ইসলামী শিক্ষা

ইসলামিক পাঠাগার

বহুতল অ্যাপার্টমেন্টে শ দেড়েক থেকে হাজারখানেক মানুষ বাস করে। তার এক-তৃতীয়াংশ শিশু-কিশোর। প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টে যদি ছোট একটি পাঠাগার থাকে, তাহলে ফ্ল্যাটগুলোর বাসিন্দারা, বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে যাঁরা কর্মজীবী নন, তাঁরা অবসরে পাঠাগারে গিয়ে বই পড়তে পারেন। ছোট ছেলেমেয়েরা হবে অত্যন্ত উপকৃত।

তাছাড়া ড্রাইভার ও নিরাপত্তাকর্মীরাও বই পড়ার সুযোগ পাবেন। প্রতিটি বহুতল ভবনে যদি পাঠাগার থাকে, একটি জ্ঞান-আলোকিত সমাজ গঠনে তা খুব বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। বিষয়টি অ্যাপার্টমেন্টগুলোর মালিকদের ভেবে দেখতে সবিনয় অনুরোধ করছি।

এই পাঠাগার যদি হয় ইসলামিক পাঠাগার তাহলে এর ফলাফল নিয়ে একবার ভেবে দেখুন।

অ্যাপার্টমেন্টবাসীর যদি হাতের কাছে বই থাকে, তাহলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে উঠবে। সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে অনেক মা বাবা স্কুলের বাহিরে অলস সময় অতিবাহিত করেন। দাওয়াহ কিংবা ইসলাম প্রচারের জন্য এই সময়টাও একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

আমাদের দেশে ৩ লাখ মসজিদ আছে কিন্ত সেই অনুপাতে পাঠাগার নেই। এটা নিয়ে আমি অনেককে বেশ দুঃখ করতে দেখি কিন্ত এটা কি ইনারা জানেন কিনা যে আমাদের দেশে ১৯৮৫ সাল থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশান এর একটা কর্মসূচি আছে যে দেশের প্রতিটি মসজিদ এ একটি করে পাঠাগার করার।

কিন্ত সেটা তারা করতে পারছেন না কেননা আমাদের ইসলামিক ফাউন্ডেশান এর হাতে এত অর্থ বা রিসোর্স নেই। তো এখন আমরা যারা পাঠাগার পাঠাগার করে সারাদিন চিল্লাই , তাদের কি একবারও এটা মনে হয় না যে এক বা দুই শেলফ বই আমরা এই সমস্ত মসজিদে দান করি , এরফলে আমাদের দেশে প্রায় ৩ লক্ষ লাইব্রেরী গড়ে উঠবে, যেখানে শুধু কুরআন হাদিস ই নয়, ফিকহ, আইন, ইসলামী দর্শন এবং ইসলামিক ইতিহাস এর চর্চা করতে পারব আমরা, পড়তে পারি স্পিরিট অফ ইসলাম এবং মুসলিম বিজ্ঞানীদের লেখা বই, পড়তে পারি ইসলামে আসার গল্প নিয়ে বই এবং দাওয়াহ বই ।

আমাদের রসুল (সা) মসজিদ কে দারুল আরকাম বানিয়েছিলেন, অর্থ শিক্ষার গৃহ, আমরা কি সেটা করতে পারি না, আমরা কি আরেকটি আসহাবে সুফফা হতে পারিনা?

মসজিদ কে আমরা শুধু নামাজ এর সময় ব্যতিত বাকি সময় শুন্য করে রাখছি, অথচ কেয়ামত এর দিনে যাদের আরশ এর ছায়াতে অবস্থান হবে তাদের মাঝে বিশাল একটি অংশ থাকবে যাদের অন্তর সর্বদা মসজিদের প্রতি লটকানো থাকে।

শুধু তাই নয়, মসজিদ নিয়ে আরও পরিকল্পনা আছে ইসলামিক ফাউন্ডেশান এর আর সেটা আমি উল্লেখ করে দিচ্ছি।

১। ইসলামি জ্ঞান প্রতিযোগিতা.

২। মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা.

৩। মসজিদ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা.

৪। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলামি বুক ক্লাব প্রতিষ্ঠা.

৫। জেলা কার্যালয়ের পাঠাগার প্রতিষ্ঠা.

৬। জীবন ব্যাপি শিক্ষা পাঠাগার প্রতিষ্ঠা.

৭। স্বতন্ত্র মডেল পাঠাগার প্রতিষ্ঠা.

৮। বিভিন্ন ইসলামিক বিষয়ে সেমিনারি সিমপোজিয়াম ও আলোচনা সভা আয়োজন করা.

কানাডার প্রায় প্রতিটা মসজিদেই নিজস্ব পাঠাগার আছে। এখানকার মসজিদগুলো শুধু ইবাদতের জায়গা নয়, বরঞ্চ মুসলিম সমাজের সামাজিক কার্য্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু।

মন্ট্রিলের মসজিদগুলো বিভিন্ন সামাজিক সেবা দানের পাশাপাশি, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে যুব সমাজ এবং বয়স্কদের জন্য নানা ধরনের শিক্ষা কার্য্যক্রম পরিচালনা করা। বাচ্চাদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি – বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগীতার আয়োজন থাকে। আমাদের মসজিদে আমরা বড়দের জন্য সাপ্তাহিক ‘হালাকার পাশাপাশি – ক্লাসিক্যাল আরবী ভাষা শিক্ষার সুব্যবস্থা আছে। আর সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রতিনিধিত্বশীল মুসলিম যুব সমাজ গড়ে তোলার জন্য – গত নভেম্বর মাস থেকে মুসলিম ইয়্যুথ লিডারশীপ ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রমও শুরু করেছি। ইন-শা-আল্লাহ, আল্লাহ্‌ চাইলে একটা মুসলিম ইয়্যুথ ফাউণ্ডেশন গড়ার পরিকল্পনা আছে।

অমুসলিমদের জন্যও মসজিদে আয়োজন থাকে, যেমন ওপেন হাউজ, যাতে করে সবাই মুসলিমদের জীবনাচরন বিষয়ে, ইসলাম বিষয়ে জানার সুযোগ পান। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের সিম্পোজিয়ামতো থাকেই।

মসজিদের প্রবেশ কক্ষে বিপদাপন্ন মানুষের জন্য আছে ব্রেড বাস্কেট। সেখানে বিভিন্ন ধরনের খাবার প্রতিদিনই জমা থাকে। সালাত শেষে যে কেউ নিয়ে যেতে পারে। যাদের প্রয়োজন।

বিয়ে থেকে জানাযা – সব কাজের কেন্দ্রবিন্ধু হচ্ছে মসজিদ। শুক্রবারে কিছু ভাই বিশেষ খাবারে আয়োজনের মাধ্যমে ঈদের আমেজ নিয়ে আসেন, জুমার পরে। সুতরাং মোটামুটি বলা যায়, এখানকার মসজিদগুলো ১৪০০ বছর আগে রাসুল (সাঃ) এর জামানার মসজিদের খানিকটা হলেও প্রতিনিধিত্ব করে।

মসজিদ এমনই হওয়া উচিত। যেখানে সবাই সবাইকে চিনবে জানবে। একজন হঠাৎ অনুপস্থিত থাকলে বুঝবে – কোন সমস্যায় আছেন, তার খবর নিবেন। সত্যিকারের সামাজিক মূল্যবোধ আর ভাতৃত্বের বন্ধন গড়ে তুলতে, মসজিদ একটি চমৎকার সামাজিক যোগাযোগ কেন্দ্র হতে পারে।

(বিজ্ঞদের মতামত জানার দরকার)

From This Site

মতামত দিন