ইসলামের ইতিহাস

কেমন আছেন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানরা!

মিয়ানমারের আরাকানে (বর্তমানে রাখাইন প্রদেশ) হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসলমানদের বাস। ওই অঞ্চলে নৃতাত্ত্বিক ও স্থানীয় কিছু ঐতিহ্যের কারণে তারাই রোহিঙ্গা নামে খ্যাত। কিন্তু আরাকানে মুসলিম নিধন ও নির্যাতন অনেক পুরানো একটি বিষয়। গত পৌনে এক শতাব্দীকালে এই নির্যাতনের মাত্রা অনেক বেড়েছে।
.
মিয়ানমারের আরাকানে (বর্তমানে রাখাইন প্রদেশ) হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসলমানদের বাস। ওই অঞ্চলে নৃতাত্ত্বিক ও স্থানীয় কিছু ঐতিহ্যের কারণে তারাই রোহিঙ্গা নামে খ্যাত। কিন্তু আরাকানে মুসলিম নিধন ও নির্যাতন অনেক পুরানো একটি বিষয়। গত পৌনে এক শতাব্দীকালে এই নির্যাতনের মাত্রা অনেক বেড়েছে।

১৯৩৭ থেকে ২০১২ পর্যন্ত মুসলিমদের টার্গেট করে শতাধিক ছোট-বড় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, সহিংসতা ও সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। এ কারণে বহু রোহিঙ্গা স্বদেশত্যাগে বাধ্য হয়। ব্যাপক নিপীড়নের শিকার হয়ে ১৯৭৮ ও ১৯৯১ সালে শরণার্থী হিসেবে ৩০ হাজার রোহিঙ্গা এদেশে আসে এবং শরণার্থী শিবিরে বসবাস করে। তবে বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা পাঁচ লাখের কাছাকাছি।
.
রোহিঙ্গাদের বিষয়ে মিয়ানমারের ভেতরের চিত্রও সর্বাত্মক হতাশাজনক। সেখানে তাদের নাগরিকত্বই নেই। বিবাহ, সন্তানধারণ, লেখাপড়া, ব্যবসা-বাণিজ্য, রোহিঙ্গাদের সবকিছুতেই সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও খবরদারি চলে। কিছুদিন পরপর তথাকথিত নিরীহ জাতি বৌদ্ধরা তাদের কচুকাটা করে। কিন্তু সারা বিশ্ব নীরব। ‘টু’ শব্দ নেই তথাকথিত মানবাধিকারের ফেরিওয়ালাদের। এমনকি মুসলিম বিশ্বও তাদের নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামায় না। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা যখন মুসলিম নিধনে সর্বশক্তি নিয়োগ করে তখন আমাদের সরকার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ‘জিহাদ’ ঘোষণা দেয়। আশেপাশের কোনো দেশে আশ্রয় পায় না রোহিঙ্গারা। পৃথিবী যেমন তাদের কাছে সঙ্কীর্ণ।
.
জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের ‘বিশ্বের অন্যতম নির্যাতিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০১৩ সালের জুনের দাঙ্গার সময় বড় কয়েকটি দেশ ও জাতিসংঘ বাংলাদেশের প্রতি বারবার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার আহ্বান জানালেও মিয়ানমার সরকারের ওপর কোনো চাপ দেয়নি। গণতন্ত্রের নেত্রী অং সান সূ চি এবং তার অনুসারীদের কেউ-ই রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার ও নিরাপত্তার পক্ষে কথা বলতে রাজি হননি।
.
সারাবিশ্বে ৫৭টি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ থাকা সত্ত্বেও মুসলিমদের গণহত্যা থেকে রক্ষা করতে কোনো সম্মেলন হয় না। রোহিঙ্গা মুসলমানদের ‘অপরাধ’ তারা মুসলমান। তবে তাদের দুর্ভাগ্য, মুসলমান নামধারীদের কাছ থেকেও তারা সুবিচার পাচ্ছে না।
.
‪#‎দেশে_দেশে_ইসলাম‬
‪#‎দেশে_দেশে_ইসলাম_ও_মুসলিম‬

মতামত দিন