ইসলামী শিক্ষা

ইসলামে অভিবাদন পদ্ধতি ও সালামের বিধান

আরবী (الةحية) আত্ তাহিয়্যাহ শব্দের আভিধানিক অর্থ হায়াতের জন্য দোয়া করা―যেমন বলা হয়―حيّاك الله অর্থাৎ আল্লাহ তোমাকে জীবিত রাখুক। অতঃপর তাহিয়্যাহ শব্দটি ব্যাপক ভাবে প্রত্যেক ঐ অর্থে ব্যবহৃত হয় যা মানুষ দোআর জন্য ব্যবহার হয়।

তাহিয়্যাহ সালাম থেকে ব্যাপক। তাহিয়্যাহর অনেকগুলি পদ্ধতির একটি হচ্ছে সালাম।

আল্লাহ এবং তার রাসূল আমাদের জন্য অভিবাদন জানানোর এমন একটি পদ্ধতি অনুমোদন ও নির্ধারণ করে দিয়েছেন যা আমাদেরকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র করে দেয় এবং যা করলে আমাদের জন্য সাওয়াব লেখা হয়।

বরং সেটিকে এক মুসলমান ভাইয়ের প্রতি অপর মুসলমান ভাইয়ের অধিকার বানিয়ে দিয়েছেন। এই অভিবাদন পদ্ধতিটি নিছক অভ্যাস থেকে একটি এমন আমলে পরিবর্তিত হয়েছে যা বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ এবং রাসূলের নির্দেশ পালনার্থে করে। তাই এই মহান বরকতময় অভিবাদনকে পরিবর্তন করে অন্য কোন সমঅর্থপূর্ণ শব্দাবলী দ্বারা অভিবাদন জানানো মুসলমানের জন্য কোনভাবেই শুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যেমন সু-প্রভাত, শুভ সন্ধ্যা, স্বাগতম―ইত্যাদি। ইসলামের বরকতপূর্ণ অভিবাদন দ্বারা যা আদায় হয় অন্য কিছু দ্বারা তা আদায় হবে না। অনেকে না জেনে অথবা ইচ্ছাকৃত ভাবে ইসলামের নির্ধারিত পদ্ধতির অভিবাদন বাদ দিয়ে উপরোক্ত শব্দগুলি ব্যবহার করে থাকে যা কোন ভাবেই ঠিক নয়।

ইসলামের অভিবাদন হলো :

ــــّــلام عليكم ورحمة الله وبركاته এটিই হল অভিবাদনের পরিপূর্ণরূপ। আর ন্যূনতম রূপ হচ্ছে

السّـــلام عليكم

ইসলামের এই অভিবাদনের অনেক ফজিলত রয়েছে।

১। এটি ইসলামের উত্তম জিনিসের মধ্য থেকে একটি―হাদীসে এসেছে

عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما أن رجلاً ســـأل رســول الله صلى الله عليه وسلم أي الإسلام خير؟ قال إطعام الطعام وتقرأ السلام علي من عرفت ومن لم تعرف. البخاري (২৭)

অর্থাৎ : আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করলেন ইসলামের কোন কাজটি সবচে ভাল ? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: খাবার খাওয়ানো এবং সালাম দেয়া পরিচিত-অপরিচিত সকলকে।[1]

২। সালাম মুসলমানদের মাঝে ভালোবাসা এবং হৃদ্যতা সৃষ্টি ও বৃদ্ধির কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন―

لا تدخلون الجنت حتى تؤمنوا ولا تؤمنوا حتى تحابواও أولا أدلكم على شيء إذا فعلتموه تحاببتم؟ أفشوا السّـــلام بينكم. مسلم (৮১)

অর্থাৎ : তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর ঈমানদার হতে পারবে না পরস্পরে ভালোবাসা না হলে, তোমাদেরকে কি এমন একটি বিষয়ের কথা বলে দেব না, যা করলে তোমাদের পরস্পরে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে ? তোমরা পরস্পরের মাঝে সালামের প্রসার ঘটাও।[2]

৩। সালামের প্রত্যেক বাক্যে দশ নেকী, সালামে মোট তিনটি বাক্য আছে, সুতরাং যে পূর্ণ সালাম দেবে তার ত্রিশটি নেকী অর্জন হবে।

عن عمران بن حصين رضي الله عنهما قال : جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: السلام عليكم فرد عليه، ثم جلس، فقال النبي صلي الله عليه وسلم(عشر)، ثم جاء رجل آخر فقال: السلام عليكم ورحمة الله، فرد عليه، ثم جلس فقال: (عشرون) ثم جاء آخر فقال: السلام عليكم ورحمة الله وبركاته فرد عليه وجلس فقال (ثلاثون). الدارمي (২৫২৬)

অর্থাৎ : ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আসল অতঃপর বলল: আস্সালামু আলাইকুম, রাসূল তার উত্তর দিলেন, অতঃপর সে বসল। রাসূলুল্লাহ স. বললেন ((দশ নেকী)), অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি আসল, সে বলল: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, রাসূল স. উত্তর দিলেন, অতঃর সে বসল। রাসূল স. বললেন ((বিশ নেকী))। অতঃপর আর একজন আসল। সে বলল : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। রাসূল স. উত্তর দিলেন এবং সে বসল। রাসূল স. বললেন―(ত্রিশ নেকী)।[3]

সালামের বিধান এবং তার পদ্ধতি

প্রথমে সালাম দেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। উত্তর দেয়া ওয়াজিব, যখন সালামের দ্বারা শুধুমাত্র এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করা হয়। আর যদি সালামের দ্বারা কোন দল বা জামাআতকে উদ্দেশ্য করা হয় তাহলে তার উত্তর দেয়া ওয়াজিবে কেফায়া। তবে যদি সকলেই উত্তর দেয় তা হলে অতি উত্তম।

উত্তর দেয়ার সময় সালামের মত করে দেয়া ওয়াজিব। উত্তর যদি সালাম থেকে বাড়িয়ে দেয়া হয় তাহলে উত্তম, কিন্তু সালাম থেকে কম করা যাবে না। যেমন কেউ সালাম দিতে গিয়ে বলল ―

السّـــلام عليكم ورحمة الله তাহলে এর ওয়াজিব উত্তর হবে   وعليكم السلام ورحمة الله যদি সে وبركاته বাড়িয়ে বলে তা হলে উত্তম, কিন্তু وعليكم السلام বলে উত্তর সংক্ষেপে করা বৈধ নয়, কেননা এটি সালাম থেকে কম করা হল যা অনুচিত এবং কোরআনের বিধানের লঙ্ঘন। যেমন পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন―

وَإِذَا حُيِّيتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا

আর তোমাদেরকে যদি কেউ দোয়া করে (সালাম দেয়), তাহলে তোমারও তার জন্য দোয়া কর (সালামের উত্তর দাও)। তার চেয়ে উত্তম দোয়া অথবা তারই মত ফিরিয়ে বল। (সূরা নিসা: ৮৬)

ইবনে কাসীর (রহ) বলেন :অর্থাৎ কোন মুসলমান সালাম দিলে উত্তর দেবে তার চেয়ে উত্তমভাবে অথবা নিদেন পক্ষে তার মত করে। বাড়িয়ে বলা মোস্তাহাব, আর তার মত উত্তর দেয়া ফরয।

শরীয়তের দৃষ্টিতে ঐ উত্তর বৈধ নয়, যে উত্তরে বলা হয় أهــــلا و مرحبا অথবা এর মত অন্য কিছু। কেননা এগুলো সালামের শরীয়ত সম্মত উত্তর নয়। আর তাছাড়া অন্য উত্তরগুলো সালাম থেকে অনেক ত্রুটিপূর্ণ। কেননা তার কথা وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته কোন ব্যক্তি أهــــلا و مرحبا বলা থেকে অনেক মহত্ত্বপূর্ণ অর্থ দেয়। কিন্তু أهــــلا و مرحبا সালামের উত্তর ছাড়া অন্য সময় বলাতে দোষ নেই, সালামের উত্তর দেওয়ার পরে বলতে পারে রাসূল স.-এর কথা দ্বারা এর প্রমাণ আছে : রাসূল উম্মে হানিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন―

مرحبا بأم هانىء. البخاري (৩৪৪)

সালামের আদবসমূহ :

সালামের অনেক বিধান এবং আদব রয়েছে তার থেকে নিম্নে কিছু উল্লেখ করা হল।

১। মানুষের মাঝে সালামের ব্যাপক প্রচার এবং প্রসার ঘটাতে হবে, যাতে করে তা মুসলমানদের প্রকাশ্য প্রতীকে পরিনত হয়ে যায়। বিশেষ কোন দলকে সালাম দেয়া হবে অন্য কাউকে নয় তা যেন না হয়, অনরূপ ভাবে বড়দেরকে দিতে হবে ছোটদেরকে নয় বা যাকে চিনে তাকে দেবে যাকে চিনে না তাকে নয় এমনও যাতে না হয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন―

السلام بينكم. الترمذي (২৪৩৬) أفشوا অর্থাৎ তোমাদের মাঝে সালামের প্রসার ঘটাও। أي الإســلام خير؟ (কোন সালাম উত্তম) প্রশ্নের উত্তরে রাসূল বলেছিলেন :―

تقرأ السلام على من عرفت ومن لم تعرف. البخاري (২৭)

সালাম দেবে পরিচিত-অপরিচিত সকলকে।[4]

আম্মার বিন ইয়াসির র. বলেন―

ثلاث من جمعهن فقد جمع الإيمان: الإنصاف من نفسه، وبذل السلام للعالم والإنفاق من الإقتار.(رواه البخاري باب إفشاء السلام)

যে ব্যক্তি নিজের মাঝে তিনটি গুণ একত্রিত করল, সে পরিপূর্ণ ঈমান হাসিল করল। নিজের উপর ইনসাফ করা, সালামের প্রচার করা, অভাব সত্ত্বেও খরচ করা।

সালাম না দেওয়ার নিন্দায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

أبخل الناس من بخل با لســـلام. أحمد (১৩৯৯২)

সবচেয়ে কৃপণ ব্যক্তি সেই যে সালাম দেওয়ার ব্যাপারে কৃপণতা করে।[5]

২। উচ্চস্বরে সালাম দেয়া এবং উত্তর দেয়া সুন্নাত। কেননা সালাম হল-

السلام عليكم উচ্চারণ করা। হাত দ্বারা ঈশারা ইত্যাদি সালাম বলে বিবেচিত হবে না। আর উত্তর উচ্চস্বরে দিতে হবে এর কারণ হচ্ছে: যিনি সালাম দাতাকে শুনিয়ে জবাব দিলেন না তিনি কেমন যেন তার জবাবই দিলেন না। তবে উত্তর শুনতে কোন কিছু বাধা হলে সে ভিন্ন কথা এর জন্য সে দায়ী হবে না।

৩। অন্যের মাধ্যতে অপরের নিকট সালাম পৌঁছোনোর বিধান কে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যাকে পৌঁছানো হবে তার উত্তর দেয়া দায়িত্ব। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন―

إن جبريل يقرأ عليك الســلامও فقالت: وعليه السلام ورحمة الله. البخاري (৫৭৮০)

জিবরাঈল তোমাকে সালাম দিয়েছেন,

তিনি বললেন―(وعليه السلام ورحمة الله)

তার উপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

৪। উত্তম হল ছোট বড়কে প্রথমে সালাম দেবে। পদচারণায় লিপ্ত উপবিষ্টকে সালাম দেবে। আরোহণকারী পদচারণাকারীকে সালাম দেবে, কম লোক বেশি লোককে সালাম দেবে। আবু হুরাইরা রা. বলেন―

يسلم الصغير علي الكبير والمار علي القاعد والقليل علي الكثير. مسلم (৪০১৯)

অর্থাৎ ছোট বড়কে সালাম দেবে অতিক্রমকারী (চলন্ত ব্যক্তি) উপবিষ্টকে সালাম দেবে, অল্প লোক বেশি লোককে সালাম দেবে।

৫। সুন্নাত হল দুজন আলাদা হওয়ার পর পুনরায় সাক্ষাৎ হলে আবার সালাম দেয়া ―প্রবেশের কারণে হতে পারে, আবার বাহির হওয়ার কারণেও হতে পারে। অথবা চলতি পথে দু’জনের মাঝে কোন দেয়াল বা গাছ জাতিয় কিছুর বাধার কারণে আলাদা হয়েছিল। অতপর সাক্ষাৎ ঘটল। রাসূল স.-এর বাণী দ্বারা এমনই বুঝা যায় ।

إذا لقي أحدكم أخاه فليسلم عليه فإن حالت بينهما شجرة أو جدار أو حجر ثم لقيه فليسلم عليه أيضًا. مسلم (৪৫২৪)

অর্থাৎ : তোমাদের কেউ নিজ ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করলে তাকে সালাম দেবে। অত:পর যদি দুজনের মাঝে কোন গাছ, দেয়াল অথবা পাথর ইত্যাদি বাধার কারণে দু’জন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, খানিক পর পুনরায় সাক্ষাৎ হলে আবার সালাম দেবে।

যার নামাজ শুদ্ধ হচ্ছিল না রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বারবার নামাজ শুদ্ধ করতে বলছিলেন: সে যতবার যাচ্ছিল এবং আসছিল রাসূল স.-কে সালাম দিচ্ছিল রাসূল স. তার উত্তর দিচ্ছিলেন। এরূপ তিন বার করেছিলেন।

وقال أنس رضي الله عنه كان أصحاب رسول الله صلي الله عليه وسلم يتماشون فاذا استقبلتهم شجرةً أو أكمة فتفرقوأ يمينا وشمالاً ثم التقو من ورائها سلّم بعضهم علي بعض.

আনাস রা. বলেন রাসূলের সাহাবিরা হাঁটতেন যখন তাদের সামনে কোন গাছ অথবা স্তূপ পড়ত, তাঁরা ডানে বামে আলাদা হয়ে যেতেন অতঃপর আবার সাক্ষাৎ ঘটত তখন একে অন্যকে সালাম দিতেন।

৬। সালাম শুধু মুমিনদের অভিবাদন, কাফেরদেরকে সালাম দেয়া বৈধ নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :―

«لا تبدؤوا اليهود ولا النصارى بالسلام، فإذا لقيتم أحدهم في طريق فاضطروه إلى أضيقه». مسلم (৪০৩০)

অর্থাৎ. ইহুদী এবং খ্রিস্টানদের সাথে তোমরা প্রথমে সালামের মাধ্যমে কথা শুরু করবে না। তাদের কারও সাথে রাস্তায় সাক্ষাৎ হলে তাদেরকে সংকীর্ণ পথে যেতে বাধ্য করবে।[6]

এই কথার অর্থ হল তাদের জন্য বিনয় সম্মানের সাথে তাদের থেকে দুরে সরে দাঁড়াবে না। এর অর্থ এই নয় যে, প্রশস্ত রাস্তায় তাদের সাথে সাক্ষাৎ হলে তাদের জন্য সংকীর্ণ করে দেবে, কেননা এর দ্বারা তাদের কষ্ট দেওয়া হবে। আর কোন কারণ ছাড়া তাদের কষ্ট দিতে নিষেধ করা হয়েছে। হ্যাঁ যদি এমন জায়গায় উপস্থিত হয় যেখানে কাফের মুসলমান একত্রে মিশছে, তবে সালাম দেবে এবং মুসলমান নিয়ত করবে।

عن أسـامة بن زيد رضي الله عنهما: أن النبي صلي الله عليه وسلم مرّ علي مجلس فيه أخلاط من المسلمين والمشركين عبدة الأوثان فسلم عليهم. البخاري (৪২০০)

অর্থাৎ : উসামা বিন যায়েদ রা.-এর ঐ হাদিসের কারণে যে রাসূলুল্লাহ সা. অতিক্রম করলেন এক মজলিসের পাশ দিয়ে যেখানে মুসলমান-মুশরিক-পৌত্তলিক একত্রিত ছিল ; রাসূল স. তাদেরকে সালাম দিলেন।[7]

আর যদি অমুসলিম সালাম দেয় তাহলে তার উত্তর আনাস রা. থেকে বর্ণিত হাদীসের পন্থা অনুযায়ী দিবে―

أن أصحاب النبي صلي الله عليه وسلم قالواللنبي صلي الله عليه وسلم: إن أهل الكتاب يسلمون علينا فكيف نرد عليهم؟ قال قولوا: وعليكيم ولا يزيد علي ذالك. مسلم (৪০২৫)

রাসূল স.-এর সাহাবীরা রাসূল স.-কে বললেন―আহলে কিতাবীগণ আমাদেরকে সালাম দেয় তাদের উত্তর কীভাবে দেব ? রাসূল স. বললেন তোমরা বলবে (وعليكم) এর চেয়ে বেশি বলবে না।[8]

৭। কোন কোন আলেম অমুসলিমদেরকে বিশেষ প্রয়োজনে সালাম ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা অভিবাদন জানানো বৈধ বলেছেন। যেমন শুভ সকাল বা শুভ রাত্রি ইত্যাদি।

৮। রক্তের সম্পর্কযুক্ত-মুহরিম নারীদেরকে সালাম দেয়া জায়েজ, বেগানা নারীদেরকেও জায়েজ আছে যদি ফেতনা থেকে নিরাপদ হয়। নারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি অবস্থাভেদে পৃথক হয়ে থাকে। তাদের অবস্থা এবং অবস্থান বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। যুবতী নারী বৃদ্ধা নারীর মত নয়, কেউ নিজের ঘরে প্রবেশ করে সেখানে অনেক নারী দেখতে পেল এবং তাদেরকে সালাম দিল, এই ব্যক্তি ঐ ব্যক্তির মত নয় যে অনেক মহিলাদের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল যাদেরকে সে চিনে না, এবং সালাম দিল। অপরিচিত নারীদের সাথে মুসাফাহা করা একেবারে বৈধ নয়। এর প্রমাণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী―

(ক) «لا أصافح النساء».   আমি মহিলাদের সাথে মুসাফাহা করি না।

(খ) আয়েশা রা.-এর বাণী―

«ما مسّت يد رسول الله صلى الله عليه وسلم يد امرأة، إلا امرأة يملكها».

অর্থাৎ : রাসূলুল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর হাত কখনও কোন বেগানা নারীর হাত স্পর্শ করেনি।

তথ্যসূত্র :

[1] বুখারী: ২৭

[2] মুসলিম : ৮১

[3] দারেমি : ২৫২৬

[4] বুখারী: ২৭

[5] আহমাদ : ১৩৯৯২

[6] মুসলিম : ৪০৩০

[7] বুখারী: ৪২০০

[8] মুসলিম : ৪০২৫

মতামত দিন