বিদআতী ইমামের পিছনে জুমআ ও জামাআত

রচনায় : শাইখ আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী

প্রশ্ন: আমাদের বাংলাদেশের অনেক মসজিদে কিছু কিছু বিদআতের চর্চা হয়। যেমন অলী-আওলীয়াদের উসীল দেয়া, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিবস উদযাপন করা, শবেবরাত ও শবেমিরাজ পালন করা ইত্যাদি। যেসব ইমাম মসজিদের ইমাম এগুলো করে তাদের পিছনে কি সালাত আদায় করা বৈধ্য হবে? আমরা যখন তাদের সাথে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে যাই তখন তারা দলীল দিতে না পেরে আমাদের সাথে রেগে যায়। তাদের সর্বোচ্চ দলীল হলো, তারা বলে আমরা এগুলো আমাদের আলেম ও শাইখ-মাশায়েখদের থেকে পেয়েছি। তারা ছিলেন আমাদের চেয়ে অধিক জ্ঞানী এবং অধিক আল্লাহভীরু। বিদআতীদের এসব শরীয়ত বিরোধী আমল মানুষের মাঝে অনেক মতভেদের জন্ম দিয়েছে এবং তাদের পরস্পরের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ ও ঘৃণাবোধ সৃষ্টি করেছে। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী? তাদেরক আমরা কীভাবে নসীহত করবো এবং কীভাবে তাদের সামনে সত্য তুলে ধরবো?

উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ। বিদআতীর পিছনে সালাত আদায় করার ব্যাপারে শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া রাহিমাহুল্লাহ (মাজমু ফাতাওয়া ২৩/৩৫৫) বলেন, বিদআতী ইমামের পিছনে সালাত আদায়ের মাসআলায় মতভেদ ও ব্যাখ্যা রয়েছে। তাকে ছাড়া যদি অন্য কোনো ইমাম না পাওয়া যায়, যেমন কোনো শহরে মাত্র এক জায়গায় জুমুআ ও দুই ঈদের সালাত কায়েম করা হয় এবং হজ্জের মৌসুমের সালাতগুলোতে যদি বিদআতী ইমাম ছাড়া অন্য কোনো ইমাম না থাকে, তাহলে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ঐক্যমতে এসালাতগুলো বিদআতী ইমামের পিছনে আদায় করা বৈধ। তবে বিদআতী যদি রাফেযী (শিয়াদের একটি গ্রুপ) এবং তাদের অনুরূপ হয় যে জুমুআ ও জামাআত আবশ্যক মনে করে না, তাহলে তার পিছনে সালাত বর্জন করা হবে।

আর কোনো গ্রাম বা শহরে যদি মাত্র একটি মসজিদ থাকে এবং মসজিদের ইমাম বিদআতী হয়, তাহলে বাড়িতে একাকী সালাত আদায় করার চেয়ে পাপাচারী (বিদআতী) ইমামের পিছনে সালাত আদায় করা উত্তম। যাতে করে জুমুআ ও জামাআত সম্পূর্ণরূপে পরিত্যক্ত না হয়ে যায়।

তবে যদি বিদআতী ছাড়া অন্য ইমামের পিছনে সালাত আদায় করা সম্ভব হয়, তাহলে নিসন্দেহে সেটাই উত্তম হবে। কিন্তু সুন্নী ইমাম থাকতে বিদআতীর পিছনে আদায়কৃত সালাত বিশুদ্ধ হবে কিনা, এমাসআলায় আলেমদের মতভেদ ও ব্যাখ্যা রয়েছে। ইমাম শাফেঈ ও আবু হানীফা রাহিমাহুমাল্লাহ এর মতে সুন্নী ইমাম থাকতে বিদআতী ইমামের পিছনে সালাত সহীহ হবে। আর ইমাম মালেক ও আহমাদ রাহিমাহুমাল্লাহ এর মাযাহাবে মাসআলাটি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ।

যেসব বিদআত কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধী, যেমন রাফেযী, জাহমী এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের বিদআত, এসব বিদআতীর পিছনে সালাত আদায় করা বৈধ নয়। আর দীনের যেসব মাসআলায় অনেক আলেম মতভেদ করেছে, যেমন আল্লাহ তাআলার কালাম অক্ষর ও আওয়াজের সমষ্ঠিগত নাম কি না এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে মতভেদকারীদের প্রত্যেকেই বিদআতী হতে পারে। তাদের প্রত্যেকেই অজ্ঞ ও ব্যাখ্যাকারী হতে পারে। এদের একজন অন্যজনের পিছনে সালাত বর্জন করা কখনো উত্তম হতে পারে না। তবে যদি সুন্নাত সুস্পষ্ট হয়, জ্ঞাত হয় এবং কোনো একজন তার বিরোধিতা করে, তাহলে তার পিছনে সালাত হবে কি না, এব্যাপারেই কেবল মতভেদ রয়েছে।

লাজনা দায়েমায় প্রশ্ন করা হয়েছিল, বিদআতী ইমামের পিছনে কি সালাত আদায় করা জায়েয হবে?

উত্তর: যে ব্যক্ত বিদআতী ইমাম ছাড়া অন্য ইমাম পাবে, সে যেন বিদআতী ইমাম বাদ দিয়ে অন্য ইমামের পিছনে সালাত আদায় করে। আর যে ব্যক্তি বিদআতী ইমাম ছাড়া আর কোনো ইমাম পাবে না, সে ইমামকে নসীহত করবে। আশা করা যায়, সে বিদআত পরিহার করবে। আর যদি বিদআত পরিহার না করে এবং বিদআতটি শির্কের পর্যায়ে পড়ে, যেমন মৃতব্যক্তিদের কাছে ফরিয়াদ করে, আল্লাহ ছাড়া তাদের কাছে দু‘আ করে এবং তাদের নৈকট্য অর্জনের জন্য পশু যবেহ করে, তাহলে তার পিছনে সালাত আদায় করা বৈধ নয়। কারণ সে কাফের এবং তার সালাত বাতিল। তাকে ইমাম নিযুক্ত করা বৈধ নয়।

তার বিদআত যদি কুফরী পার্যন্ত না পৌঁছায়, যেমন সালাতের শুরুতে মুখে নিয়ত উচ্চারণ করা, তাহলে তার পিছনে সালাত আদায় করা জায়েয। (লাজনা দায়েমা ফতোয়া নং (৭/৩৬৪)।

বিদআতীদেরকে দাওয়াত দেয়ার ব্যাপারে কিছু কথা:

আর তাদেরকে দাওয়াত দেয়ার ব্যাপারে কথা হলো, সবার আগে আপনি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন, নিয়ত বিশুদ্ধ করুন এবং অন্তর দিয়ে তাদের হিদায়াত কামনা করুন। আল্লাহ আপনাকে একাজে সাহায্য করবেন। আর আপনি দলীল-প্রমাণ দিয়ে তাদের শরীয়ত বিরোধী কাজগুলোর প্রতিবাদ করুন এবং তাদের মধ্যে যেসব সন্দেহ রয়েছে, তা দূর করার চেষ্টা করুন। যেসব বিষয় আপনার কাছে অস্পষ্ট মনে হবে, সেসব বিষয়ে আলেমদের দ্বারস্থ হোন। যাতে তাদের সন্দেহ আপনার অন্তরে প্রবেশ না করে এবং বিতর্কে তারা আপনাকে লা জাওয়াব করতে না পারে। এতে অজ্ঞরা তাদের মাযহাবকে সঠিক মনে করতে পারে। আর আপনি তাদেরকে দাওয়াত দেয়ার ক্ষেত্রে ধীরস্থিরতা এবং কোমলতা অবলম্বন করুন।

আল্লামা বিন বায রাহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যে লোক বিদআতীদের সাথে বসবাস করে, তার জন্য কি তাদের সাথে জুমুআর সালাত ও জামআতের সাথে সালাত আদায় করা বৈধ হবে? নাকি সে একাকী সালাত আদায় করে নিবে? এরূপ ব্যক্তি থেকে কি জুমুআর সালাত রহিত হয়ে যাবে?

উত্তর: পাপাচারী নেককার প্রত্যেক মুসিলমের পিছনেই জুমুআর সালাত কায়েম করা ওয়াজিব। তবে জুমুআর সালাতের ইমামের বিদআত যদি এমন হয় যে, তা ইসলাম থেকে বের করে দেয় না, তাহলে তার পিছনে জুমুআ ও জামাআত কায়েম করা যাবে। ইমাম আবু জা‘ফর আত-তাহাবী রাহিমাহুল্লাহ তার সুপ্রসিদ্ধ আকীদার কিতাব (আল-আকীদাতুত তাহাবীয়ায়) বলেন,

وَنَرَى الصلاة خَلْفَ كُلِّ بَرٍّ وَفَاجِرٍ مِنْ أَهْلِ الْقِبْلَة وعلى مَنْ مَاتَ مِنْهُمْ

আমরা আহলে কিবলার প্রত্যেক নেককার ও বদকারের পিছনে নামাযের একতেদা করা জায়েয মনে করি এবং তাদের মৃতদের উপর জানাযা নামায পড়া ও তাদের জন্য দুআ করাকেও বৈধ জানি। ইমাম ইবনে আবীল ইয্ রাহিমাহুল্লাহ ইমাম তাহাবী রাহিমাহুল্লাহ এব উক্তিটির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

্রصَلُّوا خَلْفَ كُلِّ بَرٍّ وَفَاجِرٍগ্ধ

“তোমরা প্রত্যেক ভালো ও পাপী মুসলিমের পিছনে নামায পড়ো”। মাকহুল আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম দারকুতনী এটি বর্ণনা করার পর বলেন, মাকহুল আবু হুরায়রার সাথে সাক্ষাত করেননি। হাদীছের সনদে রয়েছে সমালোচিত রাবী মুআবীয়া বিন সালেহ। তবে ইমাম মুসলিম তার রচিত সহীহ মুসলিম শরীফে তার হাদীছ গ্রহণ করেছেন। ইমাম দারকুতনী এবং আবু দাউদও মাকহুলের সনদে আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। আবু হুরায়রা বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক মুসলিমের ইমামতিতেই তোমাদের উপর নামায আদায় করা ওয়াজিব। চাই সে নেককার হোক কিংবা বদকার হোক। প্রত্যেক আমীরের সাথেই তোমাদের উপর জিহাদ করা আবশ্যক। চাই সে নেককার হোক অথবা পাপাচারী হোক। যদিও সে কবীরা গুনাহয় লিপ্ত হোক। সহীহ বুখারীতে রয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হাজ্জাজ বিন ইউসুফের পিছনে জামাআতে নামায আদায় করতেন। আনাস বিন মালেকও তাই করতেন। আর হাজ্জাজ ছিল যালেম ও ফাসেক। সহীহ বুখারীতে আরো আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তারা (যালেম শাসকরা) নামাযে তোমাদের ইমামতি করবে। যদি তারা ঠিকমত নামায আদায় করে, তাহলে তারা ছাওয়াব পাবে। তোমরাও ছাওয়াব পাবে। আর যদি বেঠিক করে, তাহলেও তোমাদের নামায হয়ে যাবে এবং ছাওয়াবও পাবে। আর তাদের নামায তাদের বিপক্ষে যাবে।

আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে আরো বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে মুসলিম লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করে, তার পিছনে নামায পড়ো। আর যে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করে মৃত্যু বরণ করে, তোমরা তার জানাযা নামায পড়ো। ইমাম দারকুতনী একাধিক সনদে হাদীছটি বর্ণনা করার পর যঈফ বলেছেন।

হে মুসলিম ভাই! আল্লাহ তাআলা আপনার উপর এবং আমাদের উপর রহম করুন। জেনে রাখুন, এ ব্যাপারে উম্মতের ইজমা সংঘটিত হয়েছে যে, মুসলিমদের জন্য ঐ ব্যক্তির পিছনে নামাযের ইকতেদা করা জায়েয, যার নিকট থেকে বিদআত বা ফাসেকীর কোনটিই প্রকাশিত হয়নি। মুক্তাদীর জন্য ইমামের আকীদাহ সম্পর্কে জানা জরুরী নয়। ইমামের আকীদাহ পরীক্ষা ও যাচাই করাও আবশ্যক নয়। তাকে এই কথা জিজ্ঞেস করাও ঠিক নয় যে, আপনার আকীদাহ-বিশ্বাস কী বা কেমন? বরং যার অবস্থা অজ্ঞাত, তার পিছনে নামায পড়ে নিবে। যদিও এমন বিদআতীর পিছনে নামায পড়া হয়, যে বিদআতের দিকে মানুষকে আহবান করে এবং এমন ফাসেক হয়, যার ফাসেকী প্রকাশ্য তাতেও কোন অসুবিধা নেই। বিশেষ করে যখন সে বেতনভূক্ত কিংবা সরকারের পক্ষ হতে নিয়োগপ্রাপ্ত ইমাম হয় এবং তার পিছনে নামায পড়া ব্যতীত অন্য কোন উপায় না থাকে। যেমন জুমআর নামাযের ইমাম, দুই ঈদের নামাযের ইমাম, হজ্জের সময় আরাফার নামাযের ইমাম ইত্যাদি। মুসলিমগণ তাদের পিছনে নামায পড়বে। এটিই সকল সালাফ ও খালাফ তথা পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল আলেমের অভিমত।

যে ব্যক্তি ফাসেক ইমামের পিছনে জুমআ ও জামাতে শরীক হওয়া বর্জন করবে, অধিকাংশ আলেমের নিকট সে বিদআতী হিসাবে গণ্য হবে। সঠিক কথা হচ্ছে মুসলিম ব্যক্তি ফাসেক ইমামের পিছনে নামায পড়বে এবং সেই নামায দ্বিতীয়বার পড়তে হবে না। কেননা সাহাবীগণ পাপিষ্ঠ ইমামদের পিছনে জুমআ ও জামাআতে শরীক হতেন। তারা পুনরায় সেই নামায আদায় করতেন না। যেমন আব্দুল্লাহ ইবনে উমার হাজ্জাজের পিছনে নামায পড়তেন। আনাস রাযিয়াল্লাহও তাই করতেন। যেমন একটু পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। অনুরূপ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ এবং অন্যান্য সাহাবীগণও অলীদ বিন উকবা বিন আবী মুঈতের পিছনে নামায পড়তেন। অলীদ ছিল মদপানকারী।

বলা হয় যে, সে একবার নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ফজরের নামায চার রাকাআত আদায় করার পর বলেছিল, তোমাদের জন্য নামায আরো বাড়াবো কি? ইবনে মাসউদ (রাঃ) তখন বললেন, আজ তো তোমার সাথে আমরা বেশী পড়েই ফেলেছি!! আসলে বেশী তো হয়েই গেছে। আরো বেশী পড়াতে চাও?

সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে, উছমান বিন আফ্ফান (রাঃ)কে যখন ঘেরাও করা হলো, তখন এক লোক মুসলিমদেরকে নিয়ে নামায পড়লো। ঐ সময় জনৈক লোক উছমান (রাঃ)কে জিজ্ঞাসা করল। আপনি মুসলিমদের সকলের ইমাম। আর এই যে লোকটি মানুষের নামাযের ইমামতি করছে, সে কি ফিতনার ইমাম নয়? উছমান (রাঃ) তখন বললেন, হে ভাতিজা! মানুষ যেসব ভালো আমল করে, তার মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে নামায। তারা যখন সুন্দর করে নামায পড়বে, তখন তুমিও তাদের সাথে সুন্দর করে নামায পড়ো। আর যখন তারা অসুন্দরভাবে নামায পড়বে, তখন তুমি তাদের সেই অসুন্দরকে পরিত্যাগ করবে”।

ফাসেক এবং বিদআতীর নামায মূলত সহীহ। তাই তার পিছনে যদি অন্য কেউ নামায পড়ে তার নামাযও বাতিল হবে না। তবে যারা তার পিছনে নামায পড়াকে মাকরুহ মনে করেছেন, তাদের যুক্তি হচ্ছে এর মাধ্যমে তারা আমর বিল মারুফ ওয়ান্ নাহী আনিল মুনকারের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কারণ এটি হচ্ছে ওয়াজিব। এ বিষয়টিও সৎকাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধের অন্তর্ভূক্ত যে, কোনো লোক যদি বিদআত কিংবা পাপাচার প্রকাশ করে, তাকে মুসলিমদের ইমাম নিযুক্ত করা হবে না। কেননা তাকে শাস্তি দেয়া আবশ্যক। যাতে সে তাওবা করে পাপাচার থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। সুতরাং তাকে পরিত্যাগ করা যদি সম্ভব হয়, তাহলে তাই উত্তম।

আর যদি কিছু লোক তার পিছনে নামায পড়া বাদ দিয়ে অন্যের পিছনে নামায পড়ে, তাতেও অন্যায় কাজের প্রতিবাদ হবে এবং আশা করা যায় যে, সে তাওবা করবে। অথবা তাকে ক্ষমতা প্রয়োগ করে তার পদ থেকে নামানো হবে। এতে করে লোকেরা তার মতো পাপকাজ করা হতে বিরত থাকবে। সুতরাং তার মত লোকের পিছনে নামায পড়া বর্জন করা হলে দ্বীনী বিশেষ স্বার্থ হাসিল হবে। তবে শর্ত থাকে যে, মুসলিমদের জুমআ এবং জামাআত যেন বাতিল না হয়।

আর যদি মুসলিমদের জুমআ ও জামাআত বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে ফাসেকের পিছনে নামায পড়া বাদ দেয়া যাবে না। তবে ইমাম যদি জঘণ্য বিদআতী হয় এবং সাহাবীদের পথের বিরোধী হয়, তাহলে তার পিছনে নামায পড়া যাবে না।

এমনি শাসকগণ যদি ইমাম নিযুক্ত করেন, তাহলে তার পিছনে নামায না পড়ার মধ্যে দ্বীনি কোনো স্বার্থ থাকে না। তাই এ ক্ষেত্রে শাসকের নিয়োগকৃত ইমামের পিছনে নামায আদায় বর্জন করা হবে না। বরং তার পিছনে নামায পড়াই উত্তম।

যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে অন্যায় কাজ করে, তাকে যদি ইমামতিতে না দিয়ে পারা যায়, তাহলে মানুষের উপর তাকে ইমামতিতে না দেয়াই ওয়াজিব। কিন্তু অন্য কেউ (সরকার) যদি ইমাম নিয়োগ করে দেয় এবং তাকে সরানো অসম্ভব হয় অথবা তাকে সরাতে গেলে সে যে পরিমাণ প্রকাশ্য অন্যায়ে লিপ্ত তার চেয়েও বড় ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, তাহলে মূলনীতি হচ্ছে বেশী বা বড় ফাসাদের মাধ্যমে কম বা ছোট ফাসাদ দমন করা নাজায়েয। কোন অকল্যাণ ও ক্ষতিকর কাজ দমন করতে গেলে যদি তার চেয়েও বড় অকল্যাণ ও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে সেই অকল্যাণ দমন করা নাজায়েয। কেননা মানুষের কল্যাণ সাধন ও পূর্ণ করার জন্য এবং যথা সম্ভব তাদের উপর হতে ক্ষতি ও অকল্যাণকর বস্তু দূর করার জন্যই আসমানী শরীয়ত আগমণ করেছে।

সুতরাং জুমআ ও জামাআত বাতিল করার ক্ষতি পাপাচারী ইমামের পিছনে ইক্তেদা করার ক্ষতির চেয়ে অধিক ভয়াবহ। বিশেষ করে যখন তার পিছনে নামায না পড়লে তার পাপাচার দূর না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এহেন অবস্থায় দ্বীনি স্বার্থ তো অর্জিত হলই না, সেই সাথে সেই ফাসাদ (অন্যায়) রয়েই গেল।

তবে ভালো লোকের পিছনে যদি জুমআ ও জামাআত কায়েম করা সম্ভব হয়, তাহলে ফাসেকের পিছনে নামায পড়ার চেয়ে ভালো লোকের পিছনে নামায পড়াই উত্তম। ভালো ইমাম থাকতে বিনা উযরে কেউ যদি ফাসেক ইমামের পিছনে নামায পড়ে, তাহলে এই বিষয়ে আলেমদের মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন, তাকে পুনরায় নামায পড়তে হবে। আবার কেউ বলেছেন, নামায হয়ে যাবে। সুতরাং পুনরায় সেই নামায পড়তে হবে না।

Source

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
slot gacor skybet88 slot online skybet88 skybet88 skybet88 slot gacor skybet88 skybet88 slot bonus new member skybet88 slot shopeepay skybet88 skybet88 skybet88 slot shopeepay slot gacor skybet88 demo slot skybet88 skybet88 skybet88 skybet88 skybet88 skybet88