ইসলামিক গল্প ইসলামের ইতিহাস

কারুনের সম্পদ ধ্বংসের কাহিনী

কারুনের সম্পদ ধ্বংসের কাহিনী

লেখক: আব্দুল ওয়াদুদ

অনুলিখন: সালাউদ্দীন শুভ্র

কারুন ছিল মুসা আঃ এর যুগের একজন ধনবান ব্যাক্তি। তার ধন সম্পদ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,

 إِنَّ قَارُونَ كَانَ مِن قَوْمِ مُوسَىٰ فَبَغَىٰ عَلَيْهِمْ ۖ وَآتَيْنَاهُ مِنَ الْكُنُوزِ مَا إِنَّ مَفَاتِحَهُ لَتَنُوءُ بِالْعُصْبَةِ أُولِي الْقُوَّةِ إِذْ قَالَ لَهُ قَوْمُهُ لَا تَفْرَحْ ۖ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِينَ [٢٨:٧٦]

‘কারুন ছিল মুসার সম্প্রদায় ভুক্ত । কিন্তু সে তাদের প্রতি উদ্ধত্য প্রকাশ করেছিল। আমি তাকে এমন ধনভাণ্ডার দান করেছিলাম, যার চাবি গুলি বহন করা একদল শক্তিশালী লোকের পক্ষেও কষ্টসাধ্য ছিল। স্মরণ কর; তার সম্প্রদায় তাকে বলেছিল,’দম্ভ করনা, নিশ্চয়ই আল্লাহ দাম্ভিকদেরকে পসন্দ করেন না।‘ (কাছাছ ৭৬)

কারুনের এই ধন সম্পদ বেশী দিন স্থায়ী ছিলনা; বরং অহংকারের কারনে আল্লাহ সব সম্পদ ধ্বংস করেছিলেন। তার সম্পদ ধংসের অনেক কারণ ও কাহিনী তাফসিরকারক গণ উল্লেখ করেছেন  । নিম্নে তা উল্লেখ করা হল;

১। অভিশপ্ত কারুন এক নারীকে বহু মাল দিয়ে এই কাজে উত্তেজিত করে যে, যখন মুসা (আঃ) বনী ঈসরাইলের জামাতে দাড়িয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করতে শুরু করবেন ঠিক ঐ সময়ে যেন সে জনসম্মুখে বলে , হে মুসা; তুমি আমার সাথে এরুপ এরুপ করেছ । কারুনের এই কথা মত ঐ মহিলা তাই করল। অর্থাৎ কারুনের সেখান কথা বলল । তার এ কথা শ্রবণে মুসা (আঃ) কেপে উঠলেন এবং তৎক্ষনাত দু রাকআত সালাত আদায় করে ঐ স্ত্রী লোকটির দিকে মুখ করে বললেন, আমি তোমাকে ঐ আল্লাহর কসম দিচ্ছি , যিনি সমুদ্রের মাঝে রাস্তা নির্মাণ করে দিয়েছিলেন, তোমার কউমকে ফিরাউনের অত্যাচার থেকে রক্ষা করে ছিলেন এবং বহু অনুগ্রহ করেছেন। সত্য ঘটনা খুলে বল । স্ত্রী লোকটি তখন বলল, হে মুসা (আঃ); আপনি যখন আল্লাহর কসমই দিলেন তখন আমি সত্য কথা বলছি । কারুন আমাকে বহু টাকা পয়সা দিয়েছে এই শর্তে যে , আমি যেন বলি আপনি আমার সাথে এরুপ এরুপ করেছেন । আমিও আপনাকে তাই বলেছি । এজন্য আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তার কাছে তাওবা করছি । তার বক্তব্য শুনে মুসা (আঃ) পুনরায় সেজদায় পড়ে যান এবং কারুনের শাস্তি প্রার্থনা করেন । তখন আল্লাহর নিকট হতে তার কাছে ওহী আসে , ‘আমি যমিনকে তোমার বাধ্য করে দিলাম ।‘ হজরত মুসা (আঃ) তখন যমিন কে বলল ,তুমি কারুন ও তার প্রাসাদকে গিলে ফেল।  যমিন তাই করল ।

২। একদা কারুনের সওয়ারী অতি যাকজমকের সাথে চলতে শুরু করে। সে অতি মুল্যবান পোশাক পরিহিত হয়ে অতি মুল্যবান সাদা খচ্চরের উপর আরোহন করে চলছিল । তার সাথে তার গোলাম গুলিও ছিল যারা ,সবাই রেশ্মি কাপড় পরিহিত ছিল। তখন মুসা ( আঃ ) বনী ঈসরাইলের সমাবেশে ভাসন দিচ্ছিলেন । যখন কারুন দলবল সহ সমাবেশের পার্শ দিয়ে অতিক্রম করছিল , তখন মুসা (আঃ) তাকে জিজ্ঞেস করেন ‘ হে কারুন আজ এত শান–শওকতের সাথে পথ চলার কারণ কি ? সে উত্তরে বলল , ব্যাপার এই যে , আল্লাহ আমাকে একটি একটি ফযীলোত দান করেছেন । যদি তিনি তোমাকে নবুওয়াত দান করে থাকেন , তবে তিনি আমাকে দান করেছেন ধন দৌলত ও মান মর্যাদা । যদি আমার মর্যাদা সম্পর্কে তুমি সন্দেহ পোষণ কর ,তবে আমি প্রস্তুত আছি চল আমরা দুজন আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি । দেখা যাক আল্লাহ কার প্রার্থনা কবুল করেন ? হযরত মুসা (আঃ) কারুনের এই প্রস্তাবে সম্মত হয়ে যান । অতঃপর তিনি কারুণকে বললেন ,’ হে কারুন আমি প্রথমে না তুমি প্রথমে প্রার্থনা করবে ?’ সে বলল আমি প্রথমে ।এরপর সে দোয়া করল কিন্তু দোয়া কবুল হলনা । হযরত মুসা (আঃ) তখন তাকে বললেন তাহলে আমি এখন দোয়া করি । মুসা (আঃ) আল্লাহর নিকট দোয়া করেন ,’ হে আল্লাহ , আপনি যমিন কে নির্দেশ দিন যে , আমি তাকে যে নির্দেশ দিব সে যেন তাই পালন করে । আল্লাহ দয়া কবুল করলেন এবং তার নিকট ওহী অবতীর্ণ করেন । ‘ হে মুসা ; যমিনকে আমি তোমার হুকুম পালনের নির্দেশ দিলাম । হযরত মুসা (আঃ) তখন জমিনকে বললেন , হে যমিন তুমি কারুন ও তার লোকদের ধরে ফেল । তার একথা বলা মাত্রই তাদের পাগুলি যমিনে প্রথিত হয়ে গেল । তারপর তিনি বললেন, আরও ধর । তারপর তাদের হাটু পর্যন্ত প্রোথিত হয় । তারপর তিনি যমিনকে বলেন ,তার মাল ও কোষাগার ও পুতে ফেল । তৎক্ষণাৎ তার সমস্ত ধন সম্পদ এসে গেল । কারুন সবই সচক্ষে দেখে নিল । অতঃপর তিনি জমিনকে ইঙ্গিত করলেন , এগুলি সহ তাদেরকে তোমার ভিতর গিলে নাও। সাথে সাথে কারুন তার দল্বল, প্রাসাদ ধন সম্পদ সহ যমিনে প্রোথিত হয়ে গেল ।এভাবে তার ধ্বংস সাধিত হল । যমিন যেমন ছিল তেমনই হয়ে গেল । ( ইবনে কাসীর ; কুয়েত ঃ যমিয়াতু ইহইয়ায়িত তুরাছ আল ইসলামী, ১ম প্রকাশ ১৯৯৪ , ৩য় খণ্ড , ৫৩১, ৫৩২ )

মহান আল্লাহ আমাদের ধন সম্পদ দিয়েছেন । তাই আমাদের উচিত সম্পদ সঠিক পথে ব্যয় করা । নয়ত পরকালে এগুলোই আমাদের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে । আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন । আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন । আমীন ।

মতামত দিন