শিরক

শিরক ও তা থেকে বেঁচে থাকা অত্যাবশক

সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য । যিনি এক এবং অদ্বিতীয় এবং সকল সৃষ্টি জগতের অধিপতি । দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক শেষ নবী প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর । শিরক সম্পর্কে জানা ও তা থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মানুষের জন্য অত্যাবশক, আর একজন মুসলিমের জন্য এটা বেশি জরুরি ।

১৪০০ বছর পূর্বে আল্লাহ রব্বুল আলামীন প্রেরিত রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ) নেতৃত্বে তৎকালীন আরব সমাজে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন শিরক ও কুফুরীর বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল তা আজও মুসলিম জাতির জন্য প্রেরণা ও শিক্ষার উৎস । মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন অতিশয় দয়ালু যে দয়ার কোন সীমা নির্ধারণ করা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব না । সেই মহান আল্লাহ সুব’হানু ওয়া তা’আলা বিচার দিবসে সকল গুনাহ কেই ক্ষমা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি করেছেন কিন্তু শর্ত একটাই তার সাথে কাউকে শরীক বা অংশীদার করা যাবে না , সমস্ত ইবাদাত কেবল মাত্র আল্লাহর জন্য ই হতে হবে অন্য কারো জন্য নয়।

আর তা যদি মানুষ না করতে পারে তাহলে তার কোন সৎ আমল ই সেদিন বিচার দিবসে কাজে আসবে না । মহান আল্লাহ বলেন,

إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ ۖ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ

অর্থাৎ, “নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করেছেন এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম ।” (সূরা মায়িদাহঃ৭২)

মহান আল্লাহ আরো বলেন,

وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ

অর্থাৎ, “তোমার প্রতি, তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই ওহী হয়েছে; তুমি আল্লাহর শরীক স্থির করলে তোমার কাজ নিস্ফল হবে এবং তুমি হবে ক্ষতিগ্রস্ত ।”

সুতরাং আমাদের মুসলিম হিসেবে শিরক সম্পর্কে জানা প্রয়োজন, নিজেকে এ সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন এবং অন্যকেও সচেতন করা প্রয়োজন । আর প্রয়োজন শিরক থেকে বেঁচে থাকার উপায় জানা ।

শিরকের প্রকারভেদঃ

ইতিমধ্যেই আমরা জেনেছি যে, শিরক হচ্ছে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক বা অংশীস্থাপন করা ।

আরো সহজভাবে বলতে গেলে বলতে হয়, বিভিন্ন প্রকার ইবাদাতে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা বা অংশীস্থাপন করা । আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে ফরিয়াদ করা, অন্য কারো নামে যবেহ করা, পীর-বুজুর্গ বা কোন মৃত ব্যক্তির নামে কিছু চেয়ে মানত করা সহ আরো বেশ কিছু কাজ ।

শিরক দুই প্রকার ।

(১) শিরকে আকবার বা বড় শিরক ।

(২) শিরকে আসগার ছোট শিরক ।

শিরকে আকবার বা বড় শিরকঃ কোন মানুষ শিরকে আকবার বা বড় শিরক করলে সে ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায়, সে আর মুসলিম থাকে না । কাফের হয়ে যায় । আর আল্লাহ আল কুর’আনে বলেছেন এরা চিরস্থায়ী জাহান্নামী ।

মহান আল্লাহ বলেন,

وَسِيقَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِلَىٰ جَهَنَّمَ زُمَرًا ۖ حَتَّىٰ إِذَا جَاءُوهَا فُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِنْكُمْ يَتْلُونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِ رَبِّكُمْ وَيُنْذِرُونَكُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَٰذَا ۚ قَالُوا بَلَىٰ وَلَٰكِنْ حَقَّتْ كَلِمَةُ الْعَذَابِ عَلَى الْكَافِرِينَ

অর্থাৎ,“কাফেরদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকিয়ে নেয়া হবে। তারা যখন সেখানে পৌছাবে, তখন তার দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে নবী আসেনি, যারা তোমাদের কাছে তোমাদের পালনকর্তার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করত এবং সতর্ক করত এ দিনের সাক্ষাতের ব্যাপারে? তারা বলবে, হ্যাঁ, কিন্তু কাফেরদের প্রতি শাস্তির হুকুমই বাস্তবায়িত হয়েছে ।” (সূরা যুমার ৭১)

قِيلَ ادْخُلُوا أَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا ۖ فَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِّرِينَ

অর্থাৎ, “বলা হবে, তোমরা জাহান্নামের দরজা দিয়ে প্রবেশ কর, সেখানে চিরকাল অবস্থানের জন্যে। কত নিকৃষ্ট অহংকারীদের আবাসস্থল ।” (সূরা যুমার ৭২)

এবার আমরা জেনে নেই বড় শিরকগুলো কি কি ।

১ । আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে দু’আ করা এবং আল্লাহ ব্যতীত কাউকে সেজদাহ করা বা মাথা নত করা ।

২। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে কুরবানী ।

৩। কবর, জিন, শয়তানের নামে মানত করা ।

অর্থাৎ, মৃত ব্যক্তিরা কোন উপকার করতে পারে বা ক্ষতি করতে পারে এমন বিশ্বাস করা । জিন, শয়তান ক্ষতি করতে পারে বা তাদের অসুস্থ করতে পারে এমন চিন্তা করে করে জিন, শয়তান কে ভয় করা এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে কোন কিছু আশা করা, চাওয়া।

৪। আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ বিপদ মুক্ত করতে পারে বা প্রয়োজন মিটাতে এমন বিশ্বাস করা ।

৫। বৈধ অসীলা ব্যতীত মূর্তি, মৃত ব্যক্তি ,ফেরেশতা,নবী-রাসূলগণ(আঃ) এর অসীলায় দু’আ করা ।

[পাঠকদের জ্ঞাতার্থে দু’আ করার বৈধ অসীলা সমূহঃ

যেসব অসীলায় দু’আ করা বৈধ , সেগুলো হল, আল্লাহর গুণবাচক নামের অসীলায় আল্লাহর কাছে দু’আ করা । এই প্রসঙ্গে তিরমিযী তে হাসান সনদে হাদীছ রয়েছে । নিজের নেক বা ভাল আমলের অসীলায় আল্লাহর কাছে দু’আ করা বৈধ , এই প্রসঙ্গে সহীহ মুসলিমে গুহায় আটকে পড়া তিন ব্যক্তির কথা বর্ণিত হয়েছে । জীবিত সৎ পরহেজগার ব্যক্তির কাছে গিয়ে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তির জন্য দু’আ করা বৈধ । নবী(ﷺ) এর মৃত্যুর পর উমর রাঃ কতৃক আব্বাস রাদিয়াল্লাহ আনহু এর নিকট বৃষ্টির জন্য দু’আ করতে বলা। (বুখারী, আস-সহীহ ১/৩৪২, ৩/১৩৬০) ]

উপরে উল্লেখিত বিষয়াদি সবকিছুই বড় শিরকের অন্তর্ভূক্ত । যে বা যারা এইকাজগুলো করবে তারা সকলেই ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে বা বের হয়ে যাবে ।

এখন আমরা দেখব উপরের প্রত্যেকটি পয়েন্টের বিপরীতে মহান আল্লাহ সুব’হানু ওয়া তা’আলা আল কুর’আনে কি বলেছেন ,

وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَٰؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ ۚ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللَّهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ ۚ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ

অর্থাৎ, “আর উপাসনা করে আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন বস্তুর, যা না তাদের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারে, না লাভ এবং বলে, এরা তো আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী। তুমি বল, তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয়ে অবহিত করছ, যে সম্পর্কে তিনি অবহিত নন আসমান ও যমীনের মাঝে ? তিনি পুতঃপবিত্র ও মহান সে সমস্ত থেকে যাকে তোমরা শরীক করছ।” (সূরা ইউনুস আয়াত ১৮)

সুতরাং এ থেকে প্রতিয়মান যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদাত করা যাবে না ।

আল কুর’আনে মহান আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আমাদের প্রার্থনা, কুর’বানী, জীবন-মরণ সব কিছু ই যেন আল্লাহর জন্য হয় ,

قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

অর্থাৎ, “বল, ‘নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু আল্লাহর জন্য, যিনি সকল সৃষ্টির রব”। (সূরা আন’আম ১৬২)

অতএব, আমরা আমাদের সালাত(নামায) আদায় করব, কুর’বানী করব একমাত্র আল্লাহর জন্য আর কারো জন্য নয় ।

وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ ۖ وَإِنْ يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَادَّ لِفَضْلِهِ ۚ يُصِيبُ بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ ۚ وَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

অর্থাৎ, “আল্লাহ যদি তোমাকে কোন কষ্টে নিপতিত করেন তাহলে তিনি ছাড়া কেহ তা মোচনকারী নেই, আর যদি তিনি তোমার প্রতি কোন কল্যাণ ও শান্তি পৌঁছাতে চান তাহলে তাঁর অনুগ্রহের কোন অপসারণকারী নেই; তিনি স্বীয় অনুগ্রহ নিজের বান্দাদের মধ্য হতে যাকে চান দান করেন; এবং তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, অতিশয় দয়ালু ।” (সূরা ইউনুস ১০৭)

মৃত ব্যক্তিরা কারো উপকার করতে পারে না । যত বড় ই ধার্মিক লোক হয়ে থাকুক না কেন । মহান আল্লাহ ছাড়া কারো উপকার করার ক্ষমতা নেই । কোন দুঃখ মোচনকারী নেই ।

মহান আল্লাহ বলেন,

وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ ۚ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ

“আপনার রব বলেন: আমাকে ডাকো৷ আমি তোমাদের দোয়া কবুল করবো৷ যেসব মানুষ গর্বের কারণে আমার দাসত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তারা অচিরেই লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” (সূরা মুমিন ৬০)

প্রতিদিন আমরা পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে (নামায) আল্লাহর কাছে বলি ,

إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ

অর্থাৎ, আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদাত করি এবং একমাত্র তোমারই কাছে সাহায্য চাই। (সূরা ফাতিহা ৪)

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ ۖ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ

অর্থাৎ, “আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে ।” (সূরা বাকরা ১৮৬)

উপরের ৪ টি আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ ছাড়া কেউ মহা ত্রাণকর্তা নেই, বিপদ থেকে উদ্ধারকারী নেই , উপকারকারী নেই । আল্লাহ কে ডাকতে কোন মাধ্যম প্রয়োজন নেই, বান্দা আল্লাহর কাছে সরাসরি চাইবে, আল্লাহ তাকে সেটা দান করবেন ।

আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এর হাদীছ থেকে এসেছে,

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ “মহামহিম আল্লাহ তায়ালা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরন করে ঘোষণা করতে থাকেনঃ ‘কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে এমন, যে আমার নিকট চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছে এমন, যে আমার নিকট ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব ।” (বুখারী; ১১৪৫, ৬৩২১, ৭৪৯৪; মুসলিম ৭৫৮,১২৬১; আহমাদ ৭৫৯৫ আবু দাউদ ১৩১৫; তিরমিযি ৪৪৬, ৩৪৯৮; মুওয়াত্তা মালিক ৩০ মিশকাত ১২২৩)

নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এর হাদীছ থেকে আরো এসেছে, “নিশ্চয় তোমাদের রব লজ্জাশীল অনুগ্রহপরায়ণ বান্দা যখন তাঁর দিকে দুই হাত তোলে তখন তা শূন্য ও নিরাশভাবে ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।” (আবু দাঊদ ২/৭৮, তিরমিযী ৫/৫৫৭)

আরো একটি বর্ণনায় পাওয়া যায়, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “যে আল্লাহর কাছে দু’আ করে না, আল্লাহ তাঁর উপরে রাগণ্বিত হন ।” (তিরমিযী ৫/৪৫৬, ইবনে মাযাহ ২/১২৫৮)

এ থেকে সুস্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত যে, ইবাদাতের ক্ষেত্রে আল্লাহ এবং বান্দার মধ্যে কোন অন্তরাল নেই । বান্দা যত গুনাহগার ই হোক সরাসরি আল্লাহর কাছেই চাইবে, কোন মাধ্যম ছাড়া আর আল্লাহ তাকে সেটা দান করবেন দুনিয়াতে অথবা আখিরাতে ।

শিরকে আসগার বা ছোট শিরকঃ

শিরকে আসগার বা ছোট শিরক যা এমন শিরক মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় না । তবে আল্লাহর একত্ববাদে ঘাটতি এনে দেয় । এটা এক প্রকার বড় শিরকের দরজা ।

এই ধরনের শিরকের মধ্যে রয়েছে,

১। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করা। একজন মুসলিমের আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো বা কিছুর নামে শপথ করা বৈধ নয় । যেমনঃ বাবা,মা, সন্তানের কসম ইত্যাদি ।

নাবী কারীম (ﷺ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করল সে আল্লাহর সাথে কুফুরী করল অথবা শিরক করল ।” (তিরমিযীর বর্ণনায় হাদীছটি হাসান সনদে বর্ণিত এবং হাকেম সহীহ বলেছেন )

কোন কোন আলেমদের মতে, কুর’আনের নামে শপথ করা বৈধ । যেহেতু কুর’আন আল্লাহর সৃষ্ট নয়, বরং তা আল্লাহর বাণী । কুর’আন যে সৃষ্ট নয়, আল্লাহ বাণী এটা কে তুলে ধরার কারনে ইমাম মুহাম্মাদ বিন হাম্বল (রহঃ) তাঁর সমাজের তৎকালীন শাসকদ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ।

২। তাবিজের শিরকঃ যেমন বিপদ-আপদ দূর করার জন্য ও তা প্রতিহত করার জন্য সূতা, কড়া ব্যবহার করা । আরো যেমন বদ-নজর, ভয় বা ক্ষতির থেকে বাঁচার জন্য তাবিজ ঝুলানো । যে বা যারা বিশ্বাস করবে এইগুলা তাদের কে বিপদ-আপদ থেকে দূর করার মাধ্যম তাহলে সেটা ছোট শিরক বা শিরকে আসগারের অন্তর্ভূক্ত হবে । কেননা আল্লাহ তা’আলা এইগুলা এইসব কাজের মাধ্যম হিসেবে তৈরি করেন নি ।

এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)

উকবা বিন আমের আল-জোহানি রাদিআল্লাহু আনহু বলেন :

‘একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লা উকবা বিন আমের আল-জোহানি রাদিআল্লাহু আনহু বলেন:

‘একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে একদল লোক উপস্থিত হল। তিনি দলটির নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তার সাথে তাবিজ রয়েছে। অতঃপর তিনি স্বহস্তে তা ছিড়ে ফেললেন এবং তাকে বায়আত করলেন, আর বললেন, যে ব্যক্তি তাবিজ ব্যবহার করল সে করল।’ (সহিহ মুসনাদে আহমদ, হাকেম।)

একদল উলামায়ে কেরাম সব ধরনের তাবিজ ঝুলানো কে হারাম বললেও, আরেকদল দাবি করেন স্পষ্ট আরবীতে লেখা কুর’আন বা হাদীছে বর্ণিত সহীহ দু’আ লেখা থাকলে ঝুলাতে অসুবিধা নেই । তবে এ বিষয়ে, প্রখ্যাত সৌদি আলেম শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আলউসাইমীন (রহঃ) এর মতই ই অধিক বিশুদ্ধ বলে হক্বপন্থী আলেমদের কাছে প্রমাণিত । নিচে ফতোয়াটির অনুবাদ তুলে ধরা হলঃ

তাবীজের ব্যবহার দু’ধরনের হতে পারে ।

প্রথমতঃ কুর’আনের আয়াত লিখে তাবীজের ভিতরে রেখে ব্যবহার করা । কুর’আনের আয়াত লিখে তাবীজ ব্যবহার করা নবী (ﷺ) থেকে প্রমাণিত নয় । কুর’আন পড়ে রোগীকে ঝাড়-ফুঁক করা নবী(ﷺ) থেকে প্রমাণিত আছে ।

দ্বিতীয়তঃ কুর’আন ছাড়া এমন কিছু লিখে গলায় ঝুলিয়ে রাখা, যার অর্থ বোধগম্য নয় । এ ধরনের কিছু ব্যবহার করা কোন ক্রমেই বৈধ নয় । কেননা সে লিখিত বস্তুর অর্থ অবগত নয় । কিছু কবিরাজ রয়েছেন, যারা অস্পষ্ট এবং দূর্বোধ্য ভাষায় লিখে থাকে । যা আপনার পক্ষে বুঝা বা পাঠ করা সম্ভব নয় । এ ধরনের তাবীজ লিখা ও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ হারাম ও শিরক। (ফতোয়া আরকানুল ইসলাম প্রশ্ন ২৭)

কুর’আনিক আয়াত এবং সহীহ দু’আ দু’আ স্পষ্ট আরবীতে লিখে তাবীজ হিসেবে ব্যবহার নবী (ﷺ) দ্বারা যেমন প্রমাণিত নয়। তেমন এটা পরিধান করে বিভিন্ন নাপাকী স্থান ও নাপাকী অবস্থায় থাকা অবমাননাকর। তাছাড়া সন্দেহযুক্ত কর্ম থেকে বেঁচে থাকাও ঈমানের দাবি ।

এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “নুমান ইবনে বাশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, অবশ্যই হালাল বিবৃত ও স্পষ্ট এবং হারাম বিবৃত ও স্পষ্ট, আর উভয়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দিহান বস্তু; যা অনেক লোকেই জানে না। অতএব যে ব্যক্তি এই সন্দিহান বস্তুসমূহ হতে দূরে থাকবে, সে তার দ্বীন ও ইজ্জতকে বাঁচিয়ে নেবে এবং যে ব্যক্তি সন্দিহানে পতিত হবে (সন্দিগ্ধ বস্তু ভক্ষণ করবে), সে হারামে পতিত হবে। (এর উদাহরণ সেই) রাখালের মত, যে নিষিদ্ধ চারণভূমির আশেপাশে পশু চরায়, তার পক্ষে নিষিদ্ধ সীমানায় পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শোন! প্রত্যেক বাদশাহরই সংরক্ষিত চারণভূমি থাকে। আর শোন! আল্লাহর সংরক্ষিত চারণভূমি হল তাঁর হারামকৃত বস্তুসমূহ। শোন! দেহের মধ্যে একটি মাংসপিন্ড রয়েছে; যখন তা সুস্থ থাকে, তখন গোটা দেহটাই সুস্থ হয়ে থাকে। আর যখন তা খারাপ হয়ে যায়, তখন গোটা দেহটাই খারাপ হয়ে যায়। শোন! তা হল হৃৎপিন্ড (অন্তর)।’’ (বুখারি ৫২, ২০৫১, মুসলিম ১৫৯৯, তিরমিযি ১২০৫, নাসায়ি৪৪৫৩, ৫৭১০, আবু দাউদ ৩৩২৯, ইবন মাজাহ ৩৯৮৪, আহমদ ১৭৮৮৩, ১৭৯০৩, ২৭৬৩৮, ১৭৯৪৫, দারেমি২৫৩১)

৩। এমন কথা বলা “আল্লাহ আর আপনি যদি না থাকতেন” বা “অমুক যদি না হত”

এই প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উল্লেখযোগ্য, কোন একজন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললেন আল্লাহ এবং আপনি যা চেয়েছেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি আল্লাহর সাথে আমাকে শরীক করে ফেললে ? তুমি বল আল্লাহ একক ভাবে যা ইচ্ছা করেন । (নাসাঈ)

সবই কিছুই আল্লাহর ইচ্ছাতেই হয়, আল্লাহ কে কেউ বাধ্য করার নেই । বান্দার ইচ্ছাকে , আল্লাহর ইচ্ছার পরে করতে হবে । যেমন আল্লাহ অতঃপর অমুক যদি না হতো এমন ।

মহান আল্লাহ বলেন,

وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ

অর্থাৎ, “আর তোমরা ইচ্ছা করতে পার না, যদি না সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ ইচ্ছা করেন”। (সূরা তাকবীর ২৯)

৪। গোপণ শির্কঃ ছোট শিরকের আরেকটি ভাগ হচ্ছে গোপণ শিরক । যেটা ইচ্ছা বা নিয়্যাতের ভিত্তিতে শিরক হয় । লোক দেখানোর জন্য, লোকের সুখ্যাতি পাওয়ার জন্য ভাল কাজ করা , আল্লাহর ইবাদাত করা । যাতে লোকে তাকে প্রশংসা করে । যেমন, মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য কোন ব্যক্তি দান-খয়রাত করে, সালাত আদায় করে,যিকির করে, কুর’আন তেলওয়াত কিংবা অন্য কোন ভাল কাজ করে ।

এটাকেই রিয়া বা লোক দেখানো আমল বলে । রিয়া বা লোক দেখানো আমল হল শিরকের অন্তর্ভূক্ত । যার কারণে গোটা আমল ই আল্লাহর কাছে বাতিল বলে গণ্য হয় ।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُبْطِلُوا صَدَقَاتِكُمْ بِالْمَنِّ وَالْأَذَىٰ كَالَّذِي يُنْفِقُ مَالَهُ رِئَاءَ النَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۖ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ صَفْوَانٍ عَلَيْهِ تُرَابٌ فَأَصَابَهُ وَابِلٌ فَتَرَكَهُ صَلْدًا ۖ لَا يَقْدِرُونَ عَلَىٰ شَيْءٍ مِمَّا كَسَبُوا ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ

অর্থাৎ, “হে মুমিনগণ, তোমরা খোঁটা ও কষ্ট দেয়ার মাধ্যমে তোমাদের সদাকা বাতিল করো না। সে ব্যক্তির মত, যে তার সম্পদ ব্যয় করে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে এবং বিশ্বাস করে না আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি। অতএব তার উপমা এমন একটি মসৃণ পাথর, যার উপর রয়েছে মাটি। অতঃপর তাতে প্রবল বৃষ্টি পড়ল, ফলে তাকে একেবারে পরিষ্কার করে ফেলল। তারা যা অর্জন করেছে তার মাধ্যমে তারা কোন কিছু করার ক্ষমতা রাখে না। আর আল্লাহ কাফির জাতিকে হিদায়াত দেন না ।”

সুতরাং একজন মুসলিমের প্রত্যেকটি ভাল কাজ করার উদ্দেশ্য থাকবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য নয় । যদি এই ভাল কাজের কারণে কোন মানুষ উপকৃত হয়ে প্রশংসা করে, দু’আ করে সেটা অন্য বিষয় ।

কোন ভাল কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাইলে সেটা রিয়া হবে না । কিন্তু কোন ভাল কাজ মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাইলে সেটা রিয়া হবে । রিয়া ব্যাপারটি সম্পূর্ণ অন্তরের নিয়্যাতের উপর নির্ভরশীল । যদি অন্তর থেকে রিয়া নিয়্যাত না হয়, শুধু মাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি হয় তবে সেটা রিয়া হবে না । রিয়ার ভয়ে ভাল কাজ থেকে বিরত থাকাও এক প্রকার রিয়া । তাই মনে সন্দেহ জাগলে এজন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করতে হবে ।

রিয়ার পরিণতি প্রসঙ্গে নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ

“আমি তোমাদের ব্যাপারে ছোট থেকে খুব ভয় করছি। সাহাবীরা বললেন – ইয়া রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম! ছোট কি? রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তা হলো “রিয়া” বা লোক দেখানো ইবাদত। যেদিন আল্লাহ তাআ’লা বান্দাদের আমলের পুরস্কার প্রদান করবেন, সেদিন রিয়াকারীদেরকে বলবেনঃ যাও, দুনিয়াতে যাদেরকে দেখানোর জন্য আমল করতে, তাদের কাছে যাও। দেখো তাদের কাছ থেকে কোনো পুরস্কার পাও কিনা?” (মুসনাদে আহমাদ, সহীহ ইবনে খুজায়মা)

এক্ষণে, আমরা বিভিন্ন প্রকার শিরক সম্পর্কে এবং তার পরিণতি সম্পর্কে সংক্ষেপে জানলাম । এখন আমরা শিরক থেকে কিভাবে বাঁচতে পারি সে বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করার করব ইনশাআল্লাহুল আযীয ।

একজন মুসলিম হিসেবে আল্লাহর একত্ববাদে দৃঢ় বিশ্বাস রাখা জরুরি । নয়ত আমাদের পরকাল শেষ হয়ে যাবে । এই দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী মরিচিকার মত । আমাদের আসল ঠিকানা হবে আখিরাতে যেখানে আমাদের চিরকাল থাকতে হবে । আর এই কারণেই শিরক থেকে সচেতন হওয়া জরুরি কারণ মহান আল্লাহ বলেন,

وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ

অর্থাৎ,“অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে ।(সূরা ইউসুফ ১০৬)

তাই যেকোন মূল্যে শিরক থেকে বেঁচে থাকতে হবে ।

শিরক থেকে বেঁচে থাকার উপায়ঃ

মহান আল্লাহ বলেন,

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ ۚ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا

অর্থাৎ, “নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয় ।” (সূরা আন নিসা ১১৬)

আর এজন্যই আমাদের কে কোনটা শিরক এজন্য সচেতন হতে হবে । আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ইস্তেগফার বা ক্ষমা চাইতে হবে দু’আর মাধ্যমে ।

শিরক থেকে বাঁচার দুআঃ

لّل ه م إِن ي َأ ع و ُ ذ بِ ك َأ ْ ن ُأ شرِ ك بِ ك وَأنا َأ عَل م، وَأ ست غفِرك لِما لا َ َأعلَم.

উচ্চারণঃ “আল্লাহুমা ইন্নী আউ’যুবিকা আন উশরিকা বিকা ওয়া আনা আ’লামু ,ওয়াআসতাগ ফিরুকা লিমা লা-আলামু ।”

অর্থাৎ, “হে আল্লাহ ! নিশ্চয় আমি জেনে শুনে তোমার সাথে শিরক করা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং যে শিরক না জেনে করে ফেলি, তা থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি ।” (সহীহ জামে ৩/২৩৩)

আল্লাহ আমাদের সকল প্রকার শিরক থেকে হিফাযত করুক এবং হিদায়াতের পথে অটল রাখুক, আমিন ।

রেফারেন্সঃ

১। কিতাবুত তাওহীদ – মূল শাইখ ডঃ সালেহ বিন ফাওযন আল ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ)

২। http://www.waytojannah.com/quran/ এর কুর’আনের ডাটাবেজ ।

এছাড়া এই লেখাটি প্রস্তুত করতে বিভিন্ন সময় যেসব ভাই আমাকে বিভিন্ন তথ্য ও ফোতয়াগুলো সংগ্রহ করে দিয়ে সাহায্য করেছেন এবং পরবর্তীতে মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরবে হাদীছ ও ইসলাম স্ট্যাডিসে অধ্যয়নরত যে ভাই আমার লেখাটিকে প্রুফ রিড করেছেন আল্লাহ তাদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুক,আমিন ।

লেখকঃ সাদ্দাম হোসেন সম্রাট

মতামত দিন