ইসলামিক গল্প ইসলামী শিক্ষা

হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিরা শিক্ষা গ্রহণ কর (শেষ পর্ব)

হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিরা শিক্ষা গ্রহণ কর
(কবরের আযাব ও সাওয়াব সংক্রান্ত কতিপয় শিক্ষামূলক ঘটনা)

শেষ পর্বঃ 

মৃতের শরীর থেকে সুগন্ধি

এ ঘটনার বর্ণনাকারী আমার (লেখক-ইকবাল কীলানী) সম্মানিত পিতা হাঃ মোঃ ইদ্রীস কীলানী রাহিঃ তিনি বলেন, উপমহাদেশ ভাগাভাগির পূর্বে, দিল্লীতে উস্তাদ কুল শিরোমণি শাইখুল হাদীস সাইয়্যেদ মিয়া মোঃ নাযীর হুসাইন মোহাদ্দেস দেহলভী রাহিঃ’র মাদরাসার এক ছাত্র ইন্তেকাল করল, আর ঐ মৃতদেহ থেকে এত আকর্ষণীয় সুগন্ধি বের হচ্ছিল যে, আশপাশের এলাকা সুগন্ধময় হয়ে গেল। লোকেরা মিয়া মোঃ নাযীর হুসাইন রাহিঃকে জিজ্ঞেস করল যে, আপনার এ ছাত্র সম্পর্কে এমন কোন আমলের কথা জানা আছে, যার ফলে আল্লাহ্‌ তাকে এ ইযযত দান করেছেন? তখন মিয়া সাহেব নিম্নোক্ত ঘটনা বর্ণনা করেনঃ অন্যান্য ছাত্রদের ন্যায় এ ছাত্রের খাবারের ব্যবস্থাও এক ঘরে ছিল। উল্লেখ্য যে, কিছুদিন পূর্বে আজকালের ন্যায় ছাত্রের খাবারের ব্যবস্থা মাদরাসায় ছিল না, বরং শহরের বিভিন্ন সক্ষম ব্যক্তিরা একজন দু’জন করে খাওয়াত। সে যে বাড়ীতে খাবার খেত ঐ বাড়ীর এক যুবতী তাকে মোহাব্বত করত। একদিন বাড়ীর লোকেরা অন্য কোন বাড়ীতে বেড়াতে গেছে, আর ঐ মেয়ে বাড়ীতে একাই ছিল। এদিকে অভ্যাস মোতাবেক ছেলে খাবার খেতে এসেছে, আর মেয়ে তখন ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে তাকে অশ্লীল কাজের প্রতি আহবান করল।

ছেলে সে ডাকে সারা দিতে অস্বীকার করল, মেয়ে তাকে ধমক দিয়ে বলল যে, তুমি যদি আমার ডাকে সারা না দাও তাহলে আমি তোমার বদনাম করব। ছাত্র তখন পায়খানা পেশাবের অজুহাত দেখিয়ে বাথরুমে যাওয়ার অনুমতি চাইল, মেয়ে তখন তাকে ঘরের উপরের তলায় যাওয়ার অনুমতি দিল। ছাত্র ঘরের উপরের তলায় উঠে বাথরুমে ঢুকে সমস্ত শরীরে পায়খানা মেখে বের হল। মেয়েটি তাকে এ অবস্থায় দেখে ঘৃণা করে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে গেল। ঠাণ্ডার মৌসুম ছিল, ছাত্র মসজিদে এসে গোসল করে, কাপড় ধুয়ে বাহিরে আসল, অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে কাঁপতে ছিল। ইতোমধ্যে তাহাজ্জুদের নামাযের জন্য আমি মসজিদে গেছি, ছাত্রকে এ অবস্থায় দেখে আশ্চর্য হলাম, তাকে জিজ্ঞেস করলে সে কতক্ষণ চুপ থেকে এ পূর্ণ ঘটনা বলল। আমি তখন আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম “হে আল্লাহ্‌! এ ছাত্র তোমার ভয়ে নিজের শরীরে নাপাকী মেখে নিজেকে পাপ মুক্ত রেখেছে, তুমি তোমার দয়া ও অনুগ্রহে তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে ইযযত সম্মান দাও। সম্ভবত আল্লাহ্‌ তা’আলা এ ছাত্রকে তাঁর ঐ আমলের জন্য এ ইজ্জত দান করেছেন।”

সূত্রঃ সম্মানিত পিতা মোঃ ইদ্রীস কীলানী রহঃ স্বীয় গ্রাম কিলয়া নাওয়ালা জিলার গুরানাওয়ালার জামে মসজিদে জুমু’আর খুৎবায় এ ঘটনাটি একাধিকবার বলতে আমি শুনেছি, এ ঘটনাটি আমি লিখতেছি ইতোমধ্যে সাপ্তাহিক ‘আল এ‘তেসাম’ ১৪ সংখ্যার ২৫ মুহাররম ১৪২২ হিঃ “গাইর মাহরাম মহিলার সাথে একাকীত্বের আতঙ্ক” শিরোনামে ডঃ আবদুল গফুর রাশেদ সাহেবও উল্লেখ করেছেন, যা পাঠে তাঁর সত্যতার ব্যাপারে আমার আত্মবল আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

আল্লাহ্‌ আমাদেরকে কবরের আযাব ও সাওয়াব সংক্রান্ত উপরোক্ত সত্য ঘটনাবলী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার তাওফিক দান করুক। আমীন।

মতামত দিন