জিহাদ

শাইখ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ ও আবু শুহাইবের সাথে গুরুত্ববহ বিষয়ে কথোপকথন

আবু শুহাইব: আমি বসনিয়ার সমস্যা সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করতে চাই।

আলবানী: যি

আবু শুহাইব: আমি শুনেছি আপনি বলেছেন যেসব ভাই সেখানে যাচ্ছে তারা নিজেরা নিজেদের মধ্যেই জিহাদ করছে। তার মানে আপনি তাদের যেতে নিষেধ করেছেন?

আলবানী: যি ঠিকই শুনেছেন।

আবু শুহাইব: আচ্ছা, আপনি কি দেখছেন না যে তাদের সাহায্যের দরকার?

আলবানী: কেন? কেন দেখবো না? যাই হোক, তাদের যাওয়া কি মুসলিমের মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়ানোর জন্য, কোন উপকার আনতে না পারাটাই? কোথায় সে জিহাদের প্রস্তুতি যার সম্পর্কে কুরআনুল কারীমে নির্দেশ দেয়া হয়েছে?

আবু শুহাইব: যদি এখানে উপকার হয়?

আলবানী: আপনার যদি মনে হয় সেখানে উপকার হবে তাহলে যান। (হ্যালো, হ্যালো)

আবু শুহাইব: যি শুনছি।

আলবানী: আপনি বিশ্বাস করেন? (উপকার হবে)

আবু শুহাইব: হ্যাঁ।

আলবানী: কি উপকার?

আবু শুহাইব: সেখানে দুর্বল মুসলিমরা আছে।

আলবানী: ওহ ভাই, আমাকে সেখানের অবস্থা বলো না, বলো উপকারটা।

আবু শুহাইব: উপকার তাদের সাহায্য করে।

আলবানী: আল্লাহ তোমাকে হিদায়াত দিক, তাদের এখন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সাহায্য দরকার। কোন ব্যাক্তিগত সাহায্য নয়!! এ সমস্যা সমাধানের জন্য সেনাবাহিনী লাগবে, যার সাথর বর্তমান অস্ত্র লাগবে, ট্যাংক, জেট বিমান ইত্যাদি। এটা কি যে ব্যাক্তিগত সাহায্য? এগুলো সেই ট্যাংক ড্রোনগুলোর সামনে কি করবে? সুবহানআল্লাহ মুসলিম যুবকরা, তোমরা এসব সমস্যাগুলো দেখছেনা কেন, আমার একটা প্রাচীন আরবী উক্তি মনে পড়ে “মানুষ তার নাকে দুরত্ব পর্যন্তই দেখে”!! আমি বলি যদি সেখানে উপকার থাকে, আপনি বললেন তারা দুর্বল; ও আবা শুহাইব তুমি কি মনে করো যে তারা দুর্বল আর আমি জানি না বুঝি না? এবং তারা সংখ্যায় কম, জনে বলে; এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের সাহায্য হতে বিচ্ছিন্ন! এবং সে সব আমেরিকান দ্বারা নিপিরীত যারা ক্ষেত জমিও ধ্বংস করছে!!

আবু শুহাইব: যি।

আলবানী: তুমি কি এ সম্পর্কে জানো না?

আবু শুহাইব: যি।

আলবানী: তখন তুমি কিভাবে বললে যে সেখানে উপকার আছে? “উপকার” কি মুসলিমদের জান কবযে? ফালতু খেলার মতন? তুমি কি মনে করো বসনিয়ার জিহাদ কি ভালো হবে আফগানিস্তানের তুলনায়?

আবু শুহাইব: যি।

আলবানী: সেখানে কি হয়েছিলো? (আফগানিস্তানে)। ফলাফল ছিলো তেতো ফলের স্বাদের মতন এবং আমরা আমরাই ক্ষেত জমিন ধ্বংস করেছিলাম, কারন আমরা অনেক ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান মানি নি! তাই আমরা কখনোই বলি নক এ সম্পর্কে যত দুরের রাষ্ট্রই হোক না কেন। কারন মুসলিমরা।

আবু শুহাইব: যি।

আলবানী: এরপর মনে করো আল্লাহ বলেন “তোমাদের উপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদেরই কর্মফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গুনাহ ক্ষমা করে দেন। (৪২:৩০)! এবং আল্লাহর কাছে দুআ করি তিনি যেন আমাদের মুসলিম ভাইদের সকল ইসলামি সালসানাতে বিজয়ী করেন। তারপরও দুঃখের সাথে বলবো, আল্লাহ বলেন, “কিন্তু তুমি আল্লাহর দেখানো রাস্তায় কখনো পরিবর্তন দেখবে না, এবং কোন রদলবদলও দেখবে না।” “আল্লাহ কোন জাতির অবস্থান পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করে। আল্লাহ যখন কোন জাতির উপর বিপদ চান, তখন তা রদ হওয়ার নয় এবং তিনি ব্যাতিত তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।” তাই যদি আমরা চাই মুসলিম জনগনকে সাহায্য করতে; আমাদের অবশ্যই আমাদের ঘরে ইসলামের বিজয় আনতে হবে; এবং আমরা তা করছি না। এটার জন্য আমরা সকল ইসলামি রাষ্ট্রেই বিপদে পড়ছি; এটা দুর্ভাগ্য, যাই হোক আমরা আল্লাহর কাছে দুআ করি তাদেরকে যেনো আল্লাহ সত্যিকারের প্রতিজ্ঞা দেন। “আমি সাহায্য করবো রাসুলদের ও মুমিনদের পার্থিব জীবনে ও সাক্ষীদের দন্ডায়মান হওয়ার দিবসে।” (৪০:৫১)! এবং হাদীস, “সেখানে সবসময় একদল থাকবে আমার উম্মতদের মধ্যে যারা হক্ব পথে আছে, তারা ততক্ষন পর্যন্ত তাদের শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হবে না যতক্ষন না সময় এসে যায়।” তো আবা শুহাইব তুমি কি শুনেছো সব?

আবু শুহাইব: যি শাইখ, জাজাকাল্লাহু খাইরান।

আলবানী: ওয়া ইয়্যাক।

অনুবাদ করেছেন: আবু মুহাম্মাদ হুসাইন।

মতামত দিন