বিদআত

ঈদ-ই- মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম): একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা (পর্ব-৩)

প্রথম পর্ব

দ্বিতীয় পর্ব

ঈদ-ই- মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম): একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা (পর্ব-৩)

৩) ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপন: প্রকৃত প্রবর্তন ও ব্যাপক উদযাপন:

এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, হিজরী ৪র্থ শতাব্দী থেকেই ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপনের শুরু হয়। তবে এখানে লক্ষণীয় যে, কায়রো এই উৎসব ইসলামী বিশ্বের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়েনি। সম্ভবত: ইসমাঈলীয় ফাতেমী শিয়াদের প্রতি সাধারণ মুসলিম সমাজের প্রকট ঘৃণার ফলেই তাদের এই উৎসব সমূহ অন্যান্য সুন্নী এলাকায় জনপ্রিয়তা পায় নি বা সামাজিক উৎসবের রূপ গ্রহণ করে নি। তবে ঐতিহাসিকদের বর্ণনা থেকে জানা যায় ৬ষ্ঠ হিজরীর দ্বিতীয়ার্ধ (৫৫০-৬০০) থেকেই  মিশর, সিরিয়া বা ইরাকের ২/১ জন ধার্মিক মানুষ প্রতি বৎসর রবিউল আউআল মাসের প্রথমাংশে বা ৮ বা ১২ তারিখে খানাপিনার মাজলিস ও আনন্দ প্রকাশের মাধ্যমে “ঈদে মীলাদুন্নবী” পালন করতে শুরু করেন।

তবে যিনি ঈদে মীলাদুন্নবীর প্রবর্তক হিসাবে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ এবং যিনি ঈদে মীলাদুন্নবীকে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম উৎসব হিসাবে প্রতিষ্ঠা দানের কৃতিত্বের দাবিদার তিনি হচ্ছেন ইরাক অঞ্চলের ইরবিল প্রদেশের শাসক হযরত আবু সাঈদ কূকবুরী (মৃত্যু: ৬৩০হি:) পরবতী পৃষ্ঠাগুলিতে আমরা তার জীবনী ও ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপনে তাঁর পদ্ধতি আলোচনা করব। কিন্তু তার আগে আমরা যে যুগের প্রেক্ষাপটে তিনি এই উৎসবের প্রচলন করেন তা আলোচনা করব।

ক) যুগ পরিচিতি: হিজরী ৬ষ্ঠ ও ৭ম শতক:

৪র্থ হিজরী শতকে ইসলামী জগতের অবস্থা কি ছিল তা আমরা ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি। পরবর্তী সময়ে অবস্থার আরো অবনতি ঘটে। ৬ষ্ঠ হিজরী শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে ৭ম হিজরী শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়কাল ছিল মুসলিম উম্মার জন্য দুর্দিন ও মুসলিম ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। এ সময়ে আভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও বাইরের শত্র“র আক্রমণে বিধ্বস্ত হয় বিশাল মুসলিম রাজত্বের অধিকাংশ এলাকা।

৬ষ্ঠ হিজরী শতাব্দী মাঝামাঝি এসে আমরা দেখতে পাই যে, এ সকল অভ্যন্তরীণ সমস্যার পাশাপাশি আরো একটি কঠিন সমস্যা মুসলিম উম্মাহর সামনে এসেছে, তা হলো বাইরের শত্র“র আক্রমণ, বিশেষ করে পশ্চিম থেকে ইউরোপীয় ক্রুসেডারদের আক্রমণ এবং পূর্ব থেকে তাতার ও মোগলদের আক্রমণ।

ক্রুসেড যুদ্ধের শুরু হয় হিজরী ৫ম শতাব্দীর (খ্রীষ্টিয় একাদশ শতাব্দীর) শেষদিকে। ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকেই অন্ধকারাচ্ছন্ন ইউরোপে খ্রীষ্টান ধর্মযাজকগণ বিভিন্নভাবে ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী প্রচারণা করতে থাকেন। মুসলিমগণ মূর্তিপূজা করেন, তাঁরা মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুজা করেন, নরমাংশ ভক্ষণ করেন, যিশুখ্রীষ্টের অবমাননা করেন ইত্যাদি কথা সারা ইউরোপে প্রচারিত হতে থাকে। পাশাপাশি মুসলমানদের স্পেন বিজয় ও পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশ বিজয় ইউরোপের খ্রীষ্টান শাসকদেরকে ভীত করে তোলে। তাঁরা তাঁদের অভ্যন্তরের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও জাতিগত বিভেদ ও শত্রুতা ভুলে পোপের নেতৃত্বে প্যালেষ্টাইনের পবিত্রভূমি উদ্ধারের নামে লক্ষ লক্ষ সৈনিকের ঐক্যবদ্ধ ইউরোপীয় বাহিনী নিয়ে মুসলিম সাম্রাজ্যের উপর আক্রমণ চালাতে  থাকেন। ৪৯১ ও ৪৯২ হিজরী সালে (১০৯৭ ও ১০৯৮ খ্রী:) প্রথম ক্রুসেড বাহিনীর দশ লক্ষাধিক নিয়মিত সৈনিক ও স্বেচ্ছাসেবক এশিয়া মাইনর ও সিরিয়া এলাকায় বিভিন্ন মুসলিম দেশে হামলা করেন। এই হামলায় প্রায় ২০ সহস্রাধিক মুসলিম সাধারণ নাগরিক নিহত হন। ক্রুসেড বাহিনী নির্বিচারে নারীপুরুষ ও শিশুদের হত্যা করেন। তাঁরা ক্ষেতখামার ও ফসলাদিও ধ্বংস করেন। এই হামলার মাধ্যমে এশিয়া মাইনর ও সিরিয়া-প্যালেষ্টাইনের বিভিন্ন রাজ্য  খ্রীষ্টানরা  দখল করে এবং কয়েকটি খ্রীষ্টান রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।

পরবর্তী ২০০ বৎসরের ইতিহাস ইউরোপীয় খ্রীষ্টান বাহিনীর উপর্যুপরি হামলা ও মুসলিম প্রতিরোধের ইতিহাস। এ সময়ে খ্রীষ্টানগণ মিসর, সিরিয়া ও ইরাকের বিভিন্ন অঞ্চলে খ্রীষ্টান রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। দ্বিধাবিভক্ত মুসলিম শাসকগণ বিভিন্নভাবে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন এবং সর্বশেষ ৬ষ্ঠ হিজরী শতাব্দীর শেষদিকে সালাহুদ্দীন আইউবী অধিকাংশ খ্রীষ্টান রাজ্যের পতন ঘটান এবং প্যালেষ্টাইন ও অধিকাংশ আরব এলাকা থেকে ক্রুসেডিয়ারদের বিতাড়িত করেন।  এরপরেও মিশর, সিরিয়া ও লেবানন এলাকায় ক্রুসেডারদের কয়েকটি ছোট ছোট খ্রীষ্টান রাজ্য রয়ে যায়। তদুপরি ইউরোপ থেকে মাঝেমাঝে ক্রুসেড বাহিনীর আগমন ও বিভিন্ন মুসলিম অঞ্চলে আক্রমণ অব্যহত থাকে।

যে সময়ে মুসলিমরা দখলদার ক্রুসেড বাহিনীর কবল থেকে বিভিন্ন মুসলিম অঞ্চলকে মুক্ত করছেন, সে সময়ে, ৭ম হিজরী শতকের (১৩শ খ্রীষ্টিয় শতকের) শুরুতে মুসলিম সম্রাজ্যের পূর্বদিক থেকে তাতারদের বর্বর হামলা শুরু হয়। চেঙ্গিশ খানের নেতৃত্বে তাতার বাহিনী সর্বপ্রথম ৬০৬ হিজরীর দিকে (১২০৯ খ্রী:) মুসলিম রাজত্বের পূর্বাঞ্চলে হামলা চালাতে শুরু করে। শীঘ্রই তারা বিভিন্ন মুসলিম জনপদে হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করতে থাকে। মানব ইতিহাসের বর্বরতম হামলায় তারা এসকল জনপদের সকল প্রাণীকে নির্বিচারে হত্যা করতে থাকে। বস্তুত: তাতাররা মধ্য এশিয়া, পারস্য, ইরাক, সিরিয়া ও এশিয়া মাইনরের অধিকাংশ মুসলিম জনপদ শাব্দিক অর্থেই বিরাণ করে দেয়। পরবর্তী শতাব্দীর ঐতিহাসিক আল্লামা যাহাবী (মৃত্যু ৭৪৮হি:) বলেন: “তাতাররা এসকল জনপদে কত মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে এ প্রশ্ন অবান্তর ও অর্থহীন, বরং প্রশ্ন করতে হবে: তার কতজনকে না মেরে বাঁচিয়ে রেখেছিল।”  ৬৫৬ হিজরীতে (১২৫৮খ্রী:) হালাকু খানের নেতৃত্বে তাতাররা মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র  ও রাজধানী বাগদাদ ধ্বংস করে। ৪০ দিনব্যপি গণহত্যায় তারা বাগদাদের প্রায় ২০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করে।  পরবর্তী শতাব্দীর ঐতিহাসিক আল্লামা যাহাবী (মৃত্যু ৭৪৮হি:) লিখেছেন: “হালাকু মৃতদেহ গণনা করতে নির্দেশ দেয়। গণনায় মৃতদেহের সংখ্যা হয় ১৮ লক্ষের কিছু বেশী। তখন (নিহতের সংখ্যায় তৃপ্ত হয়ে) হালাকু হত্যা থামানর ও নিবাপত্তা ঘোষণার নির্দেশ দেয়।”

বাইরের শত্র“র পাশাপাশি আভ্যন্তরীণ কলহ ও দুর্বলতা এ যুগে মুসলিম সমাজগুলোকে বিপর্যস্ত করে তোলে। কোন কোন আঞ্চলিক শাসক নিজের এলাকায় কিছু শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা আনতে পারলেও সার্বিকভাবে বিশাল মুসলিম সাম্রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটে।

পরবতী শতাব্দীর প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আল্লামা ইবনে কাসীর (৭৭৪হি:), যিনি নিকট থেকে এ যুগের ঘটনাবলী জেনেছেন, তাতারদের নারকীয় বর্বরতার বর্ণনা দেওয়ার একপর্যায়ে লিখেন: ৬১৭হিজরী (১২২০খ্রী:) চেঙ্গিশ খান ও তার বাহিনীর বর্বর হামলা সমস্ত মুসলিম বিশ্বকে গ্রাস করে। ১ বৎসরের মধ্যে তারা প্রায় সমগ্র মুসলিম জনপদ দখল করে নেয় (বাগদাদ ও পার্শ্ববতী এলাকা বাদ ছিল)। … তারা এ বছরে বিভিন্ন বড়বড় শহরে মুসলিম ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের অগণিত মানুষকে হত্যা করে। মোটের উপর তারা যে দেশেই প্রবেশ করেছে সেখানকার সকল সক্ষম পুরুষ ও অনেক মহিলা ও শিশুকে হত্যা করেছে। গর্ভবতী মহিলাদেরকে হত্যা করে তাদের পেট ফেড়ে গর্ভস্থ শিশুকে বের করে হত্যা করেছে। যে সকল দ্রব্য তাদের প্রয়োজন তা তারা লুটপাট করেছে। আর যা তাদের দরকার নেই তা তারা পুড়িয়ে নষ্ট করে দিয়েছে। ঘরবাড়ী সবই তারা ধ্বংস করেছে বা পুড়িয়ে দিয়েছে। … মানব সভ্যতার শুরু থেকে এ পর্যন্ত এত ভয়াবহ বিপর্যয় ও বিপদ কখনো মানুষ দেখেনি .. ইতিহাসে এতবড় বর্বরতার কোন বিবরণ আর পাওয়া যায় না।

এভাবে তাতারদের আগ্রাসন, ক্রুসেড হামলা, সামগ্রিক আইন শৃঙ্খলার অবনতি সমগ্র মুসলিম জাহানকে গ্রাস এমন ভাবে গ্রাস করে যে, ৬২৮ হিজরীর (১২৩১খ্রী:) পরে আর মুসলমানেরা ইসলামের পঞ্চম রোকন হজ্জ পালন করতে পারে না। ঐতিহাসিক ইবনে কাসীর লিখছেন: “৬২৮ হিজরীতে মানুষেরা হজ্জ আদায় করেন। এরপরে যুদ্ধবিগ্রহ, তাতার ও ক্রুসেডিয়ারদের ভয়ে আর কেউ হজ্জে যেতে পারেন নি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন।”

ইসলামী অনুশাসনের অবহেলা, পাপ-অনাচারের প্রসার, প্রশাসনিক দূর্বলতা, জুলুম অত্যাচারের সয়লাবের কারণে মুসলমানদের মধ্যে নেমে আসে ঈমানী দূর্বলতা। তাতারভীতি তাদেরকে গ্রাস করে। আল্লামা ইবনে কাসীর লিখেছেন: “তাতারভীতি মানুষদেরকে এমনভাবে গ্রাস করেছিল যে,  একজন তাতার সৈনিক একটি বাজারে প্রবেশ করে, যেখানে শতাধিক মানুষ ছিল, তাতার সৈন্যটি একজন একজন করে সকল মানুষকে হত্যা করে বাজারটি লুট করে, খুনের এই হোলি খেলার মধ্যে একজন পুরুষও ঐ তাতারটিকে বাধা দিতে আগিয়ে আসতে সাহস পায়নি।”

এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, হিজরী ৬ষ্ট ও ৭ম শতকের মুসলিম সমাজে চরম সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি বিরাজ করছিল, যা ধমীয়, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও স্থবিরতা ও অবক্ষয় নিয়ে আসে। রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে সাংস্কৃতিক ও শিক্ষার অঙ্গনে স্থবিরতা আসে। মুসলিম সাম্রাজ্যের মধ্যে বিভিন্ন খ্রীষ্টান রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে মুসলমানগণ বিভিন্ন খ্রীষ্টান ধর্মীয় ও সামাজিক আচার আচরণ দ্বারা প্রভাবিত হন। অপরদিকে পূর্বাঞ্চলীয় তাতার ও অন্যান্য কাফির সম্প্রদায়ের মানুষেরা মুসলিম সম্রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা দখল করে রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাদের আচার আচরণ ও বিশ্বাস-কুসংস্কার মুসলিম সমাজে প্রবেশ করে। সর্বপোরি শিক্ষার ক্ষেত্রে স্থবিরতা আসার ফলে সমাজের মধ্যে অশিক্ষা, কুশিক্ষা ও বিভিন্ন ধরণের কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ভাবে।

সবকিছুর মধ্যেও কিছু কিছু রাজ্যের পৃষ্ঠপোষকতা ও তৎকালীন আলেম সমাজের চেষ্টায় ইলমের প্রসার ও ইসলামী মূল্যবোধের দিকে আহ্বানের প্রচেষ্টা অব্যহত থাকে। তবে বিশাস মুসলিম সমাজের প্রয়োজনের তুলনার আলেম ও সংস্কারকদের সংখ্যা কমে যেতে থাকে। এছাড়া সার্বিক সামাজিক অস্থিরতা, অজ্ঞানতা ও অবক্ষয়ের ফলে সমাজে আলেমদের আবেদন কমতে থাকে। ফলে বিভিন্ন ধরণের ইসলাম বিরোধী কর্ম সমাজে প্রবেশ করে। সমাজের সাধারণ মানুষই নয় ধার্মিক মানুষেরাও এমন অনেক কাজ করতে থাকেন যা শরীয়ত সঙ্গত নয় এবং ইসলামের প্রথম যুগে কোন ধার্মিক মানুষের কাজ ছিল না। সূফীয়ায়ে কেরামদের মধ্যে “সামা” বা গান বাজনার প্রসারের একটি উদাহারণের মাধ্যমে এই অবস্থা ব্যাখ্যা করতে চাই, কারণ মীলাদ অনুষ্ঠানের কর্মকাণ্ড বুঝতে তা আমাদের সাহায্য করবে।

ইসলামের প্রথম যুগগুলিতে “সামা” বা শ্রবণ বলতে শুধুমাত্র কুরআন শ্রবণ ও রাসূলে আকরামের জীবনী, কর্ম ও বাণী শ্রবণকেই বোঝান হত। এগুলিই তাঁদের মনে আল্লাহ প্রেমের ও নবী-প্রেমের জোয়ার সৃষ্টি করত। কোন মুসলিম কখনই আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য বা হৃদয়ে আল্লাহর প্রেম সৃষ্টি করার জন্য গান শুনতেন না। সমাজের বিলাসী বা অধার্মিক মানুষদের মধ্যে বিনোদন হিসাবে গানবাজনার প্রচলন ছিল, কিন্তু আলেমগণ তা হারাম জানতেন। ২/১ জন বিনোদন হিসাবে একে জায়েয বলার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কখনই এ সকল কর্ম আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম বলে গণ্য হয় নি।

প্রথম যুগের সূফীয়ায়ে কেরামগণ ছিলেন পরিপূর্ণ সুন্নাতের অনুসারী। তাঁরা একদিকে যেমন ছিলেন কুরআন, সুন্নাহ ও ফিকহের জ্ঞানে পারদর্শি, অপরদিকে ছিলেন রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের অনুসরণে তাঁদেরই অনুকরণে আধ্যাত্মিক সাধনা ও উৎকর্ষতায় অগ্রগামী। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হিজরী শতকের সূফীগণ মূলত: কুরআন, সুন্নাহ ও সাহবীগণের জীবনাদর্শের আলোকে বেশী বেশী নফল ইবাদত, পার্থিব লালসা ত্যগ, প্রবৃত্তির বিরোধিতা, নির্জনবাস ইত্যাদির মাধ্যমে আধ্যাত্মিক উৎসর্ষতা লাভ করতেন। তাঁরা সকলেই মূলত: কুরআন সুন্নাহর গভীর জ্ঞান অর্জন করা ও অর্জিত জ্ঞানের আলোকে জীবন পরিচালনার উপর গুরুত্ব প্রদান করতেন। ৩য় হিজরী শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সূফী, হযরত জুনাইদ বাগদাদী (২৯৮হি:) সর্বদা বলতেন: “আমাদের এই তাসাউফের জ্ঞান কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যে ব্যক্তি কুরআন হিফজ  করেনি, হাদীস শিক্ষা করেনি এবং ফিকহের জ্ঞান অর্জন করে নি তাকে অনুসরণ করা যাবে না।” তিনি আরো বলতেন: “আমাদের তাসাউফ হাদীসে রাসূলের (সা) সাথে গ্রথিত। …আমরা অনিয়ন্ত্রিত কথাবার্তার মাধ্যমে তাসাউফ অর্জন করিনি। বরং ক্ষুধা  (বেশী বেশী রোজা পালন, অতি অল্প আহার করা), দুনিয়া ত্যগ, ভোগবিলাস থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে আমরা তা অর্জন করেছি।”

কিন্তু  পরবর্তী কালে মুসলিম বিশ্বের সার্বিক অস্থিরতা, ফিকাহ, হাদীস ও অন্যান্য ইসলামী জ্ঞান চর্চার অভাব, বিজাতীয় প্রভাব ইত্যাদি কারণে সূফীদের মধ্যে বিভিন্ন অনাচার প্রবেশ করে। একদিকে অস্থির সামাজিক পরিবেশে অগণিত মুর্খ বেকার মানুষ সূফী সেজে বিভিন্ন খানকায় জমায়েত হয়ে সাধারণ মানুষের দান-খয়রাত, করুণা ও ভক্তিকে পুজি করে জীবন চালাতেন। জ্ঞান বা আল্লাহ-ভীতি কিছুই এদের মধ্যে ছিল না। সাধারণ মানুষদের ধোকা দানের জন্য নানা ধরণের ছলচাতুরিও তারা করতেন। অপরদিকে অনেক আল্লাহ-ভীরু সৎ সূফীও ইসলামী সঠিক জ্ঞানের অভাবে ভালমন্দ বিচারে রুচী বা মনের গতিপ্রকৃতির উপর নির্ভর করতেন। এদের মধ্যে ক্রমে ক্রমে গান বাজনা, নর্তন কুর্দন ইত্যাদি অনাচার ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

গান বাজনা এক পর্যায়ে ধার্মিক মানুষদের ধর্মকর্মের অংশ হয়ে যায়। তারা একে “সামা” বা শ্রবণ বলতেন। এই “সামা” বা সঙ্গীত ৫ম হিজরী শতাব্দী থেকে সূফী সাধকদের কর্মকাণ্ডের অন্যতম অংশ হয়ে যায়। সামা ব্যতিরেকে কোন সূফী খানকা বা সূফী দরবার কল্পনা করা যেত না। সাধারণ গায়কদের প্রেম, বিরহ ও মিলন মূলক গান সূফীগণ শুনতেন। এ সকল গান তাঁদের মনে আল্লাহর প্রেম, তাঁর সাথে মিলনের আকাঙ্খা ও বিরহের বেদনার আবেশ সৃষ্টি করত। তখন তাঁরা গানের তালে তালে নাচতে থাকতেন এবং অনেকেই আবেগে নিজের পরিধেয় কাপড় চোপড় ছিড়ে ফেলতেন। কেহ বাজনা সহ, কেহবা বাজনা ব্যতিরেকে গান গেয়ে ও নেচে নিয়মিত সামার মাজলিস করতেন। কারণ এ সকল গান গজল আল্লাহ প্রেমিক ভক্তদের মনে আল্লাহর প্রেমের জোয়ার সৃষ্টি করত। তাঁরা সামাকে আল্লাহ প্রাপ্তির ও আল্লাহ প্রেম অর্জনের অন্যতম মাধ্যম মনে করতেন।

সমাজে যখন কোন কাজ ব্যাপক ভাবে প্রচলিত হয়ে যায়, বিশেষত: ধার্মিক ও ভাল মানুষদের মধ্যে, তখন অনেক আলেম এসকল কর্মের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি প্রদান করেন এবং এগুলোকে জায়েয বা ইসলাম সম্মত বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। গান বাজনার ক্ষেত্রেও এই অবস্থা হয়। কোন কোন আলেম সূফীদের প্রতি সম্মান হেতু এবং হৃদয়ে গানের ফলে যে আল্লাহ প্রেমের আবেশ ও আনন্দ পাওয়া যায় তার দিকে লক্ষ্য করে এগুলোকে জায়েয বলেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন হযরত ইমাম গাযালী (৫০৫হি:) তিনি তাঁর সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ “এহইয়াউ উলুমিদ্দীন” গ্রন্থে সুদীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে গান বাজন ও নর্তন কুর্দনকে জায়েয বা শরীয়ত সঙ্গত বলে প্রমাণিত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, এসকল কর্ম রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগ ও সাহাবী, তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীদের যুগে প্রচলিত বা পরিচিত ছিল না। তিনি দাবী করেছেন, গান, বাজনা, গান-বাজনার মাহফিল, গানের মাহফিলে নাচা, পাগড়ী খুলে ফেলা, কাপড় ছেড়া ইত্যাদি বিদআ’তে হাসানা এবং জায়েয। শুধু তাই নয়, এ সকল কর্মকে আল্লাহর পথের পথিকদের পাথেয় বলে মনে করেছেন।

অপরদিকে অনেক আলেম সমাজের বহুল প্রচলনকে মেনে নিতে পারেন নি। তাঁরা রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগ ও সাহাবী, তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীদের যুগকেই প্রামাণ্য বলে মনে করেছেন, এ সকল যুগে যেহেতু গান বাজনা, নর্তন কুর্দন ইত্যাদি কখনই আল্লাহর পথের পথিকদের কর্ম ছিল না, বরং সমাজের পাপী অশ্লীলতায় লিপ্ত লোকেদের কর্ম ছিল, তাই সূফীয়ায়ে কেরামের মধ্যে বহুল প্রচলন সত্বেও তাঁরা এগুলিকে মেনে নেন নি, বরং তা রোধ করার চেষ্টা করেছেন।  কিন্তু তারা অনুভব করতেন যে, তাঁদের কথা সাধারণ সূফীগণ মেনে নিচ্ছেন না এবং তাঁরা গান বাজনা ও নর্তন কৃর্দনের জোয়ারকে থামাতে পারছেন না। হযরত আব্দুল কাদের জীলানী (র:) (মৃত্যু ৫৬১হি:) কথায় আমরা তা অনুভব করি। তিনি হিজরী ৬ষ্ঠ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সাধক। তিনি নিজে বাজনা ও নৃত্য সহ সামার বিরোধী হলেও সেই যুগের সুফী সাধকদের মধ্যে এধরণের বাজনা ও নাচসহ সামার বহুল বিস্তারের কথা স্বীকার করেছেন এবং প্রকারান্তে অবস্থার প্রেক্ষিতে তা মেনে নিয়েছেন। তিনি তার গুনিয়াতুত্ব ত্বালিবীন গ্রন্থে সেমা অনুষ্ঠান কালীন আদব শীর্ষক অধ্যায়ে লিখছেন:  “সেমার অনুষ্ঠান চলাকালে মুর্শিদের সম্মুখে কোনরূপ অঙ্গ নাড়াচাড়া করা বা নৃত্যাদি করিয়া উঠা চাই না। এ সময় যদি মুরিদের প্রতি মুর্শিদের কোন খাস তাওয়াজ্জুহের ফলে তাহার ভিতরে কোন বিশেষ অবস্থার সৃষ্টি হয় এবং তাহার কারনে আত্মবিস্মৃতির ভাব সৃষ্টি হইয়া তাহার মধ্যে অঙ্গভঙ্গী কিংবা দেহ নাড়াচাড়া শুরু হইতে থাকে, এমতাবস্থায় সৃষ্ট অবস্থাকে মাফ করা যাইতে পারে….. সেমা সম্পর্কে আমাদের ব্যাখ্যা হইল, কাওয়ালী, বাজনা ও নৃত্যকে আমরা জায়েজ মনে করি না। তবে দেখা যাইতেছে, এ যুগের বহু দরবেশ নিজ নিজ খানকায় উহার আম প্রচলন শুরু করিয়াছেন। তবে এই ব্যাপক প্রচলনের কারণেই যে একটি নিষিদ্ধ জিনিস সিদ্ধ হইয়া যায় তেমন কোন কথা নয়। এ কথা অবশ্য সত্য যে, বাজনা ও নৃত্যহীন আল্লাহ ও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্তুতি এবং নাত ও হামদ সূচক সেমা অত্যন্ত খালেস ও পবিত্র দিলে যদি করা হয় এবং অনুষ্ঠানে কোনরূপ শরীয়ত বিরোধী কাজ অনুষ্ঠিত না হয়, তবে উহা বিভিন্ন অলী-আউলিয়া কর্তৃক সিদ্ধ বলিয়া স্বীকৃত হইয়াছে। তবে সিদ্ধ কি নিষিদ্ধ যাহাই হউক না কেন, সেমার অনুষ্ঠানেও মুরীদদিগের মুর্শিদের আদব রক্ষা করা কর্তব্য। সেমার মজলিসে খোদ মুর্শিদ উপস্থিত থাকিলে মুরীদগণ কাওয়ালকে কখনও একা বলিবে না যে, তুমি তোমার এই গজল বন্ধ রাখিয়া অমুক বিষয়ের একটি গজল বল বা তোমার এই গজলটি খুবই উত্তম ইহা আর একবার বল। এইসব ব্যাপার শুধু মুর্শিদের উপরই নির্ভর করা চাই।”

উপরের আলোচনা থেকে আমরা সে যুগের আলেমদের সংস্কারমূলক কাজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারছি। তাঁরা বাষ্ট্রীয় সমর্থন থেকে বঞ্চিত ছিলেন। সমাজে অজ্ঞানতার প্রভাব ছিল বেশী। তা সত্বেও তাঁরা সেই যুগে ইসলামের আলোর মশাল জ্বালিয়ে রেখেছেন, সমাজের মানুষদেরকে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা প্রদানের চেষ্টা করেছেন। আল্লাহ তাদেরকে রহমত করুন।

 

খ) প্রবর্তক: ব্যক্তি ও জীবন:

আমরা আগেই বলেছি যে, মিশরের শিয়া শাসকগণ প্রথম ঈদে মীলাদুন্নবীর প্রবর্তন করেন। ৬ষ্ঠ হিজরী শতকের শেষ দিকে মিশরের বাইরেও কোন কোন ধর্মপ্রান মানুষ ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রতি বৎসর রবিউল আউয়াল মাসের প্রথম দিকে ঈদে মীলাদুন্নবী পালন করতে শুরু করেন। তবে ইরবিলের শাসক আবু সাঈদ কূকুবূরীর মাধ্যমেই এই উৎসবকে সুন্নী জগতে এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বে জনপ্রিয় উৎসবে পরিণত হয়। এজন্য বিভিন্ন সীরাতুন্নবী বিশেষজ্ঞ ও ঐতিহাসিকগণ তাঁকেই ঈদে মীলাদুন্নবীর প্রবর্তক হিসাবে উল্লেখ করেছেন; কারণ তিনিই প্রথম এই উৎসবকে বৃহৎ আকারে পালন করতে শুরু করেন এবং সাধারণের মধ্যে এই উৎসবের প্রচলন ঘটান। আল্লামা মুহাম্মাদ বিন ইউসূফ সালেহী শামী (মৃত্যু: ৯৪২হি: ১৫৩৬খ্রী:) তার প্রখ্যাত সীরাতুন্নবী গ্রন্থে- (সীরাহ শামীয়া) ঈদেমীলাদুন্নবী পালনের আহ্বান জানাতে যেয়ে আলোচনার প্রথম দিকে লিখছেন: “সর্বপ্রথম যে বাদশাহ এই উৎসব উদ্ভাবন করেন তিন হলেন ইরবিলের শাসক আবু সাঈদ কূকুবূরী…”

আল্লামা যাহাবী কুকবূরীর পরিচিতি প্রদান করতে গিয়ে লিখছেন: “ধার্মিক সুলতান সম্মানিত বাদশাহ মুযাফ্ফরুদ্দীন আবু সাঈদ কূকুবুরী ইবনে আলী ইবনে বাকতাকীন ইবনে মুহাম্মাদ আল-তুরকমানী”  তাঁরা তুকী বংশোদ্ভুত। তাঁর নামটিও তুর্কী। তুকী ভাষায় কূকুবুরী শব্দের অর্থ “নীল নেকড়ে”।

তাঁর পিতা আলী ইবনে বাকতাকীন ছিলেন ইরাকের ইরবিল অঞ্চলের শাসক। তিনি অত্যন্ত সাহসী ও বীর যোদ্ধা ছিলেন। ক্রুসেড যেদ্ধদের থেকে অনেক এলাকা জয় করে তাঁর শাসনাধীনে নিয়ে আসেন। তিনি ধার্মিকতার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। অনেক মাদ্রাসা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান তিনি প্রতিষ্ঠা করেন।

বীরত্ব ও ধার্মিকতার এই পরিবেশে কূকুবুরী ৫৪৯ হি: সনে (১১৫৪ খ্রী:) জন্মগ্রহণ করেণ।  তাঁর বয়স যখন মাত্র ১৪ বৎসর তখন ৫৬৩ হি: সনে (১১৬৮ খ্রী:) তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন।  পিতার মৃত্যুর পরে কূকুবূরী ইরবিলের শাসনভার গ্রহণ করেন।  তিনি অল্পবয়স্ক হওয়ার কারণে আতাবিক মুজাহিদ উদ্দীন কায়মায তাঁর অভিভাবক হিসাবে নিযুক্ত হন।  উক্ত অভিভাবক কিছুদিনের মধ্যেই কুকুবুরীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন এবং কুকুবুরীকে শাসনকার্য পরিচালনায় অযোগ্যতার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত করে তাঁর ভাই ইউসুফকে ক্ষমতায় বসান।  কূকুবুরী তখন ইরবিল ত্যগ করে তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের রাজধানী বাগদাদে গমন করেন। সেখানে তিনি  আত্মবিকাশের কোন সুযোগ না পেয়ে ইরাকের মাওসিল অঞ্চলের শাসক সাইফুদ্দীন গাযী ইবনে মাউদূদের নিকট গমন করেন। তিনি কুকুবুরীকে মাউসিলের শাসনাধীন হাররান অঞ্চলের শাসক হিসাবে নিয়োগ করেন।  কিছুদিন হাররানে অবস্থান করার পরে তিনি যে যুগের প্রসিদ্ধ বীর, মিসর ও সিরিয়ার শাসক গাজী সালাহুদ্দীন আল-আইউবীর দরবাবে যোগদেন। তিনি সালাহুদ্দীনের সাথে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। সালাহুদ্দীন কুকুবুরীর বীরত্বে ও কর্তব্যনিষ্ঠায় এতই মুগ্ধ হন যে, তিনি তাঁর বোন রারীয়া খাতুনের সাথে কুকবুরীর বিবাহ দেন  এবং তাকে হাররান ও রুহা অঞ্চলের শাসক নিযুক্ত করেন।  ৫৮৩ হিজরীতে (১১৮৭খ্রী:) হিত্তীনের যুদ্ধে সালাহুদ্দীন আইউবীর মুসলিম বাহিনী সম্মিলিত খৃষ্টান ক্রুসেড বাহিনীকে শোচনীয়রূপে পরাজিত করে এবং যেরুজালেম ও সমগ্র প্যালেষ্টাইন থেকে ইউরোপীয় বাহিনীর চুড়ান্ত পরাজয়ের সূচনা করে।  এই যুদ্ধে কুকুবুরী অতুলনীয় বীরত্ব প্রদর্শন করেন। এ সময়ে তাঁর ভাই ইরবিলের শাসক ইউসুফ ইন্তেকাল করেন। তখন সালাহুদ্দীন কুকুবুরীকে পুনরায় ইরবিলের শাসনক্ষমতা প্রদান করেন।

পরবতী প্রায় ৪৫ বৎসর তিনি অত্যন্ত সুনাম ও যোগ্যতার সাথে নিজের রাজ্য পরিচালনা করেন। সাথে সাথে ক্রুসেড বাহিনী ও তাতার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন এবং বীরত্ব প্রদর্শন করেন। তাঁর জীবনীকারগণ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি জীবনের কোন যুদ্ধে পরাজয় বরণ করেন নি।   বাগদাদের খলিফাও তাকে সম্মান করতেন। কুকুবূরী তাঁর ইনতেকালের ২ বৎসর আগে ৬২৮ হিজরীতে (১২৩১খ্রী:) মুসলিম বিশ্বের রাজধানী বাগদাদে গমন করেন। তিনি ইতিপূর্বে কখনো বাগদাদে আসেন নি। বাগদাদের খলিফা তাঁকে অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করেন। বিশাল রাজকীয় বাহিনী তাকে অভ্যর্থনা জানায়। খলিফা স্বয়ং ২ বার তাকে সাক্ষাত দান করেন, যা ছিল কুকবূরীর জন্য খুব বড় ঈর্ষনীয় সম্মান। এরপর তিনি সম্মান ও মর্যাদার সাথে নিজ রাজ্য ইরবিলে ফিরে যান।  খলিফার নিকট কুকুবূরীর মর্যাদার আরেকটি প্রমাণ হলো যে পরের বছর, ৬২৯ হিজরীতে (১২৩২খ্রী:) যখন তাতার বাহিনী ইরাক অভিমুখে যাত্রা করে এবং ইরাকের মুসলিম জনপদগুলো ধ্বংশ করতে এগিয়ে আসে, তখন খলিফা কুকুবূরীর স্মরণাপন্ন হন। তিনি তাঁকে এগিয়ে আসতে আহ্বান করেন। কুকবূরী তার সেনাবাহিনী নিয়ে এগিয়ে আসলে খলিফা তার নিজের বাহিনীকে তাঁর বাহিনীর সাথে যুক্ত করেন। সম্মিলিত বাহিনী এগিয়ে যেতে থাকলে তাতার বাহিনী ভয় পেয়ে পিছিয়ে যায়।  প্রতি বছর তিনি যুদ্ধের মাধ্যমে খ্রীস্টান ক্রুসেড বাহিনীর নিকট থেকে বিপুল সংখ্যক মুসলমানকে মুক্ত করতেন। কেউ কেউ বলেছেন যে, তিনি তাঁর দীঘ জীবনে ৬০,০০০ (ষাটহাজার) মুসলিম যুদ্ধবন্ধীকে মুক্ত করেছেন।

ইতিপূর্বে আমরা তাতারদের সর্বগ্রাসী ধ্বংসাত্মক আক্রমন ও বিভিন্ন জনপদের ধ্বংশের কথা উল্লেখ করেছি। তাতারদের হাতে বিভিন্ন মুসলিম জনপদ ধ্বংশ হলেও কুকবুবীর জীবদ্দশায় তাতাররা কখনো ইরবিলে প্রবেশ করতে পারিনি। হিজরী ৬১৭ হিজরী সালে (১২২০খ্রী:) তাতার বাহিনী বোখারা ও কাযবীন অঞ্চল আক্রমন করে এবং নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। এরপর তারা ইরবিল মুখে যাত্রা শুরু করে। ইরবিলের বাদশাহ কুকবুরী পার্শবর্তী কয়েকজন শাসকের সাথে একত্রিত হয়ে এক বিশাল বাহিনী নিয়ে তাদের মোকাবেলা করেন। তাতার বাহিনী যুদ্ধ না করে পিছিয়ে যায়।  আমরা আগেই উল্লেখ করেছি যে, ৬২৯হিজরীতে কুকবূরীর নেতৃত্বে সম্মিলিত মুসলিম বাহিনী তাতার বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করে।  কুকবুরীর ইন্তেকালের ৪ বৎসর পরে ৬৩৪ হিজরীতে তাতার বাহিনী ইরবিল দখল করে এবং সেখানে নির্বিচার গণহত্যা চালায়। ইরবিল শহরকে শাব্দিক অর্থেই ধ্বংশস্তুপে পরিণত করে অগণিত সম্পদ লুট করে লাশের স্তুপ পিছনে রেখে তাতার বাহিনী ইরবিল ত্যগ করে।

হযরত কুকবুরী অত্যন্ত ধার্মীক ছিলেন। পরবতী শতাব্দীর প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ইমাম যাহাবী (মৃ: ৭৪৮ হি:) বলেন: “যদিও তিনি (কুকবুরী) একটি ছোট্ট রাজ্যের রাজা ছিলেন, তিনি ছিলেন সচেচেয়ে বেশী ধার্মিক, সবচেয়ে বেশী দানশীল, সমাজকল্যানেব্রত ও মানবসেবী বাদশাহদের অন্যতম। প্রতি বছর ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপনের জন্য তিনি যে পরিমান অর্থব্যয় করতেন তা সবার মুখে প্রবাদের মত উচ্চারিত হত”।  তিনি শাসন কার্য পরিচালনার ফাঁকে ফাঁকে আলেমদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করতেন।

যুদ্ধবিগ্রহ ও রাজ্যশাসনের পাশাপাশি তিনি নিজ রাজ্যে এবং বিভিন্ন ইসলামী রাজ্যে মাদ্রাসা, এতিমখানা ও গণকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানাদি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর ছোট্ট রাজ্যে তিনি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। তন্মধ্যে ছিল ২টি উচ্চশিক্ষাগার (মাদ্রাসা), সুফি ও মুসাফিরদের জন্য ৪টি খানকা,  বিধবাদের জন্য একটি পুনর্বাসনকেন্দ্র, এতিমখানা, পিতৃমাতৃ পরিচয়হীন অনাথ শিশুদের আশ্রয় ও পুনর্বাসনকেন্দ্র, হাসপাতাল ইত্যাদি।  ৫৯৮ হিজরীতে তিনি ফিলিস্তিনে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং মাদ্রাসাটির পরিচালনার জন্য প্রচুর অর্থ প্রদান করেন।

আবু সাঈদ কুকবুরীর সমসাময়িক ঐতিহাসিক আল্লামা ইয়াকুত আল-হামাবী (মৃত্যু ৬২৬হি:) কুকবুরীর বর্ণনা দিকে গিয়ে লিখেছেন: “আমীর মুযাফফরুদ্দীন কূকুবূরী এই ইরবিল শহরের উন্নয়মমূলক প্রভুত কর্ম করেন। তিনি তার সাহস, বীরত্ব ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দিয়ে এ যুগের বাদশাহদের মধ্যে বিশেষ মর্যাদা ও সম্মানের স্থান অধিকার করেছেন। এ কারণে বিভিন্ন দেশের মানুষেরা এসে তাঁর দেশে বসবাস শুরু করেছে এবং ইরবিল শহর এ যুগের অন্যতম বৃহৎ শহরে পরিণত হয়েছে। এই আমীরের চরিত্র বৈপরিত্যময়। একদিকে তিনি প্রজাদের উপর অনেক জুলুম অত্যাচার করেন, অবৈধভাবে প্রজাদের নিকট থেকে সম্পদ সংগ্রহ করেন। অপরদিকে তিনি কুরআন পাঠক ও ধার্মিক মানুষদের সাহায্য করেন, দরিদ্র ও অসহায়দের জন্য তাঁর দানের হাত খুবই প্রশস্ত। কল্যাণকর্মে তিন মুক্তহস্তে ব্যয় করেন, অমুসলিমদের নিকট বন্দী মুসলিমদেরকে টাকার বিনিময়ে মুক্ত করেন…।”

সমসাময়িক ঐতিহাসিকদের অন্যতম হলেন আল্লামা ইবনে খাল্লিকান (৬৮১হি:) যিনি ব্যক্তিগত ভাবে কূকুবূরীর সাথে পরিচিত ছিলেন এবং তাঁর দরবারে সময় কাটিয়েছেন, তাকে গভীরভাবে ভালবেসেছেন। তিনি  তাঁর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে লিখেছেন: “তাঁর মত জনকল্যাণমূলক কাজ আর কেউ করেছেন বলে শোন যায় নি। পৃথিবীতে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় কর্মই ছিল দান করা। প্রতিদিন কাড়িকাড়ি রুটি বিতরণ করতেন। প্রতি বৎসর অসংখ্য মানুষকে পোষাক দান করতেন, টাকা পয়সা দিতেন। দুরারোগ্য ব্যধিগ্রস্থ ও অন্ধদের জন্য তিনি ৪টি খানকা তৈরী করেছিলেন। সেখানে তিনি তাদের সকল প্রয়োজন মেটানর ব্যবস্থা করেছিলেন। প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি তাদের কাছে আসতেন, তাদের প্রত্যেকের খোজখবর নিতেন, ভালমন্দ জিজ্ঞাসা করতেন, কিছু টাকা পয়সা দিতেন এবং প্রত্যেকের সাথে হাসি মশকরা করে তাদেরকে আনন্দ দান করতেন।

তিনি বিধবাদের জন্য একটি ও এতিমদের জন্য একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। পরিত্যক্ত শিশুদের জন্য আকেটি আশ্রয়কেন্দ্র তিনি প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেবিকা নিয়োগ করেন যারা শিশুদের দুধপান করাতো এবং দেখাশুনা করতো। তাদের সবার প্রয়োজন মেটানর জন্য পর্যাপ্ত ভাতার ব্যবস্থা করেন। তিনি সর্বদা সেখানে যেতেন, তাদের খোজখবর নিতেন এবং তাদেরকে বেতন ভাতার অতিরিক্ত কিছু টাকাপয়সা প্রদান করতেন। হাসপাতালে রোগীদের কাছে যেতেন ও তাদের দেখাশুনা করতেন। তাঁর মেহমানখানায় সকল মুসাফিরের স্থান হতো। সেখানে তাদের দুবেলা খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। উপরন্তু কেউ সফরের নিয়েত করলে তাকে পথখরচা দেওয়া হত।

তিনি হানাফী ও শাফেয়ী মযহাবের দুইটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। সর্বদা সেখানে গমন করতেন। তিনি সেখানে খাওয়া দাওয়া ও সামা সঙ্গীতের আয়োজন করতেন। … সামা সঙ্গীত বা ভক্তি মূলক গানই তার জীবনের একমাত্র আনন্দ ও তৃপ্তির বিষয় ছিল। তিনি নিজের রাজ্যে কোন অন্যায়-অনাচার প্রবেশ করতে দিতেন না। তিনি সূফীদের জন্য দুইটি রাবাত বা খানকা প্রতিষ্ঠা করেন যেখানে বিপুল সংখ্যক স্থায়ী ও প্ররিভ্রমনকারী সূফী বাস করতেন। তিনি এই দুই খানকার জন্য অনেক ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবস্থা করেছিলেন যদ্বারা বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক সূফীদের সকল খরচপত্রের ব্যবস্থা করা হতো। কেউ খানকা ত্যাগ করে চলে যেতে চাইলে তাকে কিছু খরচখরচা প্রদান করা হতো। তিনি নিজে প্রায়শ সেখানে আসতেন এবং তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে সামা সঙ্গীতের আসরের আয়োজন করতেন।

তিনি প্রতি বৎসর অনেক যুদ্ধবন্ধী মুক্ত করতেন, হাজীদের জন্য সাহায্য পাঠাতেন, মক্কায় হেরেম শরীফে এবাদতকারীদের জন্য  পাঁচহাজার দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) পাঠাতেন। তিনি আরাফাতের মাঠে পানির ব্যবস্থা করনে।”

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিদা ও সংসারত্যগী মনের মানুষ। তাঁর স্ত্রী, গাযী সালাহুদ্দীনের বোন রাবিয়া খাতুন বলেন: তাঁর গায়ের সস্তা জামাটির দাম ছিল পাঁচ দিরহাম (রৌপমূদ্রা)-এরও কম। আমি তাঁকে এ বিষয়ে রাগ করলে তিনি বলেন: আমি পাঁচ দিরহামের জামা গায়ে দিয়ে বাকী অর্থ দরিদ্রদের জন্য ব্যয় করলে তা আমার জন্য দামী পোষাক পরে গরীবদের বঞ্চিত করার চেয়ে অনেক ভাল।

ব্যক্তিগত বিলাসিতা অর্থ ব্যয় না করে জনগণেরে কল্যাণে অর্থ ব্যয় করতে তিনি পছন্দ করতেন। তিনি আলেম-সূফী-মুসাফিরদের জন্য একটি মুসাফিরখানা প্রতিষ্ঠা করেন । যে কেউ যে কোন স্থান থেকে আসলে সেখানে স্থান পেত। বিভিন্ন উপলক্ষে তিনি দান করতে পছন্দ করতেন এবং তাঁর দানের টাকা মক্কা শরীফ, মদীনা শরীফ ও অন্যান্য ইসলামী স্থানে ব্যয়ের জন্য পাঠাতেন। তিনি প্রতি বছর ঈদে মীলাদুন্নবী উৎসবের জন্য ৩,০০,০০০ দীনার (স্বর্ণমূদ্রা), খানকার জন্য ২,০০,০০০ দীনার, মুসাফির খানার জন্য ১,০০,০০০ দীনার, মক্কা শরীফ মদীনা শরীফ ও হেজাজের পথে পানি সরবরাহের জন্য ৩০,০০০ দীনার ব্যয় করতেন। এসব ছিল তার প্রকাশ্য দান। এছাড়াও তাঁর অনেক গোপন দান ছিল যা কেউ জানত না।

কর্মময় জীবনের সমাপ্তি ঘটিয়ে প্রায় ৮২ বৎসর বয়সে হযরত কুকবূরী ৬৩০ হিজরীর ৪ঠা রমজান (১৩/৬/১২৩৩ খ্রী:) ইন্তেকাল করেন।  তাঁর স্ত্রী গাযী সালাহুদ্দীনের বোন রাবীয়া খাতুন ১৩ বৎসর পরে ৬৪৩ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের সময় রাবিয়া খাতুনের বয়স ৮০ উপরে ছিল।  আল্লাহ তাঁদেরকে রহমত   করেন এবং উত্তম পুরস্কার দান করেন।

তাঁর সুদীর্ঘ কর্মময় জীবনের অন্যতম কর্ম যা তাকে সমসাময়িক সকল শাসক থেকে পৃথক করে রেখেছে এবং ইতিহাসে তাকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রেখেছে তা হলো ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপনের প্রচলন। তিনি ৫৮৩ থেকে ৬৩০ পর্যন্ত দীঘ প্রায় ৪৫ বৎসরের শাসনামলের কোন বছরে প্রথম এই অনুষ্ঠান শুরু করেন তা সঠিক ভাবে জানতে পারিনি। প্রখ্যাত বাঙ্গালী আলেমে দীন, হযরত মাওলানা মোহাম্মদ বেশারতুল্লাহ মেদিনীপুরী উল্লেখ করেছেন যে, হিজরী ৬০৪ সাল থেকে কূকুবূরী মীলাদ উদযাপন শুরু করেন।  তিনি তাঁর এই তথ্যের কোন সূত্র প্রদান করেন নি। ঐতিহাসিকদের বর্ণনা থেকে প্রতিয়মান হয় যে, ৬০৪ হিজরীর আগেই কূকুবূরী মীলাদ উদযাপন শুরু করেন। ইবনে খাল্লিকান লিখেছেন: “৬০৪ হিজরীতে ইবনে দেহিয়া খোরাসান যাওয়ার পথে ইরবিলে আসেন। সেখানে তিনি দেখেন যে, বাদশাহ মুযাফফরুদ্দীন কূকুবূরী অতীব আগ্রহ ও উদ্দীপনার সাথে মীলাদ উদযাপন করেন এবং এ উপলক্ষ্যে বিশাল উৎসব করেন। তখন তিনি তাঁর জন্য এ বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন…।”

এ থেকে স্পষ্ট যে, ইবনে দেহিয়া ৬০৪ হিজরীতে ইরবিলে আগমনের কিছু পূর্বেই কূকুবূরী মীলাদ উদযাপন শুরু করেন, এজন্যই  ইবনে দেহিয়া ইরবিলে এসে তাকে এই অনুষ্ঠান উদযাপন করতে দেখতে পান।  তবে উদযাপনটি ৬০৪ হিজরীর বেশী আগে শুরু হয়নি বলেই মনে হয়, কারণ বিষয়টি ইবনে দেহিয়া আগে জানতেন না, এতে বোঝা যায় তখনো তা পার্শবর্তী দেশগুলিতে প্রসিদ্ধি লাভ করেনি। এতে আমরা অনুমান করতে পারি যে, কূকুবূরী ৬ষ্ঠ হিজরী শতকের শেষ দিকে বা ৭ম হিজরী শতকের শুরুতে (৫৯৫-৬০৩ হিজরী) মীলাদ পালন শুরু করেন।

 

(  চলবে ………….)

 

সম্পূর্ণ লিখা পিডিএফ আকারে পড়তে চাইলে ক্লিক করুন।    ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উদযাপন একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা

 

মতামত দিন