বিদআত সাম্প্রতিক বিষয়

ঈদ-ই- মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম): একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা (পর্ব-১)

ঈদ-ই- মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম): একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা

 

খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর লিখিত এ প্রবন্ধটি

ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকা: এপ্রিল-জুন ২০০৩ সংখ্যায় প্রকাশিত

পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি। তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা। সালাত ও সালাম মহান রাসূল, আল্লাহর হাবীব ও মানবতার মুক্তিদূত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের উপর। আজকের বিশ্বে মুসলিম উম্মার অন্যতম উৎসবের দিন হচ্ছে পবিত্র “ঈদে মীলাদুন্নবী” সারা বিশ্বের অধিকাংশ মুসলমান অত্যন্ত জাঁকজমক, ভক্তি ও মর্যাদার সাথে আরবী বৎসরের ৩য় মাস রবিউল আউআল মাসের ১২ তারিখে এই “ঈদে মীলাদুন্নবী” বা নবীর জন্মের ঈদ পালন করেন। কিন্তু অধিকাংশ মুসলমানই  এই “ঈদের” উৎপত্তি ও বিকাশের ইতিহাসের সাথে পরিচিত নন। যে সকল ব্যক্তিত্ব এই উৎসব মুসলিম উম্মার মধ্যে প্রচলন করেছিলেন তাঁদের পরিচয়ও আমাদের অধিকাংশের অজানা রয়েছে। এই নিবন্ধে আমি উপরোক্ত বিষয়গুলি আলোচনার চেষ্টা করব।

১) ঈদে মীলাদুন্নবী: পরিচিতি:

ক) “মীলাদ” শব্দের অর্থ ও ব্যাখ্যা:

মীলাদ শব্দের আভিধানিক অর্থ: জন্মসময়। এই অর্থে “মাওলিদ” শব্দটিও ব্যবহৃত হয় । আল্লামা ইবনে মানযূর তাঁর সুপ্রসিদ্ধ আরবী অভিধান “লিসানুল আরবে” লিখছেন: “ميلاد الرجل: اسم الوقت الذي ولد فيه” অর্থাৎ: “লোকটির মীলাদ: যে সময়ে সে জন্মগ্রহণ করেছে সে সময়ের নাম।”

স্বভাবত:ই মুসলমানেরা “মীলাদ” বা “মীলাদুন্নবী” বলতে শুধমাত্র নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্মের সময়ের আলোচনা করা বা জন্ম কথা বলা বোঝান না। বরং তাঁরা “মীলাদুন্নবী” বলতে নবীজীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) জন্মের সময় বা জন্মদিনকে বিশেষ পদ্ধতিতে উদযাপন করাকেই বোঝান। আমরা এই আলোচনাই “মীলাদ” বা “ঈদে মীলাদুন্নবী” বলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম উদযাপন বুঝাব। তাঁর জন্ম উপলক্ষে কোন আনন্দ প্রকাশ, তা তাঁর জন্মদিনেই হোক বা জন্ম উপলক্ষে অন্য কোন দিনেই হোক যে কোন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর জন্ম পালন করাকে আমরা “মীলাদ” বলে বুঝব। শুধুমাত্র তাঁর জীবনী পাঠ, বা জীবনী আলোচনা, তাঁর বাণী তাঁর শরীয়ত বা তাঁর হাদীস আলোচনা, তাঁর আকৃতি বা প্রকৃতি আলোচনা করা, তাঁর উপর একাকী বা সম্মিলিত ভাবে দরুদ পাঠ করা বা সালাম পাঠ করা মূলত: মুসলিম সমাজে মীলাদ বলে গণ্য নয়। জন্ম উদযাপন বা পালন বা জন্ম উপলক্ষে কিছ অনুষ্ঠান করাই মীলাদ বা ঈদে মীলাদুন্নবী। আমরা এই মীলাদ উদযাপনের ঐতিহাসিক দিকগুলো আলোচনা করতে চেষ্টা করব।

খ) “মীলাদ” বা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিন:

মীলাদ অনুষ্ঠান যেহেতু রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন পালন কেন্দ্রিক, তাই প্রথমেই আমরা তাঁর জন্মদিন সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করব। স্বভাবত:ই আমরা যে কোন ইসলামী আলোচনা পবিত্র কুরআন করীম ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসের আলোকে শুরু করি। পবিত্র কুরআন করীমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের “মীলাদ” অর্থাৎ তাঁর জন্ম, জন্ম সময় বা জন্ম উদযাপন বা পালন সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি। কুরআন করীমে পূর্ববতী কোন কোন নবীর জন্মের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে কোথাও কোনভাবে কোন দিন, তারিখ, মাস উল্লেখ করা হয় নি। অনুরূপভাবে “মীলাদ” পালন করতে, অর্থাৎ কারো জন্ম উদযাপন করতে বা জন্ম উপলক্ষে আলোচনার মাজলিস করতে বা জন্ম উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশের কোন নির্দেশ, উৎসাহ বা প্রেরণা দেওয়া হয় নি। শুধুমাত্র আল্লাহর মহিমা বর্ণনা ও শিক্ষা গ্রহণের জন্যই এসকল ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। ঐতিহাসিক তথ্যাদি আলোচনার মাধ্যমে এর আত্মিক প্রেরণার ধারাবাহিকতা ব্যহত করা হয় নি। এজন্য আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিন সম্পর্কে আলোচনায় মূলত: হাদীস শরীফ ও পরবর্তী যুগের মুসলিম ঐতিহাসিক ও আলেমগণের মতামতের উপর নির্ভর করব:

হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিন:

হাদীস বলতে আমারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা, কর্ম, অনুমোদন বা তাঁর সম্পর্কে কোন বর্ণনা বুঝি। এছাড়াও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহাবীগণের কথা, কর্ম বা অনুমোদনকেও হাদীস বলা হয়ে থাকে।  হিজরী দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রন্থে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস ও তাঁর সাহাবাগণের মতামত সনদ বা বর্ণনাসূত্র সহ সংকলিত হয়। তন্মধ্যে “কুতুবে সিত্তাহ” নামে প্রসিদ্ধ ৬টি অতি প্রচলিত ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ বিশেষভাবে উল্লেখ যোগ্য। এ সকল হাদীসগ্রন্থের সংকলিত হাদীস থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মবার, জন্মদিন ও জন্মতারিখ সম্মন্ধে প্রাপ্ত তথ্য নিুরূপ:

 

১) জন্মবার:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মবার সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে:

”عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الْأَنْصَارِيِّ رَضِي اللَّه عَنْه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنْ صَوْمِ الاثْنَيْنِ فَقَالَ: “ذَاكَ يَوْمٌ وُلِدْتُ فِيهِ وَيَوْمٌ بُعِثْتُ أَوْ أُنْزِلَ عَلَيَّ فِيهِ”.

হযরত আবু কাতাদা আল-আনসারী (রা:) বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সোমবার দিন রোজা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি বলেন: “এই দিনে (সোমবারে) আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই আমি নবুয়ত পেয়েছি।”

ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন:

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: “وُلِدَ النَّبِيُّ r يَوْمَ الاثْنَيْنِ وَاسْتُنْبِئَ يَوْمَ الاثْنَيْنِ وَتُوُفِّيَ يَوْمَ الاثْنَيْنِ وَخَرَجَ مُهَاجِرًا مِنْ مَكَّةَ إِلَى الْمَدِينَةِ يَوْمَ الاثْنَيْنِ وَقَدِمَ الْمَدِينَةَ يَوْمَ الاثْنَيْنِ وَرَفَعَ الْحَجَرَ الْأَسْوَدَ يَوْمَ الاثْنَيْنِ”

হযরত ইবনে আব্বাস বলেন: “ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবারে জন্মগ্রহণ করেন, সোমবারে নবুয়ত লাভ করেন, সোমবারে ইন্তেকাল করেন, সোমবারে মক্কা থেকে হিজরত করে মদীনার পথে রওয়ান করেন, সোমবারে মদীনা পৌছান এবং সোমবারেই তিনি হজরে আসওয়াদ উত্তোলন করেন।”

সোমবারের রোজা সম্পর্কে অন্য হাদীসে বলা হয়েছে:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ r كَانَ أَكْثَرَ مَا يَصُومُ الاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ، قَالَ: فَقِيلَ لَهُ قَالَ: فَقَالَ: “إِنَّ الأَعْمَالَ تُعْرَضُ كُلَّ اثْنَيْنِ وَخَمِيسٍ أَوْ كُلَّ يَوْمِ اثْنَيْنِ وَخَمِيسٍ فَيَغْفِرُ اللَّهُ لِكُلِّ مُسْلِمٍ أَوْ لِكُلِّ مُؤْمِنٍ إِلا الْمُتَهَاجِرَيْنِ فَيَقُولُ أَخِّرْهُمَا” رواه أحمد، وفي لفظ الترمذي: “تُعْرَضُ الأَعْمَالُ يَوْمَ الاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ فَأُحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ”.

হযরত আবু হুরাইরা (রা:) বলেন: রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অধিকাংশ সময় সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবারে মানুষের কর্ম আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়, অত:পর আল্লাহ সকল মুসলিম বা সকল মুমিনকে ক্ষমা করে দেন, শুধুমাত্র পরস্পরে রাগারাগি করে সম্পর্কছিন্নকারীদেরকে ক্ষমা  করেন না, তাদের বিষয়ে তিনি বলেন: এদেরকে পিছিয়ে দাও।”

তিরমিযীর বর্ণনায়: “সোমবার ও বৃহস্পতিবার মানুষের কর্মসমূহ আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়; এজন্য আমি চাই যে, আমার কর্ম এমন অবস্থায় আল্লাহর দরবারে পেশ করা হোক যে আমি রোজা আছি।”

এভবে আমরা হাদীস শরীফ থেকে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম বার জানতে পারি। সহীহ হাদীসের আলোকে প্রায় সকল ঐতিহাসিক একমত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবার জন্মগ্রহণ করেন। কেউ কেউ শুক্রবারের কথা বলেছেন, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ তা সহীহ হাদীসের বর্ণনার পরিপন্থি। কোন কোন তাবে তাবেয়ী এ বিষয়ে কোন মতামত প্রকাশে বিরত থাকতেন। তারা বলতেন রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মবার সম্পর্কে কোন কিছু জানা যায় নি। সম্ভবত: এ বিষয়ের হাদীসটি বা রাসূলে মুসতাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মতারিখ বিষয়ক কোন কিছু তাঁদের জানা ছিল না বলেই এই মত পোষণ করেছেন।

২) জন্ম বৎসর:

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মবৎসর বা জন্মের সাল সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে:

عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسِ بْنِ مَخْرَمَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ وُلِدْتُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيلِ. وَسَأَلَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ قُبَاثَ بْنَ أَشْيَمَ أَخَا بَنِي يَعْمَرَ بْنِ لَيْثٍ أَأَنْتَ أَكْبَرُ أَمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكْبَرُ مِنِّي وَأَنَا أَقْدَمُ مِنْهُ فِي الْمِيلادِ وُلِدَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيلِ. رواه الترمذي وقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لا نَعْرِفُهُ إِلا مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ”.

হযরত কায়স ইবনে মাখরামা (রা:) বলেন: আমি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুজনেই “হাতীর বছরে” জন্মগ্রহণ করেছি। হযরত উসমান বিন আফফান (রা) কুবাস বিন আশইয়ামকে প্রশ্ন করেন: আপনি বড় না রাসূলুল্লাহ r বড়? তিনি উত্তরে বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার থেকে বড়, আর আমি তাঁর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম “হাতীর বছরে” জন্মগ্রহণ করেন।”  হাতীর বছর অর্থাৎ যে বৎসর আবরাহা হাতী নিয়ে কাবা ঘর ধ্বংসের জন্য মক্কা আক্রমণ করেছিল। ঐতিহাসিকদের মতে এ বছর ৫৭০ বা ৫৭১ খ্রীষ্টাব্দ ছিল।

৩) জন্মমাস ও জন্ম তারিখ:

এভাবে আমরা হাদীস শরীফের আলোকে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম বৎসর ও জন্ম বার সম্পর্কে জানতে পারি। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন হাদীসে তাঁর জন্মমাস ও জন্মতারিখ সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায় না। একারণে পরবতী যুগের আলেম ও ঐতিহাসিকগণ তাঁর জন্মতারিখ সম্পর্কে অনেক মতভেদ করেছেন।

(চলবে………………………..)

সম্পূর্ণ লিখা পিডিএফ আকারে পড়তে চাইলে ক্লিক করুন।    ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উদযাপন একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা

মতামত দিন