প্রবন্ধ

আমাদের স্বজনদের মৃত্যু এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া।

আমাদের স্বজনদের মৃত্যু এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া।

“হে প্রশান্ত আত্মা ফিরে এসো তোমার প্রতিপালকের নিকট সন্তুষ্ট চিত্তে, প্রিয়ভাজন হয়ে। আমার বান্দাদের অর্ন্তভুক্ত হও, আর আমার জান্নাতে প্রবেশ কর”। ___ সূরা ফাজ্‌র ৮৯:২৭-৩০।

আমাদের আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধব যখন মৃত্যু বরণ করেন তখন আমরা সবাই তার জন্য দোয়া করি এই বলে যে, মৃত্যুর পর তিনি যেখানে থাকেন সেখানে যেন শন্তিতে থাকেন। তাহলে এখানে স্বাভাবিক করাণেই কয়েকটি প্রশ্নের উদ্ভব হয়। মানুষ মারা যাওয়ার পর যেখানে যান সেখানে শান্তিতে থাকা না থাকার একটা ব্যাপার আছে। আর সেখানে যদি শান্তিতে না থাকতে পারে তাহলে অবশ্যই অশান্তিতে থাকবে? সেখানে যিনি শান্তিতে রাখবেন অর্থাৎ যার কাছে আমরা প্রার্থনা করি তিনি কে? তার নিশ্চয়ই এমন অসীম ক্ষমতা রয়েছে এ কাজটি করার, তা না হলে আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করি কেন? নাকি কথার কথা হিসাবে বলি, এরকম কিছু আছে বলে বিশ্বাস করি না? যদি বিশ্বাসই করি তাহলে এ বিশ্বাসের ভিত্তি কি? আর যদি না-ই বিশ্বাস করি, শুধু কথার কথা হিসাবে বা আনুষ্ঠানিকতার কারণে বলি, তাহলে সেটা কি কপটতা নয়? তাতে লাভ-ই বা কি?

আবার দেখুন মৃত্যুর চারদিন পর মৃতব্যক্তির জন্য মিলাদ-দোয়ার আয়োজন করা হয়। এই দোয়া মাহফিলের অনুষ্ঠানে আমরা মৃত স্বজনের জন্য আল্লাহ্‌তালার কাছে তার রুহের ‘মাগফিরাত’ কামনা করি। ‘মাগফিরাত’ আরবি শব্দ যার অর্থ হচ্ছে ক্ষমা। আমরা আল্লাহ্‌র কাছে রুহের ক্ষমা প্রার্থনা করি কেন, তাহলে রুহের কি শাস্তি হয় ? যদি শাস্তি হয় তাহলে এ শাস্তি কি জন্যে হয়? আমরা সাধারনতঃ দুনিয়ার জীবনে দেখি কেউ অপরাধ করলে অপরাধের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকার শাস্তি হয়। তাহলে কি আল্লাহ্‌তালার দরবারেও অপরাধের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে ? তা না হলে আমরা কেন আল্লাহ্‌তালার দরবারে মৃতব্যক্তির রুহের মাগফিরাত বা ক্ষমার জন্য প্রার্থনা করি?

আমরা আমাদের মৃত স্বজনদের জন্য শুধু ক্ষমার প্রার্থনাই করি না, তার জন্য জান্নাতও কামনা করে আল্লাহ্‌তাআ’লার কাছে দোয়া বা প্রার্থনা করি। এই জান্নাত কি? কেনই বা আমরা মৃত ব্যক্তির জন্য জান্নাত কামনায় দোয়া করি? জান্নাত হচ্ছে আল্লাহ্‌তাআ’লার নি’য়ামত পূর্ণ স্থান। যে জান্নাত লাভ করবে পরকালীন জীবনে সে শুধু সুখ ও আনন্দে দিন কাটাবে। এই জান্নাতের কয়েকটি স্তর রয়েছে এর মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর হচ্ছে জান্নাতুল ফিরদৌস। আমরা আমাদের মৃত স্বজনদের জন্য শুধু জান্নাতই কামনা করি না, আল্লাহ্‌তাআ’লা তাকে যেন জান্নাতুল ফিরদৌস দান করেন সে দোয়াও করি।

এখন আমরা দেখে নেই আল্লাহ্‌তাআ’লার ক্ষমা এবং জান্নাত পাওয়ার উপায় কি। যিনি ক্ষমা করবেন এবং জান্নাত দান করবেন, এ ব্যপারে কথা বলার তিনিই তো অধিক হকদার তাই নয় কি? আল্লাহ্‌তাআ’লা বলেন,

** ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাঁহার সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। ইহা ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ যাহাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যে কেহ আল্লাহ্‌র শরীক করে সে এক মহাপাপ করে।” ___ সূরা নিসা ৪:৪৮

** “কেহ আল্লাহ্‌র শরীক করিলে আল্লাহ্ তাহার জন্য জান্নাত অবশ্যই হারাম করিবেন এবং তাহার আবাস জাহান্নাম। যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নাই।” ___ সূরা মায়িদা ৫:৭২।

** “উহারা কি জানে না যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও তাহার রাসূলের বিরোধীতা করে তাহার জন্য তো আছে জাহান্নামের অগ্নি, যেথায় সে স্থায়ী হইবে ? উহাই চরম লাঞ্ছনা”। ___ সূরা তাওবা ৯:৬৩।

** “কাহারও নিকট সত্পথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে তবে যেদিকে সে ফিরিয়া যায় সেদিকেই তাহাকে ফিরাইয়া দিব এবং জাহান্নামে তাহাকে দগ্ধ করিব, আর উহা কত মন্দ আবাস”। ___ সূরা নিসা, আয়াত ১১৫।

** “যাহারা আল্লাহ্‌ এবং তাহার রাসূলকে অমান্য করে তাহাদের জন্য রহিয়াছে জাহান্নামের অগ্নি, সেথায় তাহারা চিরস্থায়ী হইবে”। ___ সূরা জিন্ন, আয়াত ২৩।

** “নিশ্চয়ই ইসলামই হলো আল্লাহ্‌র নিকট একমাত্র জীবন ব্যবস্থা”। ___ সূরা আলে ইমরান ৩:১৯।

** “আর যে ব্যক্তি খুজে ফেরে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন জীবন ব্যবস্থা, কখনো তা তার থেকে কূবল করা (গৃহীত) হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তরভুক্ত হইবে”। ___ সূরা আলে ইমরান ৩:৮৫।

উপরের আয়াত সমূহ থেকে জানা গেল আল্লাহ্‌তাআ’লা কাদেরকে ক্ষমা করবেন না এবং কাদের জন্য শাস্তি অবধারিত।

জান্নাত পাওয়ার উপযুক্ত কারা হবেন সে সম্পর্কে আল্লাহ্‌তাআ’লা বলেন,

** “যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাহাদের আপ্যায়ানের জন্য আছে জান্নাতুল ফিরদাউস”। ___ সূরা কাহ্‌ফ ১৮:১০৭।
উপরের আয়াতের আলোকে জান্নাতুল ফিরদাউসের জন্য উপযুক্ত হওয়ার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে। ১) ঈমান, ২) সৎকর্ম।

১) ঈমানঃ কোন মুসলমানকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় তার ঈমান আছে কিনা, সে উত্তরে বলবে অবশ্যই তার ঈমান আছে। কিন্তু আল্লাহ্‌তাআ’লা যে বলেন,

** “আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও রহিয়াছে যাহারা বলে, ‘আমরা আল্লাহ্ ও আখিরাতে ঈমান আনিয়াছি,’ কিন্তু তাহারা মু’মিন নহে; তাহারা আল্লাহ্‌ এবং মু’মিনগণকে প্রতারিত করিতে চাহে। অথচ তাহারা নিজেদিগকে ভিন্ন কাহাকেও প্রতারিত করে না, ইহা তাহারা বুঝিতে পারে না”। ___ সূরা বাকারা ২:৮-৯।

** “যখন মুনাফিকরা তোমার নিকট আসে তাহারা বলে, আমরা সাক্ষ্য দিতেছি যে, আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌র রাসূল। আল্লাহ্‌ জানেন যে, তুমি নিশ্চয়ই তাঁহার রাসূল এবং আল্লাহ্‌ সাক্ষ্য দিতেছেন যে মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। উহারা ইহাদের শপথগুলিকে ঢালরূপে ব্যবহার করে আর ইহারা আল্লাহ্‌র পথ হইতে মানুষকে নিবৃত্ত করে। উহারা যাহা করিতেছে তাহা কত মন্দ! ইহা এইজন্য যে, উহারা ঈমান আনিবার পর কুফুরী করিয়াছে। ফলে উহাদের হৃদয় মোহর করিয়া দেওয়া হইয়াছে; পরিনামে উহারা বুঝে না”। ___ সূরা মুনাফিকুন ৬৩:১-৩।

উপরের আয়াতটিতে যে মুনাফিকদের কথা বলা হয়েছে এ মুনাফিক কারা? মুনাফিক কথার অর্থ কপট বিশ্বাসী, ভন্ড ইংরেজিতে যাকে বলা হয় Hypocrisy। অর্থাৎ মুখে যা বলে অন্তরে তা ধারণ করে না। ইসলামের পরিভাষায় মুনাফিক তাদেরকেই বলা যারা মুখে আল্লাহ্‌ এবং তাঁর রাসূলকে স্বীকার করে নেয়, কিন্তু অন্তরে, কাজে কর্মে বিরোধীতা করে। অর্থাৎ মুখে বলে ঈমান এনেছি কিন্তু কাজে কর্মে ঈমান পরিপন্থী কাজে লিপ্ত থাকে।

মুনাফিকদের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ্‌ সুবহানাহুতাআ’লা বলেন,

** “মুনাফিকরা তো জাহান্নামের নিম্নতর স্তরে থাকিবে এবং তাহাদের জন্য তুমি কখনও কোন সহায় পাইবে না”। ___ সূরা নিসা ৪:১৪৫।

সুতরাং ঈমান হতে হবে নির্ভেজাল ত্রুটি মুক্ত। ঈমানদারদের কিছু বৈশিষ্টের কথা উল্লেখ করে আল্লাহ্‌ সুবহানাহুতাআ’লা বলেন,

** “ঈমানদার মূলতঃ তাহারাই যাহাদের হৃদয় কম্পিত হয় যখন আল্লাহ্‌কে স্মরণ করা হয় এবং যখন তাঁহার আয়াত তাহাদের নিকট পাঠ করা হয়, তখন উহা তাহাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তাহারা তাহাদের প্রতিপালকের উপরই নির্ভর করে, যাহারা সালাত কায়েম করে এবং আমি যাহা দিয়াছি তাহা হইতে ব্যয় করে; তাহারাই প্রকৃত ঈমানদার। তাহাদের প্রতিপালকের নিকট তাহাদেরই জন্য রহিয়াছে মর্যাদা ক্ষমা এবং সন্মানজনক জীবিকা”। ___ সূরা আনফাল ৮: ২- ৪।

** “প্রকৃত ঈমানদারতো তারাই যারা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনে, পরে সন্দেহ পোষন করে না এবং আল্লাহ্‌র পথে জিহাদ করে তাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে, তারাই (ঈমানের দাবীতে) সত্যবাদী”। ___ সূরা হুজুরাত ৪৯:১৫।

** “নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ মু’মিনদের জান ও মাল খরিদ করে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে। তাহারা আল্লাহ্‌র পথে যুদ্ধ করে, নিধন করে ও নিহত হয়। তাওরাত, ইঞ্জীল ও কুরআনে এই সম্পর্কে তাহাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি রহিয়াছে। নিজ প্রতিজ্ঞা পালনে আল্লাহ্‌ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর কে আছে? তোমরা যে সওদা করিয়াছ সেই সওদার জন্য আন্দিত হও এবং উহাই তো মহাসাফল্য”। ___ সূরা তাওবা ৯:১১১।

** “তুমি পাইবে না আল্লাহ্‌ ও আখিরাতে বিশ্বাসী এমন কোন সম্প্রদায়, যাহারা ভালবাসে আল্লাহ্‌ ও তাঁহার রাসূলের বিরুদ্ধাচারীগণকে হউক না এই বিরুদ্ধাচারীরা তাহাদের পিতা পুত্র ভ্রাতা অথবা ইহাদের জ্ঞাতি-গোত্র। ইহাদের অন্তরে আল্লাহ্‌ সুদৃঢ় করিয়াছেন ঈমান এবং তাহাদিগকে শক্তিশালী করিয়াছেন তাঁহার পক্ষ হইতে রূহ্‌ দ্বারা। তিনি ইহাদিগকে দাখিল করিবেন জান্নাতে, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; সেথায় ইহারা স্থায়ী হইবে; আল্লাহ্‌ ইহাদের প্রতি সন্তুষ্ট, ইহারাই আল্লাহ্‌র দল। জানিয়া রাখ, আল্লাহ্‌র দলই সফলকাম হইবে”। ___ সূরা মুজাদালা ৫৮:২২।

উপরের আয়াত সমূহে আল্লাহ্‌তাআ’লা ঈমানদারদের যে বৈশিষ্টের কথা উল্লেখ করেছেন তা যদি কোন ঈমানের দাবীদারের না থাকে তাহলে তার ঈমান সম্পর্কে সংশয়ের অবকাশ রয়েছে। সুতরাং সংশয়যুক্ত ঈমান নিয়ে সফলতার আশা করা নির্বুদ্ধিতারই পরিচায়ক।

২) সৎকর্মঃ ইসলামের পরিভাষায় সৎকর্ম বলতে আল্লাহ্‌ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদেশ নিষেধ বুঝায়। অর্থাৎ আল্লাহ্‌ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে কাজের আদেশ করেছেন তা করা এবং যে কাজ করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা থেকে বিরত থাকা, এর সব কিছুই সৎকাজের অর্ন্তভুক্ত। যেমন আল্লাহ্‌তাআ’লা বলেন,

** “হে মু’মিনগন! তোমরা আল্লাহ্‌র আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর, আর তোমাদের কর্ম বিনষ্ট করিও না”। ___ সূরা মুহাম্মদ ৪৭:৩৩।

** “রাসূল তোমাদেরকে যাহা দেয় তাহা তোমরা গ্রহন কর এবং যাহা হইতে তোমাদিগকে নিষেধ করে তাহা হইতে বিরত থাক এবং তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় কর; আল্লাহ্‌ তো শাস্তি দানে কঠোর”। ___সূরা হাশর ৫৯:৭।

** “আর কেহ আল্লাহ্‌ ও তাঁহার রাসূলের অবাধ্য হইলে এবং তাঁহার নির্ধারিত সীমালংঘন করিলে তিনি তাহাকে অগ্নিতে নিক্ষেপ করিবেন; সেখানে সে স্থায়ী হইবে এবং তাহার জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি রহিয়াছে”। ___ সূরা নিসা ৪:১৪।

যে আল্লাহ্‌র কথা অমান্য করে সারাজীবন অতিবাহিত করল, আল্লাহ্‌তালার মনোনীত দীন ইসলামকে বর্জন করল, ইসলামের প্রতি বিদ্ব্যেষ পোষন করল, ইসলামের নিয়ম-কানুন রীতি-নীতি নিয়ে কটাক্ষ করল, ইসলামের বিরোধীতা করল, কয়েকজন মিলে আল্লাহ্‌র দরবারে একটু দোয়া করলেই সব মাফ ? ব্যাপরটি কি এতই সহজ ?

আবার অনেকে রয়েছেন যারা নামাজ রোজা সব করছেন কিন্তু শির্‌ক ও বিদআ’তের মত কঠিন ও ভয়াবহ গুনাহে নিমজ্জিত ছিলেন তাদের ব্যাপারে আল্লাহ্‌তাআ’লার কথা কি?

** ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাঁহার সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। ইহা ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ যাহাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যে কেহ আল্লাহ্‌র শরীক করে সে এক মহাপাপ করে।” ___ সূরা নিসা ৪:৪৮

** “কেহ আল্লাহ্‌র শরীক করিলে আল্লাহ্ তাহার জন্য জান্নাত অবশ্যই হারাম করিবেন এবং তাহার আবাস জাহান্নাম। যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নাই।” ___ সূরা মায়িদা ৫:৭২।

জাবের বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবা প্রদান করার সময় প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করতেন এবং তিনি যে গুণগানের উপযুক্ত সে ভাষায় তাঁর গুণগান করতেন, তারপর বলতেন, আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে হেদায়াত প্রদান করার কেউ নেই। নিশ্চয় সর্বাধিক সত্য কথা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব, সর্বোত্তম হেদায়াত হচ্ছে মুহাম্মাদ (সাঃ) হেদায়াত। সর্বনিকৃষ্ট বিষয় হচ্ছে দ্বীনের মাঝে নতুন উদ্ভাবন। আর প্রত্যেক নতুন উদ্ভাবন হচ্ছে বিদআ’ত, আর প্রত্যেক বিদআ’ত হচ্ছে গোমরাহী, আর প্রত্যেক গোমরাহীর পরিণাম জাহান্নাম।” (সুনান নাসাঈ, অধ্যায়ঃ সালতুল ঈদাইন, অনুচ্ছেদঃ খুতবার নিয়ম। হাদীস নং ১৫৬০

কেউ যদি আল্লাহ্‌র সাথে কাউকে শরিক করে থাকে এবং বিদআ’তে লিপ্ত থেকে বিনা তওবায় মারা যায়, তাহলে আল্লাহ্‌তাআ’লা কি তাকে ক্ষমা করবেন?

তওবা করার ব্যাপারেও আমাদের মধ্যে বিভ্রান্তি আছে। আমাদের দেশে মৃত্যুর সময় যে তওবা করার প্রচলন রয়েছে ব্যাপারটা কিন্তু সেরকম নয়। যেমনটা আল্লাহ্‌তালা বলেন,

** “তাওবা তাহার জন্য নহে যাহারা আজীবন মন্দ কার্য করে, অবশেষে তাহাদের কাহারও মৃত্যু উপস্থিত হইলে সে বলে, ‘আমি এখন তাওবা করিতেছি’ এবং তাহার জন্যও নহে, যাহাদের মৃত্যু হয় কাফির অবস্থায়”। ___ সূরা নিসা ৪:১৮।

** “ঈমান আনার পর যাহারা কুফরী করে এবং যাহাদের সত্য প্রত্যাখান প্রবৃত্তি বৃদ্ধি পাইতে থাকে তাহাদের তাওবা কখনও কবূল করা হইবে না। ইহারাই পথভ্রষ্ট।” ___ সূরা আলে ইমরান ৩:৯০।

তাওবা হচ্ছে যে গোনাহ করা হয়েছে তার সম্পর্কে জানা এবং ভবিষ্যতে সে গুনাহ্‌ না করার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া এবং এটা করতে হবে মৃত্যু উপস্থিত হওয়ার আগে। এখন আমরা যত বড় আলেম বা ইসলামী ব্যক্তিত্ব(?) দ্বারাই দোয়া করাই না কেন আল্লাহ্‌ তা গ্রহন করবেন কিনা তা ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে।

আমরা মৃত স্বজনদের জন্য দোয়া করছি তো আল্লাহ্‌র কাছে, তাহলে কেউ ইচ্ছাকৃত আল্লাহ্‌র নাফরমানী করে মারা গেলে আল্লাহ্‌ কি আমাদের কথা শুনবেন ? আল্লাহ্‌তালা বলেন,

** “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় কর যেভাবে তাঁহাকে ভয় করা উচিত এবং তোমরা মুসলিম না হইয়া কোন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করিও না”। ___ সূরা আলে ইমরান ৩:১০২।

** “যেদিন তোমার প্রতিপালকের কোন নিদর্শন আসিবে সেদিন ঈমান কাজে আসিবে না, যে ব্যক্তি পূর্বে ঈমান আনে নাই কিংবা যে ব্যক্তি ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন করে নাই”। ___ সূরা আনআ’ম ৬:১৫৮।

তাই আল্লাহ্‌ সুবহানাহুতাআ’লা বলেন,
** “হে প্রশান্ত আত্মা ফিরে এসো তোমার প্রতিপালকের নিকট সন্তুষ্ট চিত্তে, প্রিয়ভাজন হয়ে। আমার বান্দাদের অর্ন্তভুক্ত হও, আর আমার জান্নাতে প্রবেশ কর”। ___ সূরা ফাজ্‌র ৮৯:২৭-৩০।

আমরা সব বিষয়কে শুধু আনুষ্ঠানিকতা হিসাবে যেন না দেখি। ইসলাম আনুষ্ঠান সর্বস্ব কোন ধর্ম নয়। ইসলামে আনুষ্ঠানিকতার কোন মূল্য নেই। ইসলাম আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধও নয়। ইসলাম হচ্ছে পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থার নাম। ইসলামকে জানা এবং সেই অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রত্যেক মুসলিমের একান্ত কর্তব্য। আমরা যেন আল্লাহ্‌তাআ’লার প্রিয়ভাজন হয়েই তাঁর কাছে ফিরে যেতে পারি সেই দোয়া করি। আল্লাহ্‌তাআ’লা আমাদের সবাইকে সে তৌফিক দান করুন। > > > আমিন।

মতামত দিন