাত আদায় করে। দুনিয়ার অনেক সম্মানি ব্যক্তিরা আখিরাতে অসম্মানি হবে।”

 ফিতনার সূক্ষ্ম বুঝ

ফিতনার কিছু লক্ষণ ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা তা জানতে ও তা হতে বাঁচাতে এবং নাজাত পেতে সাহায্য করে।
প্রথম: ইহা তার শুরুতে মানুষের জন্য সুশোভিত হয়ে প্রাকাশ পায় যাতে তারা খপ্পড়ে পড়ে। এ ছাড়া তাতে বাড়াবাড়ি করে এবং বিশাল আশা পোষণ করে। অত:পর যারা তা নিয়ে বাড়াবাড়ি করে তারা দ্রুত লজ্জিত ও আফসোস করতে থাকে।
দ্বিতীয়: ইহা পতিত হওয়ার সাথে সাথে দ্রুত বিস্তৃতি লাভ করতে থাকে এবং তার উপর নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর যে এ আগুন জ্বালিয়েছে তার প্রতি তা নিভানো বড় কঠিন হয়ে যায়। এ ছাড়া বিবেকবানরাও এ থেকে বোকাদেরকে বিরত রাখতে অপারোগ হয়ে যায়। এরফলে তারা অশান্তির মাঝে পড়ে এবং শুকনা ও কাঁচা সবকিছুকেই খেয়ে ফেলে।

তৃতীয়:ফিতনা মানুষের বিবেককে বিলুপ্ত করে ফেলে; যার কারণে মানুষের অন-সমূহ মরে যায় যেমন মরে যায় তার শরীর। আর তার দ্বীন চলে যায় যেমন চলে যায় তার দিনগুলো। অতএব, যখন মুসলিম ব্যক্তি যা হালাল জানত তা হারাম জানবে এবং যা হারাম মনে করত তা হালাল মনে করবে, তখন বুঝতে হবে যে, সে ফিতনায় পতিত হয়ে গেছে।
আল্লাহ তা‘য়ালা বলেন:

لَّا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُم بَعْضًا ۚ قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنكُمْ لِوَاذًا ۚ فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
“অতএব, যারা তাঁর (রসূলের) আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে শতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাসি- তাদেরকে গ্রাস করবে।” [সূরা নূর:৬৩]

 ফিতনার শুরু

عَنْ زَيْنَبَ بِنْتَ جَحْشٍ قَالَتْ اسْتَيْقَظَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ من النوم مُحْمَرًّا وَجْهُهُ يَقُولُ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدْ اقْتَرَبَ فُتِحَ الْيَوْمَ مِنْ رَدْمِ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ —قَالَتْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَهْلِكُ وَفِينَا الصَّالِحُونَ قَالَ:্র نَعَمْ إِذَا كَثُرَ الْخَبَثُ. متفق عليه.
১. জাইনাব বিনতে জাহশ [রা:] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী [সা] ঘুম থেকে লাল বর্ণ চেহারা নিয়ে জেগে উঠে বলেন:“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সন্নিকটে ফিতনায় আরবদের জন্য ধ্বংস। আজ ইয়াজুজ-মাজুজের দরজা খুলে গেছে। জাইনাব [রা] বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মাঝে সৎব্যক্তিরা উপস্থিত থাকা অবস্থায় আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি [সা] বলেন:“হ্যাঁ, যখন নোংরামি বেড়ে যাবে।”

عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ: اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَامِنَا وَفِي يَمَنِنَا قَالَ قَالُوا وَفِي نَجْدِنَا قَالَ قَالَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَامِنَا وَفِي يَمَنِنَا قَالَ قَالُوا وَفِي نَجْدِنَا قَالَ قَالَ هُنَاكَ الزَّلَازِلُ وَالْفِتَنُ وَبِهَا يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانِ. أخرجه البخاري.
২. ইবনে উমার [রা] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলূল্লাহ [সা] বলেছেন:“হে আল্লাহ! আমাদের শাম ও ইয়ামেন দেশে বরকত দান করুন। সাহাবী বলেন, তারা (সাহাবাগণ) বলেন, আমাদের নাজদে (ইরাকে) বরকত। সাহাবী বলেন, তিনি [সা] বলেন: হে আল্লাহ! আমাদের শাম ও ইয়ামেন দেশে বরকত দান করুন। সাহাবী বলেন, তারা (সাহাবাগণ) বলেন, আমাদের নাজদে (ইরাকে) বরকত। সাহাবী বলেন, তিনি [সা] বলেন: সেখানে ভূমিকম্প ও ফিতনা হবে এবং সেখানই উদিত হবে শয়তানের শিং।”

ফিতনার অনিষ্টতা:

যেসব মজলিসে গীবাত, চোগলখুরি, বলা হয়েছে ও বলেছে কথার্বতা ঘটে সেসব মজলিস সবচেয়ে জঘন্য মজলিস; কারণ এসবে জন্ম নেয় ফিতনা, অনিষ্ট এবং এর আগুন ধীরে ধীরে জ্বলতে থাকে; যা এমন কঠিন আকার ধারণ করে যে, তা নিভানো বড় কষ্টকর হয়ে পড়ে। এমনকি যারা এ আগুন জ্বালিয়েছে তাদের উপরও তা বুঝানো কঠিন হয়ে যায়।
এমন কিছু কথা আছে যার দ্বারা প্রবাহিত হয় রক্ত। আর মানুষের মন্দ স্বভাবগুলো উল্লেখ করা তাদের রক্তপাতে সহযোগিতা করে এবং তাদের ঘড়-বাড়ি বিনষ্ট করে। এ ছাড়া কোন মুসলিমের ব্যাপারে কুধারণা করা বা অন্যায়ভাবে তাকে কুফরি ফতোয়া দেয়া তাকে খুন করার চাবি এবং তার সম্মানে হানা দেওয়া বটে।

১. আল্লাহ তা‘য়ালা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِّن قَوْمٍ عَسَىٰ أَن يَكُونُوا خَيْرًا مِّنْهُمْ وَلَا نِسَاءٌ مِّن نِّسَاءٍ عَسَىٰ أَن يَكُنَّ خَيْرًا مِّنْهُنَّ ۖ وَلَا تَلْمِزُوا أَنفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ ۖ بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيمَانِ ۚ وَمَن لَّمْ يَتُبْ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
“হে মুমিনগণ! কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোন নারী অপর নারীকেও যেন উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস সংস্থাপন করলে তাকে মন্দ নামে ডাকে পাপ। যারা এহেন কাজ থেকে তওবা না করে তারাই জালেম।” [সূরা হুজুরাত:১১]
২. আল্লাহ তা‘য়ালা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ ۖ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ
“হে মুমিনগণ! তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা পাপ। আর গোপনীয় বিষয় সন্ধান কর না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুত: তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।” [সূরা হুজুরাত:১২]
عَبْدُ اللَّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ وَقِتَالُهُ كُفْرٌ. متفق عليه.
৩. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ [রা] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সা] বলেছেন:“মুসলিম ব্যক্তিকে গালি দেয়া ফাসেকি (পাপ) কাজ এবং তাকে হত্যা করা কুফরি।”

মতামত দিন