প্রশ্ন ও উত্তর সলাত

‘উমরী কাযা’ নামাযের বিধান

প্রশ্ন>-আমি শুনেছি “ওমরী কাজার” নামাজ নাকি পড়তে হয় না !! কেন পড়তে হয়না একটু বুঝিয়ে বলবেন কি ??

উত্তরঃ-“ওমরী কাজার” পদ্ধতি হলো নামাযকে কঠিন বোঝা বানিয়ে দেওয়া।

আমাদের দেশের নামধারী মুফতিদের ভ্রান্ত ফতোয়া হচ্ছে এই উমরী কাজার সিস্টেম।

উমরী কাজা হচ্ছে, সাবালক হওয়ার পর বছরের পর বছর ধরে তার যে নামাযগুলো মিস হয়েছে, সেগুলো পড়তে বলা। আর তারা একটা নিয়ম বানিয়েছে, প্রত্যেক ওয়ক্তের সাথে এক ওয়াক্ত অতিরিক্ত নামায পড়ার জন্য, অর্থাত যোহরে চার ওয়াক্ত ফরয পড়ে সে আরো চার রাকাত ফরয পড়বে কাযা হিসেবে – ৪ রাকাত ফরযের জায়গায় ৮ রাকাত ফরয বানিয়ে দিয়েছে – এভাবে সে যতবছর নামায কাযা করেছে তত বছর কন্টিনিউ করবে।

এই রকম“ওমরী কাজার” নামায কুরআন হাদীসের কোথাও বলা নাই।

হাদীস অনুযায়ী কেউ এক ওয়াক্ত, দুই ওয়াক্ত এভাবে সর্বোচ্চ ৫ ওয়াক্ত নামায ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় ছেড়ে দিলে কাযা করতে বলা হয়েছে। কিন্তু যে একেবারেই বেনামাযী ছিলো দিনের পর দিন সে তোওবা করে নিবে তার কুফুরী থেকে।

“ওমরী কাজা” এই নামাযতো দূরের কথা এই শব্দই নাই কুরান বা হাদীসে।

যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে নামায ছেড়ে দেয় তার ইমান থাকেনা। (আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ)।

যার ইমান থাকেনা তার আবার নামায কি?

অতএব, যে অতীতে এইরকম নামায ছেড়েছে – সে লজ্জিত হয়ে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তোওবা করবে, ভবিষ্যতে আর করবেনা এমন প্রতিজ্ঞা করবে, এটাই হচ্ছে তার নামায ছাড়ার জন্য করণীয় কাজ। আর নিয়মিত চেষ্টা ‘ফরয’ নামাযের পাশাপাশি চেষ্টা করবেন নিয়মিত নফল সুন্নত নামায আদায় করার জন্য। কারণ, কিয়ামতের দিন যার ফরয নামাযে ত্রুটি হবে নফল নামাযগুলো দিয়ে তা পূর্ণ করা হবে।

নবী (সাঃ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন লোকদের আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম তাদের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের মহান রব ফেরেশ্তাদের বান্দার নামায সম্পর্কে স্বয়ং জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও জিজ্ঞাসা করবেন। করবেন, দেখতো সে ফরয নামাযগুলো পূর্ণ রূপে আদায় করেছে না তাতে কোন ক্রটি আছে? অতঃপর বান্দার নামায পরিপূর্ণ হলে তা তদ্রুপই লেখা হবে। আর যদি তাতে কোন ক্রটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয়, তবে তিনি (রব) ফেরেশ্তাদের বলবেনঃ দেখতো আমার বান্দার কোন নফল নামায আছে কি? যদি থাকে তবে তিনি বলবেনঃ তোমরা তার নফল নামায দ্বারা তার ফরয নামাযের ক্রটি দূর কর। অতঃপর এইরূপে সমস্ত ফরয আমলের ক্রটি নফল দ্বারা দূরীভূত করা হবে। (সুনানে আবু দাউদঃ ৮৬৪, তিরমিযীঃ ৪১৩, ইবনে মাজাহঃ ১৪২৫)

হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন ইমাম তিরমিযী, ইমাম হাকেম ও শায়খ আলবানী।

যে কারণে যারা আগে বেনামাযী ছিলো তারা উমুরী কাজা পড়বেন নাঃ

১. শরীয়তে দলীল ছাড়া কোনো আমল গ্রহনযোগ্য নয়। অনিচ্ছাকৃত সর্বোচ্চ ৫ ওয়াক্ত নামায কাজা পড়ার কথা হাদীসে আছে – সেটা দলীল সম্মত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ইচ্ছাকৃত নামায কাযা পড়ার কোনো দলীল নাই।

২. যে নামাযে পড়েনা তারতো ঈমানই নাই – তার আবার কিসের নামায? কাফেরের উপর আগে ঈমান আনা ফরয, ঈমান আনলে তার উপর নামায পড়া ফরয হয়।

৩. এইজন্য সঠিক মত হচ্ছে বেনামাযী তোওবা করবে, অতীতের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে নিয়মিত মাফ চাইবে। আর নফল সুন্নত নামাযের পাবন্দী হবে।

৪. কিন্তু উমুরী কাজা বা প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাযের সাথে অতীতের একদিনের নামায কাযা পড়ার সিস্টেম – দলীল বহির্ভুত একটা নব আবিষ্কৃত বেদাত। এটা থেকে দূরে থাকাই কর্তব্য।

আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝার তাওফিক দিন।

আমাদের জন্য নামায কায়েম করা সহজ করে দিন।

আমাদেরকে নামাযী সালেহীন অবস্থায় মৃত্যুদান করুন, আমীন।

***শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদি

মতামত দিন