নিজের চেয়ে বয়সী মেয়েকে বিয়ে করা

অনেক পুরুষই নিজের চেয়ে বড়ো কোনো মহিলাকে বিয়ে করতে চান না। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় এর পেছনে একমাত্র কারণ হয়তো ফিজিকাল। অনেকে সাইকোলজিকাল কারণও নিয়ে আসেন। তবে নিজের চেয়ে বড়ো কোন নারীকে বিয়ে করে নিজ নিজ ফিল্ডে পৃথিবী কাঁপিয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যা কিন্তু একেবারে কম না। উদাহারণ হিসেবে সর্বকালের অন্যতম সেরা বিজ্ঞানী আইন্সটাইনের কথা বলা যায়। তিনি যখন মিলেভাকে বিয়ে করেন, তখন মিলেভার বয়স ছিল ২৮ আর আইন্সটাইনের? কেবল ২৪। আইন্সটাইনের মা শুরু থেকেই এই বিয়ের বিপক্ষে ছিলেন। ছেলেকে বলেছিলেন, “তোর বয়স যখন ত্রিশ হবে, তখন তো এই মেয়ে তোর দাদীর মতো বুড়ি হয়ে যাবে।” তাছাড়া মিলেভা, আইন্সটাইনের মতো ইহুদীও ছিলেন না, জার্মানও ছিলেন না। তার বাড়ি ছিল সার্বিয়াতে।

আইন্সটাইনের অবশ্য এসব নিয়ে মাথা ব্যাথা ছিল না। পার্টনার হিসেবে তিনি এমন কাউকে চাচ্ছিলেন যার সাথে তিনি মহাবিশ্বের রহস্য নিয়ে কথা বলতে পারবেন। তিনি বসে বসে আকাশে তারাদের দৈর্ঘ্য মাপবেন আর বউ বসে বসে বালিশের কভার মাপবে, এমন স্ত্রী তিনি চাচ্ছিলেন না। মিলেভা নিজেও অনেক বড়ো মাপের বিজ্ঞানী ছিলেন। গ্রাজুয়েশন লেভেলে তার স্কোর (৪.৭) আইন্সটাইনের চেয়েও (৪.৬) ভালো ছিল। আইন্সটাইনের অনেক কাজে তার স্ত্রীর অংশ ছিল। যদিও তিনি যে পেপারগুলো লিখতেন, তাতে স্ত্রীর নাম দিতেন না। একজন একবার মিলেভাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি জার্মান ভাষায় ছড়াকারে জবাব দেন-

“Warum? Wir beide sind nur ein Stein.”

“দুইজনের নাম কেন দিতে হবে?

আমরা দুই দেহ, আত্না তো একই আছে।”

স্ত্রীকে লেখা একটা পত্রে আইন্সটাইন লিখেছিলেন, “আমি সেদিনের স্বপ্ন দেখি যেদিন আমরা দু’জন মিলে ‘থিওরী অফ রিলেটিভিটি’-কে দাঁড় করাতে পারবো।” জীবনের প্রথম লেকচারের হ্যান্ডনোটগুলো তার স্ত্রীই তাকে লিখে দিয়েছিলেন। সেই হ্যান্ডনোট এখনো জেরুজালেমের একটি জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। আইন্সটাইনের সেসময়ে বউকে বড্ড দরকার ছিল। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়ার সময় আইন্সটাইন নিজেই স্বীকার করে তাই বলেছিলেন, “আমার বউকে আমার বড্ড প্রয়োজন। ও আমার জন্য ম্যাথগুলো করে দেয়।” এ থেকে বোঝা যায়, আইন্সটাইনের অনেক কাজে তার স্ত্রীরও অংশ রয়েছিল। কিন্তু প্রাপ্য সম্মানটুকু তিনি কোনদিন পাননি, হয়তো সেসময়ে চাননি। যখন চেয়েছিলেন তখন অনেক দেরী হয়ে গেছে।

১৯০৫ সালে আইন্সটাইন একসাথে পাঁচটা ছক্কা মারলেন। একে একে পাঁচটা আর্টিকেল লিখে ফেললেন। এর মধ্যে একটি ছিল ‘ফটোইলেক্ট্রিক ইফেক্ট’ এর উপরে যার কারণে তিনি নোবেল পুরষ্কার পেয়েছিলেন। আরেকটি ছিল মাইটি ইকুয়েশন ‘ই ইকুয়েলস টু এমসি স্কয়ার’ আর রিলেটিভিটির উপরে। খ্যাতির কারণে হোক আর যে কারণেই হোক, মেলিভার সাথে আইন্সটাইনের সম্পর্ক এক সময় খারাপ হওয়া শুরু করে। আইন্সটাইন ভুলতে শুরু করেন তার দুঃসময়ের সাথীকে। যিনি তার অসমান্য মেধার সবটুকু ঢেলে দিয়ে স্বামীকে সাহায্য করেছিলন। একসময়ে আইন্সটাইন তার কাজিনের সাথে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় বিশ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে। মেলিভা তার সন্তানদের নিয়ে আলাদা হয়ে যান। আইন্সটাইন মাঝে মধ্যে সামান্য ভরণপোষণ দিতেন। নোবেল পুরষ্কারের সকল অর্থ আইন্সটাইন নিজের পুত্রের নামে লিখে দেন। ছেলেটা সিজোফ্রেনিয়াতে আক্রান্ত ছিল। মেলিভা আপত্তি তুলে বলেন, টাকাটা আসলে তার প্রাপ্য। কারণ, ফটোইলেক্ট্রিক ইফেক্টে তার অবদান ছিল। আইন্সটাইন তখন তাকে শাসিয়ে পত্র লিখেন-

“তুমি নিজের কথা বলে আমাকে হাসিয়েছো। কখনো ভেবেছ মানুষ তোমার কথা নিয়ে কোন গুরুত্বও দিতো না, যদি না সেটা আমি হতাম? যখন অর্জন কম থাকে, তখন মানুষের চুপ থাকা উচিত। আমি তোমাকে চুপ থাকতে উপদেশ দিবো।”

মিলেভা মৃত্যু পর্যন্ত চুপ থাকারই সিদ্ধান্ত নেন। হারিয়ে যান বিস্মৃতির গহ্বরে।

উপরের গল্পটা খুব মন খারাপ করা একটা গল্প। তবে মন ভালো করার মতো অনেক গল্প আমাদের সময়েই রয়েছে। শচীন টেন্ডুলকারের কথা বলা যায়। তার স্ত্রী অঞ্জলি তার চেয়ে ছয় বছরের বড়ো। যখন শচীনকে তিনি পছন্দ করেন, তখন শচীন কেবল শচীনই ছিলেন। কোন খ্যাতিই তার ছিল না। তারপর সব উত্থান পতনে তিনি জীবনসঙ্গীর সাথে থেকেছেন। নিজের খেলা শেষ ম্যাচে টেন্ডুলকার তার প্রশংসায় বলেছিলেন,

“আমি অঞ্জলিকে একজন ডাক্তার হিসেবে চিনি আর ওর সামনে সুন্দর ক্যারিয়ার ছিল। আমার জন্য ও সব ছেড়ে দিয়ে আমায় বলেছে, ‘তুমি ক্রিকেটে মন দাও। সমস্যা নেই, ঘর আমি সামলাচ্ছি।’ ওর এই এক কথার কারণে আমি নির্ভার হয়ে ক্রিকেট খেলতে পেরেছিলাম। অঞ্জলি তোমায় ধন্যবাদ! আমার রাগ আর হতাশাগুলো গিলে ফেলার জন্য। আমার জীবনের সেরা পার্টনারশিপ তোমার সাথেই হয়েছে।”

এ ধরনের বিয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সেরা নজীর স্থাপন করেছিলেন মুহাম্মদ (সা)। স্ত্রী খাদিজা (রা)-কে যখন তিনি বিয়ে করেন তখন তাঁর বয়স ছিল ২৫ আর খাদিজার (রা) ৪০। দু’জন একটানা পঁচিশ বছর ঘর করেছেন। প্রথম ওহী পাবার পর তিনি যখন ঘরে কাঁপতে কাঁপতে প্রবেশ করেছিলেন, তখন খাদিজা (রা) তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন,

“অসম্ভব! আপনাকে কখনো আল্লাহ তা’আলা অপমান করবেন না। আপনি আত্মীয়-স্বজনের হক আদায় করেন। বিপদগ্রস্ত লোকদের সাহায্য করেন। মেহমানদারী ও সত্যের পথে বিপদাপদে সহায়তা করেন।”

তিনি ছিলেন রাসূল (সা) এর বিপদের সাথী। ভয় আর শোকে সান্ত্বনার বাণী। বুড়ো স্ত্রী মারা গেলে স্বামীরা যেখানে স্বস্তি পায়, সেখানে রাসূল (সা) খাদিজা (রা) এর মৃত্যুতে মুষড়ে পড়েছিলেন। মৃত্যুর পরেও তিনি খাদিজা (রা)-কে একইভাবে ভালোবেসেছেন। তার বান্ধবী ও আত্নীয়দের সাথে সদাচারণ করেছেন। তাদেরকে উপহার দিয়েছেন। গোশত দেয়ার জন্য মদিনার পথে পথে খাদিজা (রা) এর বান্ধবীদের খুঁজে বেড়িয়েছেন।

আমাদের বাংলাদেশে বর্তমানে বিয়ের বিষয়ে ‘ট্যাবু’ রয়েছে। যেমনঃ নিজের চেয়ে বয়স্কা কাউকে বিয়ে করা যাবে না, এক সাথে দুইজনকে বিয়ে করা যাবে না, অন্য এলাকার কাউকে বিয়ে করা যাবে না, ইত্যাদি। এ ট্যাবুগুলোর কিন্তু কোন শর’ঈ ভিত্তি নেই। বিশেষ করে বয়স্কা কাউকে বিয়ে না করার রীতির কারণে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয় বিধবারা আর যেসব নারীরা গ্রাজুয়েশনের কারণে বিয়েতে পিছিয়ে পড়েন তারা। অনেকেই স্ত্রী হিসেবে চান বিচক্ষণ কাউকে। যার সাথে জীবনের জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে সেইম এইজ কিংবা সিনিয়ার প্রেফারেবল। কিন্তু তারা ‘মানুষ হাসাহাসি করবে’- ভেবে পিছিয়ে আসেন।

বিয়ে ব্যাপারটা মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দের উপরে নির্ভর করে। সবাই যেহেতু আলাদা, তাই পছন্দও আলাদা। কেউ হয়তো বয়স্কা কাউকে পছন্দ করতে পারেন, কেউ সমবয়সী, কেউ বা তার চেয়ে বেশ ছোট মেয়েকেও পছন্দ করতে পারেন। ইসলামী শরিয়ার ভিতরে থাকলে এটা নিয়ে সমালোচনা করা বাদ দেয়া উচিত। যেমনঃ অনেক ভাই আছেন যারা তাদের চেয়ে বেশ ছোট কুমারী মেয়েকে বিয়ে করতে পছন্দ করেন। কিছু ফেমিনিজমে আক্রান্ত বোনেরা এ নিয়ে তাদের উপর ক্ষেপে যান। এতো ক্ষোভের আদৌ কী কিছু আছে? কেউ কেউ চিন্তা করতেই পারে এতো বিচক্ষণ বউ দিয়ে কী করব? বউ হবে এমন কেউ যার উপর রাগ করলেই সে চোখ মুখ লাল করে এককোণে বসে থাকবে। ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকে রাখবে। তারপর যতোক্ষণ বকেছি তার চেয়ে কয়েকগুণ সময় নিয়ে তার রাগ ভাঙ্গাব। ক্লান্ত দিন শেষে একসাথে দু’জন খেলব। খোলা প্রান্তরে হাত ধরে হারিয়ে যাব। তার মধ্যে বাচ্চাসুলভ একটা ব্যাপার থাকবে।

ঠিক এ কারণেই সাহাবী জাবির (রা) একজন বিধবাকে বিয়ে করলে রাসূল (সা) তাকে বলেছিলেন, “তুমি কেন একজন কুমারীকে বিয়ে করলে না? তাহলে তুমিও তার সাথে খেলতে পারতে, সেও তোমার সাথে খেলতে পারতো? তুমি তার সাথে হাসতে, সেও তোমার সাথে হাসতো? (বুখারি)

তার মানে কি রাসূল (সা) বিধবাদের বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন? মোটেও না। তিনি নিজেই বিধবা বিয়ে করেছেন। তার স্ত্রীদের মধ্যে একজন ছাড়া সবাইই বিধবা ছিলেন।

IslamQA- এর একটি ফতোয়াতে (https://islamqa.info/en/12630) ২১ বছরের এক ছেলে শায়খকে প্রশ্ন করেন, তার চেয়ে সাত বছরের বড় মহিলাকে বিয়ের ব্যাপারে। শায়খ জবাবে লিখেন,

“একজন পুরুষের ধার্মিক নারীকে বিয়ে করা করা উচিত যদিও বয়সে সে তার চেয়ে বড় হয়। যদি সে সন্তান ধারণ করার মতো অবস্থায় থাকে, তবে বিয়ে করতে কোন বাধা নেই। যদি নারী-পুরুষ উভয়ই ধার্মিক হয়, তবে বিয়ের ক্ষেত্রে বয়স কোন সমস্যাই নয়।”

শুধু ইসলাম নয়, প্রধান তিন আব্রাহামিক ফেইথেই অর্থাৎ, জুডাইজম, ক্রিস্টিয়ানিটিতেও নিজের চেয়ে বয়স্কা নারীকে বিয়ে করার অনুমতি রয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে এ ধরনের বিয়ে বাধ্যতামূলক। বাইবেলে “Levirate Marriage” নামে বিশেষ এক ধরনের বিয়ের কথা বলা হয়েছে (ডিউটেরোনমি ২৫:৫-৬)। এ প্রথা অনুসারে, যদি বড় ভাই মারা যায়, আর তার কোন পুত্র সন্তান না থাকে, তবে ছোট ভাইকে অবশ্যই বড় ভাইয়ের বউকে বিয়ে করতে হবে। বড় ভাইয়ের বউ চাইলে দেবরকে এই দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি দিতে পারে, কিন্তু তিনি যদি না চান তবে তাকে অবশ্যই বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে বিয়ে করতে হবে।

ইসলাম অনুসারে, দেবর চাইলে পরবর্তিতে পারষ্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ভাইয়ের স্ত্রীকে বিয়ে করতে পারে, নাও পারে, কোন বাধ্যবাধকতা নেই। তবে বাইবেল অনুসারে, ছোট ভাই এ ক্ষেত্রে বাধ্য। সেই মহিলার বয়স যতোই হোক না কেন, কোন অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না। যদি দেবর বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে বড় ভাইয়ের স্ত্রী সবার সামনে মৃত ভাইয়ের জুতো দিয়ে তার মুখে থুথু নিক্ষেপ করবে (ডিউটেরোনমি ২৫:৯-১০)। বাইবেলের জেনেসিসে এই আইনের প্রয়োগও দেখানো হয়েছে (জেনেসিস ৩৮)। সেখানে এক মেয়ের স্বামী মারা গেলে তার ছোট ভাই তাকে বিয়ে করে। পরে সেই ভাইও মারা যায়। পরের ছোট ভাইয়ের তখন বয়স এতো কম ছিল যে, সে বিয়ের উপযুক্তই ছিল না। শ্বশুর তখন পুত্রবধূকে তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। আর প্রতিশ্রুতি দেয়, ছোট ছেলে তার জন্য উপযুক্ত হলে উনি বউকে ডেকে পাঠাবেন। এ থেকে বোঝা যায়, বাইবেল অনুসারে বিয়ের ক্ষেত্রে বয়স কোন ইশ্যুই না।

ইহুদীরা এ ব্যাপারটা নিয়ে নিউ টেস্টামেন্টে যিশু খ্রিষ্টকে একটি ধাঁধা জিজ্ঞেস করেছিল। তারা তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, যদি বড় ভাইয়ের স্ত্রী মারা যাবার পর ছোট ভাই তাকে ভোগ করে আর এভাবে সাত ভাই পর্যন্ত তাকে ভোগ করে তাহলে কিয়ামতের দিন সেই স্ত্রীটি কোন ভাইয়ের হবে? বিকৃত বাইবেল অনুসারে, যিশু খ্রিষ্ট যে জবাব দিয়েছিলেন তার সারমর্ম হলো, জান্নাতে বিয়ে-যৌনতা এসব কিছুই থাকবে না (লূক ২০:২৮-৪০)। তাই স্ত্রী থাকার প্রশ্নই আসছে না। প্রায় একই প্রশ্নের উত্তর আমাদের স্কলাররা চমৎকারভাবে দিয়েছেন (https://islamqa.info/en/8068)। বাইবেল অনুসারে, ঈসা (আ) যে উত্তর দিয়েছিলেন, তা যেহেতু আমাদের আকিদার সাথে সাংঘর্ষিক, তাই আমরা বলতে পারি এই কাহিনী বানোয়াট।

আমরা বিশ্বাস করি যারা দুনিয়াতে নিজেদের হেফাযত করে, আল্লাহ তায়ালা তাদের সবরের জন্য তাদেরকে এমন স্ত্রী দান করবেন, যার রূপের সাথে এ পৃথিবীর কোন কিছুরই তুলনা চলে না। সুশীলরা হুরের লোভ বলুক আর যাই বলুক, এ আশাই আমাদের এই নোংরা দুনিয়াতে গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা জোগায়। হঠাৎ গোনাহ করে ফেললে পবিত্র হবার তাগাদা দেয়।

কারণ, পবিত্র সঙ্গীনি পেতে হলে আগে তো নিজেকে পবিত্র হতে হবে।

________________________________________

-শিহাব আহমদ তুহিন

Original Source

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
slot gacor skybet88 slot online skybet88 skybet88 skybet88 slot gacor skybet88 skybet88 slot bonus new member skybet88 slot shopeepay skybet88 skybet88 skybet88 slot shopeepay slot gacor skybet88 demo slot skybet88 skybet88 skybet88 skybet88 skybet88 skybet88