অর্থনীতি

ইসলামের দৃষ্টিতে সূদ

ইসলামের দৃষ্টিতে সুদ রিবা (رباء) এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে সুদের প্রভাব

কুরআন শরীফে رباء শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। তা মূলত বাংলাতে ব্যবহৃত সুদ শব্দের সমার্থক অর্থ নয়। ভাষা সংকীর্ণতার কারণে আমরা সুদ বা Interest বলে থাকি। যদিও বেশীরভাগ মানুষ মনে করেرباء বা সুদ একই জিনিস। কিন্তু সুদ শব্দটি رباء বিভিন্ন Category এর একটি। رباء শব্দটি একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। প্রচলিত সুদ তার একটি প্রকার মাত্র। অধিকন্তু আরও বলা যায় যে, ইসলামী অর্থনীতিতে এরূপ শ্রেণীবিভাগ হুবহু গ্রহণ করা হয় না। এর পেছনে যে কারণটি কাজ করে তাহলো মূলধনের প্রাপ্য, যা সনাতন অর্থনীতিতে সুদ নামে পরিচিত। এ সুদ বা রিবা ইসলামে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ, পুরোপুরি অবৈধ, হারাম। সুদ মানব সভ্যতার সবচেয়ে নিষ্ঠুর শক্র“। সুদ শোষণ ও জুলুমের (Injustice) ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি অন্যায় ও অমানবিক ব্যবস্থা। পবিত্র আল কুরআন ও আস্ সুন্নাহ্ মোতাবেক সুদ সন্দেহাতীতভাবে হারাম।

নিম্নে সুদ বা রিবা সম্বন্ধে বিস্তারিত সংজ্ঞাসহ আলোচনা করা হলোঃ-

>>>> সুদ বা রিবার অর্থ <<<<

সুদের আরবি পরিভাষা হচ্ছে রিবা।আরবি রিবা শব্দকে উর্দু ও ফারসিতে সুদ বলে। বাংলা ভাষায় সুদ শব্দটি রিবার প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পবিত্র কুরআনেও রিবা শব্দের ব্যবহার হয়েছে।

ইংরেজি প্রতিশব্দ Interest, Usury | Interest শব্দের উৎপত্তি মধ্যযুগীয় ল্যাটিন শব্দ Interesse থেকে। এর অর্থ ঋণ দিয়ে আসলের ওপর বেশি নেয়া। Usury ল্যাটিন শব্দ। Usury থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। Usury মানে হচ্ছে প্রদত্ত ঋণ থেকে অর্জিত উপভোগ (enjoyment); ক্যানন ল’তে এর মানে হচ্ছে অর্থ ধার দিয়ে তার বিনিময়ে আসল পাওনার ওপর অতিরিক্ত গ্রহণ করা। অর্থাৎ ঋণ দিয়ে আসলের ওপর বেশি নেয়া। Encyclopaedia of Religions and Ethics এ বলা হয়েছে Usury ও Interest শব্দ দু’টি এক ও অভিন্ন অর্থে অতীতে ব্যবহার করা হতো। সুদকে ব্যবহারিক অর্থে বাংলায় কুসিদও বলা হয়।

রিবার অর্থও ঠিক তাই। আল কুরআন ও আস সুন্নাহয় ব্যবহৃত রিবা শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে প্রবৃদ্ধি, পরিবৃদ্ধি, পরিবর্ধন, পরিবর্ধক, সম্প্রসারণ, স্ফীত, আধিক্য, উদ্বৃত্ত, বৃদ্ধি, বিকাশ, অতিরিক্ত বা বেশি হওয়া, মূল থেকে বেড়ে যাওয়া, বিকাশ ঘটা ইত্যাদি। সুপরিচিত আরবি অভিধান লিসান আল আরব রিবার শাব্দিক অর্থ লিখেছে, ‘বৃদ্ধি, বাড়তি, অতিরিক্ত, সম্প্রসারণ বা প্রবৃদ্ধি। আল্লামা ইমাম রাগিব আল ইস্পাহানী লিখেছেন, রিবা শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে প্রবৃদ্ধি, বেশি, স্ফীত, ক্রমশ বড় হওয়া, কয়েকগুণ বেশি হওয়া, আসলের বাড়তি ও বৃদ্ধি হওয়া, বিনিময় ছাড়া বৃদ্ধি ইত্যাদি তাফসিরকার ও ফিকাহবিদগণ রিবার অর্থ করেছেন অতিরিক্ত, বৃদ্ধি, বিনিময়হীন বৃদ্ধি, একদিকে বৃদ্ধি অপর দিকে বৃদ্ধি ছাড়াই ইত্যাদি। বিশিষ্ট কতিপয় বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ‘প্রতিমূল্য নেই এমন প্রতিটি বৃদ্ধিই হচ্ছে রিবা ড. এম. উমর চাপরা লিখেছেন, ‘রিবার শাব্দিক অর্থ হচ্ছে বৃদ্ধি, অতিরিক্ত, সম্প্রসারণ বা প্রবৃদ্ধি।

আল্লামা মুহাম্মদ আসাদের (১৯০০-১৯৯২) মতে, ‘ভাষাগত দিক থেকে রিবা শব্দ দ্বারা কোন জিনিসের মূল আয়তন বা পরিমাপের ওপরে বেশি হওয়া বা বৃদ্ধিকে বুঝায়। ড.এম এ মান্নান লিখেছেন, রিবার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে বৃদ্ধি পাওয়া বা প্রবৃদ্ধি। তবে ইসলামে সকল বৃদ্ধিকেই রিবা’ বলা হয়নি। এক বিশেষ অর্থে ইসলামে ‘রিবা’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। ইসলামে ঐ বৃদ্ধিকে ‘রিবা’ বলা হয় যা প্রদত্ত ঋণের ওপর ঋণের শর্ত হিসেবে অতিরিক্ত কিছু আকারে বা কোন সুবিধা ধার্য করে আদায় করা হয়। প্রকৃতপক্ষে, কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের ঋণের বিনিময়ে পূর্ব নির্ধারিত হারে বা পূর্ব নির্ধারিত না থাকলেও প্রদত্ত ঋণের অধিক অর্থ বা সুবিধা আদায় করলে এবং সামগ্রিক ক্ষেত্রে সমজাতীয় পণ্যের কম পরিমাণের বিনিময়ে বেশি পরিমাণ নেয়া হলে অর্থ বা পণ্যের ঐ অতিরিক্ত অংশকে রিবা বা সুদ বলা হয়। সুদের ফলে ঋণের আসল পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং সময়ের অনুপাতে আসল বৃদ্ধির পরিমাণ বা হার নির্ধারিত হয়। সুতরাং রিবা, সুদ, Interest, Usury এর অর্থ এক ও অভিন্ন। আল্লাহপাক সুদকে হারাম করেছেন। সুদ মানবতার জন্য এক চরম অভিশাপ, অর্থনৈতিক শোষণের এক জঘন্য হাতিয়ার।সুদি ব্যবস্থা অর্থনীতিকে ভারসাম্যহীন করে।মানুষে মানুষে সৃষ্টি করে বৈষম্য। এ জন্যই সকল মানুষের স্রষ্টা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সুদকে সম্পূর্ণ হারাম ঘোষণা করেছেন। সকল নবী-রাসূলই সুদি ব্যবস্থার ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছেন।

>>>> মনীষীদের সংজ্ঞা <<<<

সুদ বা রিবার (رباء) সংজ্ঞা দিতে গিয়ে প্রখ্যাত মনীষীদের মতামত নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ-

সহীহ বুখারী শরীফের প্রখ্যাত ব্যাখ্যাতা হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানীর মতে, ‘অর্থ বা পণ্যের বিনিময়ে নেয়া অতিরিক্ত অর্থ বা পণ্যই হচ্ছে রিবা।’’

আল্লামা মুহাম্মাদ আসাদের মতে, ‘কোন ব্যক্তি কর্তৃক অন্য কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ঋণ হিসেবে প্রদত্ত অর্থ বা পণ্যসামগ্রীর ওপর সুদ (Interest) হিসেবে ধার্যকৃত অবৈধ অতিরিক্তই হচ্ছে রিবা।’’

মুফতি মুহাম্মাদ তাকী উসমানীর মতে, ঋণের চুক্তিতে মূলধনের ওপর অতিরিক্ত ধার্য করাকে রিবা বলে যা আল কুরআনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।সংজ্ঞাটি পবিত্র কুরআনের বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়।

ড. ইউসুফ আল-কারাদাভীর মতে, ‘শুধুমাত্র সময়ের বিনিময়ে মূলধনের ওপর শর্তানুযায়ী অতিরিক্ত যা কিছু আরোপ করা হয় তাই হচ্ছে সুদ।’ যাকী আল দীন বাদাবীর মতে, ‘রিবা হচ্ছে এক বিশেষ ধরনের অতিরিক্ত।’

প্রখ্যাত ইসলামী অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকার এম. আযীযুল হক লিখেছেন, ‘ঋণ দেয়া মূল অর্থ যাই উৎপন্ন করুক না কেন তার বিচার না করে ঐ ঋণের ওপর পূর্ব নির্ধারিত পরিশোধিতব্য অর্থই হলো সুদ।’

প্রখ্যাত ইসলামী ব্যাংকার এ কে এম ফজলুল হকের মতে, ‘ঋণের লেন-দেনে ঋণের আসলের ওপর যদি ‘অতিরিক্ত কিছু’ ধার্য করা হয় তবে ঐ ‘অতিরিক্ত কিছু’কে সুদ (রিবা)বলে। সেই অতিরিক্ত কিছু অর্থও হতে পারে, দ্রব্যও হতে পারে, সেবাও হতে পারে। ঋণের ওপর অতিরিক্ত যাই নেয়া হোক না কেন তাই সুদ।’

মাওলানা মোঃ ফজলুর রহমান আশরাফী বলেন, পরিভাষাগত দিক দিয়ে রিবা হচ্ছে, ‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধের শর্তসাপেক্ষে কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিপরীতে পূর্বনির্ধারিত হারে যে অধিক পরিমাণে অর্থ আদায় করা হয় এবং একই শ্রেণীভুক্ত মালের পারস্পরিক লেন-দেন কালে চুক্তি মোতাবেক অতিরিক্ত যা গ্রহণ করা হয় তাকে সুদ বলা হয়।’

ড. মোহাম্মাদ হায়দার আলী মিয়ার মতে, ‘ঋণের ওপর ঋণের শর্ত হিসেবে অতিরিক্ত কিছু লেন-দেন করাকেই রিবা বা সুদ বলে।’

নওয়াজেশ আলী জায়েদীর মতে, ‘যে কোন ধরনের ঋণের ওপর ধার্যকৃত অতিরিক্তই রিবা’

উপরের পবিত্র কুরআন ও হাদীস এবং প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞদের সংজ্ঞাসমূহের আলোকে বলা যায় যে,
সুদকে আল্লাহ সুবহানুতালা হারাম করেছেন। তাই সুদ বর্জন করতে হবে। আর সুদ বর্জনের পর আয়ের বিকল্প হালাল উৎস দরকার। এ জন্যই আল্লাহ দ্ব্যর্থহীনভাবে ব্যবসায়কে হালাল ঘোষণা করেছেন। ব্যবসায়লব্ধ মুনাফা তাই সম্পূর্ণ হালাল।

সুতরাং, সুদ বলা হয় নির্দিষ্ট অংকের অর্থ সুনির্ধারিত সময়ের জন্য ঋণ দিয়ে ঐ নির্দিষ্ট অংকের টাকার সাথে অতিরিক্ত বাড়তি টাকা পরিশোধের সময় প্রদান করা। Finance শাস্ত্রে Time value of money chapter এই ভাবে Calculate করা হয়েছে।

Present Value = PV

Fututer Value = FV

i = Interest rate

n = Number of Period [Compounding period]

সুতরাং সূত্রটি হলো

PV [1+i] n =FV

Present Value যদি $ ১০০ হয়। interest rate যদি ১৪% হয়। পরিশোধের Time যদি ৫ বছরে হয়।

তাহলে Future Value কত আসবে?

উদাহরণ স্বরূপ

PV = $100

i = 14%

n = year [5]

PV [1+i] n =FV

= 100 [1+.14]5

=100 [1.14] 5

=114× 5 = 570

সুতরাং ৫ বছরে $১০০ এর Value আসবে $৫৭০। এই হলো jv Compounding Factor এর তেলেসমাতি। $১০০ এর Value ৫ বৎসরে $৫৭০ এখানে $৪৭০ অতিরিক্ত বা সুদ।

এই জন্যই মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেনঃ-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُضَاعَفَةً وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

‘হে মুমিনগণ। তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়োনা সতর্ক হও। সম্ভবত তোমরা সফলকাম হবে। [সূরা আল-ইমরান : ১৩০]

Compounding factor এর ৪.৭ গুনে Banker রা লাভবান হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ অবৈধ উপার্জন। জাহেলী যুগে কাফের ও ইহুদীরা উক্ত পদ্ধতিকে রিবা বলে মনে করত। কিন্তু প্রকৃত رباء হলোঃ আর্থিক বিনিময় ছাড়া যে অর্থ বা সম্পদ বা সমপর্যায়ের বস্তুর বাড়তি অংশ অর্জন করা।

টাকা বিনিময়ে মূলধন তো ফেরত পাওয়া যায়। যে বাড়তি অংশ বেশী পাওয়া যায়, যাকে পেছনে শ্রম কিংবা বিনিময়হীন ক্রয়-বিক্রয়ের সম্পর্ক নেই। সেটাই رباء বা সুদ।

প্রাক ইসলামী যুগ তথা আইয়ামে জাহেলী যুগে বিশেষ করে ইহুদীরা সুদ ও চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের প্রচলন ঘটায়। উক্ত রিবাকে তারা ব্যবসার সমকক্ষ মনে করত। কুরআন করীমে ইরশাদ হয়েছেঃ

الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لا يَقُومُونَ إِلا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ [২৭৫] يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ وَاللَّهُ لا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ

যারা সুদ খায় [কিয়ামতের দিন] তারা সেই ব্যক্তির মতই দাড়াবে, শয়তান যাকে আবিষ্ট করে বিকারগ্রস্থ করে দিয়েছে। এটা এজন্য হবে যে, তারা বলছিল, ক্রয়-বিক্রয় তো সুদ গ্রহণের সমতুল্য। অথচ আল্লাহ বেচাকেনাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তির নিকট তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে উপদেশবাণী এসে গেছে সে যদি [সুদী কারবার হতে] নিবৃত্ত হয়, তবে অতীতে যা কিছু হয়েছে তা তারই। আর তার [অভ্যন্তরীণ অবস্থার] ব্যাপার আল্লাহর এখতিয়ারে। আর যে ব্যক্তি পুনরায় সে কাজই করল, তো এরূপ লোক জাহান্নামী হবে। তারা তাতেই সর্বদা থাকবে। [সুরা বাকারাহ : ২৭৫]

বণী ইসরাঈল তথা ইহুদী জাতি সুদ প্রথার প্রচলন ঘটায় এবং তাওরাতে সুদকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে যে, বিষয়ে কুরআনে বর্ণিত রয়েছে।

فَبِظُلْمٍ مِنَ الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَاتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ وَبِصَدِّهِمْ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ كَثِيرًا [১৬০] وَأَخْذِهِمُ الرِّبَا وَقَدْ نُهُوا عَنْهُ وَأَكْلِهِمْ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَأَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ مِنْهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا

মোটকথা ইয়াহুদীদের গুরুতর সীমালংঘনের কারণে আমি তাদের প্রতি এমন কিছু উৎকৃষ্ট বস্তু হারাম করে দেই, যা পূর্বে তাদের পক্ষে হালাল করা হয়েছিল এবং এই কারণে যে, তারা মানুষকে আল্লাহর পথে অত্যধিক বাধা দিত। এবং তারা সুদ খেত, অথচ তাদেরকে তা খেতে নিষেধ করা হয়েছিল এবং তারা মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করত। তাদের মধ্যে যারা কাফির আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাময় শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। [সূরা নিসা : ১৬০-১৬১]।

এতে একথা প্রতীয়মান হয় যে সুদ কেবল ইসলাম ধর্মেই নিষিদ্ধ নয় বরং বণী ইসরাঈল জাতির জন্য-ও নিষিদ্ধ ছিল। গাবেষণায় পাওয়া গেছে সুদ সর্বকালের জন্য সব জাতির জন্য নিষিদ্ধ ছিল।

সুদে ধন সম্পদ বৃদ্ধি পায় না বরঞ্চ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয়। বাহ্যিক দৃষ্টিতে বৃদ্ধি মনে হলেও পরিশেষে সুদখোর ব্যক্তি উপলব্ধি করতে পারে তার জান ও মালের ক্ষয়-ক্ষতি দ্বারা।

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন-

وَمَا آَتَيْتُمْ مِنْ رِبًا لِيَرْبُوَ فِي أَمْوَالِ النَّاسِ فَلا يَرْبُو عِنْدَ اللَّهِ وَمَا آَتَيْتُمْ مِنْ زَكَاةٍ تُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُضْعِفُونَ

তোমরা সুদ সরূপ যা দিয়ে থাকো তাতে সম্পদ বৃদ্ধি পাবে বলে তোমরা মনে করো। আল্লাহর দৃষ্টিতে তা ধন সম্পদ বৃদ্ধি করে না। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য যে যাকাত তোমরা দিয়ে থাক তাই বৃদ্ধি পায়। বস্তুত তারাই সমৃদ্ধশালী। [সূরা রূম : ৩৯]

রচনায়:  সাজ্জাদ সালাদীন

চলবে…………………..

মতামত দিন