সলাত

সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ২৭)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

আসরের নামাযে সুন্নতী ক্বিরাআত

আসরের নামাযে নবী মুবাশ্‌শির (সাঃ) প্রায় ১৫ আয়াত পাঠ করার মত ক্বিরাআত করতেন। যোহরের প্রথম দু’ রাকআতে যতটা পড়তেন তার অর্ধেক পড়তেন আসরের প্রথম দু’ রাকআতে।

তিনি এ নামাযেও পড়তেন, সূরা আ’লা ও সূরা লাইল। (মুসলিম,  মিশকাত ৮৩০ নং) সূরা ত্বারিক্ব ও বুরুজ। (আবূদাঊদ, সুনান ৮০৫ নং)  এতেও তিনি কখনো কখনো মুক্তাদীদেরকে আয়াত শুনিয়ে দিতেন।

মাগরেবের নামাযে সুন্নতী ক্বিরাআত

মাগরেবের নামাযে কখনো কখনো তিনি ‘ক্বিসারি মুফাস্‌স্বাল’ থেকে পাঠ করতেন। (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ৮৫৩ নং) এই সংক্ষেপের ফলেই সাহাবাগণ যখন নামায পড়ে ফিরতেন তখন কেউ তীর ছুঁড়লে তাঁর তীর পড়ার স্থানটিকে দেখেতে পেতেন। কারণ, তখনও বেশ উজ্জ্বল থাকত। (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ৫৯৬ নং)

কখনো সফরে তিনি এর দ্বিতীয় রাকআতে সূরা তীন পাঠ করেছেন। (ত্বায়ালেসী, আহমাদ, মুসনাদ, সিফাতু স্বালাতিন নাবী (সাঃ), আলবানী ১১৫ পৃ:)

কখনো বা তিনি ‘ত্বিওয়ালে মুফাস্‌স্বাল’ ও আওসাত্বে মুফাস্‌স্বাল’-এর সূরাও পাঠ করতেন। কখনো পড়তেন সূরা মুহাম্মাদ। (ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ, ত্বাবারানী, মু’জাম, মাক্বদেসী, সিফাতু স্বালাতিন নাবী (সাঃ), আলবানী ১১৬ পৃ:) কখনো পাঠ করতেন সূরা তূর।(বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ৮৩১ নং)

তিনি তাঁর জীবনের শেষ মাগরেবের নামাযে পাঠ করেছেন সূরা মুরসালাত। (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ৮৩২ নং)

কখনো উভয় রাকআতেই পড়েছেন সূরা আ’রাফ। (বুখারী, আবূদাঊদ, সুনান, ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ, আহমাদ, মুসনাদ, মিশকাত ৮৪৭ নং)কখনো বা সূরা আনফাল। (ত্বাবারানী, মু’জাম, সিফাতু স্বালাতিন নাবী (সাঃ), আলবানী ১১৬ পৃ:)

এশার নামাযে সুন্নতী ক্বিরাআত

এশার নামাযে তিনি ‘আওসাত্বে মুফাস্‌স্বাল’-এর সূরা পাঠ করতেন। (নাসাঈ, সুনান, আহমাদ, মুসনাদ, মিশকাত ৮৫৩ নং) কখনো পড়তেন, সূরা শামস বা অনুরুপ অন্য কোন সূরা। (আহমাদ, মুসনাদ, তিরমিযী, সুনান ৩০৯ নং) কখনো সূরা ইনশিক্বাক্ব পড়তেন এবং এর সিজদার আয়াতে তিনি তিলাওয়াতের সিজদা করতেন। (বুখারী ৭৬৬, মুসলিম,  নাসাঈ, সুনান)

কখনো পাঠ করতেন সূরা তীন। (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ৮৩৪ নং)

তিনি মুআয (রাঃ) কে এশার ইমামতিতে লম্বা ক্বিরাআত পড়তে নিষেধ করে বলেছিলেন, “তুমি কি লোকদেরকে ফিতনায় ফেলতে চাও হে মুআয? তুমি যখন ইমামতি করবে তখন ‘অশ্‌শামসি অযযুহা-হা, সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা, ইক্বরা বিসমি রাব্বিকা, অল্লাইলি ইযা য়্যাগশা’ পাঠ কর। কারণ তোমার পশ্চাতে বৃদ্ধ, দুর্বল ও প্রয়োজনে উদগ্রীব মানুষ নামায পড়ে থাকে। (বুখারী, মুসলিম,  না, মিশকাত ৮৩৩ নং)

কেবল ফাতিহা পড়লেও চলে

১,২,৩ বা ৪ রাকআত বিশিষ্ট যে কোনও নামাযের প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহার পর অন্য একটি সূরা মিলানো চলে, প্রথম দু’ রাকআতে ১টি মিলিয়ে শেষ দু’ রাকআতে না মিলালেও চলে। আবার কোন রাকআতেই সূরা ফাতিহার পর অন্য কোন সূরা পাঠ না করলেও যথেষ্ট হয়। পূর্বোক্ত মুআয (রাঃ) এর ব্যাপারে অভিযোগকারী যুবককে আল্লাহর রসূল (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি যখন নামায পড় তখন কিরুপ কর, হে ভাইপো?” বলল, ‘আমি সূরা ফাতিহা পড়ি এবং (তাশাহহুদের পর) আল্লাহর নিকট বেহেশ্‌ত চাই ও দোযখ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আর আমি আপনার ও মুআযের গুঞ্জন বুঝি না। নবী (সাঃ) বললেন, “আমি ও মুআয এরই ধারে-পাশে গুন্‌গুন্‌ করি।” (আবূদাঊদ, সুনান ৭৯৩ নং)

পূর্বে উল্লেখিত এক হাদীসে উল্লেখ হয়েছে যে, সূরা ফাতিহা-বিহীন নামায অপরিণত ও অসম্পূর্ণ। (মুসলিম,  আহমাদ, মুসনাদ, মিশকাত ৮২৩ নং) সুতরাং এ থেকে বুঝা যায় যে, সূরা ফাতিহাবিশিষ্ট নামায পরিণত ও সম্পূর্ণ। আর অন্য সূরা পাঠ জরুরী নয়। (ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ ১/২৫৮)

হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক নামাযেই ক্বিরাআত আছে। সুতরাং আল্লাহর রসূল (সাঃ) যা আমাদেরকে শুনিয়েছেন, তা আমি তোমাদেরকে শুনালাম এবং যা চুপেচুপে পড়েছেন, তা চুপেচুপে পড়লাম।’ এক ব্যক্তি বলল, ‘যদি আমি সূরা ফাতিহার পর অন্য কিছু না পড়ি?’ তিনি বললেন, ‘যদি অন্য কিছু পড় তাহলে উত্তম। না পড়লে সূরা ফাতিহাই যথেষ্ট।” (বুখারী ৭৭২, মুসলিম, সহীহ ৩৯৬ নং)

(চলবে)

মতামত দিন