ইসলাম গ্রহণের গল্প তাবলীগ

আমি কেন নিজেকে ইসলাম ধর্মে বহাল রাখলাম?

শিরোনাম দেখে অনেকে হয়তো ভাবছেন আমি আবার নও মুসলিম কিনা! না, আমি জন্মগতভাবে মুসলিম পরিবারের সন্তান। তবে আমি এটা বিশ্বাস করি যে, জন্মগতভাবে মুসলিম হলেই সে প্রকৃত মুসলিম হতে পারে না। অনেকে আছে যারা জন্মগতভাবে মুসলিম অথচ সে ইসলামের ঈশ্বর ধারণা সম্পর্কে অবগত নয়। যে নিজেকে মহান আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করে সেই প্রকৃত মুসলিম। আরবের কাফেররাও বিশ্বাস করতো যে, একজন ঈশ্বর আল্লাহ আছেন। কিন্তু তারা তাকে ইবাদতের যোগ্য ইলাহ হিসেবে মানত না।

আল্লাহ বলেন- “অধিকাংশ লোক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা স্বত্তেও মুশরিক।” (সূরা ইউসূফঃ ১০৬)

অর্থ্যাৎ ঈমান আনা স্বত্তেও তারা মুশরিক যারা আল্লাহর সাথে শরিক করে। একজন মুসলিম নামধারী আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহমান ইত্যাদি নাম বহন করলেই সে মুসলিম হয়ে যায় না। তার ভিতরে ঈমান, শিরক এবং আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা লাগবে, তার প্রয়োগ থাকা লাগবে।

প্রত্যেক মানবশিশুই মুসলিম হিসেবে জন্মগ্রহণ করে কিন্তু তাকে পথভ্রষ্ট করে তার মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন। প্রত্যেক মানুষেরই উচিত তার ধর্ম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা। এবং সত্য মিথ্যার যাচাই করা। এতে একজন মুসলিম ইসলাম সম্পর্কে, হিন্দু হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

পৃথিবীতে একটি একক ধর্ম থাকায় যুক্তিযুক্ত।এতে বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব বজায় থাকবে এবং পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। ইসলামই হলো সেই একমাত্র জীবন ব্যবস্থা।এটাই মহান আল্লহর মনোনীত একমাত্র জীবন ব্যবস্থা।পৃথিবীর শুরুতে হযরত আদম আঃ এর সময়ে থেকে একটিই ধর্ম ছিল, আর তা হলো ইসলাম।

আল্লাহ পৃথিবীতে নবী-রাসূল পাঠাতেন তাওহীদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য। সকল নবী রাসূলের শিক্ষা একই ছিল। তাদের নিকট হেদায়েতের বাণী আসত, তারা তা মানুষের নিকট প্রচার করতো। তাদের অবর্তমানে মানুষরা ধর্মে নতুন বিষয় সংযোজন করেছে, বাদ দিয়েছে। ফলে ধর্মের মূল শিক্ষা পরিবর্তিত হতে হতে এই পৃথিবীতে বিভিন্ন ধর্মের জন্ম হয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীতে যে ধর্মগুলো আছে সবই ইসলাম ধর্মের বিকৃত রুপ। যেমন মুসা আঃ এর অনুসারীরা তার অবর্তমানে গোবৎস পূজা শুরু করেছিল।আর খ্রিষ্টধর্ম হলো সেইন্ট পলের সৃষ্ট ধর্ম। Trinity বা ত্রিতত্ত্ববাদই প্রমাণ করে যে, খ্রিষ্টধর্ম ঈশ্বর প্রদত্ত ধর্ম নয়।

প্রথমে আমি নিজেকে প্রশ্ন করি যে, পৃথিবীতে প্রকৃত ধর্ম কোনটি?

এ প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য আমার মনে হলো যে, আমাকে প্রত্যেক ধর্মের মূলনীতি সম্পর্কে জানতে হবে। কুরআন এ সম্পর্কে একটি মহামূল্যবান উপদেশ দান করেছে। কুরআনে আছেঃ “এসো সেই কথায় যা আমাদের এবং তোমাদের মধ্যে এক।”

আমাদের প্রত্যেক ধর্মের মৌলিক বক্তব্যের দিকে যেতে হবে, তাহলেই আমরা জানতে পারব প্রকৃত ধর্ম শিক্ষা পৃথিবীতে কি ছিল? আর এজন্য আমি গেলাম প্রত্যেক ধর্মের ধর্মগ্রন্ধের নিকট। এর মাধ্যমে আমি জানতে পারলাম প্রত্যেকটি ধর্মের ধর্মগ্রন্ধের আলোকে ঈশ্বর ধারণা কি?

ইসলাম ধর্মঃ ইসলাম ধর্মাবল্বমীরা একক স্রষ্টা আল্লাহ কে ইবাদতের যোগ্য স্রষ্টা হিসেবে এবং মহানবী সাঃ কে আল্লাহ প্রেরীত রাসূল হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্ধ কুরআন কি বলে আসুন দেখিঃ

সূরা ইখলাস, আয়াত নং: 1 – বলুন, তিনি আল্লাহ, এক

সূরা ইখলাস, আয়াত নং:2 – আল্লাহ অমুখাপেক্ষী।

সূরা ইখলাস, আয়াত নং: 3 – তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি।

সূরা ইখলাস,  আয়াত নং: 4 – এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।

সূরা আল ইমরান: 2 – আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক।

সূরা আল আহযাব: 40 – মুহাম্মদ তোমাদের কোন ব্যক্তির পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ সব বিষয়ে জ্ঞাত।

হিন্দুধর্মঃ

হিন্দুধর্মাবলম্বীরা বহু ঈশ্বরবাদে বিশ্বাসী।তারা ঈশ্বরকে আকৃতি দিয়ে তার পূজা করে। কোনো হিন্দু তিন ঈশ্বরে বিশ্বাস করে আবার কেউ কেউ ৩৩ কোটি ঈশ্বরের পূজা করে। তাদের মতে সবই স্রষ্টা।এর পরে আমি গেলাম হিন্দু ধর্মগ্রন্ধ গুলোর দিকে ঈশ্বরের ধারণা জানার জন্য। সেখানে আমি হিন্দুদের বিশ্বাসের ঠিক উল্টো বিষয়ই লক্ষ করলাম

ছান্দগ্য উপনিষদ:6:(1-2) – স্রষ্টা মাত্র একজনই।দ্বিতীয় কেউ নেই।

শ্বেতাপত্র উপনিষদ:6:9 – তাঁর(ইশ্বরের) কোনো বাবা মা নেই,তার কোনো প্রভু নেই,সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কোনো বাবা নেই,তাঁর কোনো মা নেই তাঁর চেয়ে বড় আর কেউ নেই।

শ্বেতাসত্র উপনিষদ :4:19 – সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কোনো প্রতিমা নেই, কোনো প্রতিমূর্তি নেই, কোনো প্রতিকৃতি নেই, কোনো রুপক নেই, তাঁর কোনো ভাস্কর্য নেই।

শ্বেতাসত্র উপনিষদ:4:20 – ঈশ্বরকে কেউ দেখতে পারে না।

ভগবদগীতা :7:20 – সেসব লোক যাদের বিচারবুদ্ধি কেড়ে নিয়েছে জাগতিক আকাঙ্ক্ষা, তারাই মূর্তিপূজা করে।”

ভগবদগীতা :10:3 – লোক জানে আমি কখনো জন্মায় নি, কখনো উদ্ভূত হই নি, আমি এ বিশ্ব জগতের সর্বময় প্রভু।

যযুর্বেদ:32:3 – সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কোনো মূর্তি নেই।

যযুর্বেদ:80:3 – সর্বশক্তিমান ঈশ্বর নিরাকার ও পবিত্র।

‘একমেবা দ্বিতীয়াম’ হল হিন্দু ধর্মের মূলমন্ত্র। হিন্দু ধর্মে বলা হয়েছে ‘ইল্লাহ কবর ইল্লা ইল্লাল্লোত ইল্লাল্লাং’

অর্থঃ পৃথিবী ও অন্তরীক্ষস্থ সূক্ষ্ম পদার্থের স্রষ্টা আল্লাহ। আল্লাহ পুণ্যবানদের প্রভু, একমাত্র আল্লাহকেই আল্লাহ বলে আহবান কর।

অল্লোপনিষদ:7 – হোতার মিন্দ্রো হোতার মিন্দ্রো মহাসুরিন্দ্রাঃ । অল্লো জ্যেষ্ঠং শ্রেষ্ঠং পরমং পূর্ণং ব্যক্ষণং অল্লাম।অল্লো রসূল মহামদ রকং বরস্য অল্লো অল্লাম। আদল্লাং বুকমেকং অল্লাবুকংল্লান লিখার্তকম।”

অর্থঃ “দেবাতাদের রাজা আল্লাহ আদি ও সকলের বড় ইন্দ্রের শুরু। আল্লাহ পূর্ণ ব্রক্ষ্মা; মোহাম্মদ আল্লাহর রুসূল পরম বরনীয়, আল্লাহই আল্লাহ। তাঁর
অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ আর কেহ নেই। আল্লাহ অক্ষয়, অব্যয়, স্বয়ম্ভু।”

হিন্দুধর্মগ্রন্থও এক ঈশ্বর তথা আল্লহ এবং শেষ নবী সাঃ এর কথা বলে। আমি মনে করি প্রত্যেক হিন্দুর উচিত বহু ঈশ্বরবাদের নীতিকে অস্বীকার করে স্রষ্টার একত্ববাদে বিশ্বাস করা এবং মহানবী সাঃ কে স্রষ্টার শেষ অবতার তথা শেষ নবী হিসেবে মেনে নেওয়া।

খ্রিষ্টধর্মঃ

খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করে যে, যীশু তাদের পাপের নিয়ে গেছে। মানুষের পাপের জন্য ক্রুশবিদ্ধ হয়ে প্রাশচিত্ত করেছে। কিন্তু এমন কথা আমি বাইবেলে কোথাও পেলাম না। আর একটা সোজা লজিক আমার ভিতরে কাজ করল, যদি যীশু ঈশ্বরই হবেন তাহলে পাপ মোচনের জন্য তার মৃত্যুবরণের কি দরকার? তার পরে আমি Trinity সম্পর্কে জানলাম। যে তত্ত্বকে আমার নিঃসন্দেহে মানুষের সৃষ্টি বলে মনে হলো। আমি যুক্তি দিয়ে Trinity তত্ত্বকে বাতিল করে দিলাম।

দেখুনঃ
Trinity বা ত্রিতত্ত্ব কি প্রকৃত ঈশ্বর ধারণা হতে পারে?

এরপর আমি বাইবেলের নিকট গেলাম বাইবেলে ঈশ্বর ধারণা সম্পর্কে জানতেঃ

Mark:12:29 – And Jesus answered him, The first of all the commandments is, Hear, O Israel; The Lord our God is one Lord.

মার্ক:12:29 – যীশু উত্তর করিলেন, প্রথমটি এই, “হে ইস্রায়েল, শুন; আমাদের ঈশ্বর প্রভু একই প্রভু।”

John:14:28 – My father is greater than I.

John:14:28 – আমার পিতা আমার চেয়ে মহান।

John:16:29 – My father is greater than all.

John:16:29 – আমার পিতা সকলের চেয়ে মহান।

John:17:3 – And this is life eternal, that they might know thee the only true God, and Jesus Christ, whom thou hast sent.

John:17:3 – আর ইহাই অনন্ত জীবন যে, তাহারা তোমাকে, একমাত্র সত্যময় ঈশ্বরকে, এবং তুমি যাঁহাকে পাঠাইয়াছ, তাহাকে যীশু খ্রীষ্টকে, জানিতে পায়।

এর মাধ্যমে আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, যীশু খ্রিষ্ট নিজেকে ঈশ্বর বলেন নি বরং তিনি ঈশ্বরের একত্ববাদেরই প্রচার করেছেন। তারপর আমি দেখলাম বাইবেলে নবী সাঃ এর কথা কোথাও বলা আছে কিনা?শীঘ্রই সত্য আমার সামনে আসলোঃ

জেন্দা আবেস্তা, প্রথম পর্ব : পৃষ্টা-160- আমি ঘোষণা করিতেছি, হে স্পিতাম জরথুষ্ট্র, ‘আহমদ’ নিশ্চয়ই আসিবেন যাঁহার নিকট হইতে তোমরা সৎ চিন্তু, সৎ বাক্য, সৎকার্য এবং বিশুদ্ধ ধর্ম লাভ করিবে।

তাছাড়া https://en.m.wikipedia.org/wiki/Gospel_of_Barnabas এ নবী সাঃ এর অনেক ভবিষ্যত্ব বাণী রয়েছে।

আমি তখন বুঝলাম যীশু প্রকৃতপক্ষেই ঈসা আঃ ছিলেন। তিনি এক আল্লহর একত্ববাদের প্রচার করেছেন। কিন্তু খ্রিষ্টানরা তার শিক্ষাকে বিকৃত করে পথভ্রষ্ট হয়েছে।বর্তমানে খ্রিষ্টান ধর্ম হলো ইসলাম ধর্মের বিকৃত রুপ। আর এজন্য আমি খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করলাম না।

বৌদ্ধধর্মঃ

বৌদ্ধ ধর্মে জীব প্রেমই প্রকৃত ধর্ম।এখানে মূলত কোনো ঈশ্বর চেতনা নেই। কিন্তু বৌদ্ধরা গৌতম বুদ্ধের পূজা করে। কিন্তু গৌতম বুদ্ধ কি ঈশ্বর হওয়ার মতো সেই আদর্শ রাখে?

দেখুনঃ
গৌতম বুদ্ধ কি মানবজাতির আদর্শ হতে পারে?

তারপরও বৌদ্ধ ধর্মে মহানবী সাঃ এর ভবিষ্যত্ব বাণী রয়েছেঃ

ভিক্ষু আনন্দ সিদ্ধার্থ গৌতম বুদ্ধকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, “আপনার মৃত্যুর পর কে আমাদেরকে উপদেশ দেবে?” আনন্দের প্রশ্নের জবাবে সিদ্ধার্থ গৌতম বুদ্ধ বললেনঃ”আমিই একমাত্র বুদ্ধ বা শেষ বুদ্ধ নই। যথাসময়ে আর একজন বুদ্ধ আসবেন-আমার চেয়েও তিনি পবিত্র ও অধিকতর আলোকপ্রাপ্ত…তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্মমত প্রচার করবেন।”
ভিক্ষু আনন্দ জিজ্ঞেস করলেনঃ”তাঁকে আমরা কিভাবে চিনতে পারবো?”
বুদ্ধ বললেনঃ “তাঁর নাম হবে মৈত্রেয় ।”
বৌদ্ধ ধর্মের ‘দিঘা নিকারা’ তে মুহাম্মদ (স) সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ
“মানুষ যখন গৌতম বুদ্ধের ধর্ম ভুলিয়া যাইবে তখন আর একজন বুদ্ধ আসবেন, তাঁহার নাম মৈত্রিয়।
অর্থাৎ শান্তি ও করুণার বুদ্ধ।”

এখানে মৈত্রেয় শব্দ দ্বারা বুঝায় শান্তি বা করুণার আধার। আর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন রাহমাতুল্লিল আলামীন অর্থাৎ বিশ্বের রহমত স্বরুপ, আশীর্বাদ স্বরুপ। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআন শরীফে আল্লাহ পাক এরশাদ করলেনঃ”আমি (আল্লাহ্) তো তোমাকে (হয়রত মুহাম্মদ সাঃ) বিশ্বের জন্য আশীর্বাদ হিসাবে পাঠিয়েছি।”

আমার কাছে স্পষ্ট হলো যে, বৌদ্ধধর্মও বিকৃত অবস্থায় রয়েছে।।আর এ কারণেই আমি বৌদ্ধধর্মও গ্রহণ করলাম না।

ইহুদি ধর্মঃ

ইহুদি ধর্মেও দেখলাম স্রষ্টার একত্ববাদের কথা বলে।

যিশাইয়:43:11 – আমি, আমিই সদাপ্রভূ; আমি ভিন্ন আর ত্রাণকর্তা নাই।

যিশাইয়:45:5 – আমিই সদাপ্রভূ, আর কেহ নয়; আমি ব্যতিত অন্য ঈশ্বর নাই; তুমি আমাকে না জানিলেও আমি তোমার কটি বন্ধ করিব।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যে হেরা (যার বর্তমান নাম জাবালে নূর অর্থাত্ আলোর পাহাড়) পর্বতে আসিবেন সে সম্পর্কে বাইবেলের পুরাতন সংস্করণের (ওল্ড
টেষ্টামেন্ট) দ্বিতীয় বিবরণে উল্লেখ আছেঃ “সদা প্রভু সীনয় হইতে আসিলেন, সেয়ীর হইতে তাহাদের প্রতি উদয় হইলেন, পারন পর্বত হইতে আপন তেজ প্রকাশ করিলেন।” সূত্রঃ দ্বিতীয় বিবরণ 33:2

সীনয় = এখানে, ‘সীনয়’ বলতে সিনাই অবস্থিত তুর পর্বতের কথা বলা হয়েছে। এই তুর পর্বতেই হযরত মূসা (আঃ) নবুয়্যত প্রাপ্ত হন।
সেয়ীর =’সেয়ীর’ পর্বতে হযরত ঈসা (আঃ) নবুয়্যত প্রাপ্ত হন।
পারন =’পারন’ বলতে হেরা (আরবীতে) পর্বতকে বোঝানো হয়েছে। আর এই মহমান্বিত পর্বতে হযরত মুহাম্মদ সাঃ নবুয়্যত প্রাপ্ত হন।

ইহুদি ধর্মগ্রন্ধও এক ঈশ্বর ও নবী সাঃ এর কথা বলে। যার ফলে আমি জানতে পারলাম ইসলামই একমাত্র ধর্ম।এটাই পৃথিবীর আদি ধর্ম। বাকি ধর্মগুলো ইসলামের অপভ্রংশ।শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে মানুষের মধ্যে স্রষ্টা সম্পর্কে ভুল ধারণা সৃষ্টি হয় এবং তারা শিরকে লিপ্ত হয়। তাই প্রত্যেক ধর্মের মানুষের উচিত শাখা ধর্মগুলো বাদ দিয়ে মূল ধর্মের দিকে আসা।এতেই পৃথিবীতে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি হবে।

নাস্তিকতাঃ

সবশেষে আমি গেলাম নাস্তিকতার দিকে। এরা নিজেদের মুক্তমনা ও যুক্তিবাদী বলে দাবি করে। কিন্তু এরা ধর্ম সম্পর্কে মুর্খই বলা যায়। এদের গুরু হলো অভিজিৎ রায়, আরজ আলী মাতুব্বর, হুমায়ুন আজাদ ও তসলিমা নাসরিনের মতো ইসলামের সমালোচকরা। একজন অমুসলিম মানেই ইসলামের সমালোচক নয় কিন্তু একজন নাস্তিক মানেই ইসলামের সমালোচক। নাস্তিকদের চিন্তাভাবনা খুবই সংকীর্ণ মনা।

তাদের সম্পর্কে জানতে নিচের লেখাগুলো পড়ুনঃ

আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ ও নাস্তিকতার বিদায়

নাস্তিকদের নিয়ে কিছু কথা ও একটি সহজ চ্যালেজ্ঞ

নাস্তিকতা ও বিজ্ঞানঃএক অবশ্যম্ভাবী সংঘাত

নাস্তিকতার বাস্তবতা

নাস্তিকদের মূল হাতিয়ার হলো বিবর্তনবাদ এবং শূন্য হতে মহাবিশ্ব সৃষ্টি তত্ত্ব। বিবর্তনবাদ এখনো পূর্ণাঙ্গ তত্ত্ব নয়।প্রতি নিয়ত এর সংযোজন অপসারণ হচ্ছে।যেদিন এ তত্ত্ব স্থিতি রুপ লাখ করবে সেদিন আমরা এ তত্ত্ব বিশ্বাস করব,তার আগে নয়।

নিচের পোস্টটি পড়ুনঃ

আর বিবর্তনবাদের প্রবর্তক ডারউইন নিজেও নাস্তিক ছিলেন না।

দেখুনঃ

পরবর্তীতে তাদের আরেকটি যুক্তি হলো শূন্য থেকে মহাবিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্ব। এ নিয়ে আমার নিচের লেখাটি পড়ুনঃ কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন এবং ইসলাম তাছাড়া নাস্তিকরা অনেক মিথ্যাচার করে ইসলাম নিয়ে। যার জবাব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমি এবং অনেক দ্বীনি ভাই দিচ্ছে। আর আমি দেখিয়েছি যে, প্রকৃত ধর্মই এক ঈশ্বর ও নবী সাঃ এর কথা বলে। আল্লাহ অনেক নবী রাসূল পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তারা সকলেই তাওহীদের বাণী প্রচার করত। এতগুলো ধর্মের মৌলিক বাক্যগুলি এবং সকল নবী রাসূলের মধ্যে যদি একজন সত্য কথা বলে তাহলেই পৃথিবীতে ধর্ম প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। কিন্তু এতগুলো প্রমাণকে মিথ্যা বলায় হলো অন্ধবিশ্বাস।

ঠিক এ কারণেই আমি নিজেকে ইসলাম ধর্মে বহাল রাখলাম। আমার আস্তিকতায় প্রমাণ করে আমি যুক্তিবাদী, অন্ধবিশ্বাসী নই।

উৎসঃ ফেসবুক

মতামত দিন